মানব রাজ্যত্বে মানুষ অসহায় হয়ে উঠেছে। সাথে পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীও মানুষের অমানবিক অত্যাচারে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম। অনেক প্রাণী তাদের বংশ রক্ষায় কোনো প্রকার প্রটেকশন তৈরি করতে না পেরে চিরতরে হারিয়ে গেছে। মানুষ মানুষকে নির্মম অত্যাচার করেছে। এক জাতি অন্য জাতিকে নির্মূল করা জন্য তৈরি করেছে মানব হত্যার সরন্জাম। তারপর ঝাপিয়ে পড়েছে জাতিতে জাতিতে, ধর্মে ধর্মে, দেশে দেশে। আজ পৃথিবী যেন মানব পাপের কুণ্ডলিতে পরিণত হয়েছে। মানুষ ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে, গাছ ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে, মাছ ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে, প্রাণীরা ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে। নদী, সমুদ্র, পাহাড়, মরুভূমি ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে। বায়ুমণ্ডল ফরিদায় করেছে প্রভুর কাছে। প্রভুর মানবের অত্যাচার থেকে আমাদের বাচান।

আজ সেই ফরিয়াদ কবুল হয়েছে। পৃথিবীতে প্রভু পাঠিয়েছে তার সেনাবাহিনী। সেই বাহিনির নাম ‘করোনা’। যার ভয়ে অত্যাচারি মানুষ গৃহবন্দি। তারা বের হতে পারছে না। নিজের সম্পর্ককে আজ অস্বীকার করছে। পিতার লাশকে গ্রহণ করছে না পুত্র-স্বজন। নিজেকে নিজে বিশ্বাস করছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে তাদের জীবন।

কিন্তু আমরা এ পাপ থেকে মুক্ত হতে চাই। আমরা ফিরিয়ে দিতে চাই প্রাণের অধিকার। প্রকৃতির অধিকার। আমরা যার যার অবস্থান থেকে পাপ মুক্ত হবো। আমাদের পাপের পরিবর্তে পূণ্য করে প্রকৃতিকে বাচিয়ে রাখবো। আমাদের প্রয়োজনেই আমরা তাদের সেবা করব। আমরা বন উজাড় করব না। আমরা পাহাড় কাটব না। আমরা সমুদ্রকে দুষিত করবো। আমরা হত্যার জন্য মারনাস্ত্র তৈরি না করে প্রকৃতির ভালোবাসার জন্য তৈরি করব নিরাপদ পৃথিবী।

পৃথিবীর প্রকৃতি ভালো থাকুক এই কামনা। করোনা সচেতনতায় সামাজিক দূরত্ব বহাল রাখি ভালোবসার সম্পর্ক কাছি রাখি। করোনা সচেতনতা সংখ্যা ২০২০-৩ প্রকাশ করা হলো:
আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চি প ত্র

করোনা-মুক্ত বিশ্ব চাই :: এ কে আজাদ
তওবা করে ক্ষমা চাহি :: ওয়াহিদ আল হাসান
সচেতনার পাহাড় গড়ো :: শাহীন খান
বিশ্বমানবের জন্য প্রার্থনা :: মাশূক ইবনে আনিস
মহামারি :: শওকত আলম
না যেন ছড়ায় করোনা :: মজনু মিয়া
করোনা দিও না মাফ করো… :: হাসান সাইদুল
হে সভ্যতা, তুমি ঘুরে দাঁড়াও :: জিম জিরমান
চিন্তার খোরাক :: আনোয়ার আল ফারুক
মহামারী ভাইরাস :: মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ
এসো করোনা ঠেকাই :: শহিদুল ইসলাম নিরব
দিন কয়েক ঘরেই থেকো :: সঞ্জয় কর
থাকতে হবে বেঁধে :: কৃপাণ মৈত্র
লাশের ডায়েরি :: হাসান আবু নাঈম
নিদানকাল :: চৌধুরী ফেরদৌস
করোনারই ডরে :: মুহাম্মদ ইমদাদ হোসেন
পরাজিত অহংকার :: শামছুদ্দোহা সওগাত
অনুভবে আমি :: লিপি চৌধুরী
ঘনঘন হাত ধুই :: মুজাহিদুল ইসলাম
মানবতার জয় :: শোভা চন্দ

করোনা-মুক্ত বিশ্ব চাই
এ কে আজাদ

দিনের আলোয় আঁধার নামে চোখের পাতায় পানি,
দীর্ঘশ্বাসে ঢেউ তোলে রোজ, দুখের কানাকানি!

ছোট্ট একটা করোনা তার শক্তি দেখে যত,
মরার আগেই মরেছি যে মানব শত শত।

করোনারে গড়লো যে জন তাঁর শক্তি যে কত!
বুঝি না, তাই তাঁর কাছেতে হই না সেজদায় নত।

চোখের আড়াল থাকেন বলে বুঝিনি তো আগে-
তাঁহার শক্তি কেমন করে অদৃশ্যেতে জাগে!

তিনিই আল্লাহ, তাঁর কাছেতেই প্রার্থণা যে করি,
তাঁকে স্মরণ করেই বুকে সাহস-মিনার গড়ি।

বলি- আল্লাহ ক্ষমার মালিক ক্ষমা তুমি কর,
মানব জাতির ওপর তুমি অসীম রহম কর।

তোমার দয়ায় পর্বত গড়ে, ঝর্ণা নামে বেয়ে,
তোমার সৃষ্টি সাগর, আকাশ দেখি অবাক চেয়ে!

তোমার নামের তাসবীহ পড়ি, তারিফ করি হাজার,
তুমি যদি রহম কর- ভয় কি আছে সাজার!

তোমার শক্তি দেখাও প্রভু কুদরতি হাত দিয়ে,
যাকগে নিপাত করোনা তার দুষ্টু দোসর নিয়ে।

তওবা করে ক্ষমা চাহি
ওয়াহিদ আল হাসান

দেশ-বিদেশে বেড়ে চলছে মহামারি
করোনাতে লাশের মিছিল সারি সারি
এমন রোগের লক্ষণ আছে ঔষধ তো নাই
ধৈর্য ও সচেতনের বিকল্প কী ভাই?
দেশমাথাদের বলি শুনুন এই আবেদন
নিজ সত্তা বজায় রেখে করি নিবেদন
কথার বুলি আর না মেরে লাগাম টানি
সত্য বলি নিয়ম যতো সবই মানি।
গরিবদুঃখি অনাথ যারা তাদের পাশে
খাবারদাবার নিয়ে দাঁড়ায় বারো মাসে
কর্মবিহীন মানুষগুলোর করি কেয়ার
এইতো সময় মানবতার মূল্য দেয়ার।
কেমন আমি দেশপ্রেমিক প্রমাণ করি
সরকারের সব নিয়মগুলো শক্ত ধরি
পরিবার আর নিজে বাঁচি দেশকে বাঁচায়
হোক না জীবন কটি দিনের বদ্ধ খাঁচায়।
প্রভুর কাছে তওবা করে ক্ষমা চাহি
তিনি হলেন গফুর রহিম আরতো নাহি।
নিজের ভুলের ক্ষমা চাইতে কীসের ম্রিয়
ক্ষমাপ্রার্থী তাঁহার কাছে অতি প্রিয়।

সচেতনার পাহাড় গড়ো
শাহীন খান

ঘরে আছি কদিন থেকে ঘরে থেকো তোমরা
গরীব দুখি ঘরে থেকো,থেকো না মুখ গোমড়া।
রিকশাওয়ালা ঘরে থেকো, থেকো মাঝি-মাল্লা
ঘরে বসে নামাজ পড়ো, দাও জিকিরে পাল্লা।
ধনী তুমি ঘরে থেকো, ঘরে থেকো আমলা
রাজা- প্রজা ঘরে থেকো,থেকো ঘরে কামলা।
শত্রু তুমি ঘরে থেকো ঘরে থেকো মিত্র
সচেতনার পাহাড় গড়ো সকলে নিঃশ্ছিদ্র।
ঘাটের মানুষ থেকো ঘরে, পাঠের মানুষ থেকো ভাই
বৃদ্ধা যুবা কিশোর শিশু তোমাদেরও বলে যাই।
নবীন-প্রবীন থেকো ঘরে, দেখো ওটা হাইরাছে
লেজ গুঁটিয়ে পালাবে ঠিক দুষ্ট করোনা ভাইরাসে।
হাত ধুয়ে নাও যখন তখন পরিস্কারও থাকা চাই
বদলে ফ্যালো জীবন যাপন এটার যে বিকল্প নাই।

বিশ্বমানবের জন্য প্রার্থনা
মাশূক ইবনে আনিস

পরম করুনাময়—
এ কী বিষ্ময়!
সারা বিশ্ব-ব্যাপিয়া তোমার
নামের উঠেছে জয়,
পরম করুনাময়।

করোনা যখন হানিলো আঘাত!
ধর্মের ভেদ— বর্ণের ভেদ
ভাঙ্গিলো মানুষ সকল প্রভেদ
ভেদাভেদ ভুলে সকলেই আজ—
হয়েছে একটি জাত,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রতিদিন প্রতিরাত।

পরম করুনাময়—
এ কী বিষ্ময়!
বিশ্বব্যাপিয়া মৃত্যুর ভয়ে
মানুষের হাহাকার,
নাস্তিকও আজ ধর্মে ফিরেছে
চেয়ে দ্যাখো পরোওয়ার!

তুমি ই সর্ব্বময়
তুমি-ই-তো দয়াময়
আমরা তোমার বান্দা গোলাম
দোষ ত্রুটি সব মানিয়া নিলাম,
সকল গুণের তুমিতো গুণী
তোমার কোরানে বারবার শুনি
প্রতিপালক আজ তোমার কাছে-ই
কৃপা চাহি সদাশয়,
পরম করুনাময়।

তোমার দয়াতে তোমারই দানে
ইহুদি— খৃস্টান— মুসলমানে
কী বিশ্বাসী— অবিশ্বাসী
গোটা যতো এই বিশ্ববাসী
তাকিয়ে রয়েছে উর্ধ্বশ্বাসী
তোমার ই করুনা পানে।
হে অসীম খোদা কখনওই যোদা
হয় নি তোমার মানুষ,
যেহেতু মানুষ সেহেতু হয়েছে
আমাদের অসীম দোষ।

ক্ষমাতো তোমার ই সাজে
মানব জাতি লজ্জিত আজ
কুঁকড়ে গিয়েছে লাজে।
খুশি হও প্রভূ— আমাদের কাজে
গুছাও কোরানা ভয়,
পরম করুনাময়।

ইনসানিয়াত জাগিয়া উঠেছে
অহংকার আজ পতন
দেশনেই আজ— নেই মহাদেশ
শুধু ই একটি কথন—
আল্লাহ তুমি রাহমান হও
দয়াবান হও প্রভূ
হে রাহিম তুমি— আমাদেরে দূরে
ঠেলে দিওনা হে কভু!

ভাষা নেই আজ— নিম্বার্ক আমি
ইনসান পরিচয়,
সকলে আমরা তোমার গোলাম
ইহা-ই সুনিশ্চয়।

অনন্ত অসীম— প্রেমোময় তুমি
ক্ষমা করো প্রভূ আল্লাহ সদয়,
আমরা ক্ষুদ্র— জ্ঞান দারিদ্র
দিও না গজব ভয়,
পরম করুনাময়।

মহামারি
শওকত আলম

নীল পাড় শীলে
মীর ঘাট ঝিলে,
কার ফিউ দিলে;
কেঁপে যায় পিলে।

লগ্ ডাউন লগ্,
ডেড্ বডির ফগ্।

ঝরা ফুল ঝরা
মরা ঝুল মরা,
সরা শব গড়া;
মহা দেশ কড়া।

চেক্ বহর লেগ,
কেক্ ছাড়ন ডেগ্।

মহামারি তিলে
কান নিলো চিলে,
তালা ঝোলে মিলে;
দেশ খায় গিলে।

কফ্ কাশন হাই,
ডেড্ পাচন নাই।

না যেন ছড়ায় করোনা
মজনু মিয়া

করোনা রোগ ভীষণ ভয়ের
ছুঁয়াচে হওয়ায় তা,
একের থেকে অন্যতে যায়
মুশকিল এমন যা।

হাঁচি-কাশি ঢেকে রাখি
মাস্ক দিয়ে মুখে,
ফুসফুসটাকে ভালো থাকাই
সুখে কিংবা দু’খে।

সবাই যদি নিজে নিজে
সাবধান হয়ে যাই,
মুক্তি পাব ইনশাআল্লাহ
ভেবে দেখ তাই।

হাত ধুয়ে নাক মুখ ছুঁই পরে
খাবার খাদ্য খাই,
শিশুদের দেখে রাখি আর
মানি নিয়ম তাই।

করোনা দিও না মাফ করো…
হাসান সাইদুল

যে মুখে নিশ্বাসের সঙ্গে তোমার নাম উচ্চারিত হয়
সে মুখ গলায় করোনা দিও না
আল্লাহ…
যে কানে দিন পাঁচ বার শুনি আল্লাহ হু আকবারের আজান
সে কানে শুনতে চাই না করোনা আক্রান্ত আর আতংকের বানী
আল্লাহ…
যে মনে যে মগজে বিশ্বাস করি তুমি এক
তুমি সর্ব শক্তিমান
সে মনে লালন করতে চাই না
করোনা আগ্রাসনের কোনো চিত্র
আল্লাহ…
৯৯ নামের ফজিলতে কাটাতে চাই পৃথিবীর আয়ু
তোমার কঠিন আচরণের নামটি হাশরে ব্যবহার করো
আল্লাহ…
তুমি ক্ষমাশীল, তুমি দেখতে পাও আমাদের আর্তনাদ
আল্লাহ…
তুমি জন্ম মৃত্যুর মহান স্রষ্টা
বিশ্বাস করি মৃত্যু অনিবার্য- আল্লাহ
করোনায় যদিও মৃত্যু দাও- আল্লাহ
এটাও আমার প্রাপ্য-তবে হে করুনাময়
আল্লাহ…
আমার মৃত্যু যেনো আতংক না ছড়ায়।
আমার মৃত্যু দাও আমার বাংলাদেশকে তুমি মাফ করে দাও
আল্লাহ…

যে মুখে নিশ্বাসের সঙ্গে তোমার নাম উচ্চারিত হয়
সে মুখ গলায় করোনা দিও না
আল্লাহ…

হে সভ্যতা, তুমি ঘুরে দাঁড়াও
জিম জিরমান

আঁধারের কূপ থেকে উঠে আসা
আজিকের আলোকিত এই পৃথিবীর রূপ।
নিবিড়ভাবে মিশে আছে এতে
অগণিত মানবের সীমাহীন শ্রম, সাধনা,
বিশ্বাস, ভক্তি, প্রেম আর আরাধনা।
প্রকৃতি এবং তার কর্তার প্রতি মানবের
এই অভেদ্য প্রেম-ই সৃজিয়াছে
আজিকের দৃশ্যত এই মানব সভ্যতা।
বিশ্বাস-ভক্তি-প্রেমহীন প্রকৃতি আজ
বড্ড বিভীষিকাময়,
অগ্নিহুংকারে স্রষ্টার চোখে ভাসে অরুণাক্ষি।

হে সভ্যতা, তুমি ঘুরে দাঁড়াও
তোমার পুষ্পিত হাতখানি বাড়িয়ে দাও,
ভালবেসে তুলে নাও প্রেমের প্রদ্বীপ খানি।
মিথ্যার জোয়াল ছেড়ে
সত্যের হালধরে জেগে ওঠ প্রেমে, ভালবাসায়।
নতুবা করোনার চপেটাঘাতে, হিংস্র থাবায়
তোমাকে নিশ্চিহ্ন করা হবে এই বিশ্ব ধরায়।।

চিন্তার খোরাক
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

সাইরেন বাজেনি, বাজেনি যুদ্ধের দামামা
নেই পাল্টাপাল্টি বিস্ফোরণ নিক্ষেপ আর কানফাটা বিকট শব্দ,
নেই আগ্নেয়াস্ত্রসহ সাঁঝোয়া বাহিনীর তোড়জোড়, তবুও থমকে দাঁড়িয়েছে বিশ্বমানবতা।
তাবৎ দুনিয়ায় আজ তটস্থতা আর আতংকে দিন গুজার করছে, কী সীমাহীন বিভিষিকাময় মহুর্ত!
আজ আর কোন পক্ষ বিপক্ষ বাহিনী নেই, নেই পরাশক্তির একচেটিয়া ক্ষমতার দাপট।
সবাই যেন আজ এক অদৃশ্য শত্রুর মুখোমুখি;
সেই শত্রু বড্ড ভয়ংকর।
আপেক্ষিতা হল শুধু এই অদৃশ্য শত্রুর মোকাবিলায় সবাই ঐক্যবদ্ধ নয়, নেই সম্মিলিত মোকাবিলার প্রস্তুতি! সবাই কেবল নিজের বাঁচার সুড়ঙপথ খুঁজছে,
বলা যায় যার যার অবস্থান থেকে মানবীয় সামর্থনুযায়ী চেষ্টা করছে, আরো খোলাসা করলে বলা যায় বিভেদ রেখা আর সীমা রেখার দ্বন্দ্ব ভুলে সবাই ইয়া নাফসী ইয়া নাফসী হালতে আছে।
কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় আজ তাবৎ দুনিয়া থমকে দাঁড়িয়েছে? কোন মহাশক্তি আজ দুনিয়ার তথাকথিত ক্ষমতাধরদের ক্ষমতাকে চূর্ণ করে তাবৎ দুনিয়াকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে?
আর বিশ্ব মানবতার অন্ধ বিবেকের বন্ধ দুয়ারে কড়া নেড়ে প্রশ্ন রাখছে সারা দুনিয়ার রাজত্ব কার? কোন মহান ক্ষমতাধরের ইশারায় গোটা দুনিয়ায় আজ কিয়ামতের দৃশ্য প্রতিয়মান?
এখানে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের চেয়ে অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে চিন্তার বিশাল খোরাক।

মহামারী ভাইরাস
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

আজকে দেশে মহামারী
করোনা যার নামে,
মানুষ এখন ভয়ে আছে
টানে কখন ঝমে।

করোনা ভাইরাসের লক্ষণ
সর্দি কাশি হবে,
শরীর ব্যথা জ্বরে যে তার
মরণ দশা তবে।

ছোঁয়াছে রোগ করোনা যে
জেনে রাখতে হবে,
করোনার তো প্রতিষেধক
পাইবে না যে ভবে।

মাস্ক মুখে চলবে বেঁধে
মিললে নানা জনে,
হাতটা ধোয়ে মুখটা ধোয়ে
চলবে ক্ষণে ক্ষণে ।

খাদ্য খাবে গরম গরম
থাকবে তাতে ভালো,
করোনা যে ধরবে নাহি
ফুটবে মনে আলো।

এসো করোনা ঠেকাই
শহিদুল ইসলাম নিরব

কোন একদিন জীবন কোষের তরঙ্গ দোলায়
জেগেছিল এই ভাবে- এই পথে বাস্তব অস্তিত্বে।

হে শ্রেষ্ঠ প্রিয় অমৃতপ্রাণ মানব সন্তান
তোমার নিগুঢ় গুপ্তরহস্য জীবনের নানা ধাপে
প্রগতির পথে সিদ্ধ শুদ্ধ মানুষই জগতের শান।

তোমার শ্রেষ্ঠত্বের সাথে
প্রাক জীবনের ধ্বংসের দ্বন্দ্ব ঘটেছিল ঢের,
আজো সেই দ্বন্দ্ব প্রকটিত।

তুমি টিকবে কি টিকবে না, সেটাও বলবে দ্বন্দ্ব।

ঠেকাও ধ্বংসের তরঙ্গ-দোলা বায়ব তুল্য অনুজীব,
জড় জীবনের অস্তিত্বে- অদৃশ্য জীবাণু।

বন্ধ করতে উৎসমুখ, বিশ্ব উম্মুখ,
নির্মূল করো, করো শুদ্ধ বস্তু উৎস স্থান
যেখানে উদ্ভব ‘উহান’।
এখনই করোনা উত্থান তরঙ্গ রূপ ঠেকাও, প্রদমিত করো-
দেশ থেকে দেশে
বায়ূ থেকে বায়ূ
প্রাণ থেকে প্রাণ
চলছে উজান
এসো গৃহবন্দী করি করোনায়
তুমি সুকৌশল বন্দী হয়ে ঠেকাও অদৃশ্য দানব।

মানুষ মানবধর্মকে দিয়েছে বিসর্জন
খ্রিষ্ট, ইসলাম, ইহুদি সব
সাম্প্রদায়িক আত্মকেন্দ্রিকতায় বিভোর, ত্যাজ্য,
ত্যাজ্য নির্দয় পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদ।
তাই ডাক দিয়ে যাই পৃথিবীর মানুষ ভাই
সাম্যের সুন্দর ব্যবস্থা গড়তে
এসো এক হই সাম্যে
এসো পৃথিবীটাকে গড়ি সাম্যের গৃহ রূপে
বিশ্ব- অঞ্জলি ভরে দেই প্রেম
ঠেকাই করোনা
মার্স কিংবা সার্স প্লেগ বসন্তের মত।

দিন কয়েক ঘরেই থেকো
সঞ্জয় কর

এসো আবার সাহস নিয়ে সবাই করি যুদ্ধ
জীবাণুর হাত থেকে এবার দেশ করি শুদ্ধ।
এ যুদ্ধে এক সাগর রক্ত লাগবেনাকো–
জনসংযোগ এড়িয়ে ক’দিন ঘরেই থেকো।

একাত্তরে যুদ্ধ করে দেশ করেছি স্বাধীন
বায়ান্নতে ভাষার জন্য রক্তে হই রঙিন।
এ যুদ্ধে নারীর ইজ্জত দিতে হবেনাকো-
পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ক’দিন ঘরেই থেকো।

আমরা স্বাধীন বীরের জাতি হারতে শিখিনি
কখনও আমরা পরাজয়ের কাব্য লিখিনি।
এ যুদ্ধে রাইফেল,কামান লাগবেনাকো-
সাস্থ্যবিধি মেনে চলে ক’দিন ঘরেই থেকো।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাই উঠি জেগে
করোনার বিষ দাঁত দেবোই দেবো ভেঙ্গে।
প্রেমিকার সাক্ষাতে সাময়িক বিরতি রেখো-
ধর্য্য ধারন করে দিন কয়েক ঘরেই থেকো।

থাকতে হবে বেঁধে
কৃপাণ মৈত্র

কি দাদা ,মালুম
হচ্ছে কিছু
ধর্ম জাতি উহ‍্য সবই
ভয় ছুটছে পিছু পিছু।

ধর্ম নাকি বর্ম সবার
হরেক ধ্বজা উড়ে
ধর্মের নামে রক্তারক্তি
সারাবিশ্ব জুড়ে।

ভাগাও সব বুজরুকি
বে বুনিয়াদ ধারণা
রং দেখে না এ মহামারী
এ মহাদায় করোনা।

এখন শুধু বাঁচার তাগিদ
না উসকে ভেদাভেদে
বাহানাতে আলগা নয়
থাকতে হবে বেঁধে।

লাশের ডায়েরি
হাসান আবু নাঈম

একটি লাশ পড়েছিল শকুনের পাহারায় ঝোপঝাপ ঘেরা নদীর ঢালু তীরে
আকাশ দেখেছিল অবাক চোখে মানবের বুকপিঠ নাক মুখ
কেঁদেছিল বাতাস ও
কত দূরে দাড়ালে নিরাপদ মনে হয়
তার চেয়ে সহস্র গুন নিরাপদে ছিলাম মানব
তখন নাকি দহন কাল নাকের পলিপে ভর করে বাতাসে।

ফিরে আসে কানাগলি মড়ক পায়ে
আমি তুমি দুজনে প্রেমের লেলিহান মহাকালে পুড়েছি
আজও পুড়ি।
এখন ও পুড়ি
এখন ও মানবে সায়র জাঁগে
রক্তিম আলোকে
ভাসে প্রিয় মুখ
এখনও নিঃশব্দের ভিতর লাশ শুকায় বাতাসে।

নিদানকাল
চৌধুরী ফেরদৌস

দিবস-রজনী
এই গৃহবাস
কিছুই লাগে না
কিছুই লাগে না
আগেও যেমন
এখনো তেমন
বিরহ জাগে না
বিরহ জাগে না
তেত্রিশ বছর
তোমাকে ছাড়া
বন্ধ যে দম
সেটাই কি কম
এ নিদানকাল
তাই ডাল-ভাত
বিচল করে না
বিচল করে না…

করোনারই ডরে
মুহাম্মদ ইমদাদ হোসেন

দেশটা আছে লকডাউনে
আব্বু আম্মু ভাই-বোনেরা
বন্ধি সবাই ঘরে,
সবার সাথে ঘরের ভেতর
এই আমিও বন্ধি আছি
করোনারই ডরে।

বন্ধ আছে ইশকুল আমার
বন্ধ সকল মাঠের খেলা
বন্ধি খেলার সাথী,
ঘরেই আমার লেখাপড়া
খেলাধুলা আহার নিদ্রায়
কাটে দিবস রাতই।

রোগ করোনায় বিশ্ব কাঁপে
আব্বু আম্মু সবাই কাঁপে
তাই আমিও কাঁপি,
মরণব্যাধি এই করোনায়
মুক্তি পেতে প্রভুর কাছে
চাই আমিও মাফি।

আল্লাহ তুমি রহম করো
এই করোনা বিনাশ করো
এই প্রার্থনা করি,
নাও তুলে নাও বলা তুমি
রক্ষা করো মানব জাতি
কেউ যেন না মরি।

পরাজিত অহংকার
শামছুদ্দোহা সওগাত

মানবজাতি সৃষ্টির সেরা বলে ছিলো অহংকার।
মানবজাতির অদৃশ্যশত্রু করনা করে দিল চুরমার।
এতদিন মানুষের মধ্যে ছিলো ক্ষমতার রাহজানি।
এতদিন মানুষের মধ্য ছিলো ক্ষমতার হানাহানি।
এতদিন মানুষ চাইতো কাকে মেরে কে খাবে।
এতদিন চাইতো ব্যবসার নামে কাকে কে ঠকাবে।
এতদিন ভাবতো অন্যের চেয়ে সেরা তার ধর্ম্।
এতদিন বলতো সবচেয়ে সেরা তার সব কর্ম্।
এখন আপন নিবাসে স্বেচছা্ গৃহবন্দি লকডাউন
এখন সবার মুখে লেগেছে লাগাম মাসক কাউন
ইচ্ছে করলে যাবেনা কাউকে কোনভাবে ছোঁয়া
পৃথিবী থেকে নিয়েছে বিদায় ভালোবাসা মায়া
কারো যদি হয় হাচি কাশি শ্বাষকষ্ট আর জ্বর
হায়!সে সবার শত্রু, কারন সে করনার আছর।

অনুভবে আমি
লিপি চৌধুরী

আবার কবে ফিরবো মানুষের কাছে
হাতে হাত রেখে বলবো স্পর্শ করো
দেখো পবিত্র জলে ধুয়ে গেছে সব পাপ।
তোমার থেকে দূরে থেকে একটুও ভালো নেই।
পেছন থেকে ছুরি মারতে মারতে আজ বড় ক্লান্ত।
সবাই আজ তাকায় আড় চোখে,মাথা
নামিয়ে বলে ওঠে”সব ঝুট হ্যায়”।
মেহের আলী মেপে দেয় দুরত্ব।
সে কি প্রকৃতির সন্তান?
পৃথিবীকে যারা নিলামে তোলার উল্লাসে মেতেছিলো, নগ্ন করেছিলো
মাতৃত্বকে ধর্মের নামে।
তারা আজ গৃহবন্দি পৃথিবীর নিদানে।
কলঙ্ক মুছে তাই আকাশ “নীলিমায় নীল”।”চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে”।”নদী আপন বেগে পাগলপারা”।”সাঁঝের পাখিরা ফিরেছে কুলায়”।শুধু তোমার ফেরার পথ রুদ্ধ। মানুষের ছায়া মানুষ কে ছেড়ে গেছে সাপের খোলসের মতো।শুকনো পাতার মতো উড়ে চলেছি সোনাঝুড়ি জঙ্গলে।এক্ষুনি আসবে সাফাই কর্মী,যাকে ছুঁলে চান করতাম এতদিন।এখন সে এসে শুকনো শরীর ঝাঁট দিয়ে জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে দেবে।মেঘ যদি প্রত্যাখ্যান করে?নদী,সমুদ্র,পাহাড়?সবাই সবাই- সবার চোখে আজ প্রতিশোধের আগুন।বড্ড ভয় পাচ্ছি,ভীষণ ভয়।আমার হাত টা ধরো।আমি আজ বড্ড একা।বিশ্বাস করো আমি আবার “মানুষ”হতে চাই।আমি আবার “মানুষ”হবো।মৃত্যুর হাতে ছেড়ে দিও না আমায়-

ঘনঘন হাত ধুই
মুজাহিদুল ইসলাম

ঘনঘন হাত ধুতে
সাবান পানি নাও
কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড
পারলে আরো দাও।

হাঁচি এলে কাশি দিলে
টিস্যু, কাপড় লও
বাহুর ভাঁজে নাক,মুখ
নাহয় চেপে রও।

দলবদ্ধ চলাফেরা
এখন আর নয়
ঘরে থেকে করোনাকে
একটু করো ভয়।

জ্বর,সর্দি গলাব্যথা
কেহ যদি কয়
ভয়না পেয়ে চিকিৎসকের
সলা যেন লয়।

মাছ,মাংস রান্নার আগে
ভালভাবে ধুই
তরকারিটা সিদ্ধ কিনা
দেখে নিও সই।

মানবতার জয়
শোভা চন্দ

পৃথিবী আবার সুস্থ হবে,
পবিত্র ভোর জেগে উঠবে।
আবার শান্ত হবে পৃথিবী।
সবুজ ঘাসের ঘাঘরা পরা প্রকৃতি ফুল, প্রজাপতি
আনন্দে নাচবে।
পাখিদের গানে গানে আকাশ বাতাস
মুখরিত হবে।

মহামারির কবল থেকে নুয়ে পড়া
এ বিশ্ব-সংসার আবার একদিন
মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
গোধূলির জাফরান রঙ ছড়িয়ে পড়বে
সবুজ ধানক্ষেতে।
নরম তুলতুলে পা ফেলে
হেলে দুলে শিশুরা হাঁটবে
সবুজ ঘাসের গালিচাতে।

প্রতিমূহূর্তে ভয়ের কাপুনি আর
মৃত্যুর হাতছানি, মানুষের হাহাকার
দারিদ্র্যের কালো ছায়া,
কোমর হেলে যাওয়া রুগ্ন বিশ্ব-সমাজ আবার একদিন শিশুর মত
খিলখিল করে হাসবে।

মৃত্যুর দেশে যারা চলে গেছে অসহায়ের মতো
তাদের ছায়া পড়ে আছে আমাদের হৃদয়ের কাছে‌।

মরণ ক্রমশঃ ঘন হয়ে আসছে আমার চারদিকে
হয়তোবা মৃত্যু এসে হঠাৎ একদিন আমাকেও
সেই পুরস্কার দেবে
টেনে হিচড়ে নিয়ে যাবে ওপারে।
সাক্ষী থেকো নিস্তব্ধ প্রকৃতি আর
চৈত্রের ঝরাপাতা।
পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকবো
মাতৃভূমির কোলে।

তবুও তবুও সব নিকোষ কালো
অন্ধকার দূর করে, জীবাণুকে ঘুম পাড়িয়ে
একদিন বিঞ্জান ঠিক জিতে যাবে।
দূরত্বের প্রাচীর ভেঙে,
মানবতার জয় হবেই হবে।