মন সুমারী হোক

রাস্তা জুড়ে আস্থা রাখে বিজ্ঞ যত লোক
সবগুলো’কে ধরে ধরে মন সুমারী হোক

আয় কুমারী ঝকমারি সই এবার পথে নেমে
দুবলা বুকে উবলা আশা সুখে যাচ্ছে ঘেমে

ভাবার জন্য সময় যে কম পরেই ভাববো তা
নোঙর ফেলে মাপছি জলের কতটা নাব্যতা

এরপরেও ব্যর্থ প্রেমিক কাঁদে শ্বাস ভুলে
হাওয়া লেগে কষ্ট ছড়ায় গরীব মাস্তুলে

আয় কুমারী বার্তা সারি কবর জুড়ে ফুল
আড়াল পেয়ে পচে গেছে কখন প্রধান মূল

উড়ছে হাওয়া সারছে নাওয়া চূড়ান্ত কামুক
ছন্দ দেখে কুটিপাটি সব ব্লাউজের হুক

মিথ্যে আশায় চেয়ে থাকে কাজল কালো চোখ
সবগুলো’কে ধরে ধরে মন সুমারী হোক
…………………………………………..

তোমাকে নিয়ে

তুমি দু’পা রাখো কার্পেটে
ভূমি গাছ দেবে সার পেতে
পরে কে যাবে কার পেটে
তাই নিয়ে হোক আন্দোলন

আমি দিন ভাঙি বিন্দাসে
দামী কাল কেনে দ্বীনদাসে
পরে কিছু নমকিন ঘাসে
চোখ বুঝে তুই আন দোলন

লোক ভালোবেসে কোন্দলে
শোক মুছে যায় কোন দলে
দিক ভুলে গান শোন জলে
মন মানে না পূর্বাভাস

রাত দেখে পায় নজর দোষ
হাত মেনে নেয় সব আপোষ
এক বিচারে নন্দ ঘোষ
এক বিচারে দুর্বাঘাস।
…………………………………………..

স্বাগতম বলার আগে

স্বাগতম বলার আগে-
বুকের বোতামে হাত রাখা হোক শেষবার

এখানে হাত আর বন্দুক পাশাপাশি শুয়ে আছে
বেপরোয়া বালিশ থেকে দূরে মাথা
কান উপচে পড়ে অস্থির সংস্কৃতি
জন্ম রহস্য নিয়ে ভাবতে হবে বৈকি

স্বাগতম বলার আগে-
দেখে নেয়া হোক নজরে জমেছে কত নীল

এখানে চাদরের ফুল পাতা ছাপের আড়ে
সজাগ বসে থাকে শিকারী মাচা
পায়ে পায়ে প্রেমটোপ জড়িয়ে গেলে
এগিয়ে আসে অযাচিত হলুদ সহানুভূতি

স্বাগতম বলার আগে-
পিতৃ পরিচয় জেনে নেয়া অতি আবশ্যক

এখানে নবান্ন মাটি থেকেই পরজীবী লতা
অন্ধকারের সুযোগে সামনে দাঁড়ায়
এখানে হাত আর বন্দুক পাশাপাশি শুয়ে আছে
বেপরোয়া বালিশ থেকে দূরে মাথা।
…………………………………………..

রোদ্দুরে

রোদ্দুরে গিলে ফেললো গোটা দিন
হাতে রইলো একটা অনন্ত রাত
আহার নিদ্রা মৈথুন ছাড়া সব বাদ
একা কী করবে বেচারা রবীন্দ্রনাথ

রোদ্দুর দিচ্ছে বেসুরো জীবনযাপন
ফেলে আসা দিন পথে পথে ভুল
আমি নাইটির ভিতরে বহাল তবিয়তে
একা কী করবে বেচারা নজরুল

রোদ্দুরের আগ্রাসী পরকীয়া মৈথুনে
সত্যি বল, অর্গ্যাজম হয় না কি তোর?
বুর্জোয়া স্বপ্নের মাঝে মহাকাল
একা কী করবে বেচারা সুকান্ত কিশোর

রোদ্দুরে বুক রাখি গান্ধারী হয়ে
সায়ার দড়িতে ঠোঁট, দাঁত, আর মুখ
যারা শুয়ে আছে শুয়ে থাক সুখে
আপাতত জঙ্গল ভরা চূড়ান্ত কামুক
…………………………………………..

প্রেম দিয়েছে বাতাস তবু

রাস্তা ভাঙা রাত নেমেছে দ্যাখ স্বজন
আঁধার ধরে হাত খুলেছে একশো জন

বুকের দোহাই আগুন পোহাই গল্প না
সুখের আশায় মন্দ বাসায় কল্পনা

ঘূণপোকারা বলছে হেসে জল খাবো
সমুদ্র নুন এবং আগুন ছলকাবো

ক’জন মানে স্বজন নাচে শান্তিতে
সকাল বেলা স্বস্তি ঘুমায় গানটিতে

ময়লা কাপড় ভরা সাধের আলমারী
রাস্তা জুড়ে নতুন ভাষার চাল মারি

ঈর্ষা আগুন তীক্ষ্ম নাখুন বন্দনা
দিনলিপিতে নীল স্বপ্ন মন্দ না

আয়রে তোরা বর্ণচোরা সন্ন্যাসী
ফালতু মেঘে কী আবেগে মন নাশি

আঁধার ধরে হাত খুলেছে একশো জন
প্রেম দিয়েছে বাতাস তবু দ্যাখ স্বজন
…………………………………………..

কয়েক মুঠো ভাত

জাতের গল্প শুনছি অনেক
বলো ভাতের গল্প এবার
সাথে থাকুক এক চিমটে নুন

হাতের রেখা টানছে মনে
সংস্কারী মন মানছে দেবা
উনুন জুড়ে অনেকটা আগুন

রং এর গল্প শুনছি কত
ঢং এর জীবন একটাই চাই
শান্তি এবং বুক জুড়ে স্বস্তি

সং এর নাচন অবিরত
টং এর ঘরে প্রেম হাতড়াই
ক্লান্তি ধরে খানিকটা মস্তি

আঘাত থাকুক চলার পথে
জাগ্রত বেশ আছে কানুন
নাচুক যতই অসভ্য বজ্জাত

জন্মছকের আজব রথে
মজুত থাকুক খানিকটা নুন
আর সঙ্গে কয়েক মুঠো ভাত
…………………………………………..

নষ্ট চাঁদে কষ্ট কাঁদে

নষ্ট চাঁদে কষ্ট কাঁদে ঘরের ভিতর ঘর
অন্ধ জানে বন্ধ মানে হামলা অবান্তর

মামলা লড়ে আমলা ঝড়ে রাস্তা এখন চুপ
স্বপ্ন ঘুমে অট্টহাসি ভয়ের প্রতিরুপ

আয় খুকি তুই বস এবুকে চাঁদটা পেড়ে খাই
নতুন ফসল পাবার আশায় ছায়াপথ হাতড়াই

কে কাকে ঠিক ভালোবাসে তাদের খবর কই
পরশু যারা মরে গেছে তাদের কবর কই

জবর ভাবে বাঁচতে শিখে আলো সরায় মুখ
এখন ঘরে যুদ্ধ করে চূড়ান্ত কামুক

মন্দ সময় জ্যোতির্গময় হাজার এক কিতাব
রাজায় রাজায় সামনে সাজায় জ্বলন্ত চিতা

আয় খুকি তুই বস এবুকে এবার থামুক ঝড়
নষ্ট চাঁদে কষ্ট কাঁদে ঘরের ভিতর ঘর
…………………………………………..

সব খবরই খেলাচ্ছলে

খবর এলো সবুজ খামে
আর কারো নয় তোমার নামে
কোথায় গিয়ে কষ্ট দাঁড়ায়
কোথায় গিয়ে তৃপ্তি থামে

খবর এলো দিনের শেষে
আর কিছু নয় ছদ্মবেশে
কোথায় গিয়ে রাত্রি শুরু
কোথায় গিয়ে সুদিন মেশে

খবর এলো রাতের সাথে
আর কারো নয় তোমার হাতে
কোথায় গিয়ে মানুষ কাঁদে
কোথায় গিয়ে মজায় মাতে

খবর এলো সকাল হলে
তোমার আমার চোখের জলে
কোথায় গিয়ে বন্যা হবে

সব খবরই খেলাচ্ছলে।
…………………………………………..

সত্যি বলতে ফাগুন তো

শরীরে মননে হাঁপিয়ে যাচ্ছি
কাঁপিয়ে যাচ্ছি বিছানা তবু
নিঃঝুম এই ঘুম ঘুম দিন
সত্যি আপনি আছেন প্রভু

সত্যি বলতে ফাগুন তো
শরীরে মননে শিস জোড়া
রোদে রোদে বাজে বোধের ঢাক
গোদের ওপর বিষফোঁড়া

সত্যি বলতে বসন্ত মন
আঁধার কোথাও বিলীন থাক
তারাখসা দ্যাখে ভবিষ্যৎ
আজকে স্বপ্ন চিচিং ফাঁক

শরীরে মননে হাঁপিয়ে যাচ্ছি
মশারীর দড়ি ক্ষনেক চুর
নিঃঝুম এই ঘুম ঘুম দিন
হাতছানি প্রেম অনেক দূর
…………………………………………..

মরতে হলে একসাথেই

হাঁটছে যত পা পথে চিহ্ন থাকছে না
যাচ্ছে বয়ে যেমন তেমন চোখ
কাটছে এমন কাল দিনে বেফালতু বাওয়াল
স্রোতের মুখে লক্ষ হাজার শোক

জোঁকের মুখে নুন দিয়ে হাসছে ভুল আগুন
ফাগুন গেছে রাতের বনবাস
অনেক লোকের ঘর শুধু টলছে অবান্তর
আশেপাশে বিষাক্ত নিঃশ্বাস

চেঁচাচ্ছে কী বুক দেখে শয়তানের অসুখ
বলছে হেঁকে একটু তো চাই শ্বাস
বহুরূপী সব গাছ দাঁড়িয়ে আনাচ কানাচ
নামছে শুধু অনন্ত ভাইরাস

একটু আলো হোক এবং পতঙ্গের ছোঁক ছোঁক
বাড়লে পরে উঠবে ভিজে মাটি
হাঁটছে যত পা পথে চিহ্ন থাকছে না
জেনেও আজ তাদের সাথে হাঁটি।