মানব রাজ্যত্বে মানুষ অসহায় হয়ে উঠেছে। সাথে পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীও মানুষের অমানবিক অত্যাচারে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম। অনেক প্রাণী তাদের বংশ রক্ষায় কোনো প্রকার প্রটেকশন তৈরি করতে না পেরে চিরতরে হারিয়ে গেছে। মানুষ মানুষকে নির্মম অত্যাচার করেছে। এক জাতি অন্য জাতিকে নির্মূল করা জন্য তৈরি করেছে মানব হত্যার সরন্জাম। তারপর ঝাপিয়ে পড়েছে জাতিতে জাতিতে, ধর্মে ধর্মে, দেশে দেশে। আজ পৃথিবী যেন মানব পাপের কুণ্ডলিতে পরিণত হয়েছে। মানুষ ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে, গাছ ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে, মাছ ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে, প্রাণীরা ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে। নদী, সমুদ্র, পাহাড়, মরুভূমি ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে। বায়ুমণ্ডল ফরিদায় করেছে প্রভুর কাছে। প্রভুর মানবের অত্যাচার থেকে আমাদের বাচান।

আজ সেই ফরিয়াদ কবুল হয়েছে। পৃথিবীতে প্রভু পাঠিয়েছে তার সেনাবাহিনী। সেই বাহিনির নাম ‘করোনা’। যার ভয়ে অত্যাচারি মানুষ গৃহবন্দি। তারা বের হতে পারছে না। নিজের সম্পর্ককে আজ অস্বীকার করছে। পিতার লাশকে গ্রহণ করছে না পুত্র-স্বজন। নিজেকে নিজে বিশ্বাস করছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে তাদের জীবন।

কিন্তু আমরা এ পাপ থেকে মুক্ত হতে চাই। আমরা ফিরিয়ে দিতে চাই প্রাণের অধিকার। প্রকৃতির অধিকার। আমরা যার যার অবস্থান থেকে পাপ মুক্ত হবো। আমাদের পাপের পরিবর্তে পূণ্য করে প্রকৃতিকে বাচিয়ে রাখবো। আমাদের প্রয়োজনেই আমরা তাদের সেবা করব। আমরা বন উজাড় করব না। আমরা পাহাড় কাটব না। আমরা সমুদ্রকে দুষিত করবো। আমরা হত্যার জন্য মারনাস্ত্র তৈরি না করে প্রকৃতির ভালোবাসার জন্য তৈরি করব নিরাপদ পৃথিবী।

পৃথিবীর প্রকৃতি ভালো থাকুক এই কামনা। করোনা সচেতনতায় সামাজিক দূরত্ব বহাল রাখি ভালোবসার সম্পর্ক কাছি রাখি। করোনা সচেতনতা সংখ্যা ২০২০-৫ প্রকাশ করা হলো :
আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চি প ত্র

করোনার প্রতি কবির ভর্ৎসনা :: নির্মলেন্দু গুণ
মৃত্যুর আগে :: খসরু পারভেজ
মরাপালকের নীচে প্রাণের জোয়ার :: শাহীন রেজা
ত্রাতার পতাকা উড়বে :: ফরিদুজ্জামান
কোভিড-১৯ :: সায়ীদ আবুবকর
করোনার ওষুধ :: মৃধা আলাউদ্দিন
মহামারী এই ইন্দ্রধনু ভেঙ্গে হবে নতুন আকাশ : সালমান রাইয়ান
স্রষ্টা সমীপে :: মৌসুম মনজুর
বন্দী ঘরের কোণে :: লোকমান আহম্মদ আপন
গৃহবন্দি :: রেদওয়ানুল হক
ছবিশৃঙ্খল :: রিয়া চক্রবর্তী
করোনা ভাইরাস :: রবিন নায়েক
মানুষ তুমি মানুষ হও :: কাজী জুবেরী মোস্তাক
সংকট উত্তরণ :: রবিউল মাশরাফী
করোনাকাল :: বেবি হাসিনা
একটি অণুজীব :: তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী
লকডাউনের বাস :: রুবেল হাবিব
হাত নয় শুধু অন্তরাত্মা পবিএ করো :: ইব্রাহীম মন্ডল
চল করোনা চল :: নীপা চৌধুরী
সামাজিকতা :: সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক
দিশেহারা পাখির চিৎকারে :: সৈয়দ সাইফুল্লাহ শিহাব

করোনার প্রতি কবির ভর্ৎসনা
নির্মলেন্দু গুণ

হে পাষাণ, হে দৈত্যাসুর, নিষ্ঠুর করোনা, আমি তোমার বিরুদ্ধে কবিতা লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও নিশ্চিত জানি, কবিতা বোঝার, ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য বোঝার শক্তি তোমার নেই।
তুমি কোনো অপশক্তির হাতের পুতুল।
আমার কবিতা তোমার ভালো লাগবে না জানি। তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না,
আমার ঘৃণা ও ভর্ৎসনাই প্রাপ্য তোমার।
এখনও আমি একটু দ্বিধার ভিতরে আছি।
কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মাথার ভিতরে।
তুমি কি প্রকৃতিসম্ভূত?
পড়েছো আকাশ থেকে?
নাকি চাপা ছিলে দীর্ঘদিন
‘অনন্ত বরফ বীথি’ তলে?
এখন বরফ গলেছে বলে,
মুক্তি পাওয়া দৈত্যের মতন
তুমি ছড়িয়ে পড়েছো বিশ্বে?
নাকি তুমি মনুষ্যসৃষ্ট?
বায়োবিজ্ঞানীর ঔরসজাত,
টেস্ট-টিউব বেবী?
উহান ল্যাবরেটরীতেই কি
জন্ম তোমার?
কিছু মনে করিস না, তোর আক্রমণে নিহত
লক্ষ-লক্ষ শবের ওপর তোর ভূতনৃত্য দেখে
অক্ষম ক্রোধে ও ঘৃণায় আমি নেমে আসছি
তুমি থেকে তুই’য়ে।
তুই তো জাহান্নামে যাবিই, হে করোনা,
তোর জন্য অপেক্ষা করছে নরক,
The hell is waiting for you.
হে মহাপাতক, হে ঘৃণ্য, হে অদৃশ্য ঘাতক, মানুষের গণপিটুনিতে অক্কা পাওয়ার আগে তুই বলে যা, তুই কোন্ ইতরের তৈরি?

মৃত্যুর আগে
খসরু পারভেজ

বিষণ্ন মার্চের প্রান্তর ছাড়িয়ে
আমরা এখন নিষ্ঠুর এপ্রিলে দাঁড়িয়ে আছি।

ওয়েস্টল্যান্ড হাতে নিয়ে এলিয়ট কাঁদছেন
চিনুয়া আচেবে- মিলান কুন্ডেরা কাঁদছেন
পৃথিবীর শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে
হাহাকার করছেন ইবসেন- আন্দ্রে জিদ
কষ্টের হ্যাঙ্গারে ঝুলে আছে কাফকার জামা
নিস্তব্ধ নির্বাক এখন লোরকা- হোচিমিন।

আমরা কোথায়- কতদূর যেতে পারি আর
আমাদের প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে চতুর্গুণ হবে
মৃত্যুরও তো একটা প্রবৃদ্ধি আছে
আমরা সবাই ভয়াল মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নেবো!

যাদের অনেক টাকা আছে তারা ঘরে থাকো
ফ্লাটের দালাল – বিজিএমই ঘরে থাকো
ঘরে থাকো সংবাদ পত্রের মালিক- মৌলভি-ফতোয়াবাজ
যাদের টাকা নেই তারা ত্রাণের লাইনে দাঁড়াও
ভিক্ষুক- শ্রমিক- চায়ের দোকানদার
পথে পথে ঘোরো
রাস্তায় থাকো পুলিশ- ডাক্তার-নার্স- ব্যাংকার-মিডিয়া কর্মী
সমস্ত শরীরে মেখে নাও বিষাক্ত জীবাণু।

মৃত্যুর আগে আমরা দেখে যাবো চাউল চোরের মৃত্যু নেই
চতুর- লোভী- মুনাফাখোর আর ধর্ষকের মৃত্যু নেই
মৃত্যুর আগে আমরা দেখে যাবো আমাদের করুণ কবর
মৃত্যুর আগে আমরা দেখে যাবো
আমাদের মৃত্যু কত অনিবার্য ছিল।

মরাপালকের নীচে প্রাণের জোয়ার
শাহীন রেজা

পাখিটিকে মরাপালকে ঘিরে রেখেছে মেরে ফেলবে বলে|
এভাবেই পৃথিবীব্যাপী তৈরি হওয়া অসংখ্য পালকে ওরা ঢেকে ফেলেছিল আমাদের|
প্রথমে পরাশক্তি, সমরাস্ত্র, পারমানবিক আহ্লাদ, ভেটো, তারপর বানিজ্য আগ্রাসন
খাদ্য বস্ত্র শ্রম এবং নিত্যপ্রয়োজন আর সবশেষে অস্ত্র জীবাণুর|
পালকে পালকে আচ্ছাদিত আমাদের মৃত বানাবার আগেই কি আশ্চর্য
বাতাস থেকে উবে গেল কার্বন আর নাইট্রোজেন
গাঢ় অক্সিজেনে ডানা মেলতে লাগলো লক্ষ কোটি সবুজ
মৃত্যুপুরী ফ্রান্স ইতালী আমেরিকার রাখালহীন প্রাণীগুলো
গেট খোলা পেয়ে নেমে এলো গাড়িহীন খা খা রাস্তায়
কক্সবাজারের বালিয়াড়ি দখল করে নিল অসংখ্য সাগর লতা আর
সৈকতের নীলে অফুরন্ত স্বাধীনতায় উড়াল
আঁকতে লাগল হাজারো ডলফিন আর
আমার বারান্দায় ঝলমল রোদে বুক খুলতে লাগলো কুকড়ে যাওয়া মানিপ্ল্যান্ট|

মরাপালকগুলো এখন ওদের
পৃথিবীর সব সবুজেরা জড়ো হচ্ছে আমাদের চারপাশে
মরাপালকের নীচে প্রাণের জোয়ার|

ত্রাতার পতাকা উড়বে
ফরিদুজ্জামান

সুড়ঙ্গ শেষে আলো দেখবো কবে?
পৃথবী আবার সুন্দর কবে হবে?
বিজ্ঞানী কবে করোনার টিকা আনবে?
ধন্বন্তরীর ওষুধে করোনা হানবে।
কর্পূরসম অসহায়ত্ব হবে লীন?
আশা ও স্বপ্ন বুকে রবে অমলিন।
ত্রাতার পতাকা উড়বে দেশে দেশে
কূপমণ্ডূক চরবে না খেলে হেসে।
মারণাস্ত্রের গবেষণা হবে শেষ?
জীবন সাজাতে সবার মনোনিবেশ।
ধর্মব্যবসা ও ধান্ধাবাজের কবর
রোগশোক জ্বরা টোটার আনবে খবর?
মারী ও মড়ক নিপাত পৃথিবী হতে
অভিষেক হবে শান্তির জয়রথে।

কোভিড-১৯
সায়ীদ আবুবকর

মেশিনের মতো ছুটছিল
মানুষেরা। সে এসে বললো,
থেমে যাও। ফুটছিল
মুখেতে কথার খই।
সে এসে বললো, থেমে যাও।
থেমে গেল হৈ চৈ।

তারপর সব থেমে গেছে।
স্তব্ধ হয়ে গেছে সব।
নেমে গেছে
নালাতে নেশার জল। হৈ চৈ, কলরব,
মিছিল, মিটিং, উল্লুকের হাসি
এবং আগ্রাসী
বিমানের চীৎকার-
নেই আর।

থেমে গেছে সবই; শুধু
জেগে আছে আমাদের পুরনো হৃদয়,
যার মধ্যে খালি হলুদ আতঙ্ক, ধু- ধু-
ভয়
ভূতুড়ে মৃত্যুর।
আমাদের পিপাসার্ত কান
বিপন্ন বাতাসে খোঁজে এক সুর,
এক গান-
বৃষ্টির, শান্তির
এবং সমাপ্তি ভোগান্তির।

করোনার ওষুধ
মৃধা আলাউদ্দিন

গরম করুন আদা-রসুন লেবুর পানি, দারচিনি ও সর্ষে তেল
ফুটবে যখন ভাপটা নেবেন, খাবেন পানি সুস্থ হবে আপনা দেল।

মহামারী এই ইন্দ্রধনু ভেঙ্গে হবে নতুন আকাশ
সালমান রাইয়ান

“মানছি এখন দুঃসংবাদের মৌসুম, চলছে বিচ্ছিনতার আবাদ
ঝাঁকে ঝাঁকে হিংস্র তিমির মতো ধাইছে আতঙ্কের রাক্ষস
উদ্বেগ গিলে খাচ্ছে মগজ আর শরীরের সব রন্ধ্রে জ্বলছে বিষণ্ণ কনিকা
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা মৃত্যুর স্তূপে দেবে যাচ্ছে পারিপার্শ্বিক ভূমি
বিকট ডাইনীর দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো উপেক্ষার পোষ্টার
অসহ্য অন্তরীণ আর নিস্তরঙ্গ মানুষ জ্ঞানশূন্য ছুটছে দিগ্বিদিক

যদিও
কোটি কোটি বিদূরচিৎকারের ঘন বাতাস কেটে পাখিটির উড়তে ভীষণ কস্ট
তবুও সে উড়ছে, একাই কন্ঠে তুলে নিয়েছে পুরোটা বসন্ত
গাইছে গান, আফোঁটা ফুলের ঘুম ভাঙাতে
যা কিছু অবশেষ,ক্রান্তিকালের ক্ষণবাদী আত্মারা কখন উঠে দাঁড়ায় ।

যদিও
বহু শব বহু মৃত্যু, হিমরক্ত অন্ধকার রুয়ে দেয় নিরুত্তর কবর
গোল হয়ে যাচ্ছে নিঃস্বপ্নে, সমস্ত সবুজ বিছিয়ে চুলখোলা দুর্ভিক্ষের আসর
তবুও মহাপ্রাণ ঐ চিকিৎসক ঐ তরুণ ঐ রাস্ট্র অবসাদ গিলে গিলে
সংঘবদ্ধ হাত আর হৃদয়ের অস্ত্র নিয়ে ঝলকে উঠছে নির্ভিক নীলে।

যদিও
ভয় নেই আর আমরা গড়ে দেব আনত চৌপাশ
মহামারীএই ইন্দ্রধনু ভেঙ্গে হবে নতুন আকাশ ।

মানুষের খুলে রাখা জানালায় মানুষ আসে
যেন পূর্ণরা প্রখর পূর্ণিমার দুর্দান্তে হাসে ।”

স্রষ্টা সমীপে
মৌসুম মনজুর

এই আকাশ ভরা দূরন্ত বিষ
এই বাতাস ভরা ধাবমান বিষ
গাছে গাছে পাতায় পাতায়, রৌদ্র বৃষ্টি জোৎস্না
ভরা বিষ
প্রভু আমি কি পূণর্বার অভিশপ্ত, আমাকে বিদ্ধ করেছ আচম্বিত !

নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে অবিশ্বাস, স্পর্শে আতংক, প্রতিটি শস্যকণায় আজ মৃত্যুর পরোয়ানা।

আমি তোমার আশরাফুল মখলুকাত, শ্রেষ্ঠত্বের পরাকাষ্ঠায় আমাকেই করেছ অধিষ্ঠিত,
হ্যাঁ আমিই অষ্টপ্রহরের ফাঁকে ফাঁকে, প্রাত্যহিক, তোমার মসনদে কুর্ণিশ করি বারংবার।

মসজিদ মন্দির প্রাঙ্গনে, প্রভু প্যাগোডা কিংবা
গীর্জার প্রকোষ্ঠে আমিই তো মাথা কুটি,
উচ্চারণ করি কোরান বাইবেল আর গীতার
শব্দ মন্জুরী।

আমি তোমার আনন্দ, তোমার উচ্ছ্বাস, তোমার
পূর্ণতা,
তোমার বৃষ্টি ঝরে আমারই জন্যে, তোমার রৌদ্র খেলে আমারই জন্যে, তোমার ছায়া সুশীতল ভালবাসা, প্রভু, সবিতো আমারই জন্যে।

এই শূন্যতা, এই শশ্মান
শস্যবিহীন মাঠ, বৃক্ষবিহীন অরণ্য
প্রভু কী দাম আছে এই সূর্যোদয়, এই নক্ষত্রবিহীন
ছাদ !

জানি,আমি তোমার হতচ্ছাড়া, অবাধ্য, এক অপরিনামদর্শী, তবুও এ বিপর্যয়ে তোমারেই করি আরাধন।

সৃষ্টি ও বিনাশের ঘেরাটোপে আমি এক
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পিঁপড়াসম অনুভব,
আমার দম্ভ, আমার ভ্রান্তি, সেতো এক চিরন্তন নিষাদ
ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু, তুলে নাও এই রোষ, এই সকরুণ অভিসম্পাত।

বন্দী ঘরের কোণে
লোকমান আহম্মদ আপন

স্কুল খোলা নেই, মাঠেও নিষেধ
বন্দী আছি ঘরে
এর আগে আর কোনদিনও
হয়নি এমন করে।

মা বলেছে এখন সবার
বাইরে যাওয়া বারণ
কী যেনো এক ছোঁয়াচে রোগ
বন্দী থাকার কারণ।

স্কুলের পরে নিয়ম করে
খেলতে যেতাম মাঠে
ঘরের কোণে ট্যাবে খেলে
এখন সময় কাটে।

কিন্তু আমার ভাল্লাগেনা
ঘরের কোণে থাকা
বাইরে যাবার জন্যে আমার
বুকটা করে খাঁ খাঁ।

গৃহবন্দি
রেদওয়ানুল হক

গৃহবন্দি থাকতে আমার
লাগে না আর ভালো
কে আছো ভাই একটু আমায়
দাওনা এনে আলো।

দাওনা আকাশ দাওনা বাতাস
দাওনা ফুলের ডালও
সবুজ পাতার চিকন আদর
মুখের উপর ঢালো।

কোথায় নদী কোথায় সাগর
কোথায় ক্ষেতের আলও
দেখি না আর ছলাৎ ছলাৎ
নৌকা এবং পালও।

বন্ধ মাঠের খেলাধুলা
বন্ধ খুশির ফালও
পাঠশালাতে জমছে ধুলা
কে জানে তার হালও।

ধীরে ধীরে বাড়ছে মনে
দুর্ভাবনার কালো
গৃহবন্দি থাকতে আমার
লাগে না আর ভালো।

ছবিশৃঙ্খল
রিয়া চক্রবর্তী

পৃথিবী অসুস্থ আজ
পার হই সাদাকালো দাগে
মুখোশে ঢেকেছে মুখ
করোনার ভয় তবু জাগে।।

করোনা ভাইরাস
রবিন নায়েক

করোনা তুমি আর এসো না
যাওগো ফিরে যাও
এই কষ্টের দিন থেকে
একটু মুক্তি দাও।

কেউ করে মজুরের কাজ
কেউবা রিক্সা চালায়
তোমার তরে এবার সবাই
পড়েছে ভীষণ ঠ্যালায়।

রোজগার পথ বন্ধ বলে
খাদ্য, ওষুধ অভাব
অভাবে বসে দিন কাটানো
নয়কো কারোর স্বভাব।

তাই তো বলি এবার তুমি
যাওগো এবার থেমে
দেখবে তুমি এই পৃথিবীর
শান্তি আসবে নেমে।

মানুষ তুমি মানুষ হও
কাজী জুবেরী মোস্তাক

সারা পৃথিবী আজ বাঁচার জন্য লড়ছে
ঈশ্বরের সামনে নতজানুই বসে থাকছে ;
সকলে থাকতে চায় মহাবিশ্বের উপরে
মুখোশের উপরে আরেক মুখোশ পড়ে ।

ক্ষমতার দম্ভ নেই আজ পৃথিবীর বুকে
অহিংসা পরম ধর্ম বাণী সকলের বুকে ;
কাঁধে কাঁধ রেখে বাঁচার স্বপ্নটা দেখছে
ব্রহ্মাণ্ডের এমন দৃশ্য কে কবে দেখেছে ?

পৃথিবী জুড়ে আজ শুধুই মানুষ মরছে
হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ভেদাভেদও ভুলেছে ;
আলোর অপেক্ষায় পৃথিবীটাও বহমান
জ্বালো আলো ঈশ্বর ;আল্লাহ ;ভগবান ।

যুদ্ধ দাঙ্গা ভুলে মানবতা এক কাতারে
মহানুভবতা থমকে যায়নি কাঁটাতারে ;
মানুষ আজকে মানবতা ফেরি করছে
সব ভুলে ভালোবাসাটাও বিলি করছে ।

ভেঙে চুরে গেছে আজ সব অহংকার
ভাগাভাগি করে করছে সবাই আহার ;
কিসের এতো দম্ভ জীবনটাইতো ছোট
মানুষ তুমি আবারও মানুষ হয়ে ওঠো ।

সংকট উত্তরণ
রবিউল মাশরাফী

হাসিনাকে বলেছিল রবিউল মাশরাফী
খাস দিলে করা হোক রাষ্ট্রিয় মোনাজাত
কান্নায় ভেঙে পড়ো একযোগে সব লোক
করোনার ভাইরাস দেশ থেকে চলে যাক
ভেবেছেন অমূলক; এ আমার ছোট কাজ
রাখেননি দাবি তাই আমলেও আনেননি!

তার কোন দোষ নাই, দুষ্টুরা সাথে আছে
ধর্মীয় কথা এলে কেউ বোল পাল্টায়
কার ভয়ে কেনইবা কাচুমুচু করবেন?
আল্লাকে ভয় পান আর নয় কিছুতেই।

তিলে তিলে বুকে পোষা এ আমার বিশ্বাস
ক’মিনিট স্রষ্টার দরবারে একযোগে,
হাত তুলে তাওবায় কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চেলে,
হবে নাকো বড়ো কোনো করোনার দূর্যোগ।
বৃষ্টির প্রয়োজনে একদিন এরশাদ
দেশজুড়ে করলেন রাষ্ট্রীয় মোনাজাত
মুহূর্তে শুরু হলো বৃষ্টির বর্ষণ
শান্তির দরজায় ঈমানীক লোক চাই।

করোনাকাল
বেবি হাসিনা

কাটছে সকাল ঘরের ভেতর
কাটছে দুপুর সন্ধ্যা রাত
ঘরের ভেতর থাকতে থাকতে
কুঁকড়ে যাচ্ছে পা ও হাত।

তবুও থাকি গৃহবন্দি
থাকছি সবাই সঙ্গহীন
সঙ্গ-নিরোধ থাকলে তবে
কাটবে অাঁধার, ফুটবে দিন।

ঘরেই থাকুন, সুস্থ থাকুন
করোনাকালের সংকটে,
ঘরে থাকলেই কাটবে বিপদ
ফুটবে আশা ঠিক বটে।

একটি অণুজীব
তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী

একটি মাত্র বিধ্বংসী হন্তারক অণুজীব,
কী দ্রুতলয়ে প্রবল শক্তিমত্তায়
দেহ থেকে দেহে শত কোটি
ঘাতক হয়ে পরিভ্রমণরত ! কোলাহল
জটলায় দ্রুত হয় তার গতি।
এদেহ ওদেহ ছুঁয়ে দ্রুত দেয় দৌড়।
এভাবে দেহে দেহে, ঘরে ঘরে,
দেশে দেশে ঘুরে তার আগ্রাসী রথ।

বজ্রশাসনে তার সমাজবদ্ধ মানুষ, সঙ্গ
নিরোধ দিনে অবিরাম কার্ফ্যু’য় মুহ্যমান,
কখন ছুঁয়ে যায় হন্তারক জীব ?
হাট- বাজার, অফিস- আদালত, প্রার্থণালয়
কোথাও মানুষ নেই। একটি অচেনা অণু
প্রতিনিয়ত প্রবল দাপটে তাড়িয়ে বেড়ায়,
কোথাও কোলাহল নেই,নেই যন্ত্রের ঝনাৎকার,
সবখানে সুনশান নীরবতা, বিচ্ছিন্ন সবাই–
যেন অচেনা নক্ষত্রে নির্জন বসতি।।

লকডাউনের বাস
রুবেল হাবিব

ক’তারিখ ভাই বলতে পারেন
বলেন দেখি কি বার?
কি লাভ বলো বার দেখে ভাই
নাই দরকার দেখি বার।

শনিবারে যেমন দশা
রবিবারেও তাই তো
সোম থেকে বুধ বৃহস্পতি
শুক্রে তফাত নাই তো।

ঘরের ভেতর শুরু সকাল
দুপুর বেলাও তাই যে
বিকেল বেলায় বারান্দাতে
সন্ধ্যায় দেই হাই যে।

সূর্য যখন অস্তমুখি
উর্ধ্বে তুলে হাতকে
নিদ্রা কুসুম তেলের ঘুমে
পার করে দেই রাতকে।

মাঠ ভুলেছি পথ ভুলেছি
আর ভুলেছি জনকে
ঘরের লোকেই ঘুরেফিরে
মানুষ চেনায় মনকে।

এমনি করে দিন চলে যায়
যাচ্ছে চলে মাস
দালান নামক ফ্লাটের গুহায়
লকডাউনের বাস।

হাত নয় শুধু অন্তরাত্মা পবিএ করো
ইব্রাহীম মন্ডল

করোনা জ্বরে আক্রান্ত হাজার ডিগ্রী উষ্ণতায়
কাঁপছে পৃথিবী থরথর।
কাঁপছে—
আধিপত্য, সাম্রাজ্য, নাস্তিক্যবাদ ও তাদের পদলেহী রাজতন্ত্র।
প্রলয় ঘটানোর শক্তিধর পরাশক্তি
এখন ভীত, পালানোর পথ নেই,তাড়া খাওয়া ইঁদুর আশ্রয় খোঁজে শূন্য আকাশে।

কেউ কারো নয়,বিপদে কাছে নেই আপনজন।
হয়েছে তৈরী সমুদ্র ব্যাবধান, এযেন হাশরের ময়দান!

বিনা বিষ্ফোরনে গড়ছে লাশের টুইন টাওয়ার।
ভন্ড গনতন্ত্রী পুজিবাদের পাপ ষ্ফীত হতে হতে
ঘটেছে বিষ্ফোরন।
কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ধরাশায়ী আজ।
ক্ষমতার দম্ভ চুপছে গেছে ফাপা বেলুনের মতো।
দম্ভ-ভম্ব অহংকার উড়ে গেছে বৈশাখী বাতাসে
ওজনহীন শিমূল তুলার মতো।

কার ইশারায়? তবে কী তিনি হয়েছেন ক্ষুব্ধ!
একি তার শক্তির সামান্য নমুনা?

ভূস্বর্গ দানবের উল্লাস ,দলিত-মোথিত গোলাপ বাগান।
দখলদারিত্বের হিংস্রতার ছোবল নীল প্লাবনে ভাসছে ফিলিস্তিন।
উঁইঘুরে ,গুয়েন্তানামায় অসহায় মানবতার কান্নায়
অশ্রু ঝড়ে বাতাশে!
বুভুক্ষ সোমালিয়ায় মানব কংকাল বুকে নিয়ে কাঁদে ধূলিকনা!
ইয়ামেনের মুনতাহীনা,কাশ্মীরের নাফিসা-
সিরিয় শিশুটি কি তঁকে বলে দিয়েছে সব?

বিশ্ব মোড়ল ইবলিশ দানবের বদ হজমের উদ্গীরন!
জান-মাল, ধর্ম, ইজ্জত লুন্ঠনকারী তাগুতের তান্ডব।
সফলতায় শয়তানের অট্টহাসির পরিনতি।
অন্যায়ের প্রতিরোধ না করায় নেকী-বদী এক পাল্লায়।

ক্ষমতা লুন্ঠনকারী সৌরতন্ত্রের পাপ!
সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখার পাপ।
প্রতারনা ভন্ডামী,মানবতা হত্যার পাপ।তাবৎ
পাপের কলুষিত জগত কাঁপছে থর থর।পূর্বেকার মতো বিনাশ হতে পারে কথিত এ সভ্যতা!
যদি ঠেকাতে চাও—

শুধু হাত নয় অন্তরাত্মা পাপ ধুইয়ে কলুষমুক্ত হও।মহান স্রষ্টার কাছে- প্রাথনায়

নত হয়ে ক্ষমা চাও কৃতঅপরাধের।
হয়তো মুক্তি পেতেও পার!

চল করোনা চল
নীপা চৌধুরী

চল করোনা চল
মামা বাড়ি চল
মামীর হাতে গরম জল
কে তোকে বাঁচাবে বল
সাথে দিবে লেবু জল
থাকবেনা তোর কোনো বল
আর যে দিবে রঙিন চা
লেবু পাতা করমচা
আরও দিবে গরম দুধ
খেয়েই হবি নাস্তানাবুদ
কাঁচা হলুদ তুলসী রস
তুই করোনা হবি বস।
আরও দিবে কালোজিরা মধু
কেমনে প্রাণ বাঁচাবে তুমি যদু?

সামাজিকতা
সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

ইস্! একের সাথে আরেকজনের ব্যবধান!
সামাজিকতায় লক্ষ্মণরেখার ভরসায় সমাজবদ্ধ জীবেরা
ভাবিত মারণ-ব্যাধির কৌশলে ও ছোবলে।
তবে আমরা কি এখন অসামাজিক?
না হে না, ভীড়-জমায়েত-আড্ডার মজলিশে
মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে রোগটির ম্যাজিক!
ভোগান্তি রুখতে একটু পৃথক, একটু ভাবনায়
বদলে নিই না আমাদের সামাজিক চেনাজানা।
একদিন না একদিন রসায়নগারে ঐ ভাইরাস-
ধ্বংসের রাস্তাখানি হবেই করায়ত্ত,
তখন আবার সামাজিকতা হেসে-খেলে-দুলে
বিশ্বসংসারে হবেই মৌতাতে মত্ত।
আশাতে বাঁচি আর থাকি সতর্ক সাবধান
বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হওয়ার ওটাই প্রকৃত সমাধান।

দিশেহারা পাখির চিৎকারে
সৈয়দ সাইফুল্লাহ শিহাব

পৃথিবী দেখছে মরা মাছের মত
শোকার্ত বাগান
কমলার ফুলগুলো নিঃস্পাণ
হলুদ চাহনীতে দুলছে মলিন বাতাসে
দুগ্ধপোষ্য তারাগুলো ঝরে পড়ছে অবিকল বৃষ্টির মত
কাকের ডানায় ভর করে উড়ে যাচ্ছে
আফ্রো-এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার দিন।

কালো সুতোয় বুনে চলেছে পৃথিবী
ইতিহাসের কালরাতের পতাকা
জিবনের তাঁতখানায় মৃত্যুর লাল মাকুতে।
উদিত সূর্যের পিঠে আঁকা
অব‍্যক্ত ব‍্যাথার রক্তিম মানচিত্র
যেন মুখোমুখি সংঘর্ষে
মহাসড়কে ছিটকে পড়া এক মানুষের
সাদা মগজের পরে জমাট রক্তের দলা।

এখানে দিনের শেষ চিহ্ন খুঁজে এক দোয়েলের শিসে
অনিদ্র রাতের কুসুমে জ্বলা
জোনাকির জোসনা তুলে আনে
দিশেহারা পাখির চিৎকারে
মাতৃগর্ভের আলো।