নদীর গোপন

যেতে যেতে নদীতে পেতেছি কান
প্রবল হেঁটেছি একা রাতের আঁধারে
কিছু মুখে ম্লান বিষণ্ণাতা
কারো কারো আলোতে উজ্জ্বল।

অনিবার নিত্য কোলাহলে
বেজেওঠে মৃতনগরীর হাহাকার
খোয়া গেছে বাঁশীর সুদূর
মনের কালোয় মেশে অনন্ত আঁধার।

সজাগ রেখেছি সৃষ্টি
চোখের চাওয়ার উচ্চতমে
নদীবাঁক এলে মনে হয়
যুগান্তের সুপ্রাচীন পথ।

নদীকে নিবিড় বেঁধে পথের দুর্গমে
ঝরে যায় অনন্ত প্রপাত
যেতে যেতে ক্ষয় থেকে শিলা
প্রবাহের অভীষ্ট দুর্জয়।
…………………………………………..

সমাহার

অংক আমার প্রধান বিষয় ছিলনা
হিসেব নিকেষে তাই কাঁচা
কিছু কিছু মানবিক অনুভূতি ঠিকঠাক মনে রাখতে পারি
নুনতম সাধারণ জ্ঞানে যেহেতু শিখেছি যোগ ও বিযোগ
সারাজীবন ভাঁড়ারে প্রাপ্তি যোগ ।

দিনে দিনে রাশি রাশি স্তূপীকৃত যোগফল
অনভ্যস্ত হাত বুলিয়ে বুলিয়ে গুণমান বুঝে নিতে চায় ।

বাচবিচার যখন শুরু একে একে সবকিছু হয়ে যায় বাদ
পড়ে থাকে দু’টো একটা খোলামকুচি ।
…………………………………………..

নদী সমতুল

তোমার চোখের বাঁকা ধনু আর বাঁকা কথার মায়ায়
ঢেঊ ওঠে প্রশান্ত মনের সরোবরে
দু’পাশে বনানী তবু অবিশ্বাস্য প্রপাতের
শব্দ অবিরাম ।

জল প্রপাতের গন্তব্যের সোজাপথ
আঁকা বাঁকা নদী হয়ে যায় ।

দুই তীরে জলীয় ধানক্ষেত
বুক জুড়ে শনশন হাওয়ার দখিন
মাঝে মাঝে বাতাসে কপাট ভাঙে, দুলে ওঠে নাও ।

বাকি পথে গান করে স্রোত, বয়ে যায় নৌকোর মায়া ।
…………………………………………..

অপেক্ষা

অন্ধকারে হারানো বাঁশির সুর
রাত চলেছে দুলকি চালে
ভোরের অমল বহু দূর
পাখিটি কালান্তরের অপেক্ষায় ।

পূবের আকাশে কালো মেঘ
হাওয়ায় ধুলোর পথ মোছে
আকাশে ঝড়ের পূর্বাভাস
ভাঙনের মুদ্রা তার চোখের পাতায় ।

কতশত হীন অপমান
দুঃখ গুলো পড়াবো আগুনে
অলীক নাটক মুছে অপেক্ষার রঙ
আবার লাগাবো রাঙা নিশানে পর্দায় ।
…………………………………………..

স্বচ্ছ দৃষ্টি

অসীমের সঙ্গ চেয়ে আকুল ইচ্ছেরা
খোলামেলা প্রান্তরে এসেছে
রাস্তা থেকে সরে গেছে মায়াবী কুহক।

এবার নেভাও যাদুকরী আলো
আমাকে দেখাও প্রাণের প্রকৃত দিবালোক ।

নিবিড় আঁধারে নিরক্ষরের স্নিগ্ধতা নয়
পর্দায় সমৃদ্ধ আগুন যোজনা
খুলে দেব গুহা মুখ
সঠিক প্রবাহে সারেৎসার ।
…………………………………………..

রুগ্ন ফসলের গান

আকাশের নিচু মেঘস্তরে মাঠের সুরক্ষা ঢিলেঢালা
শীতার্ত মেঘের ওড়ার সামর্থ্য বেশি নেই
ভরেছে বৃষ্টির মাঠ মগ্ন আগাছায় ।

বইভরা আলমারিতে কীটেরা বেঁধেছে ঘর বাড়ি
তচনচ ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব্ , প্রযুক্তি বিজ্ঞান
অপরিস্রুত জোয়ারে ফসলের গায়ে যৌন রোগ ।

ওঝা তান্ত্রিকের তুকতাকে কি ভাবে ফসল নিরাময়
কথার বিকারে দিশাহীন রুগ্ন মানবতা ।

আলোকিত আকাশের স্বপ্ন নয়
ভুয়ো কল্পনার ভুরি ভুরি ছবি
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ভাইরাল ।
…………………………………………..

মনের দুস্তর

কোন রাত্রিই অনতিক্রমণীয় নয়
যাকে অসীম দূরত্ব মনে হয়
তারও যে শেষের সীমা আছে
সীমাবদ্ধ সমস্ত ক্ষত্রের পরিসর ।

অপারগ সীমাবদ্ধতার অন্য নাম
ভাবনার অসীম
তারপর আর কোন জরিপ জানিনা
অজানার আঁধারই ভয়ের পারাবার
কি করে পেরুবো ভীরু মনের দুস্তর ।
…………………………………………..

রাতের অমরতা

বিকেলের দিগন্ত নিজেকে মেলেছে সৈকতে
গেরুয়া বালির তটে নেমে আসে অন্ধকার
আকাশের আবডালে তারার কুসুম
মহাধুমধামে রাতের অকাল মৃত্যু চায় ।

আঁধারের অলঙ্কারে সাদামাটা রাতকেও
ভয়ানক রাত্রি মনে হয়
রাতের দীর্ঘায়ু কামনায় ঝরে বৃষ্টির অঝর ।

বৃষ্টি নয় বিপর্যয়ই রাতের কাঙ্ক্ষিত অমরতা ।
…………………………………………..

অনিঃশেষ

ঘুড়ি জানে আকাশের অসীম শূন্যতা
অপার অগাধ
মেঘের ওপারে দূরে অজানা আঁধার
উড্ডীন সীমানা টানে লাটায়ের সূতো ।

বৈঠা জানে পারাপার কতটা দুস্তর
বাঁশির উদাস জানে মাঝি ।

তবুও নৌকা ভাসে নিরুদ্দেশে
তবু হাওয়া বয় অনিঃশেষ ।
…………………………………………..

বৃষ্টির ফাগুন

আমার অঝর বৃষ্টি সুপোরি বনের নিরালায়
মনে মনে লিখি কৃষ্ণকথা রাধিকা বিরহ
বৃষ্টি ধোয়া নীল মেঘে পূর্ণিমা ফাগুন
গোপনে গোপনে মুছি জমেথাকা দু’চোখের জল ।

এইখানে ফাঁদ পাতা-
তোমাকে ভোলাবে জেনো বর্ষার কোমল
বৃষ্টি নয় ফোঁটা ফোঁটা বসন্তের রঙ ।