একজন মুক্তিযোদ্ধা ও কথা সাহিত্যিকের মুক্তিযোদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘উপমহাদেশ‘ শেষ করে ‘কাবিলের বোন‘ উপন্যাসটির কয়েক পৃষ্ঠা শেষ করেছি তখন মিডিয়ার মারফত জানতে পেরেছিলাম আমার প্রিয় কবিদের একজন আল মাহমুদ এই নিষ্ঠুর দুনিয়ার জীবন সম্পন্ন করে মৃত্যু পরবর্তী জীবনে পারি দিয়েছেন।
সময়টি ছিলো শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯।
কবি আল মুজাহিদীর সম্পাদিত ‘নতুন এক মাত্রা’ ম্যাগাজিনটির সাথে পরিচিত হবার পর থেকে প্রতিটি সংখ্যা যতই পড়ছিলাম ততোই এটার থেকে প্রত্যাশা বেড়ে যাচ্ছিলো । তাই যখন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রধান কবিদের একজন কবি আল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি মাসে পর-জীবনে পারি দিয়েছেন, তখন নতুন এক মাত্রা থেকে প্রত্যাশা ছিলো যে মার্চ-এপ্রিলের সংখ্যাতে কবি আল মাহমুদের সাহিত্য কর্মের উপর একটি ক্রোড়পত্র প্রকাশ দেখতে পাবো কিন্তু আশাহত হয়েছিলাম যখন উক্ত সংখ্যাটি হাতে পেয়েছিলাম । তখন ভাবছিলাম, যেখানে ১৯৭১ এর যুদ্ধফেরত মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের প্রধান কবি আল মাহমুদকে যেখানে তার মৃত্যু পরবর্তীতে যথাযথ সম্মান দিতে পারিনি, পারিনি একটু সম্মান দেখানোর জন্য হলেও শহীদ মিনারে জানাজা পড়াতে, বুদ্ধিজীবীদের স্থানে একটুখানি মাটি দিতে, গ্রাম থেকে টিনের বাক্স-পেটরা নিয়ে আগত প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রীহীন গ্রাম্য কবিকে তার গ্রামের মাটিতেই পাঠিয়ে দিয়েছি, অবহেলা ও অবজ্ঞা সহকারে, সেখানে তাকে নিয়ে আমার মতো সামান্য পাঠকের একটু বেশী প্রত্যাশা করাটাই অনূচিত ছিলো ‘নতুন এক মাত্রা’ ম্যাগাজিনটির কাছে তারপরও ঐ সংখ্যাটির রিভিউটিতে প্রিয় সম্পাদকের কাছে যে আর্জি রেখেছিলাম তা হলো ”শেষ করার পূর্বে সম্পাদকের প্রতি ভালোবাসা সহকারে আকুল প্রত্যাশা এই যে, কবি আল মাহমুদের সাহিত্য-জীবন-কর্মের উপর একটি ক্রোড় সংখ্যা প্রকাশ করার জন্য” ।
হয়তো ‘নতুন এক মাত্রা’ সম্পাদক আমার বা আমাদের মত সাধারণ কবি ভক্তদের মর্মবেদনা বুঝতে পেরেছিলেন তাই একটু দেরীতে হলেও বর্ষা সংখ্যাতে প্রিয় কবি আল মাহমুদকে নিয়ে প্রকাশ করেছেন ‘ক্রোড়পত্র আল মাহমুদ’।
সংখ্যাটি হাতে পাবার পর থেকেই কি কি বর্ণনা আছে সংখ্যাটিতে তা পড়ার জন্য উসখুস করছিলাম এবং পড়া শেষে তার কিছুটা সকলের সাথে শেয়ার করছি এবং প্রত্যাশা করি সকলে আল মাহমুদকে জানার জন্য হলেও এই সংখ্যাটি সংগ্রহ করে পড়বে।
আল মাহমুদকে নিয়ে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রটিতে রয়েছে কবি আল মাহমুদের নিজের লেখা, ’ বুদ্ধি দিয়ে কবিতা হয় না, কবিতা হয় লেখঅ হয় হৃদয় দিয়ে’ প্রবন্ধটি যাতে রয়েছে মুল্যবাল উপদেশ ও নসিহত যারা কবিতা চর্চা করতে চান । সংখ্যাটিতে রয়েছে বিভিন্ন সাহিত্য সমালোচকদের ২০টি অসাধারণ লেখা। এক একটা লেখাতে তারা কতটা দরদ দিয়ে তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে তা বুঝানো আমার মতো সাধারণ পাঠকদের পক্ষে অসম্ভব। বিশেষ করে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের লিখিত ‘আল মাহমুদের সাহিত্য বাংলাদশের সমাজ ও সংস্কৃতি’ প্রবন্ধটি গবেষণামূলক ও অসাধারণ হয়েছে যেখানে তিনি কবি আল মাহমুদের সাহিত্য কর্মকে ২০টি পয়েন্টে বনর্না করেছেন।
এছাড়া ফজলুল হক তুহিনের লিখিত ‘ আল মাহমুদের কবিতা: বাংলাদেশের প্রতিধ্বনি’, মোহাম্মদ আজম লিখিত, ‘ সোনালি কাবিন সনেটগুচ্ছ ও আল মাহমুদের কাব্যিক প্রকল্প’ কবিকে গভীরভাবে বুঝতে সহায়তা করবে।
ক্রোড়পত্র সংখ্যাটি প্রকাশ করার কারনে কিছু নিয়মিত লেখা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে তারপরও সংখ্যাটি পেয়ে খুবেই তৃপ্তি বোধ করেছি। আরো যে লেখাগুলো এই সংখ্যাটিতে প্রকাশিত হয়েছে তা হলো, জাপান ভ্রমনের স্মৃতি, গল্প-মিরুজিন নদীর তীরে, কবি মুসা আল হাফিজের সৈয়দ আলী আহসানের স্মরণ-’হৃদয়ের নদী হয়ে চাঁদ নেমে আসে’, ইতিহাস পর্বে ‘মহাকালগড় এর আদিপর্ব, জোখা আল হারদির অনুবাদ গল্প ‘উডেন পার্ক এর বেঞ্চে আমরা বসেছিলাম ও বইপত্র পরিচিতি।
প্রতিটি সংখ্যার মতো এই সংখ্যাটিও উপভোগ্য হয়েছে । সম্পাদক ও কবি আল মুজাহিদীকে আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালবাসা প্রতিটি সংখ্যায় এতো সুন্দর সুন্দর মানসম্মত লেখার সাথে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার জন্য ।
পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাই পাঠশালা – Centre for Basic Studiesr Basic Studies গ্রুপের শিরোমনি শাহাদাত হোসেন ( Shahadat Hossain ) স্যার এবং জহিরুল ইসলাম পলাশ (Zahirul Islam Polash ) ভাইকে এই চমৎকার শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির কাগজ নতুন এক মাত্রার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।।
যদি কারো প্রত্রিকাটির নিয়মিত গ্রাহক হতে চান তাহলে যোগাযোগ করতে পারেন জহিরুল ইসলাম পলাশ ভাই ও তার বইপাঠাই ডটকম এর সাথে।

শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির কাগজ
নতুন এক মাত্রা (বর্ষা সংখ্যা),
আষাঢ়-শ্রাবণ ১৪২৬
জুলাই-আগস্ট ২০১৯
পঞ্চম বর্ষা চতুর্থ সংখ্যা
পৃষ্ঠা: ১২০
মূল্য: ৪০.০০