হযরত আদম আ. ও হাওয়া আ.-কে পৃথিবীতে পাঠানোর মধ্য দিয়ে মানব সৃষ্টির ধারাবাহিকতায় আজো অসংখ্য মানবের আগমন ঘটছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত। হযরত আদম আ.-এর মধ্য দিয়ে মানব জাতির পথ চলা যেমন শুরু তেমনি তাঁকে নবুয়্যত দেয়ার মাধ্যমে নবী ও রাসূল প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রথম মানবকে নবুয়্যত দেয়ার প্রয়োজনীয়তা সঠিক পথের মানুষেরা অনেক আগেই পেয়েছে। মূলত জন্ম থেকেই কোন মানুষ যেন পথহারা না হয় এবং নিষিদ্ধ পথে না হাটে সেজন্য যখনই প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তখনই আল্লাহ মানুষের মধ্য থেকে নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। তবে কখনো কখনো একই সাথে একাধিক নবী ও রাসূলের আগমন ঘটেছে।
আর কোন জাতি বা গোষ্ঠী কখনো পথহারা হয়ে গেলে বা পূর্ববর্তী নবী বা রাসূলের আহ্বান অমান্য বা অস্বীকার করে কোন মানুষকে পূজা বা বন্দনা করে নিশ্চিতভাবে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হতে থাকলে মহান আল্লাহ সেসময়ে কোন নবী বা রাসূলকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এরপরও সংশোধন না হলে কারো ভাগ্যে নেমে এসেছে ধ্বংস। আর এর ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল হিসাবে সমস্ত পৃথিবীর আলোকবর্তিকা হিসাবে মহানবী সা.-কে পাঠানো হয়েছে। তিনিও মানুষের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে-
﴿ٱللَّهُ يَصۡطَفِي مِنَ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ رُسُلٗا وَمِنَ ٱلنَّاسِ﴾ [الحج: ٧٥]
অর্থাৎ আল্লাহ ফিরিশতা ও মানবকুল থেকে রাসূল মনোনীত কওে থাকেন। (সূরা-আল –হাজ, আয়াত:৭৫)
আরেকটি বিষয় খুব স্পষ্ট করে আমাদের ধারণ করতে হবে তাহলো কোন নবী বা রাসূল কখনো কোন কথা নিজের মন মতো বলেন না। তাঁরা সব সময় কেবল আল্লাহর আদেশ তথা বার্তা মানুষের মাঝে প্রচার করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে এসেছে-
﴿وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰٓ ٣ إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡيٞ يُوحَىٰ ٤﴾ [النجم: ٣، ٤]
অর্থাৎ প্রত্যাদেশকৃত ওহী ভিন্ন তিনি মন থেকে কোনো কথা বলেন না। (সূরা আন-নাজাম, আয়াত ৩-৪)
তবে আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখা দরকার সকল নবী ও রাসূল মহা মানব। মহা মানব হবার পিছনে রয়েছে বড় ধরণের আনুগত্য ও আল্লাহর পথে সবাইকে আহ্বান করা। এবং এর জন্য সেসব মহামানব রিসালাত লাভ করেন। এ রিসালাত দক্ষতা, মেধা বা প্রতিভা দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। চর্চা, অনুশীলন বা সাধানালব্দ ফসলও এটি নয়। এটি সরাসরি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের দিয়ে থাকেন। সুতরাং তাঁদের প্রতিটি আহ্বান বিনা বাক্যে পালন করা আমাদের কর্তব্য।

আল্লাহ বিভিন্ন সময়ে আমাদের জানিয়ে দিয়ে পৃথিবীতে মানব প্রেরণের উদ্দেশ্য। তিনি নবী ও রাসূল প্রেরণের পটভ’মি ও কারণ উল্লেখ রয়েছে পবিত্র কুরআনে। যেখানে আল্লাহ বলেন-
كَانَ ٱلنَّاسُ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ فَبَعَثَ ٱللَّهُ ٱلنَّبِيِّ‍ۧنَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَ ٱلنَّاسِ فِيمَا ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِۚ وَمَا ٱخۡتَلَفَ فِيهِ إِلَّا ٱلَّذِينَ أُوتُوهُ مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُ بَغۡيَۢا بَيۡنَهُمۡۖ فَهَدَى ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِمَا ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ مِنَ ٱلۡحَقِّ بِإِذۡنِهِۦۗ وَٱللَّهُ يَهۡدِي مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٍ ٢١٣﴾ [البقرة: ٢١٣]
অর্থৎ সকল মানুষ একটি জাতি সত্ত্বার অর্ন্তভূক্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা নবীগণকে পাঠালেন সুসংবাদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসাবে। আর তাদের সাথে অবতীর্ণ করলেন সত্য কিতাব, যাতে মানুষের মাঝে মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে মীমাংসা করতে পারেন। বস্তুতঃ কিতাবের ব্যাপারে অন্য কেউ মতভেদ করেননি। কিন্তু পরিষ্কার নির্দেশ এসে যাবার পর নিজেদের পারষ্পরিক জেদ বশতঃ তারাই করেছে, যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ ঈমানদারদেরকে হিদায়াত করেছেন সেই সত্য বিষয়ে, যে ব্যাপার তারা মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত:২১৩)
আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর পূর্বের সময়কে ইতিহাসে অন্ধকার যুগ বা আইয়ামের জাহেলিয়াতের যুগ বলেই চিহ্নিত করেছে। সে সময় কেবল আরব নয় পুরো বিশ্ব পথ ভ্রষ্ট ছিল। আর আরবদের অবস্থা একেবারে কল্পনার বাহিরে। সে সময় পথ ভ্রষ্ট মানুষ আল্লাহর উপাসনা করে মুর্তির। তারা প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতন করতো, খুন, ধর্ষণ, অন্যের প্রতি অন্যায় আচরণ ছিল নিত্যকার বিষয়। আর ঠিক সময়ে পৃথিবীর বুকে আলোর মশাল নিয়ে এলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হযরত মুহাম্মদ সা.। তাঁর আগমনে খুব দ্রুত গতিতে মানুষের ভিতরে পরিবর্তন আসতে শুরু করলো এবং বুঝতে শুরু করলো ভাল ও মন্দের পার্থক্য।
এর ফলে যারা সে সময়ে মুর্তি পূজারী ছিল এবং সমাজে নানান বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করে সমাজকে অন্ধকারে রেখে দিত এবং বিশাল জনগোষ্ঠীকে দাসত্বের শিকলে বন্দি রাখতো তারা সবাই মানবতার মুক্তির দূতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও আক্রমণ শুরু করে। কিন্তু যিনি পৃথিবীতে এসেছেন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য, তিনি কোনভাবেই গুটিয়ে যাবার নয়। আর আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রিয় নবী সা.-কে নিয়ে রচনা করেছেন অসংখ্য গান। এসব গান তাঁর জীবনীকে যেমন আলোকপাত করেছেন তেমনি তাঁর বর্ণাঢ্য কর্ম জীবনও আলোকপাত করেছেন সমভাবে। কাজী নজরুল ইসলাম যেভাবে হযরত মুহাম্মদ সা.-কে বাঙালি মুসলমানদের সামনে তুলে এনেছেন তা একথায় অবিশ্বাস্য। তাঁর এ সৃষ্টি কর্মেও মাধ্যমে রাসুল সা.-কে তুলে আনার প্রয়াসে এ নিবন্ধন।
রাসুল সা.-এর শানে প্রায় আশিটি নাত রচনা করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। “হাম্দ আল্লাহ-প্রশান্তি, নাত তেমনি হযরত মুহাম্মদ সা.-এর মহিমা গীতি। ইসলাম যেমন এক আল্লাহ-এ বিশ্বাস অবশ্যই প্রয়োজন, তেমনি রাসূলের প্রতি বিশ্বাসও। কেননা আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় লা-শরীক-এই মহাবাণী আমরা রসূলের মাধ্যমেই পেয়েছি। সুতরাং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ যেমন তাঁর সৃষ্ট জীব-জগতের অনন্ত প্রশংসার হক্দার, তেমনি তাঁর পরিচয়দানকারী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর প্রতি দরূদ-সালাম পাঠাও বিশ্বাসীদের অবশ্যকর্তব্য। বস্তুত হযরত মুহাম্মদ সা. একত্ববাদের শিক্ষার আলোকে মানব-সমাজের মধ্যে যে সাম্য এনেছিলেন, তার ফলেই পৃথিবী শান্তির সোনালি ভোরের দিগন্তে পেীঁছেছিল। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে তাই রসূলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও দরূদ পাঠের জন্য আহবান জানিয়েছেন।”
‘ফাতেহা-ই-দোয়াজদম’ তথা ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এল রে দুনিয়ায়।’-এ গানটি শ্রোতাদের পাগলের মত রাসূল সা.-এর আগমনের আনন্দের বার্তা প্রতিনিয়ত দিয়ে যায়। এর চেয়ে কোন হামদ্ বাংলায় আর জনপ্রিয় কিনা তা নিয়ে বরাবরই সন্দেহ আছে। এ গানের রচয়িতা এতো আবেগঘন হয়ে পড়েন যে তিনি মহামানবের আগমনের বার্তা মানুষকে দেখার পাশাপাশি ‘সাগর, আকাশ, বাতাস’-কেও আহ্বান করেছেন। তিনি দাবী করেন মহনবী সা.-এর আগমনে আরববিশ্বের ধূলিমাখা মরুভূমি বেহেস্তে পরিণত হয়েছে, তেমনি খুশির ঢল নেমেছে ‘ধূসর সাহারায়’।
এরপর তিনি আরো জোরালোভাবে রাসূল সা.-এর আগমনে ইসলামের তথা সারা মানুষের লাভ বর্ণনা করে বলেন, ‘দেখ্ আমিনা মায়ের কোলে/দেদালে শিশু ইসলাম দোলে/কচি মুখে শাহাদাতের/বাণী সে শোনায়।।’ তাঁর আগমনে আইয়ামে জাহেলিয়তের কারণে সকল পাপিষ্ঠরাও যে নতুন দিগন্ত খুঁজে পেয়েছেন তা উল্লেখ করে বলেন, ‘আজকে যত পাপী ও তাপী/সব গুণাহের পেল মাফি,/দুনিয়া হ’তে বে-ইনসাফী/ জুলুম নিল বিদায়।।’
‘মরু সাহারা আজি মাতোয়ারা’ শীর্ষক গানে রাসূল (সা.)-এর আগমনে আরবের পরিবর্তন বর্ণনা করে বলেন, ‘নিরস খজ্জুর তরুতে রস জাগে,/শুল্ক মরু ’পরে খোদার রহম ঝরে,/হাসে আকাশ পরিয়া চাঁদের দুল।’ অথবা ‘ফাতেহা-ই-দোয়াজদহম’- এ তিনি আরো বলেন, ‘এলো কে, কে এল ভূলোকে।/দুনিয়া দুলিয়া উঠিল পুলকে।।/তাপীয় বন্ধু পাপীর ত্রাতা/ ভয়-ভীতি পীড়িতের শরণ-দাতা,/মূকের ভাষা নিরাশের আশা,/ব্যথার শান্তি সান্তনা শোকে।’
রাসূল সা.-এর আগমণকে তিনি বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশেষ করে সেসব পথ ভ্রষ্টকে বারবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে ‘নামে মোবারক মোহাম্মদ’ গানে বলেন, ‘ইসলামের ঐ সওদদা ল’য়ে এল নবীর সওদাগর।/বদ্নসীব আয়, আয় গুণাহ্গার, নতুন ক’রে সওদা কর।।/জীবন ভরে করলি লোকসান আজ হিসাব তার খতিয়ে নে,/বিনি-মূলে দেয় বিলিয়ে সে যে বেহেশ্তী নজর।।/কোরআনের ঐ জাহাজ বোঝাই হীরা মুক্তা পান্নাতে,/লুটে নে সব ভ’রে তোল্ তোর শূন্য ঘর।।/কলেমার ঐ কানাকড়ির বদলে দেয় এই বণিক/শাফায়তের সাত রাজার ধন, কে নিবি আয়, ত্বরা কর।।/কিয়ামতের বাজারে ভাই মুনাফা যে চাও বহুৎ,/এই ব্যাপারীর হও খরিদ্দার লও রে ইহার শীলমোহর।।’
হযরত মোহাম্মদ সা.-এর আগমন কোন পরিবারে এবং তাঁর পূববর্তী নবী ও রাসূলদের সময়ে ইসলাম প্রচারে যারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের পরিচয়সহ অসম্ভব সুন্দর এক গান রচনা করেছেন ‘আল কোরায়সী প্রিয় নবী’ নামে। যেখানে তিনি বলেন ‘আজি আল কোরায়েসী প্রিয় নবী এলেন ধরাধামে,/তাঁর কদম মোবারকে লাখো হাজারো সালাম।।/তওরাত ইঞ্জিলে মুসা ঈসা পয়গম্বর/বলেছিলেন আগাম যাঁহার আসার খবর,/সেই আহমদ মোর্ত্তজা আজি এলন আরব-ধাম।।/আমমেরি পেশনিতে জ্যোতি ছিল যাঁর/যাঁর গুণে নূহ তরে গেল তুফান পাথর,/যাঁর নূরে নমরুদের আগুন হ’ল ফুলহার,/সেই মোহাম্মদ মোস্তফা এলেন নিয়ে দীন-ইসলাম।।’
রাসূল সা.-এর অবস্থান সাধারণ মানুষের সাথে অতুলনীয়। তিনি সৃষ্টিকূলের সেরা। তাঁর সাথে আল্লাহর ঘনিষ্টতার কথা উঠে এসেছে ‘নবিজি রয় প্রাণের কাছে’ শীর্ষক গানে। এখানে কবি বলেন, ‘আল্লাহ থাকেন দূর আকাশে-/নবিজি রয় প্রাণের কাছে।/প্রাণের কাছে রয় যে প্রিয়,/সেই নবীরে পরাণ যাচে।।/পয়গম্বরও পায় না খোদায়/ মোর নবীরে সকলে পায়,/ নবিজি মোর তাবিজ হয়ে/ আমার বুকে জড়িয়ে আছে।’
অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা জন্মায় বলে দাবী করে হাদীস বা রাসূল সা.-কে না মেনে সরাসরি কুরআনকে মানতে বা অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু রাসূল সা.-এর প্রতিটি কর্মকা- এবং আদেশ-নিষেধ মানা মোমিনের কর্তব্য। অন্যথায় মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। আর তাই কাজী নজরুল ইসলাম ‘আহ্মদ চান যদি হেসে’ গানে আল্লাহকে পেতে হলে রাসূলকে মান্য করা যে বাধ্যতামূলক তা অতি সুন্দরভাবে তুলে বলেন, ‘আল্লাহকে যে পাইতে চায় হযরতকে ভালোবেসে-/আরশ কুর্শী লওহ্ কলম না চাহিতেই পেয়েছে সে।।/রসূল নামের রশি ধ’রে/যেতে হবে খোদার ঘরে,/নদী-তরঙ্গ যে পড়েছে ভাই/দরিয়াতে সে আপনি মেশে।।’এরপরও যারা অবিশ্বাস বা তর্ক করে তাদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তর্ক করে দুঃখ ছাড়া কী পেয়েছিস্ অবিশ্বাসী,/কী পাওয়া যায় দেখ্ না বারেক হযরতে মোর ভালোবাসি,/এই দুনিয়ায় দিবা-রাতি/ঈদ হবে তোর নিত্য সাথী; তুই যা চাস্ তাই পাবি হেথায়,/আহমদ যদি চান হেসে।।’
এভাবে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রত্যেকটি গানে প্রিয় হযরত মোহাম্মদ সা.-এর আগমনী স্তুতি যেমন গাওয়া হয়েছে তেমনি তিনি কেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও মানবতার মুক্তির দূত হিসাবে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় তা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তিনি যুগে যুগে ইসলামের শত্রুদের একটি তালিকাও বেশ কৌশলে স্রোতার কাছে হাজির করেছেন। ফলশ্রুতিতে বলা যায় কাজী নজরুল ইসলামের এমন সৃষ্টি অনন্য।