একটা ছড়া

একটা ছড়া চান্দুমামার
একটা ছড়া তারার
একটা ছড়া খুব পুরনো
একটা নতুন ধারার।

একটা ছড়া ঘোড়ার ডিমের
একটা ছাগল ছানার
একটা ছড়া টাটকা ফুলের
একটা মজার খানার।

একটা ছড়া গন্ধরাজের
একটা ছড়া চাঁপার
একটা ছড়া সন্দেশ এবং
একটা পিঠা ভাপার।

একটা ছড়া গল্পকারের
একটা ছড়া কবির
একটা ছড়া উপন্যাসের
একটা ছড়া ছবির।

একটা ছড়া বনমোরগের
একটা ছড়া হাঁসের
একটা ছড়া নীল আকাশের
একটা সবুজ ঘাসের।

একটা ছড়া সূয্যিমামার
একটা ছড়া রোদের
একটা ছড়া পাঠ্যবইয়ের
একটা ছড়া বোধের।

একটা ছড়া সাগর এবং
একটা ছড়া নদীর
একটা ছড়া আঘাত করে
মাথায় নরেন মোদির।
……………………………………………

স্বাধীনতা সোনার হরিণ

স্বাধীনতা সোনার হরিণ
হৃদয়পটে আঁকা
স্বাধীনতা ঈদেরই চাঁদ
দুধমাখা দুধমাখা।

স্বাধীনতা খোকার হাতে
সুতোয় বাঁধা ঘুড়ি
স্বাধীনতা খুকির হাতে
ঝলমলে লাল চূড়ি।

স্বাধীনতা উঠোনভরা

ধানের সকল আঁটি
স্বাধীনতা সবুজঘাসের
চাদর ঘেরা মাটি।

স্বাধীনতা পুব আকাশের
ওই উদিত রবি
স্বাধীনতা লাল-সবুজের
এক পতাকার ছবি।
……………………………………………

খোকনের ইশকুল

বই-খাতা ব্যাগে ভরে পিঠে নিলো তুলে
আব্বুকে সাথে নিয়ে গেল ইশকুলে
ইশকুল-মাঠে যেই শুরু হলো পিটি
লাইনে দাঁড়িয়ে শুধু হাসে মিটিমিটি।

এক, দুই, তিন করে পিটি হলো বেশ
ছোটো-বড়ো সবে মিলে মিঠে পরিবেশ
দলনেতা সম্মুখে আর সবে পিছে
হেলেদুলে নাচে সবে টিচারের শিসে।

গলাতে ঝুলানো টাই, পায়ে জুতো-বুট
সব্বাই একসাথে জানায় স্যালুট
খোকনের মুখে হাসি মিটিমিটি আহা
অদূরে দাঁড়ানো বাবা দেখে খুশি তাহা।

পিটি শেষে প্রার্থনা দাঁড়িয়ে যে হয়
‘আমিন’ ‘আমিন’ সবে একসাথে কয়
তারপর একসাথে শুরু হয় গান
‘সোনার বাংলা’ যেন সোনার বাগান।

একসাথে হেঁটে হেঁটে ক্লাসে যায় সব
ধীরে ধীরে থেমে যায় সব কলরব
শিক্ষক ক্লাসে এসে মনোযোগী হন
বলে দেন, পড়াশোনা খুব প্রয়োজন।
……………………………………………

কবি আমি

কবি আমি কবিতার ক-টাকেও বুঝি না
ছন্দের মিল তাল কিছু আমি খুঁজি না।
বাম থেকে ডান দিকে লিখে যাই গর্বে
মিল নেই মাত্রাতে, মিল নেই পর্বে।

কথা আর কাহিনীতে নেই কোনো ‘চিন্তা’
‘কবি’ সেজে এ সমাজে নাচি ধিন-ধিন তা!
কবিতার কলেবর ‘কাগজ’ এর সাইজে-
লিখে রোজ অন্তরে কত মজা পাই যে!

আধুনিক যুগে আজ এগুলোই ‘কবিতা’
ছন্দের তাল মিল উঠে গেছে সবি তা!
……………………………………………

সখের কৃষক

কাস্তেটা দাও কাস্তেটা দাও
কাটতে যাবো ধান
গামছাটা দাও ঝুলাই গলে
রাখতে নিজের মান!

মাথায় বেঁধে দাও সে ছাতা
কৃষক যা দেয় রোজ
আর কি লেবাস বাকি আছে
একটু লাগাও খোঁজ।

আমানত শা’র লুঙ্গি পরে
গিট্টু দিলাম তা-য়
পুরোই কৃষক সাজতে এবার
মাখবো কাদা গায়!

শার্ট খুলেছি, গ্যাঞ্জি গায়ে
যাচ্ছি মাঠের দিক
আমার আগেই পৌঁছে গেছে
সেথায় সাংবাদিক।

সব ক্যামেরা অপেন হলো
মাঠে নামার পর
এফবি থেকে লাইভটা দিলাম
আমি অতঃপর।

বাংলাভিশন, সময় টিভি
এবং চ্যানেল আই
লাইভে গেল সরাসরি
জমলো মজা তাই।

ডজন ডজন সাংবাদিক আর
নেত্রীনেতার দল
হৈ-হুল্লোড় করলো শুরু
বাড়লো কোলাহল।

সবাই মিলে বললো আমায়
করুন শুরু, স্যার-
বিশ্ববাসী অপেক্ষাতে
সয় না দেরি আর।

ভিড় করেছে প্রচুর মানুষ
নেই করোনার ভয়
ধান কেটে আজ করোনাকেই
করবে সবাই জয়।

ধানের গোছায় যেই দিয়েছি
কাস্তে দিয়ে টান
অমনি আমার কোমর থেকে
খুললো লুঙ্গিখান!

বিশ্ববাসী একপলকে
দেখল গোপন সব
লুঙ্গি ছাড়াই কাস্তে হাতে
কৃষক অবয়ব।
……………………………………………

তিনটি শিশুতোষ ছড়া

১)
ছড়াটিং ছড়াটিং ছড়াটিং ছড়
পড়াটিং পড়াটিং পড়াটিং পড়
ছড়া যায় ছড় ছড় ছড়িয়ে
পড়া যায় ঠোঁট বেয়ে গড়িয়ে
ছড়া পড়ে হয়ে যা পড়ুয়া
লিখেছেন সুকুমার বড়ুয়া।

২)
ইচিং বিচিং চিচিং ফাঁক
টিচিং সাহেব দিচিং ডাক
বসে বসে পড়িং বই
খেলাধুলা করিং নই
খেলতে গেলে বকিং মা
দরজাতে দেয় লকিংটা।

৩)
চায়না থেকে আয়না এনে
বায়না ধরে ডনে-
ডায়না কেন গায় না গান আর
পায় না মজা শোনে!
……………………………………………

আবুল রাজাকার

রাজার মতো আকার ছিল
আবুল হোসেন স্যারের
ভয় পেত সব শিক্ষার্থীরা
ইশকুলে তার মারের।

একাত্তরে সেই সাহসী
স্যারকে ডেকে পাকি
উর্দু ভাষায় বলল, ‘আবুল
আমরা তোমায় ডাকি।’

‘কী অপরাধ, কন তো হুজুর
কী করেছি আমি?
দোহাই লাগে, রক্ষা করুন
আমরা শান্তিকামী।’

পাকসেনারা আবুলকে ঠিক
করলো যখন কাবু
ঠিক তখনই পড়লো মারা
এক নারায়ণ বাবু।

আবুল হোসেন দল পাকালো
জুটলো কয়েক সাথি
‘পাকিস্তানি জিন্দা’ বলে
কাটায় দিবস রাতই।

‘যুদ্ধ ঠেকাও যুদ্ধ ঠেকাও’
বলতো আবুল হোসেন
জানতো না কেউ মনের মাঝে
কী ধারণা পোষেন!

গণ্ডগোল এক হচ্ছে দেশে
বলতো ওরা মুখে
অল্পদিনেই শান্ত হবে
দেশটা র’বে সুখে।

দীর্ঘ ন’মাস লড়াই হলো
বিজয় এলো ঘরে
আবুল হোসেন নতুন করে
ফন্দি শুরু করে।

জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে
গরম হলো মাঠে
জীবনটা তার আজ অবধি
সুখেই দেখি কাটে।
……………………………………………

কষ্ট

একাত্তরে তালেব মিয়ার
বয়স ছিল ঊনিশ
তার বাপে কয়, তালেব রে তুই
আমার কথা শুনিস।

বাপ ছিল তার এক রাজাকার
পাক বাহিনীর দালাল
বুঝতো তালেব কাজটা বাবার
নয় যে মোটে হালাল।

তাই পালালো ঘর ছেড়ে সে
অস্ত্র নিল হাতে
ট্রেনিং নিয়ে যোগ দিলো সে
মুক্তিসেনার সাথে।

চলছে লড়াই পাকির সাথে
ছুঁড়ছে সেও গুলি
তার গুলিতে উড়লো কত
পাক সেনাদের খুলি।

পাকবাহিনীর একটা গুলি
তালেব মিয়ার পায়ে-
বিঁধলো তবু থামলো না যে
শক্তি পেলো গায়ে।

একাত্তরের রণাঙ্গণে
তালেব ছিল সেনা
পা হারালো তালেব সেদিন
জানতো সেটা কে না?

দেশের লাগি পঙ্গু হলো
তালেব মিয়া ঠিকই
তার কপালে জুটলো না তো
পয়সা-কড়ি, সিকি!

বাপ ছিল তার এক রাজাকার
মরলো সেও পরে
তালেব মিয়া একলা হলো
তারই আপন ঘরে।

বৃদ্ধ মা’কে সঙ্গে নিয়ে
করবে তালেব কী যে
ঘরে বসে তালেব কেবল
চোখের জলে ভিজে!

এমনি কি আর যায় থাকা যায়
বড্ড ক্ষুধার জ্বালা
তালেব মিয়া হাতে নিলো
এক ভিখারির থালা।

অসুস্থ মা ঘরেই থাকে
তালেব ঘোরে পথে
ভিক্ষা করে খাবার জোটায়
সে যে কোনো মতে।

মুক্তিযোদ্ধার কোঠা থেকে
পাচ্ছে সুযোগ কারা
সার্টিফিকেট বগলদাবা
করছিল ঠিক যারা।

তালেব মিয়ার মতো যারা
যুদ্ধে ছিল সেনা
তাদের লাগি এই আমাদের
নেই কিছু কি দেনা?

মুক্তিযোদ্ধা পায় না ভাতা
পায় না খাবার খেতে
বিজয়দিনে আমরা তবু
আনন্দে যাই মেতে।

সব রাজাকার, সব তাঁবেদার
স্বার্থ হাসিল করে
মুক্তিযোদ্ধা এই দেশেতে
……………………………………………

বৃষ্টি আমার প্রিয়

কী চমৎকার বৃষ্টি এলো
টাপুর টুপুর-টুপ
কেমন করে বৃষ্টি দেখে
থাকবো আমি চুপ!

টাপুর টুপুর ঝুমুর ঝুমুর
বৃষ্টি আমার প্রিয়
‘আল্লাহতায়ালা, এমন করে
বৃষ্টি আরো দিও’।

বৃষ্টি দিয়ে দাও ধুয়ে সব
ময়লা আবর্জনা
তোমার বিধান বুঝিনি তাই
করো গো মার্জনা।
……………………………………………

ছড়া আছে

ছড়া এখন সব গিয়েছে ছড়িয়ে
আকাশ থেকে পড়ছে যেন গড়িয়ে
কেউ পারে না তাই তো যেতে এড়িয়ে
যাচ্ছে ছড়া আকাশ সীমা পেরিয়ে।

লিখছে ছড়া কেউ বা আবার ঘুরিয়ে
ছন্দকে চায় কেউ বা দিতে ফুরিয়ে
কেউ বা আবার যাচ্ছে এসব মাড়িয়ে
কারো ছড়া সবাইকে যায় ছাড়িয়ে।

টাটকা ছড়া যায়নি মোটে হারিয়ে
ছড়া আছে নদীর পারে দাঁড়িয়ে।