ভাব থেকে ভাষা, ভাষা থেকে কাব্যভাষা। কবিতার প্রাণ ও কায়া ধারণ করে কবিতার ভাষা। ইন্দ্রিয় মারফত পাঠকের মনে, চেতনায় বা চিন্তনে সেই ভাষা বিস্তারিত-সঞ্চারিত হয়, ডালপালা মেলে। কাব্যভাষার আদলের ওপর নির্ভর করে সেই প্রভাবের নানা রঙ-রূপ ও ধরন। পাঠক ভেদে যেমন কবিতাপাঠের প্রতিক্রিয়া আলাদা, তেমনি কবিমাত্রই কাব্যভাষার ধরন ভিন্ন। পৃথিবীর তাবৎ কবির ভাষায় এই ফারাক বিরাজ করে। কী এক কুহকে কবি থেকে কবির কণ্ঠস্বর বদলে যায়। সেই কুহকের তালাশ উৎসাহী কাব্যপ্রেমিকের জন্য দরকারি কাজের একটি।

জগতে মানুষের হাতের রেখা, চেহারা, স্বভাব আলাদা আলাদা হওয়ায় কবির কবিতাও পৃথক হয়ে যায়। কারণ কবিতায় কবির সমুদয় ব্যক্তিত্ব ও স্বভাব ধরা দেয় বা ছায়া ফেলে। ব্যক্তিস্বভাব যেসব রূপ প্রকাশ করে, অন্তর্লীন থাকে, বহমান হয় কবির দেহ-মনে-সমাজে, ঠিক সেই সব উপাদান কবিতার শিরা-উপশিরায় গুঞ্জরিত হয়। বাংলা কবিতায় মধুসূদন ও নজরুল স¦ভাবগত দিক থেকে চঞ্চল, দ্রোহী ও বিপ্লবী ছিলেন; সে-কারণে কবিতা ও কাব্যভাষা হয়েছে বাঁধনহারা, বিপ্লবী ও চঞ্চল চিত্তময়। আবার মজার ব্যাপার হলো এই দুই কবির স্বভাব একই ধরনের হলেও দুজনের কাব্যভাষায় রয়েছে বিস্তর তফাৎ। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ দাশ একই স্বভাবের কবি- শান্ত ও অন্তর্মুখী। দুই কবির কাব্যভাষায় এক ধরনের গহীনস্পর্শী মিল দেখা যায়। অন্যদিকে অমিলও বিস্তর। কালের দূরত্ব এক্ষেত্রে নিয়মক হিসেবে কাজ করেছে।

দেশকাল বা সমকালের প্রভাব কবিকে ভেতরবাহির থেকে আন্দোলিত করে। চলমান ঘটনার অভিজ্ঞতা কবিকে বিপুলভাবে নাড়া দেয়। কবির বেড়ে ওঠার পরিবেশ, দিনযাপন, বিদ্যমান সমাজ-সংস্কৃতি-রাজনীতির ঢেউ-হাওয়া-মেঘমালা ও বজ্রপাত কবিকে নয়া ভাব ও ভাষার হদিস দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ডের বেশকিছু কবি যোগ দেয় এবং কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি নিহত হন- যাদেরকে ‘যুদ্ধকবি’ (War Poet) হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ-দলের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত উইলফ্রেড ওয়েন; অন্যান্য কবিদের মধ্যে রুপার্ট ব্রুক, সিগফ্রেড সেশন, এডমুনড ব্লানডেন, কেইথ ডগলাস, এলাম লুইস, জিলিয়ান গ্রিনফিউ অন্যতম। এরা যুদ্ধের ভয়াবহতা, দুঃখ, নির্দয়তা, মর্মান্তিক মৃত্যু এবং জাতির স্বার্থে আত্মত্যাগের কথা উচ্চারণ করেন আপনাপন কাব্যভাষায়। বাংলাদেশের কবিতায় একাত্তরের কালপুঞ্জের বরাতে নতুন কবিতা ও কাব্যভাষার প্রতিষ্ঠা একই যোগসূত্রে সম্ভব হয়েছে। ভয়ঙ্কর প্লাবনে উড়ির চরে অসংখ্য জীবনের করুণ মৃত্যুর যে-অভিজ্ঞতা কবি সৈয়দ আলী আহসান অর্জন করেন, সেই অভিজ্ঞতা দিয়েই রচনা করেন অসামান্য কবিতা ‘উরির চর’। একইভাবে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অসামান্য ‘মাগো ওরা বলে’ কবিতা ভাষান্দোলনের তীব্র অভিজ্ঞতার অনুভবে সৃজিত। সত্তরের মহাপ্লাবনে দক্ষিণাঞ্চলে লক্ষ মানুষের মরণ মাওলানা ভাসানীকে আবেগে আপ্লুত করে ঢাকার জনসভায় যে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে ছিলেন, সেই বক্তৃতার অভিজ্ঞতায় শামসুর রাহমান ভাসানীকে নিয়ে লেখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সফেদ পাঞ্জাবী’।

জীবনাদর্শ ও কাব্যাদর্শ কবির কাব্যরূপরীতি ও কাব্যভাষার ধরন বাতলে দেয়। জীবনাদর্শ কবিকে জীবনভাবনা দেয়, বিষয়/ভাবের নিশানা দেয়, ব্যক্তি-সমাজ-সংস্কৃতির প্রতি আপন মতামত ব্যক্ত করে, ভাবের গন্তব্য ঠিক করে দেয় এবং ভাষার ধরন বাতলে দেয়। ফকির লালন শাহ্ ভাববাদী কবি বলে তাঁর কবিতার ভাষা সেই ভাবের একতারা বাজিয়েছে, আবার সেই ভাব তাকে ভাষা দিয়েছে, ভাষার নতুন চেহারা গড়ে উঠেছে, আপন ভাষার শব্দশৈলী নিজস্ব প্রতীক-রূপক-চিত্রকল্প সৃজন করেছে। অন্যদিকে ক্ষণবাদী কবি সুধীন দত্ত কাব্যভাষাকে নির্মাণ করেন জীবন ও শব্দের প্রতি নিজের ভাবনাদৃষ্টির আলোকে। ফলে তাঁর কবিতার ভাষায় যে বাছাই প্রক্রিয়া ও ছাঁচ তৈরি হয়েছে তা একান্ত নিজের জীবনাদর্শ থেকে আগত। সঙ্গে সঙ্গে কাব্যাদর্শ কবিকে যুতসই ভাষা হাঁতড়ে একটা আদলে দাঁড় করিয়েছে। যেখানে কবিকণ্ঠ বোল পেয়েছে, মনের হাউসে কবি দোল খেয়েছে। কবির দৃষ্টিভঙ্গি কবিকে নয়া ভাষায় কাব্য করায়। কাব্যাদর্শ যদি রোমান্টিক হয় তাহলে সেই কবির কাব্যে সত্য-সুন্দর-কল্যাণ-কল্পনার ভারবাহী শব্দাবলী জায়গা করে নেয়। আর যদি বাস্তববাদী হয় তাহলে সেই কবির ভাষা হয় বাস্তবতা-রুক্ষতা ধারণ উপযোগী শব্দপুঞ্জ। চল্লিশের দশকের গণমানুষের দুই কবি- ফররুখ আহমদ ও শুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যভাষা আমলে নিলে এই ভিন্নতা বোঝা সহজ হয়: প্রথম জন আগাগোড়া রোমান্টিক, দ্বিতীয় জন পুরোদস্তুর রিয়ালিস্টিক।

কবি সমাজের একজন মানুষ, একজন সদস্য, সেদিক থেকে সমাজের অংশ, সমাজের ঘটমান সব ধরনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে একাত্ম। সমাজিক আদর্শ, বাস্তবতা, মানসচেতনা, সামাজিক সংস্কৃতি, অতীত সমাজের জের, সমাজের উৎপাদন সম্পর্কের সূত্র, সংগ্রাম-সংঘাত, বিবর্তন, আঞ্চলিকতা ইত্যাদির মধ্যে ব্যক্তিকবি যে অভিজ্ঞতায় সাঁতরান; দিনযাপনে তিল তিল করে জমা হয় যে অভিজ্ঞতার শাঁস; শব্দের ভেতর দিয়ে কবিতায় কবি সেই অভিজ্ঞতার বীজ বোনেন। অন্যদিকে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গ, পরস্পর বিরোধী মোকাবিলা, সম্পর্কের চড়াই-উৎরাই, বিচ্ছিন্নতা বিষয়ক অভিজ্ঞতার আবাদ-বিবাদ-মেহনত কবিকে দখল করে রাখে, ঘেরাও করে, কখনো পাকড়াও করে। শব্দ মাত্রই অভিজ্ঞতা ও অনুভবের ইশারা। কবি জীবন-অভিজ্ঞতায় জারিত হয়ে যেসব শব্দ ব্যবহার করেন, সেসব শব্দ মিলে নিজস্ব কাব্যভাষা দাঁড়িয়ে যায়; এদিক থেকে কাব্যভাষাকে কবির অভিজ্ঞতার আঁধার বলা যায় অনায়াসে। উপকূলবাসী কবির সমাজ অভিজ্ঞতার ধরন অনুযায়ী সেই সমাজে বিরাজমান শব্দাবলী বা পরিভাষাগুলো তাঁর কাব্যভাষায় জায়গা করে নেওয়াই স্বাভাবিক; অন্যদিকে বরেন্দ্রবাসী কবির কাব্যভাষার ক্ষেত্রে একই নিয়ম কার্যকর; পরস্পর ভিন্ন ভিন্ন কাব্যভাষার মূলে সমাজ অভিজ্ঞতার ভিন্নতা দায়ী। অভিজ্ঞতাজাত প্রেরণা কবিকে প্ররোচণা দেয়, ভাবে মজায় কবিতাসৃজনের জন্য; তাই অভিজ্ঞতা থেকে লেখা কবিতার ভাষা হয়ে ওঠে অভিজ্ঞতামাখা শব্দের সঞ্চয়। উনিশ আর বিশ শতকের বাংলাদেশের কবিদের ভাষা বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়: সমাজ অভিজ্ঞতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কবিদের ভাষায়ও ব্যাপক রদবদল হতে দেখা যায়।

দিনযাপনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে কবি যেমন এগিয়ে যান, তেমনি একটা পাঠপ্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কবি বেড়ে ওঠেন, পূর্ণ হয়ে ওঠেন। শৈশব থেকে কৈশোর, যৌবন, বার্ধক্য পর্যন্ত কবি পাঠ করেন নানা ধরনের বিষয়। প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষ পাঠ করেন কবি দৃষ্টি-শ্রুতি-বোধ শক্তি দিয়ে; বইপত্রের মারফতে ইতিহাস-দর্শন-শিল্প-সাহিত্য-ধর্ম-বিজ্ঞান পাঠ করেন/নেন মূলত দৃষ্টিশক্তি ও হাতেকলমে। এইসব পাঠ কবিকে ভাব ও ভাষার দুয়ার খুলতে সাহায্য করে, যৌগিক ভাষা থেকে মৌলিক ভাষায় বদল ঘটায়, বুদ্ধির ভ্রুণ দড় হতে ও নিজ পায়ে দাঁড়াতে শেখায়। যে-কবি ছোটবেলা থেকে বেদ-উপনিষদ-পুরান-রামায়ণ-মহাভারত বা কোরান-নবীকাহিনি-কাসাসুল আম্বিয়া পড়ে বেড়ে উঠেছে বা এসব পাঠ ছাড়াই সাধারণ পড়া পড়ে গড়ে উঠেছে; এই দুই ধারার কবি তরুণ বয়সে থেকে আজীবন যেসব কবিতা লিখবে সেসব কবিতার ভাষার মধ্যে নিশ্চয় অনেক ফারাক রয়ে যাবে। কবি আল মাহমুদের কবিজীবন ও ব্যক্তিজীবন পালটে গেছে এই পাঠপ্রক্রিয়ার কারণে। জেলখানায় থাকাকালীন পৃথিবীর ধর্মগ্রন্থগুলোর তুলনামূলক পাঠে কবির বিশ্বাস-চিন্তাচেতনা-ভাষায় মৌলিক পালাবদল ঘটে যায়। সেই অভিজ্ঞতার ফলে কবির জীবনভাব ও কাব্যভাবের বাঁকবদলের সঙ্গে সঙ্গে শব্দ বাছাই ও ভাষা গড়ন নতুন এক রূপ পায়। মানে তাঁর কাব্যভাষা বদলের মূলে পাঠপ্রক্রিয়া মূলত দায়ী।

কবিকণ্ঠ বা স্বরভঙ্গি কবির ভাষার গড়নকে পথ দেখায়। কবি কোন ভাষায় কথা বলবেন: কথ্য ঢঙ্গে, না বর্ণনাত্মক, না গদ্যে, না ছন্দে, না সংলাপে; এই ধরনটা ঠিক হয়ে যায় কবিতার প্রথম লাইনের সূচনায়। সাধারণভাবে খেয়াল করলে বোঝা যায় গদ্যকবিতা আর ছন্দবহুল কবিতাভাষার তফাৎ কতটা; কতটা ফারাক সংলাপধর্মিতা আর বর্ণনার ভাষায়। পূর্ণেন্দু পুত্রীর সংলাপময় কবিতা আর আবদুল কাদিরের বর্ণনাধর্মী কবিতার ভাষাভঙ্গিতে স্বরভঙ্গির ভিন্ন ভিন্ন আওয়াজ পাওয়া যায়।
শব্দ দিয়ে মালা গেঁথেই তো কবিতার ভাষা অবয়ব পায়। তাই শব্দশৈলীর ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে কাব্যভাষার ইমারত। এই ইমারত তৈরি হয় শব্দের প্রতি কবির দৃষ্টিভঙ্গির ওপর: কবি কোন ধরনের শব্দ ব্যবহার বা কোন প্রকারের শব্দ হদিস করেন শব্দভুবনে। শব্দ প্রয়োগের তাগিদ কোন পথে হাঁটতে আয়েশ বোধ করে তার ওপর শব্দের ভিত থেকে কবিতার ইমারত নির্মিত হয়। মধুসূদন ও সুধীন দত্ত উভয়ই অপ্রচলিত ও আভিধানিক সংস্কৃত শব্দ ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন; ফলে তাদের কাব্যভাষা হয়েছে এক ধরনের বৈশিষ্ট্যময়, যা সহজ পাঠ্য নয় মোটেই। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শব্দ প্রয়োগে উদার ছিলেন, কবিতার প্রয়োজনে বাছবিচার ছাড়াই বাংলার সঙ্গে আত্মীয়তা আছে এমন সব ভাষা থেকে, প্রতিদিনের জীবন-সমাজ-সংস্কৃতি থেকে শব্দ গ্রহণে মুন্সিয়ানার পরিচয় রেখেছেন। ফলে তাদের কবিতা বাংলার পাঠকের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তদ্ভব, প্রাকৃত, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহারে এই দুই কবি অনুসরণীয় পথ ও পাথেয় রেখে গেছেন।

কাব্যভাষায় বিরাজমান কুহক নিয়ে একটা বিষয় বেশ উপভোগ করার মতো আছে, তা হলো জীবনাদর্শ ও কাব্যাদর্শের দিক থেকে একই মতের কবি, শব্দ ব্যবহারের দিক থেকেও একই পথের কবি, সময়ের দিকে থেকেও একই আবহের কবি; কিন্তু দেখা যায় তাদের কাব্যভাষার আদল-গড়ন ভিন্ন মেজাজের, আলাদা প্রকৃতির। জসীমউদ্দীন ও আল মাহমুদ শব্দ প্রয়োগের দিক থেকে লোকজ শব্দ প্রয়োগের মতে ভরসা রাখেন, সেই মতো ব্যবহারও করেছেন নিজের মতো করে; কিন্তু কাব্যভাষা হয়ে গেছে অচিন। তারা সাহিত্যাদর্শের দিক থেকেও কাছাকাছি। একইভাবে রবীন্দ্র অনুসারী কবিকুলের পরস্পরের কাব্যভাষা ভিন্ন ভিন্ন।

কাব্যভাষা একটা চলমান প্রক্রিয়া। প্রাচীন, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের কাব্যভাষার দিকে চোখ মেললে স্পষ্ট হয়ে যায়: কালান্তর ও বিবর্তনের মাধ্যমে কাব্যভাষা বর্তমান আদলে প্রকাশমান। কাহ্নপা থেকে আলাওল, মুকন্দরাম থেকে ঈশ্বর গুপ্ত, মধুসূদন থেকে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল থেকে ওমর আলী- প্রত্যেক কবির জন্য দরকার হয়েছে আপনাপন কাব্যভাষা। নতুন যুগের বিপ্লবী জীবানুভূতি প্রকাশের উপযোগী ভাষা না থাকায় মধুসূদন প্রচলিত ভাষাকে দুমড়ে-মুচড়ে নতুন এক ভাষা গড়ে নিয়েছেন; সেই ভাষার পদাঙ্ক অনুসরণ না করে রবীন্দ্রনাথ বিমূর্ত ভাব ও চিন্তা ধরতে অন্য এক ভাষা সৃষ্টি করেন যা দূর দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়; আবার রবীন্দ্রনাথের নিজের দীর্ঘ কাব্যযাত্রায় কাব্যভাষার ব্যাপক রূপান্তর বিস্ময় জাগানিয় ব্যাপার। পরবর্তী কালে নজরুল বিরাজমান ভাষার মাঝে পুঁথিসাহিত্যের ভাষাশৈলীকে কাজে লাগিয়ে অভিনব এক কাব্যভাষা পয়দা করেন। এভাবে মৌলিক কবি মাত্রই কালান্তরের পাখায় ভর করে নয়া জায়গা-জমিনের মালিক হবার সুযোগ তৈরি হয়।

কাব্যভাষার কুহক তাই বরাবরই কবিতার সৃজনশীলর নিয়ম অনুযায়ী নির্মিত হয়। এই রহস্য সৃষ্টি হয় বহুবিধ কারণে। সেই কারণের বিভিন্নতা কবিদের মাঝে বিরাজ করে বলেই কাব্যভাষার বিচিত্রতা সাহিত্যের গোলাঘরকে আরো ভরভরন্ত করেছে। পৃথিবীতে মানুষ ও কবির বৈচিত্র্য যেমন পরস্পরকে চেনার ও জানার জন্য প্রয়োজন; তেমনি কবি থেকে কবিকে আলাদাভাবে পড়বার জন্য আলাদা আলাদা কাব্যভাষার ভীষণ দরকার। অন্যদিকে এই কাব্যভাষার মৌলিক ভিত গাঁথার ওপরই নির্ভর করে কবি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া না পাওয়া। প্রত্যেক কবির তাই জরুরি কাজের একটি হলো: নয়া কাব্যভাষার ইমারত তৈরিতে মন লাগানো।