মানুষ স্বপ্ন দেখে
স্বপ্ন আঁকে
আর সেই স্বপ্নের পথেই হাঁটে, এটাই প্রতিটি মানুষের কাম্য।
মৌমিতা ও স্বপ্ন দেখেছিল,স্বপ্ন এঁকেছিল মনের ছোট্ট ঘরে, সেই স্বপ্নের পথেই হাঁটছিল। এই সবুজ শ্যামল বাংলার মাঝে, প্রকৃতির নিবির ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা একটি মেয়ে মৌমিতা। বাবা মায়ের আদর মাখা প্রতিটি দিন তার কাছে মনে হতো ভোরের শিশির ভেজা ঘাসের মত স্বচ্চ সুন্দর ও মমতায় ঘেরা অন্য এক পৃথিবী। যেখানে শুধু সুখ শান্তি আর অনাবিল ভালোবাসা খেলা করে…
একদিন এক বান্ধবীর সাথে কথা বলছে মৌমিতা। একে-ই সাথে একে-ই কলেজে পড়ে দু’জন। সবুজ গালিচা বিছানো বিশাল ক্যাম্পাস। দু’জন বসে আছে খুব কাছাকাছি। মৌমিতার চোখে মুখে রাজ্যের ভাবনা; চোখ দুটো ফোঁলে আছে,আর চোখ জোরে মিশে আছে এক সমুদ্র জল। কষ্টের নুনাজল। নিপা মৌমিতার বান্ধবী। অভাক চোখে চেয়ে আছে আর ভাবছে কি হলো মৌমিতার আগে কখনও এমন দেখিনি! এত হাস্যজ্জ্বল মেয়েটার কি হলো হঠাৎ; বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করলো নিপা।
কিরে সারা-রাত মনে হয় ঘুম হয়নি তর,কি করেছিস সারা-রাত? কি করে বুঝলি তুই! আমার ঘুম হয়নি। কি করে বুঝলাম,আয়নায় নিজেকে দেখিস না কত দিন; বলতে পারিস! তা ঠিক ধরেছিস অনেক দিন থেকেই নিজের প্রতি কোন খেয়াল রাখতে পারছি না। কেন? কি হয়েছে তর আমাকে সত্যি করে বলতো। তেমন কিছু না। পরিক্ষার জন্য অনেক রাত জেগে পড়াশুনা করতে হচ্ছে,তাই। একটা গল্প বলি তোকে শুন! গল্প! বলতে হবে না। আমি তর গল্প শুনতে ছাচ্ছি বুঝলেন ম্যাম। হ্যাঁ! আমার গল্প। আমার জীবনের গল্প। আমাদের বাড়িতে একটা ছেলে থাকে। যাকে আমার বাবা মা নিজের সন্তানের চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসে। বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছে। লেখাপড়ায় কেমন আমি জানি না। তবে দেখতে সুর্দূশনই মনে হয়। রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছে। আমার বাবা মা তার কিছুই জানে না। আমরাও তাকে ভাইয়ের চোখে দেখি…
কিন্তু একদিন!
একদিন কি?
একদিন।
কি? বলবি তো!
মৌমিতা আর বলতে পারছে না। বলতে পারছে না তার মনের কষ্টের কথা। না বলতে পারাটাও একটা কষ্ট মৌমিতা সেটা ও বুঝতে পারছে। আবার, ভয় ও পাচ্ছে; আর মনে মনে ভাবছে কথাটা কি নিপাকে বলাটা ঠিক হবে। যদি বলি,ও কি বলবে, বা কি ভাববে। বলবে হয়তো তর এটা করা ঠিক হয়নি বা ইত্যাদি ইত্যাদি। নিপা আবার ও বলল কি হলো মৌমিতা; কি… বল! ও হ্যাঁ…
সে দিন জোৎস্না রাত ছিল, আর জোৎস্না রাতে তারা ভরা আকাশের নিচে একা একা বসে চাঁদের সাথে আনমনায় কথা বলতে ভালো লাগে আমার। সেই ভালো লাগাটা যে আমার জীবনের বড় একটা কাল হয়ে দাঁড়াবে আমি বুঝতে পারিনি। সে দিন জোৎস্না রাত আমার কাছে অমানিশার অন্ধকার মনে হয়েছে। আমি সব সময় মনে করতাম আমার জীবনটা এই চাঁদনী রাতের মত আলোয় ঝলমল করবে। আমার জীবনের প্রতিটি রাত হবে এই জোৎস্নার আলোছায়ায় ঘেরা, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আমি ডুবে যাচ্ছি কোন এক নৈঃশব্দ্যে একাকি কষ্টের নীল চাদরে।
আমি বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি আমার ভাই, মানে আমার বাবা মা যাকে ছেলের মত দুধ ভাত খাইয়ে বড় করছে। কোন কিছু না বলেই আমার হাত ধরে একটানে তার বুকের সাথে আমাকে ঝাঁপটে ধরে, আমি বলি ভাইয়া; কি হলো! আমাকে এভাবে ছেপে ধরেছেন কেন? আমি ব্যথা পাচ্ছি। প্লিজ আমাকে ছাড়েন। তা না হলে আমি চিৎকার করবো। আমার এমন কথা শুনে সে আমাকে আরো শক্ত করে ধরে রাখে তার বুকে। আমি অনেক কষ্টে নিজেকে ছাড়িয়ে ঠাস করে একটা ছর মারি। তারপর সে রাগ করে আমাকে একটা কথা বলে চলে যায়। সে কথাটা ছিল এরকম,এই ছর এর মজা তুই আগামী-কালেই বুঝবি। আর আমার শরির তখনও থরথর করে কাঁপছিল। বুঝতে পারছি না এখন আমি কি করবো। যাকে আমি ভাই এর মত সম্মান করি সে কি না! আমি আর বলতে পারছি না নিপা। এখন তুই বল আমি কি করবো। তুই এক কাজ কর বাড়িতে গিয়ে আজেই,তর বাবা মাকে বুঝিয়ে বল। দেখ,এখনকার ছেলেরা খুব খারাফ, আবার সে রাজনীতি করে বিষয়টা কিন্তু জটিল। আচ্ছা দেখি মাকে বলে। বাবা বাড়িতে থাকলে আমার কোন চিন্তা ছিল না। বাবা তো আছে বিদেশে। তাইতো এই অমানুষটাকে আমার খুব ভয় করছে। আজ উঠিরে নিপা! পরিক্ষা শেষ হলো অনেক্ষণ হলো। এদিকে মা আবার চিন্তা করবে।
মৌমিতা হাঁটছিল হঠাৎ জমদূতের মত এলোপাতারি চাপাতির কুপ। মৌমিতার চিৎকারে ভারি হয়ে ওঠে বিকেলে স্নিগ্ধ পরিবেশ। কেউ বা মোবাইলে ভিডিও করছে, আর পরে আছে মৌমিতার রক্তাক্ত দেহ…

পুণশ্চ্য : আমরা ভিডিও নয়। এমন ঘটনায় আগে আমরা সবাই এগিয়ে আসবো, একজন সন্ত্রাসির চাপাতির চেয়ে আমাদের শক্তি অনেক বেশি। তাই আমাদের চোখের সামনে এই গল্পে মৌমিতার মত এমন যেন কারো জীবনে না হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে নারী আমার মা,বোন, স্ত্রী,কন্যা। তাদের সম্মান অবশ্যই সবার উপরে…