চোখ ভরা ওম

চোখজুড়ে ওড়ে মায়া- সাদা বালিহাঁস;
বারোমাস কাঁদে তার প্রেমের সুবাস।
নিঝুম দ্বীপের রাত কেঁদে ফেরে একা;
বারোমাসি গায় সেও- ফিরে তারে দেখা।
ঘর ভরা নিরাময়- নিরালায় বাস;
আঁধারের ঘ্রাণে যার ভারী হয় শ্বাস।

হারানো সময় তার তুলে ধরি ভুলে;
নুসরাতের চোখেরা নদী হয়ে গেলে,
পরশির ঘুম খায় বাঘে- মোষে মিলে;
রোদরাঙা ভোরগুলো মিশে যায় নীলে,
পালানো প্রহরে এসে বাহু হলে লাল;
প্রণয় নেবেনা কারো ভাবের আকাল।

সাগরের চোখ চেনে মেঘের জনম;
পুরুষের স্বাদে নারী সাধুতার ওম।
…………………………………………..

বিশুদ্ধ স্বপ্নের ডাক

আমারে ডাকবে কেউ
আমাদেরও ডাকবে কেউ কেউ
দ্রুত এসো, এমন বলবে কেউ তোমারে আবার
ধানরঙ রোদ মেখে হাসবে বিকেল কৃষাণীর হাতে।

কন্ঠের ক্লান্তিরে ফেলে ছুটে যাবে পুকুরের হাঁস
অন্ধকার দেবে দেখা বাবুইয়ের একাকী ঠোঁটে
ভুল ঘুমেই কাঁপবে সুরতোলা বারান্দা তোমার
শুদ্ধ পায়চারি হবে মাঝরাতে; দেহঘেরা পথে
শেষরাতের আলোয় দেখা বিশুদ্ধ স্বপ্নের ডাকে।

আবার হাসবে কেউ; সলাজ দুপুর পেয়ে একা
সন্ধ্যার বাগান ছেড়ে সশব্দে পালাবে বিষন্ন বাদুড়
রাতের বাজারে শুয়ে মাছেরা যেমন হাসে- সাদা
না থাকুক বিক্রি হওয়ার লোভ; না ভাসুক চোখ
শীতল দুচোখে বিনিময়ের সাহস তবু খেলা করে।

নেমে আসে ডাক; সমাপ্তির নামে শুরু হয় পথচলা
ঝাপগুলো নেমে গেলে গলিরাও আঁধারে হারায়
বেপারিরা নিত্য ডাকেরে খুঁজতে যায় বাড়ি
যেন তার গুণি বঁধু আজ হয়েছে আনাড়ি।

আবার আসবে ডাক তেমনই; তোমার- আমার
যেভাবে নদীর ডাক জলের খোয়াব ফুঁড়ে আসে
কে পারে জোয়ারে তার স্বপ্নঘনো দৌড় ফেরাবার?
যদি চোখ রাতের আঁধার চিড়ে দেহময় ভাসে!!
…………………………………………..

রোদ্র পোড়া ঘ্রাণ

আকাশ উদাম করা এই সোনারোদ;
দুই হাতে শরতের শেষ আনাগোনা,
স্বাদ এবং শরমের চেনাজানা বোধ
অলস চোখের সাথে মাতেনা খেলায়,
বৃষ্টিরে প্রকাশ করে যে নজর
হাত ছোঁয়ালেও তারে ধরেনা হেলায়।

মনের প্রপাত হয়ে পথ- দেহময় জোছনা ছড়ায়;
ঘামে ভেজা সীমারেখা নেচে ওঠে রোজ;
ঘেমে ওঠে পৃথিবীর বিলিকাটা বন,
অগোছালো পথগুলো ভুলে যায় ঘাস;
খুলে দেয় বিরোধের সব আয়োজন।

স্ব-লাজ স্বপ্নের স্বরে লিখি সেই নাম-
ধেয়ে চলা জুলুমের তাজা ধারাপাত;
ঘাতকের বুকে আজো জমা কালোরঙ;
রক্তের আলোতে নাচে ধ্বনিমোছা হাত।

কালের কোরাসে আঁকা ভুল দেহ-
পান করে অবসাদ,
রাতভর রতিরাও নেই নিরাপদ,
দিবস নিজের নেই;
দিন শেষে থাকে শুধু রোদ্র পোড়া ঘ্রাণ-
অবেলার নীল স্বাদ।
…………………………………………..

গতির গরিমা

চাষ করি মন-
ছলনার ছোঁয়া নিয়ে করি আনাগোনা,
হেজালের হাঁসের মতোন;
সুখের আবেশে লালচোখ হয়েছিলো জানা।

জীবনের খরখরে বানে; বিপন্ন ভাদ্রের টানে,
তামাদি জমিতে বুনি ডুবুরীর মতো নীরবতা;
হাসির ফোয়ারা ভেঙে তুলে নেই নিজের নাটাই,
মিথ্যের ঘুড়িতে আজো-
নিজেকে নিখোঁজ করি; আড়ালেই বেঁধে দেই সুতা।

নাগরিক মনের মতোন সব-চোখে উপরে তাকাই;
কলাখেতের বিকেল ঘিরে বাতাসের মহল বানাই,
চেনাজানা হাত ধরে অচেনা নগরে রাখি দোষ;
লোকালয় ভেবে সব ডাহুকের ডাকরে হারাই,
নদীদের নীড়গুলো ভাড়া করি রোজ।

সুফলা মাঠের ভাঁজে গতিদের গৌরব থাকুক;
পথের সোহাগে মেতে দুই পা’য়ে গরিমা ঢাকুক।
…………………………………………..

আহত সাঁকোর আর্তনাদ

পাখির পালকে লাগা রোদের তুফান;
চাহিদার ঢেউ বোনা সনাতন গান,
মেঘের আঘাতে তার নজর নিথর;
ছলের বাহিরে থাকা জলের পাথর,
মুছে যায় কালো ছাপ- ডানাদের মান।

জেগে ওঠে জিজ্ঞাসা-
আলোর আকাশ সুনিবিড়,
চেতনা ধূসর হয়;
হৃদয়ের ক্ষত চেনে ধানের শিশির।

ফুলের শোভায় ওড়া লতাদের ভোর;
মানুষের আয়ু বাড়ে-
মুছে গেলে চোখ থেকে পুরানো নজর।

খোলসের খাল দেখে সবুজ মাছেরা হাসে;
ইশারার তেলে ভাজা ভুল মাঝরাতে,
গানের জীবন তার-
সুর যার বাঁধা পড়ে সাঁকো গড়া হাতে।

সাঁকোরা আহত হয়ে
স্রোত নামে বার বার করে চিৎকার;
ঝাউপাতা ভাসা জলে
যদি ডোবে জীবনের শেষ সুরকার।
…………………………………………..

রিতা’পুর রোদ

মানুষের মুখ ভুলে
দুপুরের মানুষেরা রোদ হয়ে যায়;
ফিরতি নাওর এসে-
রিতা’পুর রোদ নামে জল পাহারায়।

তিলের ফুলের দেহে নামে কাঁচারোদ,
হাসির অধরে থাকে শরমের শোধ;
চোখের গ্রামে নামে আলোর বিরোধ।

পালকের ভাঁজে গুজে রাখে ডাকঘর;
রানারের বুকে আঁকা প্রেমের দুয়ার।
স্রোতের অধিনে থাকা গানের দোহাই;
গহিন নজরে যেন বাঁজে না সানাই।

লাগেনা বাতাস আর তালের পাখায়,
ভেসে চলা মাছেরাও স্রোত বদলায়;
রিতা’পুও সেই রাতে নদী হয়ে যায়।

চাহনির ভাঁজে তার নীলরোদ ধায়;
খেলা করে সূর্য প্রণয়ের সাদা নায়,
সব প্রেম খোঁজে পথ অনুকম্পায়;
তরী পেলে ভাবটানে সাগর শুকায়।
…………………………………………..

অসমাপ্ত ক্ষত

হারিয়ে যাবার লোভে ফিরে আসা যতো;
নিভে যাওয়া উজ্জল আলোদের মতো,
ঢেউ তোলা ঝর্ণায় লুকানো পাহাড়;
কালোচোখ ভরে থাকে উজ্জল খার,
সতেজ শরীরে জাগে প্রণয়ের ক্ষত।

বিকেল রঙের চোখে যে দেয় কাজল,
তারে ডাকি শিশুর মতোন; তারে চাই
কাছে যাই সাহসের শুভ সমাচারে;
মুখরিত গানে তার সুনাম ছড়াই।

জানে সে রয়েছি একা! কোথাও না যাই;
বসে আছি এইখানে পাতার ভেতর,
এক দেহে সহে যার হাজার মারাই।

ভালোবাসি শেষ ক্ষত অবিরত টান;
চোখের সাগরে ডাকা প্রণয় তুফান;
গতিময় জীবনের আলোঘেরা গান,
আমিওতো ভালোবাসি ঠোঁটের তরল;
জিভের ডগায় থাকা আকাশের মান।

করমচা ডাল থেকে উড়ে গেলে পাখি;
পাখার বাতাস ঘিরে জেগে ওঠে ক্ষত,
এই ঝড়ে ডেকে তারে কোন ঘরে রাখি?
…………………………………………..

নিদ্রাবিলাস

এখানে নিদ্রারা বিলাসবহুল;
গল্পের পৃষ্ঠায় বিনয়ের ভুল,
মধুমাখা পথগুলো শরতের;
আমাদের কামনারা সরু মাস্তুল।

পাপের প্রলেপ থেকে নামবে আবার;
রাতের চাহনি ঘেরা চোখের বাহার,
নিরাশার চেহারারা রাখে নাম তার;
অকুন্ঠ চিবায় তারা জাতকের হার।

ঘর্ষণের শব্দরা পরাস্ত হয় ফের;
ভাদ্রঘুমের মতোন শীতল সাঁতার,
ঝড়ের জানালা থেকে চোখ সরে কার?
দ্বীমুখী ব্রোজের মতো ঘনো কাঁটা তার?

যুগোল সড়কে নামে মানবীয় রাত;
শরমের জোছনারে চিবায় করাত,
আলোদের ঘরে নাচে ফেনায়িত হাত;
সমস্ত অসুখ চেনে ঘুমের বরাত।

পায়ের ভেতরে হাঁটে বিয়োগের পথ;
বিষন্ন ছায়ারে কাটে বিটুমিন শোক,
যোগের জোয়ারে হাসে গণিতের রথ;
ঘুম নামে একা হয় দেহের স্মারক।
…………………………………………..

দয়ালু দূরত্ব

তোমাকে ছোঁয়ার লোভে দূরত্বের ডাক তুলে;
শালিকের শুকনো ডানার মতো দয়া ভুলে যাই;
নিজ নামে নিভে গিয়ে
সুদীর্ঘ সড়ক আমি সাগরে ডোবাই,
দূরে আছো তবু-
আজো কোন দূরত্ব রঙিন করো নাই।

বিকেলের মাঠের মতোন হয়ে গতিমান;
মুখস্ত করেছি নীল- গতিদের গান;
দিগন্ত চমকে দেয়া সুর আর
সাঁঝের আকাশ আঁকা দুটি লাল ঠোঁট,
বাছুরের ঘরে ফেরা দৌড়;
মায়ের মিহিন ছায়া গাভীদের লাল কলতান।

দিঘীর জলের মতো টলতে টলতে একা
কিনারায় যাই ভিরে,
তোমার দুচোখে জমা আগুন- সকাল;
নি:শ্বাস মোড়ানো অনাদরে,
ঝুমকোর জিজ্ঞাসা আবার আসে ফিরে;
রোদের সোহাগ থাকে বিনিময় ঘিরে।

বাবুই পাখির মতো গুণি তুমি- ঘরময়;
দূর থেকে বুনে চলো আমার সময়।
…………………………………………..

আলোর অধিক ডাক

শুকনো কলার পাতায় একেঁছি এই রাত;
দক্ষিনা বায়ুর ঘোরে বেহুশ বাথান,
লক্ষিন্দরের মতো ভেলায় দিয়েছি দেহ;
নিয়ে যায় নিয়তির শেষ আহবান।

পাখিদের ডাক নাও প্রেম নামে,
একরাত ঘুম নাও পথ খোঁজা ক্লান্ত পথে,
বৃষ্টির খবর নাও ঘুম ঘুম ছায়াময় ভোরে;
যৌবনের কুয়োভরা জীবনের আধঘোলা জলে।

স্বপ্নের ছোঁয়ায় থাকা কালের খড়ম;
দুইবেলা অশ্রুর নাও পারাপার,
বলো তাকে, দিন তার;
চরের বালুর মতো রাগ সব নবোসুরে ভেজা;
নদী বলে, সেও তার সখার বাহার।

তোমার চাহুনী যেন তটরেখা; ধূলার দরদ,
বেলোয়ারী বাঁধভাঙা আলোর নাচন;
চেনাজানা সাপুরের গেয়ে চলা গ্রামভরা গান,
আষাঢ়ের বীণ যেন ঠোঁটে তার;
বৃষ্টির শরীর জুড়ে নবোঢ়া বাঁধন।

ডেকে চলো তুমি আমায়, জানোনা তুমি;
আলোর অধিক ডাক প্রণয়ের ভূমি।