কাজী নজরুল ইসলাম একটি চেতনা,একটি প্রেরণা আর মানবতাকামী মানুষের নাম। দেশ এবং জাতী যাঁর কাছে ঋণী। দেশ,মানবতার জন্যই তাঁর জন্ম জগতে। দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য আজীবন তিনি সংগ্রাম করেছেন। বিচিত্র জীবনের অধিকারী বাংলার কবি পুরুষ কাজী নজরুল ইসলাম। কবিতায় শুরু তাঁর সাহিত্য জগৎ। তার পর সাহিত্যের প্রত্যেক শাখাতে তাঁর পদচারণা আমরা লক্ষ করি দৃঢ় ভাবেই। বাংলা সাহিত্যের অনেক বড় একটা অংশ দখল করে আছে নজরুল সাহিত্য। তিনি ছোটদের জন্য যেমন লিখেছেন,বড়দের জন্যও তেমনি হাত খুলে লিখেছেন। কবিতা,ছোট গল্প,প্রবন্ধ,উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি অসংখ্য গান রচনা করেছেন। তাঁর লেখাতে যেমন আমরা প্রতিবাদ পাই তেমনি পাই প্রেম ভালোবাসার এক জলন্ত উপস্থিতি। ‘এক হাতে রাঙা বাঁশের বাঁশরি আর হাতে রণতূর্য’। নজরুল ইসলামের কবিতার এই পঙতি থেকেই তাঁর মানস চিত্ত সহজেই বোঝা যায়। প্রেম,বিরহ,দুঃখ,কষ্টের সাথে বাংলাদেশের অপার মহিমায় চিত্রিত প্রকৃতিও নজরুলের গান কবিতায় সমান তালে উঠে এসেছে। ফুল পছন্দ করেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম অথবা নেইই। আর কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে নজরুল ইসলাম ছিলেন সব চেয়ে বেশি ফুল প্রেমিক। অসংখ্য ফুল তাঁর লেখনিতে উঠে এসেছে। তিনি তাঁর গান, কবিতা, গল্প, নাটকের সংলাপকে, বৈচিত্রময়ী ও সমৃদ্ধ করার জন্য জানা-অজানা, খ্যাত-অখ্যাত ফুলকে সাহিত্য ও সংগীতে সুন্দর ভাবে চয়ন ও প্রয়োগ করেছেন। পড়ুয়ারা এসব ফুলের সাথে পরিচিত হয়েছেন।
নজরুল-সাহিত্য ও সংগীতে যে সব ফুলের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফুল; যুঁই, টগর, যুঁথী, শেফালি, চামেলি, কামিনি, গাঁদা, গোলাপ, বকুল, বেলি, হাস্নাহেনা, দোপাটি, বেল, পিয়াল, করবী, ধুতরা, সরষে, বৈচি, সোনাল, মঞ্জরী, মালতী, ঢোলকলমী, কনকচাঁপা, আমের মুকুল, শিরীন ফুল, নার্গিস, দোলনচাঁপা, মঞ্জুল, অপরাজিতা, কদম, কেয়া, মহুয়া, চন্দ্রাহার, গোলাপ চাঁপা, মল্লিকা, বল্লরী, চম্পা, পারুল, বনদেবী, কদম ফুল, মধুমালতী, চৈতালি-চাঁপা, সূর্যমুখী, সন্ধ্যামনি, ঝুমকোজবা, এলাচী ফুল, গিরিমল্লিকা, কুন্দ ফুল, কাশফুল, ঝিঙে ফুল, সন্ধ্যামালতী, শিমুল, পলাশ, অশোক, কৃষ্ণচুড়া, শিউলি, হেনা, সাজির ফুল, নেবু ফুল, লাউ ফুল, নিম ফুল, বাবলা ফুল নাগকেশর, জামরুল, মহুল ইত্যাদি।
নজরুল ইসলাম সাহিত্যের অন্য শাখা গুলোর থেকে বেশি ফুলের ব্যবহার করেছেন সংগীতে।

নজরুলগীতীর সুরের ইন্দ্রজাল বাংলার বিদগদ্ধ শ্রোতাগনকে নিঃসন্দেহে বিমুগ্ধ ও মোহ গ্রস্থ করতে সক্ষম হয়েছে। নজরুলের এমনি একখানি বিখ্যাত সংগীত “বউ কথা কও, বউ কথা কও, কও কথা অভিমানীনি” অভিমানী বউয়ের মান ভাঙানোর অদম্য প্রয়াশে বিভিন্ন ফুলের নাম ব্যবহার করেছেন নজরুর গানটিতে। গানের প্রথম অন্তরায় কিছু ফুলে ফুলঝুড়ি আমরা লক্ষ করি।
“সে কাঁদান শুনি হের নামিল নভে বাদল,
এলো পাতার বাতায়নে যুঁই চামেলি কামিনি”।
রাগ প্রধান একটি গান
“আজকে দোলের হিন্দোলায়
আয়রে তোরা কে দিবি দোল
ডাক দিয়ে যায় দ্বারে ঐ
হেনার কুঁড়ি আমের বোল”

এ গানের অন্তরায় রয়েছে-
“আগুন রাঙা ফুলে ফাগুন লালে লাল,
কৃষ্ণ চুড়ার পাশে রঙন অশোক গালে গাল।

এ গানে প্রাকৃতিক দৃশ্যে ও সৌন্দর্য্যরে চিত্র তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি নিভৃত প্রেমের পরশ যোগাতে বেশ ক’টি ফুলের দারুন ব্যবহার করেছেন।

“ কে নিবি ফুল, কে নিবি ফুল,
টগর যুঁথী বেলা মালতী চাঁপা গোলাপ বকুল,
নার্গিস ইরানী গুল”

এই গানের শেষ লাইনে আছে সইতে পারিনা এ ফুল ঝামেলা, চামেলী পারুল” উল্লেখিত গানটি মিষ্টি সুরের বহুল প্রচলিত গানসমূহের একটি। এই গানে কবি অসংখ্য সখীদের ফুলনিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই গানটিতে মোট এগারটি ফুলের নাম সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করে বৈচিত্রময় করে তুলেছেন।

আমরা যে ফুলগুলোকে নিয়ে কখনোই ভাবিনা অথবা তুচ্ছ জ্ঞান করি, তেমনি কিছু ফুল নিয়ে কবির ভাবনা ছিল অনবদ্য। যেমন ভৈরবী মিশ্র রাগে, দাদরা তালের গান “আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম” এই গানের শেষ স্তবকে আছে
“সাজির ফুল আজির মালা হবে অনুপম”।
আমাদের ভাবনাকে ম্লান করে দিয়ে সাজির বা সজনার ফুলকে চয়ন করে অনুপম এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। আবার ফাল্গুনী কবিতার মাঝেও সাজিনার ফুলকে উপস্থাপন করেছেন এ ভাবে “ ডগমগ তরুপুরী, পথে পথে ফুল ঝরি, সজিনা ফুলে” আবার অন্য একটি গানে অপরিচিত এলাচী ফুলকে উপস্থাপন করেছেন ;

“ দূর দ্বীপ-বাসিনী, চিনি গো তোমারে চিনি, দারুচিনির দেশের তুমি বিদেশিনী”
এই গানের শেষ অন্তরায় কবি এলাচীর ফুলকে ব্যবহার করে দূর দ্বীপ-বাসিনীকে সম্ভাষণ জানিয়েছেন।

“তব কবরী মূলে, নব এলাচীর ফুল,
দুলে কুসুম বিলাসিনী”।
অন্য একটি গানে:
“বেল ফুল এনে দাও চাইনা বকুল।
চাইনা হেনা আনো আমের মুকুল ॥
গোলাপ রঙ গরবী, এনে দাও করবী,
চাইতে যুঁথি আনো টগর কি ভূল ॥
কি হবে কেয়া দেয়া নেই গগনে
আনো সন্ধ্যা-মালতী গোধূলি লগনে ॥
গিরি মল্লিকা কই? চামেলী পেয়েছ সই?
চাঁপা এনে দাও, নয় বাধব না চুল” ॥

বহুল পরিচিত ও প্রশংসিত গানটিতে ১৩টি বৈচিত্রময়ী ফুলের নাম বিচিত্র ভাবে চিত্রিত করেছেন কবি। ফুল সমূহের ব্যবহার এক দিকে যেমন আকর্ষন সৃষ্টি করেছে অপর দিকে কবি তাঁর ফুল প্রিয়তার বহিঃপ্রকাশ করেছেন।

কবি নজরুল বেদে জাতিকে নিয়ে অনেক গান, নাটক, গল্প, সিনেমা তৈরি করেছেন। তন্মধ্যে একটি গানে মহুয়া, ধুতরা ফুলের ব্যবহার করেছেন। “বেদিয়া বেদিনী ছুটে আয় আয় আয়” এই গানের শেষ লাইন-“মহুয়ার মউ পিয়ে ধুতরা ফুলের পিয়ালায়” এই গানে বেদে জাতির আবেগঘন প্রেম কাহিনির প্রকাশ ঘটেছে। তৎকালীন বেদে সম্প্রদয়ের জীবন সংগ্রাম আর সামাজিক অবস্থারও একটি চিত্রিতরুপ আমরা গানটির স্তরে স্তরে লক্ষ করি।

এছাও পলাশ, অশোক, কৃষ্ণচুড়া মঞ্জরী ফুলের পাশাপাশি শিমুল ফুলকে তুলে এনেছেন নজরুল তাঁর গানে;গানখানি এমন-

“পলাশ মঞ্জরী পরায়ে দে লো মঞ্জুলিকা।
আজি রসিয়ার রাসে হবো নায়িকা ॥
কৃষ্ণচুড়ার সাথে রঙিন অশোক
বুলালো রঙের মোহন তুলিকা ॥
মাদার শিমুল ফুলে রঙিন পতাকা দুলে
জ্বলিছে মনে মনে আগুন শিখা ”॥

রসিয়ার মন রাঙাতে নানান রকমের রাঙা রাঙা ফুলে সাজাবার যে আকুল আকাঙ্খা নায়িকার ছিল ঠিক তা-ই কবি এই গানে ফুটে তুলেছেন। আবার অপর একটি গানে প্রেমিকা তার প্রেমিককে প্রেম-ফুল দিয়ে হৃদয়ের ডালি ভরে দিতে চেয়েছেন। গানের অংশবিশেষ;- “বধু অন্তর মধু ঢেলে পিয়াব তোমায় ॥
এ গানের অন্তরায় রয়েছে ‘বেল ফুল যদি ঝুরে, প্রেম-ফুল দিব ডালি ভরে”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে আকর্ষণ সৃষ্টি সহ নিরব নরম মধুর প্রেমের আকুতি ফুটে উঠেছে গানে গানে। বিশেষ করে মধু মালতী ফুলকে কয়েক বার চয়ন করে নজরুল মালতী ফুলকে মনে হয় একটু বেশী মর্যাদা দিয়েছেন। গানটি হলো-

কেন মনো বনে মালতী মঞ্জরী দোলে, জানিনা জানিনা জানিনা
কেন মুকুলিকা ফুটে ওঠে পল্লব তলে, জানিনা জানিনা জানিনা ॥
কেন উর্ম্মি মালা ঝরনার পাশে
সে আপন মঞ্জরী ছায়া দেখে হাসে
কেন পাপিয়া কুহু কুহু মুহু বোলে ॥
চৈতালি-চাঁপা কয় মালতী শোন
শুনেছিস বুঝি মধুকর গুঞ্জন
তাই বুঝি এত মধু সুরভী উথলে মধু মালতী বনে”

দাদরা তালের এই গানে কবি তাঁর আকাঙ্খিত প্রেমিকাকে ঠিক যে ভাবে অভিসারে আসতে বলেছিলেন-
“নাই পারিলে নোটন খোঁপায় ঝুমকো জবার ফুল/ এমনি এস লুটিয়ে পিঠে আকুল এলোচুল ॥”
গোলাপ রাঙা কোন গোলাপীকে দেখলে সবাই তাকে ভালোবাসতে চায়। বিশ্বনন্দিত গোলাপ প্রেমিকের বড়ই ভুল হয়ে যায় কোনটি প্রেমিকা আর কোনটি গোলাপ।
“দেখলে তোমায় বাসতে ভাল হয়না কারো ভুল’।
এই গানের শেষ অন্তরার অংশ বিশেষ-

গোলাপ বনে গেলে সখি
তোমায় যখন পাশে দেখি
আমার ভুল হয়ে যায় কোনটি তুমি কোনটি গোলাপ”

কবি দোপাটি করবী ফুল নিয়ে বেশ কিছু গান রচনা করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম একটি ভৈরবী রাগে দাদরা তালের গানটি-

“ দোপাটি লো, লো করবী, নাই সুরভী রূপ আছে”। এই গানের সঞ্চারীতে তুলে ধরেছেন লাজুকী পল্লীবালা একেলা কি কি ফুলে কি ভাবে সেজে জলনিতে নদীর ঘাটে যায়।

“লাজুক মেয়ে পল্লীবধু জলনিতে যায় একলাটি
করবী নেয় কবরীতে বেনীর শেষে দোপাটি।”

ফুল প্রেমী কবি কখনো কখনো বেশি ফুল নিয়ে বড়ই ঝামেলায় পড়ে যেতেন যেমন এ গান খানিতে-

“চম্পা পারুল যুঁথী টগর চামেলা
আর সই সইতে নারি ফুল ঝামেলা ॥”

“হলুদ গাঁদার ফুল রাঙা পলাশ ফুল,
এনেদে এনেদে নইলে বাঁধবো না বাঁধবো না চুল ॥”
কিনেদে হাট থেকে, এনেদে মাঠ থেকে
বাবলা ফুল আমের মুকুল।

এটি একটি সাঁওতালী গান। এ গানে সাঁওতাল জাতির পছন্দের ফুল গুলোকে চয়ন করা হয়েছে। এই আঙ্গিকের গান গুলোতে অপরিচিত অপ্রচলিত কিছু ফুলের ব্যবহার করা হয়েছে। কবির ভাষায় গানের কিছু অংশ তুলে ধরলাম-

“ আগের মত আমের ডালে বোল ধরেছে বউ।
উঠল পুরে জামরুলে রস মহুল ফুলে মউ ॥
তেমনি আজো নিমের ফুলে
ঝিম হয়ে ঐ ভ্রমর দুলে”।

মিশ্ররাগাশ্রয়ী দাদরা তালের এ গান খানিতে বেশ ক’টি ফুলের নাম কবি সুন্দর ভাবে ব্যবহার করেছেন।

“আজি কুসুম দীপালি জ্বলে দীপ-শিখা আম-মুকুল
রাঙা পলাশে অশোক বকুল”

অন্য এক গানে কম কথার মাঝে বেশ কয়েকটি ফুলের নাম ব্যবহার হয়েছে।

“আজি জ্যোৎস্না বিজরিত ফাল্গুনী রাতে
লয়ে মঞ্জুল মল্লিকা মালিকা হাতে ॥
এস মালতী বল্লবী বিতানে
এস মিলন পুলকিত প্রানে”

আরেকটি গানেও কবি তাঁর প্রিয় ফুল গুলিকে উপস্থাপন করেছেন এভাবে;

“ মালতী মঞ্জরী ফুটিবে যবে অলস বেলায়
প্রিয় হে প্রিয় মোরে স্মরিও এই সন্ধ্যায় ॥
অন্তরায় রয়েছে-মল্লিকা মুকুলের প্রথম সুবাস
বিরহী পরান যবে করিবে উদাস”।

ভিন্নতালের এ গানে রয়েছে-

“মহুয়া ফুলের মদির বাসে
নেশাতে নয়ন ঝিমিয়ে আসে ॥
মাতাল পাপিয়া পিয়া পিয়া ডাকে
দোলন-চাঁপায় ঝুলন শাখে”।

নেবু ফুলকে প্রাধন্য দিয়েরচিত মিষ্টি সুরের এই গানখানি-

“পলাশ ফুলের মউ পিয়ে ঐ বউ কথা কও উঠল ডেকে,
শিষ দিয়ে যায় উদাস হাওয়া নেবু ফুলের আতর মেখে”।

কবি নজরুল দ্বৈত সংগীতের মাঝে বেশ কিছু সুন্দর ফুলের নাম ব্যবহার করেছেন-

“পুঃ কোন ফুলের মালা দিই তোমার গলে লো প্রিয়া
বুলবুল গাহিয়া ওঠে তব ফুলের পরশ নিয়া ॥
স্ত্রীঃ হাতে দিও হেনার গুছি কেশে শিরীন ফুল,
কর্নে দিও টগর কুঁড়ি অপরাজিতার ফুল।
কুন্দকলির মালা দিও না-ই বা পেলে বকুল
ফুলের সাথে হৃদয় দিতে হয়না যেন ভুল”॥
অর্জুন বিজয় নাটকের নৃত্যেও গানে ফুল
“লহ রাজ রাজা আনিয়াছি মালা।
এনেছি প্রীতির মালতী বকল
রস টলমল রূপের মুকুল
বৃথা না যায় শুভলগ্ন নিরালা”।

এদিকে‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ নাটিকায় নিম্নের গানটিতে ১১ টি ফুলের নাম কবি সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন।
“মুকুল বয়সী কিশোরী সেজেছে ফুল্লফুল মুকুলে,
শিরে কৃষ্ণচুড়ার মুকুট গলে মালতীর মালা দুলে ॥
যুঁথী ফুলের সিঁথি মোর দোলন-চাঁপার ফুল
কটি তটে চন্দ্রাহার হলুদ-গাঁদার ফুল
অশোক-কুড়ির রাখা নূপুর রাঙা চরণ মূলে ॥
কদমফুলের রত্নবাজু বকুল ফুলের চুড়ি”
হাতে শোভে কেয়ার কাঁকন কুন্দ বেলের চুড়ি”

কবি ফাল্গুনী কবিতার মাঝে অনেক ফুলের নাম ব্যবহার করেছেন-

হল মাদার আশোক ঘাল
রঙন তো নাজেহাল
লালে লাল ডালে ডাল
পলাশ শিমুল ॥

আর সইতে পারিনা সই ফুল ঝামেলা/ প্রাতে মল্লী চাঁপা সাঝে বেলা চামেলা/
হের ফুটলো মাধবী হুরী/ডগমগ তরুপুরী, পথে পথে ফুলঝুরি সাজিনা ফুলে”
কবি ঝিঙে ফুল কবিতায় ঝিঙে ফুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে বর্ণনা দিয়েছেন সুন্দর ভাবে ঝিঙে ফুলের রঙ, লতিকা পাতা পউষের অবেলায় ফোটা ফুলের জাফরানী রঙের সংগতিপূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন ঝিঙে ফুলের সাথে সম্পৃক্ত রেখে। অন্যদিকে শাল-পিয়ালের বনে” গীতি নাট্যের গানে ঝিঙে ফুল; “হলুদ বরণ ঝিঙে ফুলের কাছে/ দেখনা কেমন দু’টি ফিঙে নাচে”।

ফুল নিয়ে কাজী নজরুর ইসলাম অসংখ্য সাহিত্য রচনা করেছেন। অনেক গান, কবিতায় ফুল ফুটে তুলেছেন মোহনীয় ভাবে। পাঠকের হৃদয় আঙিনায় বপন করেছেন শতশত প্রজাতীর বাহারী ফুল। তাঁর গান কবিতায় বাংলাদেশের প্রায় সব রকমের ফুল উঠে এসেছে। হারিয়ে যাওয়া অনেক ফুলকে এখন কেবল মাত্র নজরুল সাহিত্যেই খুঁজতে হবে। আবহমান বাংলার আনাচে কানাচে থেকে অনেক যত্ন করে কবি এসব ফুলগুলোকে পাঠকের সামনে হাজির করেছেন। রঙে,ঢঙে রসালো করেছেন বাংলা সাহিত্যকে।