বেড়ার ঘরে ফ্যানের বাতাস ভালই লাগে, কি কছ বউ?
হ হ প্যাটে ভাত নাই ,খালি বাতাস খাইলেই অইবো,মায়্যাডা সকালে না খায়া ইশকুলে গ্যাছে।
অট্টুক মাইয়্যা না খায়া কতক্ষণ থাকতে পারে?হাতের কাজ রেখে পারুলি স্বামীর সামনে আসে-আমি কই কি রাজযুগালি ছাইরা তুমি অন্য কিছু কর। এইসব কামের কি এহন ভাত আছে? আবার কয়দিন ধইরা মরার বিষ্টি শুরু অইছে। সংসারের চিন্তা তোমার মাথায় কবে যে ঢুকবো? আমার আর ভাল্লাগেনা। মোমেন মিয়া শোয়া থেকে উঠে আরাম করে বসে এরপর ঠ্যাশ মেরে বলে-শুরু হইছে তোর আল্লাদমার্কা কথা । একটু পরে কইবি তেল নাই নুন নাই মাইয়্যাডার প্যান নাই। পারুলি বেগম মুখ মোচড় মেরে বলে- নাইত্তো! কোন জিনিসটা তোমার সংসারে ঠিক মতো আছে? সাথে সাথে গলার স্বর নরম করে স্বামীর পাশে এসে বসে মাথায় বিলি কাটে। একটা কথা কই রাইগোনা! লিপির মায় কত্তো সুখে আছে। কিস্তির ট্যাকা উডায়া দুইখান রিকশা কিনছে। তুমি যদি কও, আমিও কিস্তির ট্যাকা উডায়া দুইখান রিকশা কিন্না তুমি একটা চালাইবা আরেকটা ভাড়া দিমু. আর সপ্তায় সপ্তায় কিস্তির ট্যাকা শোধ দিমু। বেড়ার ঘরে একটু সুখের বাতাস, তুমি একবার হ কও… কও না।
মোমেন মিয়া বউয়ের কথায় গলে যায়। বউর হাতটা টেনে বুকের উপর রাখে।
বউরে… মাইনসের আপদ বিপদের কতা কওন যায়না,তুই যা ভালো মনে করছ তাই কর, আমিতো আছি। খালি.. শরিলডা ভালা থাকলেই অয়। এইবার ওডো! মাইয়্যাডা আইয়্যা পরছে, জানো! ইশকুলে যাওনের পরতনে কি সুনদর সুনদর ছড়া কয়। ইশকুলে যাওনের আগে কইয়্যা গেছে -আইজকা চুলে তেল দিয়া বেণী কইরা দিও মা। বলতে বলতে মেয়েটা দরজা ধাক্কা দিয়ে বাবাকে দেখে বলে- আব্বা তুমি আইজকা কামে যাও নাই? নারে মা। এদিকে আয় মা । আইজকা অনেক পড়ছো। যাও। বইগুলান টেরাঙের উপর রাইখ্খা ডিব্বার তনে নিমকি আর সন্দেশ খাও।
মোমেন মিয়া উঠে বাইরে চলে যায়। সে একজন রাজমিস্ত্রী। অন্যেও বাড় তৈরিই তার কাজ। বালি সিমেন্ট মুছতে মুছতে ঘরে আসে মোমন। পারুলি বলে -তুমি আসছো! বিশ হাজার ট্যাকা কিস্তি পাইছি। কয়দিন আগের তনে লিপির মার লগে যুক্তিপরামেশ কইরা আইজকার তারিখে তুমি ট্যাকাসহ জানলা । তুমি রাগ কইরোনা।দুইখান রিকশা বাকি টেকা দিয়া ঘর দুয়ার ঠিক করমু। সালামত চাচারে লইয়্যা দুইখান রিকশা কিইন্না একটা তুমি চালাইবা আরেকটা ভাড়া দিবা ।
মোমেন মিয়া বৃদ্ধাঙ্গুল জিভে লাগিয়ে টাকা গুনে। বউ আরেকটু গা ঘেঁসে দাড়িয়ে বলে-ট্যাকা লইয়্যা ছয়-নয় করন যাইবোনা।তুমি একটু মন দিলেই আবার আমাগো ভাঙ্গা ঘরে সুখের বাতাস বইবো।
মোটামুটি ষোলআনার একটা স্বপ্নদ্যাখে পারুলি বেগম। জীবনের মোড় ঘুরাতে মোমেন মিয়া বউয়ের কথায় কাজে মন দেয়। একদুই দিন পর মেয়েটার গায়ে নতুন জামা। সন্তানকে নতুন জামাকাপড় কিনে দিতে পারলে মাবাবার চোখে মুখে সুখের পরিচয় পাওয়া যায়।
খাটের উপর আসন পেতে বসে চুল বাঁধে পারুলি। কপালে লালটিপ দেয়, আয়নায় ভেসে ওঠে সুখের ছাপ। আল্লা তুমি একবার তুমি মুখ তুইল্লা চাও। মেয়েটার দিকে তাকায় পারুলি, মাথায় সাপের বেণী দুলছে, সুখ লাগে মনে। পরক্ষণেই আবার পারুলি বেগমের মাথায় আসে এতো সুখ কি কপালে সইবো! আয়নায় ভেসে ওঠে মলিন মুখ।
যাহ্ কি ভাবতাছি! প্রতি সপ্তায় কিস্তি দিয়া একটু হিসাব কইরা চললেই সুখ ধরা দিবো। আনন্দে বুকটা ভরে যায় পারুলির। ওদিক মোমেন সারাদিন রিক্সা চালানোর পর ঘরে আসে, পারুলি বেগম নিজের মধ্যেই সুখের সাঁতার কাটছে। মোমেন পলকহীন চোখে ভাবে-বউটারে আগের তনে সুন্দর লাগছে। একচিলতা টাটকা হাসি ফোটে মোমেন মিয়ার ঠোঁটে। আমার হালায় অক্ষমতার কারণে বউডা এত্তদিন কষ্টে আছিলো। বউ! ও বউ! পারুলি ছমছমিয়ে ওঠে। বউ তোরে নতুন নতুন লাগতাছে। পাত্র টাত্র দেখমুনি? তুই যদি রাজি থাকোছ একটা ভালা পাত্র আছিলো। পোলা ব্যবসা করে। যৌতুক চায়না । শুধু চায় একটা ফুলের মতো বউ।
পারুলি বসা থেকে উঠে আয়না রাখে। তেলমাখা হাত ধুয়ে স্বামীর দিকে রসমাখানো চোখে চোখে বলে- সারাদিন রিকশার প্যাডোল মাইরা মরদের রস কমে নায়। মাইয়্যাডা বড় অইছে অর ভবিষৎ লইয়া না ভাইব্বা খালি আছে আজগুবি কথা নিয়া। যাও হাত মুখ ধুইয়্যা আহো। আমি ভাত বারি, বাদামের বর্তা বানাইছি। এতক্ষণ পর মোমেন মিয় কথা বললো- তোরে না কইলাম বর্তাটর্তা না বানাইতে। বর্তা বানাইলে বেশী ভাত খাওন লাগে । বাজারের যা অবস্থা জিনিস পইচ্চা যায় তাও দাম কমে না। বেশী খাওন যাইবো নারে বউ। দেহো শয়তান বেডায় কয় কি! তুমি কামাইবা তুমি খাইবা। শয়তান বেডা কোহানকার। মাইয়্যাডা ভাত খাইছে নাকি? হ খাইছে। দ্যাহো না পড়তে বইছে কয়কি জানো! মা আমি পড়া লেখা কইরা ডাক্তার ওমু।
মোমেন মিয়ার সংসারে এখন সামর্থের সুখ কানায় কানায় পূর্ণ, রাত্রির কোলে দুইজনে হাসাহাসি আর রসারসি করতে করতে কখন যে ভোর হয় তা বুঝাই ভার। সকালে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। কখনো অঝোরে। গামছা মাথায় মোমেন মিয়া হ্্াঁটছে আর বিরবির করে বলছে-হুদা বিষ্টির কারণে নাইলে আইজ বাইরাইতাম না, কি আর করা। মার প্যাডোল দৌড়ায় জীবন। সালামত চাচার গ্যারেজ। পনেরো বিশটা রিক্সা আছে এখানে , বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের লোকেরা থাকে আর রিক্সা চালায়। একটা রিক্সার গ্যারেজ মানে অনেক ক্ষমতা নিয়ে চলা মহাজনের। বিচার সালিশ করা, এলাকায় কে কোন দলের , সরকারি দলের তোষামদি আর বিরোধী দলের কোন পরিবার থাকলে তাকে পুলিশ দিয়ে হেনস্থা করে টাকা খাওয়া ফন্দি করা। মোমেন কে দেখে সালামত মিয়া হাতের সিগারেটটায় আরেকটি সুখটান দিয়ে বলে-কি মিয়া! কিস্তি উঠায়া তো ভালই আছ দুইখান রিশকা কিনলা, মিষ্টি কই? মনে রাইখখো মা মরুক আর বাপ মরুক সময় মতো কিস্তির ট্যাকা চাই।
আমি জানি, আপনে দোয়া কইরেন চাচা। গ্যারেজ থেকে রিক্সা নিয়ে সালাম দিয়ে বের হয়ে যায় মোমেন মিয়া । গ্যারেজের ভেতর মাচাং বাঁধনো খাট। চলছে টাস খেলা। একজন বলে ওঠে ওই মোমেন কোলকি জ্বালাইছি ,বিষ্টির ফিলিংসে রিকশা চলবো তাড়াতাড়ি। মোমেন মাথা নেরে না বলে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। মোমন ভিজছে আর প্যাডেল মারছে। বৃষ্টির কারণে পেসেঞ্জার কম। এভাবেই দুপুর গড়িয়ে গেলে মোমেনের কি রকম যেনো লাগছে। গ্যারেজে রিক্সাটা রেখে গামছাটা চাদরের মতো গায় দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি আসে।
স্বামীকে কাঁপতে দেখে কপালে হাত দিয়ে পারুলি বেগম বলে-কি হইছে তোমার? জ্বরে দেহি গাওডা পুইরা যাইতাছে। হাত ধরে ঘরে নেয়। যাতো মা জলিল কাকুরে কোবি জ্বরের ওষুধ দিতে । মেয়েটা দৌড় দেয়। পানির পট্টি দেয় বউ। জ্বরে জ্বরে যাচ্ছে কয়েকদিনের দিনরাত। একদিন সকালে মোমেন শুয়ে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে-আমার বেড়ার ঘরে কবে যে সুখের বাতাস বইবো। দরজা খুলে পারুলি ঘরে ঢুকলো। কিরে বউ কই গেছিলি? কিস্তির মুখে আগুন দিতে। কিল্লাইগ্গা এমন অইলো দুই চার পাচ ট্যাকা যা আছিলো তা আইজকা দিয়া আইছি। না বউ আর বইয়া থাকন যাইবোনা। তুই মন খারাপ করিস না। মোমেন মিয়া উঠে বসে -দে বউ গামছাডা দে রিকশাটা বাইর করি। অসুস্থ মোমেন ঢলতে ঢলতে রুজির উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়।
কদিনের জ্বরে শরীরটা একেবারে ঝিমায় গেছে। এদিকে বৃষ্টি হওয়ার পর রোদটা আরো বেশী ঝলকাচ্ছে। প্রচুর তাপ। নাকের ডগা বেয়ে ঘাম পড়ছে। দুজন পেসেঞ্জার এসে বলে- এই রিক্সা যাত্রাবাড়ী যাইবা? হ হ যামু । পঞ্চাশ ট্যাকা দিয়েন। দশ মিনিটের রাস্তা পঞ্চাশ টাকা চাও। তোমাদের এই একটা স্বভাব কবযে পাল্টাইবা। ভাইজান গরীব পাল্টাইলে কি লাভ , যারা সত্যরে আড়াল করনের লাইগা ব্যাস্ত হেরা না পাল্টাইলে দেশ আর পাল্টাইবো কেমনে। আর আমাগো মতো গরিবরাতো ভোটই দিবার পারেনা । তুমি দেখি একেবারে বুদ্বিজীবি হয়ে গেলা, আচ্ছা চল দশটাকা কম নিও। চলেন। মোমেনের শরীরে জোর না থাকলেও মনের জোরে প্যাডেল মারে।
সামনে রোদ। রোদের পরে রোদ। রোদ্দুর স্রোতে ঝুলছে মোমেন। তালবেতাল রিক্সা চালাচ্ছে । আনমনে ভাবে বউর কথা কিস্তির ট্যাকা না দিতে পারলে বউর কাপড় টানাটানি আমি সইতে পারুম না মোমেনের রিক্সা চালানো দেখে পেসেঞ্জারের একজন বলে- কি মিয়া এমনিতেই নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। ঠিকমত চালাও। পেসেঞ্জার দুজন দেখছে সামনের দিক থেকে একটি বাস আসছে । রিক্সাটা বামে না গিয়ে ডানে একেবারেই বাসের তলে এগিয়ে যাচ্ছে। লাফ দিয়ে দুজন বামে পড়ে যায়। মোমেন পিছনে চাইতেই বাসের ডানচাকা পায়ের উপর দিয়ে রিক্সা ভেঙ্গে চুরমার করে চলে যায়।
এক্সিডেন্ট! এক্সিডেন্ট! পেসেঞ্জার দুজনের আহাজারিতে লোকজন জড়ো হয়ে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যায় মোমেনকে। খবর পেয়ে দিশেহারা পাগলিনীর মতো দৌড়ে আসে পারুলি। মেয়েটাও পিছনে । হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে আছে মোমেন।পারুলি দৌড়ে এসে বসে মাথা কোলে নিয়ে বলে-তুমি ক্যান আইজ বাইরাইলা? ক্যান বাইরাইলা? আল্লা তুমি এ কোন সর্বনাশ করলা। হাসপাতালের প্রতিটি দেয়ালে পারুলি বেগমের আহাজারি ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো। ডাক্তার বলেন-প্রচুর রক্ত যাচ্ছে। এভাবে বেশীক্ষণ যদি রক্ত ঝরে তাহলে রোগীকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে পরবে। সম্ভবত পা কেটে ফেলতে হবে। স্ত্রী হিসেবে তোমার অনুমতি লাগবে। এইখানে একটা সই দাও। মেয়েটা কেঁদে কেঁদে বলে-না না আমার আব্বার পাও কাটতে দিমুনা।
পারুলি একবার স্ট্যাম্পের দিকে তাকায় আরেকবার স্বামীর মুখের দিকে তাকায়। কাঁদতে কাঁদতে টিপ সই দেয়। দ্রুত মোমেনকে অপারেশন রুমে নিয়ে যায়য়া হলো।তারপর টানা এক মাস হাসপাতাল থেকে লাঠিতে ভর করে বাড়ি আসে পঙ্গু মোমেন। ঝরের তোপে মোমেনের সংসার কচুপাতার পানির মতো টলমল করছে। বউটার চোখের নিচে কালি জমেছে । ভাগ্যের খেলায় হেরে যাওয়া আহত পাখি। মোমেন বউর চোখের দিকে তাকায় কয় এহন কি করুম বউ? ভাঙ্গা রিকশাডার কোন খোজ পাইছনি? খাওনের চিন্তা করিনা- চিন্তা খালি কিস্তি লইয়া। কেমনে চালামু। আল্লা তুমি আমারে লইয়্যা এমন খেলা ক্যান খেললা? আমারে ক্যান পঙ্গু করলা? ঘরে একটাও চাল নাই । মাইয়্যাডা ক্ষিধায় কানতে কানতে ঘুমায় গ্যাছে। রিক্সার গ্যারেজের মালিক সালামত মোমেনের ঘরে আসে। সালামতের লোলুপ নজর পারুলির দিক পড়লে পারুলি চোখ সরিয়ে নেয়। সালামত কয় কি অবস্থা মোমেন? পায়ের ঘা শুকাইছেনি, ট্যাকা পয়সা লাগলে আমার তনে নিও।তো যের লাইগা আইছি। তোমার রিকশাসহ পাঁচটা রিকশা গেছে রাইতে চুরি হইছে। নেও আমি তোমার একহাজার ট্যাকা দিলাম। আমি যাইগা কোন অসুবিধা হইলে খবর দিও।
মোমেন কোন কথা বলতে পারলো না। পারুলির মুখটাও অবশ। কোনি উত্তর নেই।শুধু কালো ছাইয়ের মতো হয়ে গেলো দু’জনের চেহারা। পরস্পর মখের দিকে তাকায়ি রইলো দীর্ঘক্ষণ। পারুলি বলে -কিছু কইবানা ? আমারতো হাতপা ভাইঙ্গা আইতাছে,আমি অহন কি করমু! আমারে একটু বিষ আইনা দাও। বউয়ের আর্তনাদে মোমেনের বুকটা কুঠার ফাড়া হয়ে যায় দু’দিক থেকে।
ওদিকে কিস্তির বৈঠকখানায় কিস্তির স্যার মহিলাদের কাছে পারুলির কথা জানতে চায়-গত তিন সপ্তাহ পারুলি বেগমের টাকা পাইনা, আপনারা ক্যান আমাকে অফিসে বকা শুনাইবেন! আপনেরাই একটা ব্যবস্থা করেন। পারুলিরে খবর দিছেন? এক মহিলা বলে -হঁ স্যার আঁই হেতরে আইতে কইছি।
কিছুক্ষণ পর পারুলি আসে। এক মহিলা বলে- আলো হোতিনের ঘরের হোতিন ট্যাকা পাইয়্যা সব ভুইল্লা গেছত? ভাতার পঙ্গু হইছোতো তোর কি হইছে! ট্যাকা দেছনা কিল্লাই? আর যে কওন না লাগে। অন্য মহিলা বলে- কানে ডুকছেনি হোতিনের। রাস্তায় সিরিয়াল লাগাইয়্যা হইলেও ট্যাকা দিছ। আমরা আর টানতে পারুম না। কাপড়ের আঁচল ধরে টান মারে এক মহিলা। কাঁদতে কাঁদতে বাড়ী আসে পারুলি। ক্ষুধা পেটে পরে আছে মোমেন। চোখে আছে আগুণের জল। তুমি জ্বর না লইয়া গেলে এমন হইতোনা। তুমি কও এহন আমি কি করমু! মায়ের কথা শুনে মেয়েটা সামনে আসে-মা আমার খিদা লাগছে। আমারে খাওন দ্যাও। আমারে খা। পারুলি দ্্েরাহের আগুনে বলে আমারে খা। আমারে খাইতে পারসনা। এক ধোর কপাইল্লার ঘরে আল্লায় আমার জুড়ি মিলাছে। মোমেন লাঠিতে ভর করে কয়-তোর কথা মতো যদি কিস্তি না উডায়া আগের কাম করতাম। তাইলে ভালো অইতো। আমার আর ঘ্যানর ঘ্যানর ভাল্লাগেনা । মেয়েটা বাবার সামনে আসে-বাবা আমার খিদা লাগছে । হাত দিয়ে সরিয়ে দেয় মোমেন। আমারে মাফ কইরা দে মা। থাক তুই। আমি অসহায় দশ দুয়ারে ভিক্ষায় যাই। দেখি আল্লা বেডায় ওইখানেও গোমরা নাকি উদার!
লাঠিতে ভর করে মোমেন ঘর থেকে চলে যায়, মেয়েটা বাবার পিছন ধরলো।
হ হ যাও। আমারে সাগরে ভাসায়া তুমি যেহানে মন চায় যাও। দিন গড়িয়ে চলছে ভিক্ষাবৃত্তিতে।
একদিন কিস্তি বাড়ীর তিনচারজন মহিলা এসে ঘরের সব মালসামানা নিয়ে যায়। এভাবে রাত আসে । রাতের আঁধারে সালামত মিয়া পারুলির ঘরে ঢুকে পারুলিকে দৈহিক নির্যানের করতে চাইলে পারুলি চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করে। শয়তানের বাচ্ছা । উপরে আল্লা আছে তারে একটু ভয় কর। আমারে ছাইরা দে। সালামত পশুশক্তিতে মুখ চেপে ধরে কয়-অতো চিন্তা কর ক্যা। মোমেন ল্যাংরা হইছে তাতে কি! আমি আছিনা। ওইসব কিস্তি ফিস্তি আমি দেখমু।
পারুলি বেগম মাথা নিচু করে কথাগুলো শোনা ছাড়া আর যেনো কিছুই করতে পারেনা শুধু ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে। দুচোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে। সালামত একটা পাঁচশত টাকার নোট হাতে দিয়ে বল- মাঝে মইধ্যে দু’একজন নাগর পাঠামু একটু খাতির যত্ন কইরো। পিছনে যা কিছু আছে সব ভুইলা যাও।ওইগুলি ভাবলে দুনিয়া চলবোনা থাইম্মা থাকবো। ফূর্তি করবা আর খাইবা এইটাই হইলো জীবনের আসল স্বাদ। জীবনে সবাই ভোগ করতে পারেনা, সালামত সিগারেট ধরিয়ে বের হয়ে যায়। পারুলি টাকার দিকে চেয়ে ভাবে এই ট্যাকাই কি সব?