১১১.
সোমে শুক্রে গুরু আর।
পৃথ্বী মা সয় শস্যের ভার।।
পাঁচ শনি পায় মীনে।
শকুনি মাংস না খায় ঘূণে।।

ব্যাখ্যা:
সোম, শুক্র, হলে বহু শস্য হবে তাতে।
পাঁচ শনি এক চৈত্রে মরি মড়কেতে।।

১১২.
শূন্য কলসী শুক্ না না।
শুক্ না ডালে ডাকে কা।।
যদি দেখ মাকুন্দ চোপা।
এক পাও না বাড়াও বাপা।।
খনা বলে এরেও ঠেলি।
যদি না দেখি সম্মুখে তেলী।।

ব্যাখ্যা:
যখন কোন স্থানেতে যাত্রা করিবে।
ডাকে শূন্য কুম্ভ, শুষ্ক নৌকা যদি দেখিবে।।
কিংবা শুষ্ক ডালে যদি কাক ডাকে শুন।
মাকুন্দ লোক যদি দেখ ভাই কোন।।
এক পদ না বাড়াবে না যাইবে আর।
মন দিয়া শুন সবে নিষেধ খনার।।
খনা বলে এর চেয়ে তেলী ভয়ঙ্কর।
দেখিলে তাহারে নাহি হবে অগ্রসর।।

১১৩.
ভরা হ’তে শূন্য ভাল যদি ভরতে যায়।
আগে হ’তে পিছে ভাল যদি ডাকে মায়।।
মরা হ’তে জ্যান্ত ভাল যদি মরতে যাবে।
বাঁয়ে হ’তে ডাইনে ভাল যদি ফিরে চাবে।।
বাঁধা হ’তে খোলা ভাল মাথা তুলে চাইলে।
হাসা হ’তে কাঁদা ভাল বামেতে দিলে।।

ব্যাখ্যা:
শূন্য কুম্ভ যাত্রাকালে ঘটে অমঙ্গল।
কিন্তু শুভ তাহাতে আনিতে গেলে জল।।
যাত্রাকালে পশ্চাতে ডাকিলে মন্দ বটে।
মাতায় ডাকিলে কিন্তু শুভ তার ঘটে।।
কি গঙ্গাযাত্রা করে।
যাত্রাকালে মন্দ দেখিলে তাহারে।।
কিন্তু যদি ফিরে চেয়ে যায় যেতে যেতে।
দক্ষিণে শৃগাল ভাল সেই অবস্থাতে।।
ছাড়া গরু যেতে দর্শন করিলে।
বড় অমঙ্গল তাহে বড় মন্দ ফলে।।
কিন্তু ভাল মুখ তুলে বারেক দেখিলে।
তার চেয়ে শুভ আর কিছুতে না ফলে।।
যাত্রাকালে ক্রন্দনের ধ্বনি ভীতিকর।
বামেতে কাঁদিলে কিন্তু সুখের আকর।।

১১৪.
মঙ্গলের ঊষা বুধে পা।
যেথা ইচ্ছা সেখা যা।।

ব্যাখ্যা:
মঙ্গলের নিশি অবসান যেই মাত্র।
বুধের প্রারম্ভে যাত্রা করহ সর্বত্র।

১১৫.
রবি গুরু মঙ্গলের ঊষা।
আর সমস্ত ফাসাফুসা।।

ব্যাখ্যা:
রবি, বৃহস্পতি আর কুজের ঊষার।
নির্ভয়ে যাইতে পার বাসনা যথায়।।
দেখিতে হবে শুভক্ষণ এই তিনে।
সদা শুভ জানো ইহা খনার বচনে।।

১১৬.
ডাকে পাখী না ছাড়ে বাসা।
উড়িয়ে বৈসে খাবে হেন আশা।।
ফিরে যায় বাসে না পায় দিশা।
উড়ে পাখী খায় না।
তখনি কেন যায় না।।

ব্যাখ্যা:
রাত্রি শেষ সময় বিহঙ্গমুকুল।
নীড়ে বসি ছাড়ে স্বর খাইতে ব্যাকুল।।
উড়িতে বাসনা নাহি উড়িবারে পারে।
চারিদিকে তখনো আবৃত অন্ধকারে।।
যদি উড়ে ফিরে পুনঃ হারাইয়া দিশা।
খনা বলে সেই সময় ঊষা।।

১১৭.
দ্বাদশ অঙ্গুলী কাঠি।
সূৰ্য্যমন্ডলে দিয়া দিঠি।।
রবি কুড়ি সোমে ষোল।
পঞ্চদশ মঙ্গলে ভাল।।
বুধ এগার বৃহস্পতি বার।
শুক্র চৌদ্দ শনি তের।।
হাঁচি জেঠী পড়ে যবে।
অষ্টগুণ লভ্য হবে।।

ব্যাখ্যা:
সূর্যকিরণে অনাবৃত স্থানে
পোঁত কাঠি দ্বাদশ অঙ্গুলী পরিমাণে
দেখ ক’ অঙ্গুলী পরিমিত ছায় পড়ে
তা বুঝে করহ যাত্রা এক একবারে
রবিবারে বিশাল পরিমিত হলে
ষোড়শ আঙ্গুল সোমবারে যাত্রাকালে
মঙ্গলে পনের আঙ্গুল বুধে একাদশ
বৃহস্পতিবারে বারো শুক্রে চতুর্দশ
শনিবারে ত্রয়োদশ হ’লে তবে যাও
মনের আনন্দে শুভফল গিয়া পাও
যাত্রাকালে হাঁচি জেঠী পড়ে যদি আর
অষ্টগুণ লভ্য তাহে জানিবে তোমার।।

১১৮.
তিথি বার স্ব-নক্ষত্র মাসের যতদিন।
একত্র করিয়া তারে সাত কর হীন।।
একে শুভ দুয়ে লাভ তিনে শত্রুক্ষয়।
চতুর্থেতে কার্যসিদ্ধি পঞ্চমে সংশয়।।
ষষ্ঠে মৃত্যু শূন্য হলে পায় বহু দুঃখ।
খনা বলে যাত্রায় কভু নহে সুখ।।

ব্যাখ্যা:
যে দিন করিতে যাত্রা সঙ্কল্প করিবে।
যে তিথি যে বার দিন সংখ্যা যোগ দিবে।।
আপন জন্মনক্ষত্রের সংখ্যা যত হয়।
করহ সমস্ত এক সংখ্যা সমুদয়।।
সাত দিয়া ভাগ করি দেখো তারপর।
এক ভাগশেষে হয় অথি শুভকর।।
দুই হ’লে লভ্য তার শত্রুক্ষয় তিনে।
চার হ’লে কার্যসিদ্ধি সংশয় পঞ্চমে।।
ছয় ভাগশেষে মৃত্যু নিকটে তো জানি।
শূন্যে বহু দুঃখ পায় দিবস রজনী।।
মনে কর ফাল্গুনমাস চৌদ্দ তারিখেতে।
বুধবার যাবে কেহ অষ্টমী তিথিতে।।
জন্মতারা অশ্বিনী তাহার আছে জানা।
শুভ কি অশুভ তা কর দেখি গণনা।।
মাস সংখ্যা একাদশ বার তিথি দিরে।
তারিখের চৌদ্দ তায় নক্ষত্র মিলায়ে।।
যোগফল আটত্রিশ পেতেছি যখন।
সাত দিয়া কেন বা না করিব হরণ।।
ভাগশেষ তিন অতএব শত্রুক্ষয়।
এ যাত্রায় মঙ্গল নাহিক সংশয়।।

হিসাব:
মাসের সংখ্যা – ১১ + তারিখ সংখ্যা – ১৪ + বারের সংখ্যা – ৪ + তিথি সংখ্যা – ৮ + জন্মনক্ষত্র অশ্বিনী সুতরাং – ১ = ৩৮
৩৮/৭ = ৫, ভাগশেষ ৩, ফল শুভ, শত্ৰু ক্ষয়।

১১৯.
মাস নক্ষত্রে তিথি যুতা।
তা দিরে হয়রে পুতা।।
কৃষ্ণে দশে শুক্লে এগারো।
ইহা দিয়া নক্ষত্র সারো।।

ব্যাখ্যা:
বৈশাখের ষটক নক্ষত্রেসে বিশাখা।
জ্যৈষ্ঠে জ্যৈষ্ঠা, মাঘে মঘা, কার্তিকে কৃত্তিকা।।
ফাল্গুনে পূর্ব ফাল্গুনী, চৈত্রে চিত্রা আর।
পৌষে পুষ্য, অগ্রহায়ণে মৃগশিরা তার।।
ভাদ্রে পূর্বভাদ্রপদ, আশ্বিনে অশ্বিনী।
আষাঢ়ে পূর্বাষাঢ়া, শ্রাবণে শ্রাবণী।।
নক্ষত্র গণনা সাধ যদ্যপি মতির।
ষটক নক্ষত্র অগ্রে করিবেক স্থির।।
মাসের ষটক নক্ষত্রের সংখ্যা যত।
তিথি সংখ্যা তার সহ করহ মিলিত।।
কৃষ্ণ পক্ষ হলে দশ যোগ কর পুনঃ।
একাদশ ও শুক্লেতে যুক্ত হবে জেনো।।
সমষ্টি সাত দিয়া করিবে হরণ।
অবশিষ্ট থাকিবে যা নক্ষত্র গণন।।
মনে কর বিশাখা সংখ্যা ষোল।
সপ্তমীর সাত তাহে যোগ দিয়া ফেল।।
শুক্লপক্ষে সুতরাং আর এগার নাও।
একত্র করিয়া মোট চৌতিরিশ পাও।।
পরে সাতাইশ দিয়া ভাগ তারে করো।
বাকী সাত পুনর্বসু নক্ষত্র সে ধরো।।

হিসাব
বৈশাখের ষটক বিশাখার সংখ্যা – ১৬ + সপ্তমী তিথি – ৭ + শুক্লপক্ষ হেতু অতিরিক্ত – ১১ + = মোট ৩৪
৩৪/২৭ = ১ ভাগশেষ ১, অতএব পুনৰ্ব্বসু নক্ষত্র।

১২০.
খালি ছাগলা বৃষে চাঁদা।
মিথুনে পুরিয়ে বেদা।।
সিংহে বসু কর কি ব’সে।
আর সব পুরিয়ে দ্বাদশে।।

ব্যাখ্যা:
বৎসরের প্রথমেতে যে তিথি হইবে।
মাসের যে তারিখেতে তিথিটি জানিবে।।
করহ একত্র পরে বৈশাখ হইলে।
শূন্য সংখ্যা যোগ তাতে আট তাহা হ’লে।।
জ্যৈষ্ট হ’লে এক আষাঢ়েতে সংখ্যা চার।
ভাদ্র মাসেতে আট সঙ্কেতে তাহার।।
অন্যান্য মত তাহার দশ সবে দিবে।
এইরূপ যোগ করি সমষ্টি যা হবে।।
প্রতিপদ হ’তে তিথি আছয়ে যে যত।
এক হতে তিরিশ যাবৎ গণ তত।।
বর্ষের প্রথম দিন যে পক্ষেতে রয়।
সেই পক্ষ ধরি হয় তিথির নির্ণয়।।
পহেলা বৈশাখ কৃষ্ণা সপ্তমী আছিল।
দশই ভাদ্রেতে বল কি তিথি হইল।।
প্রথম দিনের সপ্তমীর সংখ্যা সাত।
দশই ভাদ্রের সংখ্যা কর পাত।।
সাত দশ সতের একুনে যদি পাই।
ভাদ্রমাস হেতু আট যোগ তাতে চাই।।
একুশে পঁচিশ পুনঃ হইল এবার।
পক্ষের পনের বাদে দশ থাকে আর।।
উত্তর দশমী তিথি বুঝ মতিমান।
খনার বচন ইহা নাহি হয় আন ।।
প্রথম বৈশাখ কৃষ্ণপক্ষেতে আছিল।
শুক্লপক্ষীয় দশমী কাজেই হইল।।
কৃষ্ণপক্ষের পনেরো দিন দিছি বাদ।
শুক্লপক্ষ সুতরাং কি তার প্রমাদ।।
ছাগলার মেঘ বুঝি বৈশাখের মাসে।
খালি অর্থে শূন্য বুঝি জ্যৈষ্ঠ বুঝি বৃষে।।
চাঁদা এক মিথুন আষাঢ় বেদা চার।
সিংহ অর্থে ভাদ্র বসু আট বুঝ সার।।

হিসাব:
প্রথম দিনের সপ্তমীর সংখ্যা – ৭ + দশই ভাদ্রের – ১০ + ভাদ্রমাস হেতু অতিরিক্ত – ৮ = মোট ২৫
২৫ – কৃষ্ণপক্ষীয় ১৪ দিবস = ১১, অতএব শুক্লপক্ষীয় দশমী উত্তর