উন্মাদ

মমই উল্লাস ছুড়ি চিৎকার
বিধি বিধানের করি উৎপাত
ভাঙ্গি রুচিবোধ করি বিধি বধ।
আমি রসিক উন্মত্ততা
আমি সুখবোধ
আমি ছিনিয়া নিয়াছি সব ক্রোধ
সকল মতবিরোধ।

আমি উন্মেষ
আমি নিজেই নিজেরে করি শেষ
আমি শান্তির দূত
শান্ত সাগর, সীমাহীন পথযাত্রী।

এ যে নিত্য নতুন ধরণী
শঙ্খচিলের ডানায় করি
আনে মৃত্যুর বানী।

এ যে ট্রাম বাস
আর দেয়ালের ভাঁজ
কঠিন কাঁকড়ে গাঁথা
এ যে ইট কাঠ আর সুরকির রাজ
নেই তো কোথাও ফাঁকা।
এইখানে কোন স্বপ্ন আনে না
বিহঙ্গ পাখা মেলে
রোদেলা আকাশ
যায় নাকো দেখা গ্লানীদের বসবাস

সদাই শ্রান্ত পরিশ্রান্ত
মলিন সকল মুখ

আমি করি ধ্বংস আনি উল্লাস
এ জগতেই মোর বসবাস।

আমি গোধূলি আলো কোমলমতির
নরম আলতো ছোঁয়া
আমি কোন রমণীর নরম হাতের
পরম কিছু পাওয়া।

আমি বীরাঙ্গনা নীলিমা ইব্রাহিমের
সেই একই আমি ছেলেহারা মা
একত্রের দিনগুলি।

আমি নব অভ্যুত্থান
ইসরাফিলের শিঙ্গার ফুঁ
হটাৎ পাওয়া জীবন।

আমি উন্মাদ
ভাবি সব নতুন কিছু
হানি বিপ্লব পরিকল্পিত
স্বপ্ন করি চুরমার।

জ্বলি ঐ রোষ অনলে
করি নাশ যত জাত বিভেদের
জাগিয়া উঠি এ প্রলয়ে।

আজ রক্তিম লালাধার
চারিদিক যেন আঁধারি আঁধার
বিষাক্ত পৃথিবী
কৃত্তিম হাসি হাসে
আমি নিরুপায় যেনো উন্মাদ

আমি উন্মাদ
যেন নিকষ কালো
কেবলই এক খোলস
নেইকো তেজ নেইকো রূপ
যেন কঙ্কাল স্বরূপ।
……………………………………………

নুপুর

নুপুর!
এখন বৃষ্টি ঝড়ে রুমঝুমিয়ে
পাখি তার নীড়ের খোঁজে
আমার কার্নিশে।

রাতের শেয়াল শ্যাওলা হয়ে
ঝুলে থাকে মধ্য রাতে।
টর্চ বাতির লালচে আলো
হঠাৎ পড়ে জানালার শার্সিতে।

কানু মিঞার হাতের লাঠি
কুকুরই তার নিত্য সাথী
রোজ রাতের।

পাগলী জ্যোতি ঘামে ভিজে
শুয়ে থাকে ফুটপাতে
আজ ভীষণ খুশি।

শরৎ জলে অবগাহন
যেন নতুন দিনের উদযাপন।
তবু ভয়ে আমার হৃদয় কাঁপে!

নুপুর!
তুমি জানো!
এখন অনেক বেশি ক্লান্ত লাগে
মধ্য রাতের অলিগলি
কতো কিছুই যে এড়িয়ে চলি
দেখেও যেন আর না দেখি।
চোখ যেন বুজেই থাকি।
জীবনকে যাপন করি।

তবু অসহায়ত্ব নেয় না বিদায়
সকাল বেলা গিয়েছিলাম হসপিটালে।
জানোই তো রোজকার সে এক ডিউটি।

দেখলাম এক পাগলী মা
সবটুকু শক্তি দিয়ে জড়িয়ে তার নবজাতক শিশুকে।
পাগলীর বিদ্যে নেই, বুদ্ধি নেই, বোধ নেই, বিবেক নেই
আছে কেবল মায়া!
কেমন করে এড়িয়ে যাই বলতে পারো?

এই সমাজে বাস করি
অলিগলি ভীষণ ঘুরি।
রাতের ছবি চোখে আঁকি
নানান রঙের প্রতিচ্ছবি।

হঠাৎ জাগে প্রশ্ন মনে!
কেমন করে পাগলী এলো হসপিটালে?
কেমন করে পাগলী পেলো মা উপাধি!
কে বা কারা করলো তার এ দূর্গতি!
পাগলী তো চাইবে না তার কোন বিচার!

এই সমাজের মানুষগুলো
আদৌ কি মানুষ!
হয়তো কিছু
কেউ বা কারা পাগলীকে তো নিয়ে এলো হসপিটালে।
আমি এখন রীতিমতো মানুষ খুঁজি!
কতো মানুষ অবয়বে
দেখি এই রোজ সকালে।

আমার পেসেন্ট অসংখ্য এবং তারা দরিদ্র।
সরকারী এক চিকিৎসক কি বা আমি করতে পারি!

নুপুর জানো!
এসব দেখে মন ভীষণ কাঁদে
কিন্তু তুমিও তো নেই
হারিয়ে গেছো সেই কবে যে
কি করে আর বলতে পারি
কাকেই বা বলি
এই রোজ জীবনের গল্পগুলি।

হাসির তোড়ে তাড়িয়ে বাঁচি।
বাঁচতে আমি শিখেই গেছি
অবশেষে।

ভালো থেকো।
বৃষ্টি ঝড়ে আকাশ কাঁদে
আজ বহুদিন পর আমিও কাঁদি
একটু কাঁদি!
কি বলো!
বাঁচার জন্য একটু নাহয় কাঁদতে শিখি।

ভালো থেকো
অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝড়ে
আমার মনেও বৃষ্টি ঝড়ে
আকাশ কাঁদে আমিও কাঁদি
ভালোই আছি।
নুপুর তুমি ভালো থেকো।
বিদায় জেনো।
……………………………………………

মাটির হৃদয়

পাখি তুমি উড়ছো কেন?
দূর থেকে কেন এলে এই আমার দেশে?
সাতটি সাগর তেরো নদী পেরোতে কতো কষ্ট তোমার ।
পাখা গুলোর ব্যাথায় তুমি কাঁদছো বুঝি!
তোমার দেশে শীত কি অনেক?
তুষার ঝড়ে?
আকাশ বুঝি অকারণেই কান্না করে!
তাই কি তুমি আমার দেশে?

কিন্তু আমি এখন গাছ শূন্য বন শূন্য
কনক্রিটের এক কঠিন শহর
ইট কাঠের দেয়াল ঘেঁষা
পাথর হৃদয়।
তোমার জন্য মন কাঁদে না
তোমার কথা ভাবায় না আর।

কেন জানো!
হৃদয় আমার পোড়াকাঠ
কর্পোরেট এর কড়াঘাতে
পুঁজিবাদের শুলে চড়ে
এখন আমি শূন্য প্রায়।

মাঝে মাঝেই কেঁপে উঠি
কান্না জুড়ি, বন্যা হয়ে ভাসিয়ে দিই
সাইক্লোন এর আঘাত হেনে
মুচড়ে ফেলি সৃষ্টিগুলো
কিন্তু মানুষ গুলো অদ্ভুত খুব
স্মৃতিগুলো হঠাৎ করেই মুছে ফেলে।
যা মনের পাতায় আর থাকে না।

রেগে গিয়ে মেঘ শূন্য
খড়া হয়ে পুড়িয়ে দিই
অগ্নি হয়ে ভস্ম করি
শীতল বরফ গলিয়ে দিই
তাও তো মানুষ শিখছে না
নিজের ভালো বুঝছে না ।

মহামারীর সৃষ্টি করি
অনুর মতো ছড়িয়ে পড়ি
তাও মানুষ যুদ্ধ করে
ধ্বংস যজ্ঞে মেতে ওঠে।

এসব দেখে
মাটির হৃদয় ভীষণ কাঁদে
কান্না হয়ে ঝড়ে পড়ে
চোখের পানি যদি পারে
নতুন পৃথ্বীর জন্ম দিতে।

এই আশাতে বাঁধি হৃদয়
হোক পরাজয় সকল গ্লানির
মানবকূলের হোক না বিজয়।
……………………………………………

আজকের নারী

সাতক্ষীরার সেই মেয়েটি
যে প্রথম যেদিন বাস থেকে নেমে
এ কোলাহলপূর্ণ শহরে পা রাখলো
ভিতরে কিছুটা ভয়, কিছুটা অস্বস্তি থাকা স্বত্তেও
হালকা সুখের আমেজ, সাথে কিছু উত্তেজনা ছিল পুরোটা হৃদয় জুড়ে।

একটি রিক্সা নিয়ে ঠিক পৌছে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নিজ ডিপার্টমেন্টে।
জেনে নিলো তার বরাদ্দকৃত হলের নাম।
গিয়ে দেখলো এ যেন এক আরেক পৃথিবী।
যার সাথে তার মায়ের বোনা ছোট্ট পৃথিবীর কোন মিল নেই।

এখানে গণরুম আছে যেখানে সবাই মিলে থাকে।
ক্যান্টিন আছে যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে খেয়ে আসতে হয়।
এখানে খাবার জন্য কেউ ডাকে না।
প্রথম প্রথম কিছুটা অসুবিধা হলেও
মেয়েটা দাঁতে দাঁত চেপে মেনে নিয়েছিলো অনেককিছুই।
চোখ জুড়ে স্বপ্ন ছিল তা বাস্তবায়নের তীব্র আকাঙ্খা ছিল।

তবুও মাঝে মাঝে চোখ নোনাজলে ভরে যেত
বড্ড বেশি একা লাগতো।

কিছু বন্ধু হাত বাড়িয়েছিলো
তারই মাঝে দুএকজন হাত ধরতেও চেয়েছিলো!

প্রথম বর্ষ ছিল
মেয়েটি ভাবলো পড়াটাই হয়তো ভালো!
হঠাৎ এক রাতে কিছু জরুরী কেনাকাটা সেরে হোস্টেলে ফেরার পথে-
মেয়েটি এক দল বখাটের পাল্লায় পড়লো
কিন্তু এরাও নাকি বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র
তাদের মধ্য থেকেই একজন সহৃদয় হয়ে তাকে বের করে আনলো
তার পরিচয় দিলো
দিনে দিনে বন্ধুত্ব বাড়লো, আস্হা বাড়লো
মেয়েটিও হাত ধরা, কোন অন্য স্বপ্নে বিভোর হওয়া শিখে নিলো।

জীবন ভালোই যাচ্ছিলো, সুন্দর স্বপ্নের মত যাচ্ছিলো।
মেয়েটি থার্ড ইয়ারে উঠলো
তার কাছে তার বন্ধুর ব্যবহার কিছুটা অন্যরকম লাগছিলো।
সেই হাত ধরার তীব্র আকুতি যেন আর নেই
তার প্রতি তেমন মনোযোগ নেই
হঠাৎই মেয়েটি উপলব্ধি করলো
তার বন্ধু এখন আর তার নেই।

স্বপ্নগুলো চিৎকার করছিলো
কিন্তু মেয়েটি একটিবারের জন্যও চোখের জল ঝড়ায়নি
জীবনের সাথে এগিয়ে গেছে
বহুবার ইচ্ছে হয়েছিল এ জীবনের সমাপ্তি টেনে দিতে
কিন্তু যাদের স্বপ্ন নিয়ে এতদূর আসা তাদেরকেই বা কিভাবে নিরাশার রাজ্যে ঠেঁলে দেয়া যায়।

মেয়েটি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করলো।
মেয়েটির বাবা মা মেয়েটির জন্য বিয়ে ঠিক করলো।
মেয়েটিও অমত করেনি
তার সাথে সুদূরে পাড়ি জমাতে
চলে গেলো সবকিছু ছেড়ে।

কিন্তু সেখানেও জীবন খুব সুখের হয়ে উঠলো তা নয়।

নতুন শহর তার পুরোনো আবেগ নিয়ে ছুঁয়ে গেলো না মন।
বড় যান্ত্রিক এ শহরে এসে মেয়েটি যেন কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করছিলো।
তবুও জীবনকেতো এগিয়ে নিতেই হবে
তার তালে তাল মিলিয়ে সামনে এগোতেই হবে
তাই মেয়েটি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলো।

কিন্তু সব সময় সব কিছু সঠিক নিয়মে ঠিক হয়ে ওঠে না।
ভেঙে পড়বো না, পড়া যাবে না
এ কঠিন মনোবল মনে বেঁচে থাকার এক অকৃত্রিম অনুপ্রেরণা যোগায় ।

মেয়েটি ভাবলো যাক
এবার তাহলে তার স্বপ্নের ডানা ছড়ানো যাক
তাই নিজের স্বপ্নকে তার শাখা প্রশাখা মেলতে দিলো।
এডমিশন নিলো নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে
পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিলো
তাই তার রেজাল্ট অন্তত তার সাথে চিট করেনি।

বেশ ভালো পজিশনের একটি জবও পেয়ে গেলো
কিন্তু জীবন থেকে অনেক কিছু হারিয়ে গেলো
কিছু অন্য স্বপ্ন যা মেয়েটি নিজের জন্য দেখেছিলো
তা চিরোকালের জন্য হারিয়ে গেলো।

সংসার নামের মিষ্টি শব্দটি এ ভূসংসারে যেন ভূলুন্ঠিতো হলো।
মেয়েটির আর সংসার করা হয়ে উঠলো না।
তার ডিকশনারি থেকে সে মুছে দিয়েছিলো এ শব্দটি বড়ো কষ্টে বড়ো অভিমানে।

এখন সে একা একজন সফল নারী।
খুব সুন্দর শহরের ফুটপাত দিয়ে নির্ভয়ে এগিয়ে চলে।
কখনো পিছু ফিরে আর তাকায়নি।
তার পুরোনো শহর তার স্বপ্নে ভয়াল দমকা হাওয়াই কেবল জুড়ে দেয়।

মেয়েটি প্রাণ খুলে বাঁচতে চেয়েছিলো
বাঁচার জন্যে বাঁচতে চেয়েছিলো
নিজের জন্যে বাঁচতে চেয়েছিলো।

কিন্তু মাঝে মাঝে খুব অদ্ভুতভাবে
সফলতার অর্থ এখনও খুঁজে বেড়ায়!

তবুও থেমে যায় না
এ যুগের নারীরা থামতে জানে না, থামতে চায় না
পিছিয়ে পড়ার এক অদ্ভুত অনুভূতি বড়ো তীব্র হয়ে গেছে আজকাল।

কেননা শারীরিক শক্তির প্রকট প্রভাব বারবার তাদের বড়ো দূর্বল করে দিয়ে গেছে।
মনোবল ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে বহুবার।

তাই মনের শক্তি দিয়ে সবকিছুকে অস্বীকার করার এক তীব্র বাসনা মনের অজান্তেই জেগে ওঠে।

তাই তারা এখন আর কারও দাসত্ব মেনে নিতে রাজি নয়।
খুশি মনে শৃঙ্খলে জড়াবে
কিন্তু তা বেড়ি মনে হলে তা ভেঙে ফেলার এক উদ্দাম সাহস নিয়ে বেঁচে থাকে আজকের নারী।
……………………………………………

দ্বৈত জীবন

শেকড়হীন পিয়াসী মন, আর ভূমিহীন এ জীবন
মুহূর্তের হাতছানি, নির্নিমেষ গতিহীন
প্রকৃতি মন্থর, সব মিলিয়ে যায়
মুহূর্ত লীলায়।

ভগবান জাগে মনে
আঁকে হৃদয়পটে কোন এক দৃশ্য।
পর মুহূর্তেই জাগতিক হাতছানি
লীলায় ঘেরা কত সখ্যতা
কত মনের কত বন্ধুতা
কত ভালবাসা,
কত কিছু পরে
করে চঞ্চল
ভাসায় সে প্রবল তোড়ে
এ বিশ্বলয় জুড়ে ।

অকারণ ভাবি নীরবে
কোন এক ধীর ঋষিবর
যার স্মৃতি কাঁদায় মোরে
আজও এই তিমিরে।

তারই প্রলয় আবেগ
দেখা দেয় যেন জাতিস্মর রূপে
ভালবাসার তীব্রতা
কে কতটা ভেবেছিল কবে?
সন্ধ্যার ধারায় রাতের আগমনে
অনিদ্রা রাত্রি যাপনে
যে প্রানের পূর্ণতা আনে
তারই সুখে যে মিষ্টতা
সে অকৃত্তিম নিবিড়তা,
ক্লান্তিহীন প্রার্থণা
সেওতো আমারই মূর্তি।

আমি দেবী!
এ বিশ্বপটে যার নেইকো দশভূজ
আছে প্রত্যয় মনে
যে কঠিন ত্যয়াগী
যে অসীম বিলাসী
যে বিলীন জোড়া এ বিশ্বলয়ে
যে পারে ধারণ করতে সহস্র হৃদয়
মলিন সাদামাটা মুখে
যার কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে আছে
এক অপূর্ব মাদকতা।

যে জানে বিলীন হতে
সেতো এও জানে
মুক্তির বেড়াজাল পেরিয়ে
কি করে হয় বেরোতে
ভালবাসার তীব্রতা
কিভাবে করতে হয় অস্বীকার
আবার এও জানে
ভালবাসায় কি করে হতে হয় একাকার

সেই নারী আমি
যাকে ভালবাসো তুমি
সদা চিৎকার শুনি আর ভেবে মরি
তুমি কি জানো ভালবাসা!
হয়তো জানো
হয়তো তার উপলব্ধি নেইকো আমার

সদাতো এই শুনি
তোমার জন্য নাকি আমার সৃষ্টি
হয়তো তাই
হয়তো এর জন্যেই
এই দ্বৈত জীবন কাটাই।
……………………………………………

জীবনের গল্প

মেহেদী ফুল তুমি সবুজ আভায় রাঙিয়েছো নিজেকে
বধু কাননে বসে তোমারই অপেক্ষায়।
মেহেদী তুমি রাঙাবে হাত হয়তো তারই অপেক্ষায়।

ফিরতে হবে ঘরে
প্রেয়সী অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে।
হয়তো কিছু তাড়াই ছিলো মনে
হঠাৎ বেজে উঠলো ফোন
খবর এলো
আগুনে পুড়ছে ঘর
মুহূর্তে বিলীন স্বপ্ন
ধুধুপ্রান্তর
চোখে চোরাবালি
সময় যেন থমকে গেলো মুহুর্তেই।

প্রেয়সীর মেহেদী রাঙা হাত
পুড়ে একাকার।
নেই কোন বাঁচার আশ্বাস।

বছর পাঁচেক পর, হঠাৎ দেখা
কাঁচা পাকা দাড়িতে মুখ ঢাকা
স্বপ্ন যখন রয় অদেখা
আকাঙ্ক্ষার দুঃসহ বেদনা
শরীর মন আকড়ে
শৈবালের ন্যায় পরগাছা হয়ে বেড়ে ওঠে
দেহ ও মনে
ক্লান্ত হৃদয় কাঁচের টুকরোয়
দেখে অদেখা অবয়ব।

মনের তৃষ্ণারা পিপাশার্ত রয়ে যায়
শরীরের বুভুক্ষুরা মৃত আত্মার মতো বেঁচে থাকে।

এও এক সংগ্রামী জীবনের বেঁচে থাকা।
শত সংশয়ের, সংযমের উর্ধ্বে গিয়ে টিকে থাকা।
এক নিরুপায় যোদ্ধার জীবনধারা।

এই বেঁচে থাকার গল্পগুলো বড়ো ধূসর, প্রানহীন।
প্রজাপতির পাখা কিংবা কোন রংধনুর নয়।
এর স্রোতধারা খুব দ্রুত পাল্টে যায় না।
বিলীন হয় না মুহুর্তেই।