কল্পনাশক্তি মহা বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আর সকল সৃজন শক্তির উৎস ধারা। বিজ্ঞান শক্তির বিজ্ঞান হল কল্পনাশক্তি, দর্শনের দর্শনশক্তির দর্শন হল কল্পনাশক্তি আর বিজ্ঞানের বিজ্ঞান, মহাবিজ্ঞান হল কল্পনাশক্তি। সকল প্রকার শক্তির, সকল প্রকার তথ্যের ও শতকোটি তত্ত্বের মূলে লুকিয়ে আছে কল্পনাশক্তির মৌলিক নির্যাস। কল্পনাশক্তির বাহিরে আমরা এক কদম পাও রাখতে পারিনা। কি নাগরিক জীবন, কি সামজিক জীবন, কি শহর কেন্দ্রীক জীবন, কি অজপাড়া গাঁয়ের জীবন, কি বস্তিজীবন, কি রাজনৈতিক জীবন, কি সাংগঠনিক জীবন, কি ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবন, প্রতি ক্ষেত্রে কল্পনা কল্পনা আর কল্পনার নিবিড় যাদুর ছায়ায় ঘেরা। কল্পনার বাহিরে কেউ কোনদিন চলতে পারিনি আর বাকী জীবনে বা ভবিষ্যতেও কেউ কখনো চলতে পারবে না। এটা হলফের হলফ, আমরা হলফ করে বলতে পারি কল্পনাশক্তির মহাজাগতিক ক্ষমতা। তবে সব ক্ষমতার উৎস তিঁনি, এ কথাটাও কিন্তু সকলকে সর্বদা মনে রাখতে হবে। তাই কল্পনাশক্তি মহাজাগতিক বিজ্ঞানের বিজ্ঞান।

সৃজনশীল জীবন ধারার কথা চিন্তা করুন। একজন সৃজনশীল ব্যক্তি সে কবি হোক বা বিজ্ঞানী হোক বা রাজনীতিবিদ হোক, সে যে কোন ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যক্তি হোক, তার গন্তব্যের পথে পৌছাতে হলে সর্ব প্রথম তাকে যে কেন্দ্র বিন্দুতে আসতে হবে সেটি প্রধানত কল্পনাশক্তি। কল্পনাশক্তির বৃত্তের মধ্য থেকে তাকে অতিচেতন বা অবচেতন মনে পৌছাতে হবে।নচেৎ তার কোন কর্মদক্ষতা কোন কাজে আসবে না।

তাই তাকে কল্পনাশক্তির নিখুঁত মাপকাঠিতে নত জানু হতে হবে। তারপর তার সকল কর্ম আর যোগ্যতা কর্ম দক্ষতা,কর্মগুণের সমন্নায় সাধনের ইতিবৃত্তের খুর ধারায় কল্পনাশক্তির বিকাশের পথে হাটতে হবে। তাহলে সাফল্যের নতুন নতুন দিকদর্শনের সূত্র অলৌকিক ভাবে হাতের মুঠে ধরা দেবে। তখন আপনার সকল প্রকার ব্যর্থতা, বাঁধা, বিপত্তি নিমিষে বিনাশ হয়ে সফলতার দ্বার উম্মোচিত হবে অতি সহজে। কল্পনাশক্তির বৃত্ত যার যত শক্তিশালী আর এই ধারা বাহিকতার গতিশক্তি আলোক জ্যোতির অতিচেতনে পৌছাতে পারে। তার দ্বারা সহজতর হয়ে যায় সকল প্রকার কল্পনাশক্তির বহুমুখী ব্যাবহার। কল্পনাকে বাদ দিয়ে এক ইঞ্চি পথও পাথেয় হতে পারে না কোনদিন, কোনকালে। এই জগৎ সংসারে যা কিছু চোখের সামনে দেখি, প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে তা কেবল কল্পনাশক্তির সূত্রধারার সোনালী ফসলের সম্ভার।

যে জাতির মধ্যে কল্পনাশক্তি যত ধারালো, সে জাতি বিশ্বের বুকে তত কতৃত্ব, কৃর্তীত্ব, ও নেতৃত্বশালী ভূমিকা রাখে এবং অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অগ্যগণ্য হিসেবে সর্বত্র বিবেচিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্বের বুকে।

কিন্তু আমরা ভৌগোলিক ভাবে এই বিষয়টি কখনো গুরুত্বের সাথে ভাবতে পারি না আবার কখনো চিন্তাও করতে পারি না। কারন একটাই তা হলো আমরা কখনো মুক্ত চিন্তা, মুক্ত মনোভাব পোষন, মুক্ত সাধনা করতে পারি না। আমরা যতটা মুক্ত মানুষ হতে পারবো, ততটুকুই মুক্ত নির্যাস পরিসর কল্পনাশক্তি আত্ম জগতে এসে ভর করবে। যে জাতির মধ্যে কল্পনাশক্তির ব্যবহার নেই সে জাতি তো চিরোপরাধীন। সে জাতিকে পৃথিবীর কেউ কখনো এই জগৎবাসী চেনে না, চনতেও পারে না। কল্পনা শক্তির ব্যাবহার না থাকলে একটি বা একাধিক জাতিগোষ্ঠী পৃথিবীতে বর্বর জাতিত্বে আত্ম প্রকাশ করতে পারে এবং সেই জাতিও আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। এই পৃথিবীর আধুনিকতার আলো বাতাস তাদের জন্য অভিশাপ রূপে তাদের ঘিরে ফেলবে।

সাহিত্য সংস্কৃতি জনকল্যাণতন্ত্র, রাজনৈতিক দিকদর্শন, সৃজনশীলতন্ত্র কল্পনার বাহিরে আত্ম প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন প্রকার অবকাশ নেই বা বিকাশের, প্রকাশের ক্ষমতা বা কল্পনাশক্তিকে পাশকাটিয়ে একতিল পরিমানও সৃজনশীলতাকে ভাবা যায়। তাই রাষ্ট্র ক্ষমতা বা আন্তর্জাতিক ব্যক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সৃজনশীল মহলকে একত্রিত করে, সৃজনশীল ক্ষমতাকে বেগবান করার জন্য উদারনীতি, উদার মুক্ত মনোভাব, পরিকল্পিত ভাবে বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার নতুন পথ তৈরী করা। তাহলে পৃথিবী মাথা উচু করে দাড়াবে আধুনিকতার আকাশচুম্বির দ্বার প্রান্তে। তখন পৃথিবী হবে আরো সৌন্দর্য্য মণ্ডিত ও শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির স্বর্গীয় স্রোতধারায় চলার বা সেঁতু পারাপারে পাবে বেগবান গতিশক্তির মূল উৎস ধারার গতিপথ।

বিশ্ব অর্থনীতি, বিশ্ব বানিজ্যের মূলে আছে কল্পনাশক্তি ও পরিকল্পনা শক্তির সুশম ব্যবহার নীতি। সেখানেও ইতিহাস ঐতিহ্যের আলোকে কল্পনার উপর নির্ভর করে, আঞ্চলিক জলবায়ুকে কেন্দ্র করে পথ চলতে হয়। কল্পনা নতুন নতুন আঁকার আকৃতির সন্ধান দেয়, রূপ অরূপের সৃজন করে বিশ্বকে ঘোর তাক লাগিয়ে দেয়।

আধুনিক দিকদর্শনশাস্ত্র এই আদর্শের মধ্য থেকে সাংগঠনিকশক্তি কাঠামোকে অধিকতর বিদ্যুৎগতির ন্যায় বা জ্যামিতিক হারে বেগবান করতে হবে আর আদর্শগত ভাকধারা এবং কল্পনার কাছে শতভাগ কায়মনো বাক্যে ধন্না দিতে হবে। কল্পনা শক্তির বাহিরে আদর্শিক দর্শনের কোন প্রকার বিকাশ লাভ করা সম্ভব নয়। যেখানে কল্পনার ব্যাবহার নেই, সেখানে সে জাতির মধ্যে কোন উন্নতির ধরা ছোঁয়া নেই। কল্পনা হবে আদর্শিক চলার পথের একমাত্র আলোকবর্তিকা। আপনার মধ্যে জ্ঞানের পাহাড় আছে, কৌশলের শতকোটি ধারার দিক দর্শন আছে, কিন্তু কল্পনাশক্তি নেই, আপনার কোন কিছুই নেই, আপনি অন্ধ বধির, আপনি গভীর জঙ্গলের পথ হারা পথিক।

কল্পনাশক্তির ব্যাবহার না জানা থাকলে কোন অভিযানও সফলতার মুখ দেখবে না। আপনাকে হিংস্র জানোয়ারে যে কোন মূহুত্তে জীবন বিনাশ করে দেবে। কল্পনাশক্তি সূর্য্যের জ্যোতির ন্যায় তেজদীপ্ত হাজার ধারার লক্ষ্য ধারার উৎস ধারা। কল্পনার বাহিরে কোন ব্যক্তি চলতে পারে না, সমাজ চলতে পারে না, জাতি চলতে পারে না, দেশ চলতে পারে না, মহাদেশ চলতে পারে না, আন্তর্জাতিক মহল চলতে পারে না, বিশ্বপরিক্রমা চলতে পারে না। এক কথায় বলা চলে কল্পনা ভিন্ন পৃথিবী চলতে পারে না। কল্পনা ছাড়া পৃথিবীটা মূল্যহীন অচল পয়সা।

কল্পনা চম্বুক শক্তির মত পৃথিবীকে ঘিরে শ্বাস প্রশ্বাস নিঃশ্বাসের নেয় প্রতিনিয়ত উঠানামা, চলাফেরা করে। কল্পনাশক্তির চর্চা নেই তো সকল চালিকা শক্তি, সকল উৎসধারা, সকল প্রকার সৃজনশীলশক্তি দিশেহারা নাবিকের মত এক উদ্ভ্রান্ত মাষ্টার। বিভিন্ন অক্ষর, ভাষা, ডলার টাকা, সাহিত্য, গণিত, আইন বিজ্ঞানে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ভূগোল, মানচিত্র, মৃত্তিকাশিল্প, শিল্পকারখানা, প্রোকৌশলি নকশা্, লোকপ্রশাসন, সমুদ্র আকাশ পথে দূরসাহসিক অভিযান। সকল প্রকার কৌশল, সকল শক্তির মূলে লুকিয়ে আছে কল্পনাশক্তির অমর জয়গান।

মাঠে ঘাটে কল্পনা, রান্নাঘরে কল্পনা, বাড়িতে পাড়া মহল্লায় কল্পনা, ইউনিয়ন পরিষদে কল্পনা, উপজেলা পরিষদে কল্পনা, নগর ভবনে কল্পনা, মেয়র ভবনে কল্পনা, জেলা পরিষদে কল্পনা, সংসদ ভবনে কল্পনা চম্বুক শক্তির মত বৃত্তের চৌধি ঘিরে আছে মহাজাগতিকের ন্যায় দিকপাল এক মহানাবিক। পৃথিবী সৃষ্টির আগে কল্পনা শক্তির সৃষ্টি। ফেরেস্তা সৃষ্টির আগে কল্পনাশক্তির সৃষ্টি। জ্বিন সৃষ্টির আগে কল্পনার সৃষ্টি। মানব সৃষ্টি আগে কল্পনার সৃষ্টি। কেতাব সৃষ্টি আগে কল্পনার সৃষ্টি। প্রতিটি সৃষ্টির আগে কল্পনাশক্তির সৃষ্টি। এই কল্পনাশক্তিকে যে সুপথে ব্যাবহার করে তার জন্য কল্পনাশক্তির ক্ষমতা ক্ষুরধার শক্তির মত সৃজনশক্তির দক্ষতাকে আরোও তিনি বহুগুণে বাড়িয়ে দেন।

জাতিস্বত্তার উৎস ধারার চালিকা শক্তির একটি প্রধানতম ধারা হলো কল্পনাশক্তি। কল্পনাকে বাদদিয়ে কোনক্রমে কোন পথে অগ্রসর হওয়া, জাতিস্বত্তাকে কল্পনা বা ভাবাও যায়না। সবশক্তির মূলে আছে কল্পনাশক্তির ধরা ছোয়ার বিস্তর ক্ষমতা। ক্ষমতা ধরের ক্ষমতা হলো কল্পনাশক্তির আদি তড়িৎ জাগতিক বিদ্যুৎ স্বত্তার মহাবৃত্ত। যেখানে কল্পনা অভাব সেখানে সৃজনশীলতার আপাদমস্তক রুদ্ধতার চাবিকাটি ও পৌণোপোণি নিঃস্বতার প্রাদুর্ভাব। যেখানে কল্পনার অভাব সেখানে মহাশূন্যতায় ভরা মহাভাটিরটান। অসভ্যতার জগৎ লিলা।

ভিত্তির ভিতরে বাহিরে বৃত্ত, প্রো-কল্পনা বৃত্ত। অনন্তকাল কল্পনার জালে পৃথিবী রাজবন্দির মহারাজ বন্দি। একজন আস্তিক, নাস্তিক, ধার্মিক, অধার্মিক, গণতন্ত্রবাদ, সমাজতন্ত্রবাদ, রাজতন্ত্রবাদ, পেশিতন্ত্রবাদ সৈরোতন্ত্রবাদ, জনকল্যানতন্ত্রবাদ, যত প্রকার বাদ বা নীতিবাদ, অবাদ ইজম আছে সকলকে কল্পনার কাছে মাথানতো করতে হয়। তা না হলে কোন ইজমের চলোন, বলোন, শিক্ষন প্রশিক্ষণ অচল বলে বিবেচিত হবে সর্বক্ষেত্রে। তাই তো বলি কল্পনাশক্তি হলো সকল প্রকার মহাশক্তি, সকল শক্তির সকল উৎস ধারার এক প্রকার প্রো-মহা উৎস ধারা। কল্পনাশক্তি হলো নেতার নেতা, রাজার রাজা, মহারাজার মহারাজা, প্রোমহারাজশক্তি। কল্পনাশক্তির কাছে সকল প্রকার শক্তি ধরাশায়ী। কল্পনাকে ব্যাবহার না করে কোন শক্তির এক তিল পরিমানও চলতে, বলতে, চিন্তা করতে, সৃজন করতে পরবে না। সকল প্রকার শক্তি ও সৃজনের সমাহার হলো কল্পনার বৃন্দের শিঁকল বন্দি। সকল বিন্দুর মহাবিন্দু হলো কল্পনাশক্তি।