ঘুণে ধরা সমাজ

এখন আমি ঘুমাতে পারিনা সত্যি আগের মতো ঘুম আসেনা
ঘুমোতে গেলে চোখে ভাসে বিভৎস আর্তনাদ আর কান্না
ওই অসহায়ের আর্তনাদ যে আমি কিছুতেই ভুলতে পারি না ।

এসমাজে এখন আর পথ চলা যায়না বিশ্বাস করুন সত্যি যায়না
পথে নামলে সারিসারি লাশ পায়ের নিচে পা ফেলা যায়না
এতো লাশ ডিঙিয়ে পা দুটো আর সামনেও এগুতে চায়না ।

এসমাজে এখন আর মানুষে;মানুষে ভাতৃত্বের দেখা মেলেনা
মানুষের সমাজে আজ মানুষের মুখোশেই বাস করে হায়েনা
কে কখন কাকে ছিঁড়ে খাবে একথা ঘুনাক্ষরে কেউ জানেনা।

যে সমাজের পরতে পরতে আজ উচ্চাভিলাষী স্বপ্নের আনাগোনা
সে সমাজে আজও অপ্রমাণীত আছে মানুষ আসলে মানুষ কিনা
মানুষ অমানুষ একই মুখোশে বসত তাই মানুষ চেনা যায়না।

এসমাজে এখন দিনের আলোতে একা হাঁটর সাহস পাইনা ;
অজানা আতংকেই আঁতকে থাকে প্রিয় ভাই, বোন বাবা, মা,
আর প্রিয়তমা স্ত্রী সেও ভাত নিয়ে বসে থাকে অথচ খায়না।
…………………………………………..

জয়বার্তা আসবেই

চারিদিকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে
আর ওরা গোলাবারুদের উপরে দাঁড়িয়ে ;
সাথে ছায়াগুলো মিলেমিশে একত্র হচ্ছে ।

এ জনপদ আজকে জনশুন্য হয়ে যাচ্ছে
শহর বন্দরগুলোও ঢেকে যাচ্ছে মুখোশে ;
মানবতা সেও যেন নির্বাসনে চলে যাচ্ছে ।

আজ পৃথিবীর সমস্ত অলিগলিতে জুড়ে
আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে ;
উশৃঙ্খল ; সুদীর্ঘ তপ্ত দুপুরের মতো করে।

মনুষ্যত্বহীনতা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ শহরে
অলিতে গলিতে মাদকের আড্ডা বসেছে ;
মশা মাছির মতোই সন্ত্রাসী বাড়ছে শহরে ।

নির্জাতিত ধুলোর মতোই দু’পায়ে জড়িয়ে
পড়ে থাকা নিথর সেই দেহগুলো ডিঙিয়ে ;
একদিন প্রত্যাশিত বিজয় ঠিক ধরা দিবে ।

রক্তগুলো পিচঢালা পথে শিকড় ছড়াচ্ছে
সারিবদ্ধ লাশগুলো পথ রোধ করে থেকে ;
মৃত্যুকে অস্বীকার জয়বার্তা বয়ে আনছে ।

মমতাময়ী মা; প্রিয়তমা স্ত্রী ;আদরের পুত্র
তোমরা আজ শোকবস্ত্র খুলে ফেলে দাও ;
প্রতিটি অশ্রু দিয়ে তৈরি করো ক্ষীপ্র অস্ত্র ।
…………………………………………..

বিষ ফোঁড়া

হাজারো আলোর ঝলকানিতেও পৃথিবীটা আঁধারে ঢাকা ;
যেমন করে বাতির নিচেই ভরে থাকে ঘোর কালো আঁধারে।

লাখো কোটি মসজিদ মন্দির গীর্জায় আজ পৃথিবী
ঢাকা ;
যেমন সারিসারি পাইন গাছ দাড়িয়ে থাকে মাথাটা উঁচু করে।

কখনো কবর কখনো চিতা থেকে উঠে আসে জ্বলন্ত দীর্ঘশ্বাস ;
যেমন করে কেঁচো উঠে আসে নরম পঁচা মাটি ভেদ করে।

মশা মাছির মতো করেই আজকে বংশবৃদ্ধি করছে সন্ত্রাস ;
আর ক্ষুদ্ররা নিজের স্থান করে নিচ্ছে চিতাতে কিম্বা কবরে।

ধর্মগ্রন্থগুলো আজ সুন্দর সুশৃঙ্খল পরিপাটি মলাটে আবদ্ধ ;
যেমন পাথরের ভিতরটা সাজানো থাকে শস্য দানার
মতো করে।

ধর্মগ্রন্থগুলোর শান্তির বাণীকে আজ ভুলতে বসেছে ধর্মান্ধ ;
এই ধর্মান্ধরা আজ যেনো এক বিষ ফোঁড়া পৃথিবীর কোল জুড়ে।
…………………………………………..

তোমাদের শহর

এক নতুন আগন্তুক এসেছে তোমাদের এ শহরে,
সে আজ নগরীতে ঘুরে মানবতাকেই ফেরি করে ;
কিন্তু মানবতা আজ কে কিনবে মানুষহীন শহরে?

এই শহর আজকে মুখোশে মুখোশে ভরে গেছে,
অমানুষগুলোও ঠিকই মানুষের মতো সেজেছে ;
আর মানুষগুলো আগুন কিম্বা গাড়িতেই মরছে।

তোমাদের শহরে আজ এক প্রেমিক এসে গেছে,
যে হৃদয়ের প্রতি পরতে ভালোবাসা জমা আছে ;
কিন্তু সে ভালোবাসা কে নিবে প্রেমহীন এ শহরে ?

তোমাদের শহরেই এখন নবাগত নাগরিক আমি,
নাগরিক অধিকারের কোন কিছুই পাইনি আমি ;
জঞ্জালে ভরা এই শহরে নাগরিকত্ব চাইনা আমি।

তোমাদের এই শহর আজকে যেন এক মৃত্যুপুরী,
সড়কে মরে ; গুলিতে মরে ; আগুনে পুড়ে নগরী ;
হাহাকার আর আর্তনাদে আকাশও আজ ভারি।

এক নবাগত সূর্য উঠেছে আজ শহরের আকাশে,
দুঃখ কষ্ট গ্লানি জড়তা সব উড়িয়ে দিয়ে বাতাসে ;
নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে পূর্ণ সাহসে।
…………………………………………..

অভিযোগ নেই

হে রাষ্ট্র তুমি কি পারবে আমার দায়ীত্ব নিতে ?
যদি না পারো তবে বলে দাও ,
নিজের দায়ীত্ব না হয় আমি নিজেই কাঁধে নিবো
তবুও তুমি দায় মুক্তই থাকো ৷

হে গণতন্ত্র তুমি কি পারবে সব অধিকার দিতে ?
যদি না পারো তবে বলে দাও ,
নিজের অধিকার না হয় নিজেই আদায় করবো
তবু তুমি অন্তত স্বতন্ত্র থাকো ৷

প্রিয় স্বাধীনতা তুমি কি পারবে স্বাধীনতা দিতে ?
যদি না পারো তবে বলে দাও ,
না হয় আমি মুখ বুজেই অন্যায় অবিচার সইবো
তবু তুমি স্বাধীনভাবে থেকো ৷

মাননীয় রাষ্ট্র যন্ত্র কি আমার অভিভাবক হবে ?
যদি না হয় কোন আপত্তি নেই ,
আমি না হয় অভিভাবকহীন একাকী থাকবো
তবু সে মুখে কুলুপ এঁটে থাক ৷
…………………………………………..

যে পথ আমার

যে পথে আমি যাইনি
যে পথ আমি আজও চিনিনি ;
অথচ সে পথের ওপারেই সফলতা ছিলো।

যে পথে আজ চলছি
সে পথেই পথ হারিয়ে ফেলেছি ;
কারন এই পথটা কখনোই আমার ছিলনা।

যে পথে যাবো ভেবেছি
কাঁটা দেখে ফিরে চলে এসেছি ;
অথচ সে কাটা আমার জন্য আশীর্বাদ ছিলো।

যে পথ আমার যোগ্য না
সে পথটাই আজ আমার চেনা ;
কিন্তু সেই চেনা পথই আমাকে দিকভ্রান্ত করছে।
…………………………………………..

শহরটা ভালো নেই

বিশ্বাস করুন আমরা ভালো নেই আজকে এ শহরে ;
মৃত্যু যেনো প্রতিনিয়ত ওত পেতে আছে শহর জুড়ে ,
স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনই গ্যারান্টি নেই আজ শহরে ।

এ শহরের বাতাসেও আজ লাশের গন্ধ ছেয়ে গেছে ;
এ শহর আজ যেনো লাশের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে ,
মানুষগুলো এখানে নিয়মিত ঠিক অপঘাতে মরছে ।

শহরের প্রচ্ছদ জুড়ে মৃত্যুর নগ্ন উল্লাস বয়েই চলছে ;
নতুন মলাটে পুরনো শহরের সিলেবাস একই আছে ,
কখনো সড়কে কখনো আগুনে মানুষ ঠিকই মরছে ।

এ শহরে আজ মৃত্যু মানেই আগুনে পুড়ে পুড়ে মরা ;
নয়তো কোন সড়কে গাড়ি চাপা খেয়ে মরে যাওয়া ,
মৃত্যু যেনো এ শহরে আজ পানির দামে কিনে নেয়া ।

এ শহরটাই আজ যেনো এক বিশালাকার মৃত্যুপুরী ;
সড়ক আর অট্টালিকার ভাঁজেই নিজের গোর খুঁড়ি ,
সড়কে যদিবা বেঁচে ফিরি আগুনে ঠিকই পুড়ে মরি ।
…………………………………………..

নব প্রত্যয়

প্রতিটি বর্ণমালাতে উঠে আসুক প্রতিবাদের ঝড়
বিদ্রোহী শ্লোগান প্রকাশিত হোক প্রতি পঙতিতে ,
প্রতিটি কলম যেনো হয়ে ওঠে সাহসী ও দূর্ণীবার
এ ফরিয়াদ হোক আজ প্রতি ওয়াক্তে প্রার্থনাতে।

প্রতিটি শোক হোক আজ রুখে দাঁড়ানোর শক্তি
মহাপ্রলয় হয়ে আজকে আছড়ে পড়ুক প্রতিবাদ ,
দূর্বলতাও আজ বলীয়ান হয়ে ছড়িয়ে দিক দ্যুতি
ঘুঁচে যাক আজ আছে যতো গ্লানি আর অপবাদ।

প্রতিটি পঙতিতে বেঁচে থাক নির্জাতিতের কান্না
সে কান্নাই হোক আজকে সমবেত এক কোরাস ,
সব হারানো বেদনা থেকে খুঁজে নিয়ে সমবেদনা
ভুলে যাও আজ বুকে জমানো সকল হা-হুতাস ।

প্রতিটি শব্দ আজ একেকটা টর্ণেডো হয়ে উঠুক
লন্ডভন্ড করে দিক আজ পরিত্যাক্ত এই সমাজ ,
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়েই জেগে উঠুক সবার বুক
মানুষ এবং মনুষ্যত্ব হয়ে যাক পুনরুদ্যমে সজাগ।

পৃথিবীর দেয়ালে ঝলসে উঠুক জীবন্ত গ্রাফিতি
পালিয়ে যাক সমাজ থেকে সন্ত্রাসী;দূর্নীতিবাজ ,
ব্যথাতুর মনও আজ ভুলে যাক দূঃসহ সব স্মৃতি
প্রতিটা কলমের আঁচরে বদলে যাক এই সমাজ।
…………………………………………..

আমিই সেই বাসিন্দা

এই নষ্ট শহরের আমিই একমাত্র নষ্ট বাসিন্দা
নষ্ট এই শহর জুড়ে শুধুই ভেলকি আর ধান্দা
নষ্ট এ সমাজের জন্য দায়ী আমিই সেই বান্দা ৷

দিনের কপাল বেয়ে গড়িয়ে পরে ব্যস্ততার ঘাম
কেউ চাকরি খোঁজে হন্যে অথচ বিধি তার বাম
কেউবা আবার সফল করে দুই আঙ্গুলের কাম ৷

আজ এ সমাজ নষ্ট হয়েছে নষ্ট হয়েছে এ শহর
এখানে অন্যায় করেও অন্যায়কারীই পায় পার
অথচ নিরপরাধীর কাঁধে মিথ্যে যতো দায়ভার ৷

আজ এই শহর নষ্ট , নষ্ট সমাজ , নষ্ট এ জনপদ
রুখে দেওয়ার শপথ নিয়েও ভেঙেছি সে শপথ
নিজেই আজকে বন্ধ করেছি নিজের চলার পথ ৷

রাতের শরীর বেয়ে হামাগুড়ি খেলে নষ্ট নারীরা
নষ্ট নারীই ঢেঁকে রেখেছে আমার নষ্ট চরিত্রটাও
অথচ দিনের আলোয় অপবাদ দেই নষ্টা কুলটা ৷

নষ্ট এই শহরের বুকে আমি’ই সেই নষ্ট বাসিন্দা
যে সব সু-পথ ই আটকেছি সফল করতে ধান্দা
নষ্ট সে শহরের জন্য আমি’ই কাঁদি মিছে কান্না ৷
…………………………………………..

অসহায় আমজনতা

তিনি আসলেন ; হ্যাঁ তিনি আবার আসলেন
যিনি পাঁচবছর আগে একবারই এসেছিলেন ,
সাদা পাঞ্জাবী পড়ে ; যাদুর কাঠি হাতে নিয়ে
বৈষম্যের সমাজ বদলের সু-দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ৷

সন্তানহারা পিতাকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন
সুষ্ঠ বিচার পাইয়ে দেয়ার কথা দিয়েছিলেন ,
অথচ;সেই খুনি তার খুব কাছের চেনাজানা
মাঝে মধ্যে একটেবিলেও দু’জনে খায় খানা ৷

সেদিন তিনি যে আশার বাণী শুনিয়েছিলেন
সে কথাগুলো গত পাঁচ বছরে ভুলেই গেছেন ,
এবারও এলেন নতুন স্বপ্নের ইশতেহার নিয়ে
স্বপ্ন পুরনের স্বপ্ন দেখালেন মাথায় হাত ছুঁয়ে ৷

রাজনীতি মানে আজ শুধু ক্ষমতার মাদকতা
মুখে যার আমজনতার রক্ত সেই আজ নেতা ,
এখানে কেউ মুখ খোলেনা চলেছে গা বাঁচিয়ে
নেতাই সব লুটেপুটে খায় জনতা থাকে চেয়ে ৷

চেতনাই আজ পূঁজি সবার রাজনীতির মাঠে
ভিখারীর বেশে নেতা ঘুরে জনতার চৌকাঠে ,
আমজনতাও ঠিকই সেদিন বুঝবে তার ভুল
ভোটের শেষে নেতাই যখন দেখাবে বৃদ্ধাঙ্গুল ৷