১১.
ডেকে ডেকে খনা গান।
রোদে ধান ছায়ায় পান।।

ব্যাখ্যা:
রৌদ্রপীঠ জমিতে জন্মায় যত ধান।
ছায়াময় স্থানে তত জন্মিবে পান।।

১২.
এক অঘ্রাণে ধান।
তিন শ্রাবণে পান।।

ব্যাখ্যা:
এক অগ্রহায়নে ধান্য ঠিক হয়।
তিন শ্রাবণের কমে পান নয়।।

১৩.
কার্তিকের জল উননা।
ধান জন্মে দুনো।।

ব্যাখ্যা:
কার্তিক মাসেতে যত জল অল্প হবে।
ধান গাছে ধান তত অধিক ফলিবে।।

১৪.
অঘ্রাণে পৌটী।
পৌষে ছেউটী।।
মাঘে নাড়া।
ফাগুনে ফাঁড়া।।

ব্যাখ্যা:
কাটিলে অগ্রহায়ণে ধান মিলে ষোল আনা।
পৌষে এসে ছ-আনা দাঁড়াবে আছে জানা।।
মাঘে নাড়া মাত্র অবশিষ্ট থাকিবেক।
ফাল্গুনে নিশ্চয় সব নষ্ট হইবেক।। ।

১৫.
শীষ দেখে বিশ দিন।
কাটতে মাড়তে দশ দিন।।

ব্যাখ্যা:
যেদিন ধানের শীষ উদগত হইবে।
বিশ দিন পরে তার কর্তন করিবে।।
মাড়িবার জন্য আর দশদিন দাও।
তারপর গোলা পূর্ণ করে তুলে নাও।।

১৬.
শনি রাজা মঙ্গল পাত্র।
চষো খোড়ো কেবল মাত্র।।

ব্যাখ্যা:
শনি রাজা যে বর্ষে মঙ্গল মন্ত্রী আর।
সে বর্ষে না দেখি আশা ধান জন্মিবার।।

১৭.
বাপ বেটাই চাই
তদভাবে সোদর ভাই।। ।

ব্যাখ্যা:
পরের সাহায্যে যে কৃষক চাষ করে।
তাহার লাভের আশা বৃথাই সংসারে।।
আপনার ভাবি পর কভু কি খাটিবে।
বাপ বেটা হলে তারা যেরূপ করিবে।।
অপরের চেয়ে যদি ভাই ভাই মিলে।
তাহাতে বরং কিছু সুফলও ফলে।।

১৮.
বাঁধো আগ আলি।
রোপ তবে শালী।।
যদি ফল ফলে।
গালি পেড়ো খনা বলে।।

ব্যাখ্যা:
বাধিলে উত্তমরূপে আলি সারি সারি।
শালী ধান্য তাহে যদি দাও যত্ন করি।।
যথাকালে ফল তার প্রচুর পাইবে।
মিথ্যা যদি হয় খনা গালি তবে খাবে।।

১৯.
আষাঢ়ের পঞ্চদিনে।
রোপন করে যে ধানে।।
সুখে থাকে কৃষিবল।
সকল আশা হয় সফল।।

ব্যাখ্যা:
আষাঢ়ের পাঁচদিন মধ্যে রোও ধান।
সে চাষার কষ্ট কোথা খুশী সদা প্রাণ।।
সকল আশা সকল হয় তো তাহার।
অফুরন্ত ধান চাল গোলায় যাহার।।

২০.
আউশ ধান্যের চাষ।
লাগে তিন মাস।।

ব্যাখ্যা:
রোপনের তিন মাস মধ্যে আ’শ।
জন্মে শেষ হয় তার যত কিছু চাষ।।