১২১.
অক্ষয় দ্বিগুণ চৌগুণ মাত্রা।
নামে মানে করি সমতা।।
তিন দিরে হরে আন।
তাহে মরা বাঁচা জান।।
এক শূন্যে মরে পতি।।
দুই রহিলে মরে যুবতী।।

ব্যাখ্যা:
দম্পতির মধ্যে কে মরে আগে কে পিছে।
শুনহ জানিতে সাধ যাহার হয়েছে।।
উভয়ের নামের অক্ষর সংখ্যা দুনো।।
চতুগুণ মাথা, নাহি কম হয় জেনো।।
একত্র করিয়া তিন দিয়া আন হরে।
ভাগশেষ এক হলে পতি আগে মরে।।
দুই যদি হয় স্ত্রীর মৃত্যু আগে হয়।
খনার বচন মিথ্যা হইবার নয়।।
পতি সৃষ্টিধর যেন, স্ত্রী কুন্দননন্দিনী।
কে আগে মরিবে তব বল দেখি শুনি।।
অক্ষরের সংখ্যা নয় দ্বিগুণ আঠার।
মাত্রা পাঁচ মোট চতুগুণ বিশ ধর।।
আঠার বিশেতে আটতিরিশ তো হয়।
তিন দিয়া ভাগ কর দুই বাকী রয়।।
অতএব অগ্রে হবে স্ত্রীর মরণ।
অকাট্য জানিবে মনে খনার বচন।।

হিসাব:
সৃষ্টিধর + কুন্দনন্দিনী = নয়টি অক্ষর দ্বিগুণ করিয়া ১৮,
অ—অ—-অ—ই—ঈ—-পাঁচ মাত্রা চতুগুণ করিয়া ২০ =মোট ৩৮
৩৮/৩ = ১২, ভাগশেষ ২, অতএব পত্নী অগ্রে মরিবে

১২২.
সূৰ্য কুজে রাহু মিলে।
গাছের দড়ি বন্ধন গলে।।
যদি রাখে ত্রিদশনাথ।
তবু সে খায় নীচের ভাত।।

ব্যাখ্যা:
জন্মলগ্ন সূর্য কুজে রাহু মিলে যার।
নিঃসংশয় উদ্বন্ধনে মৃত্যু হয় তার।।
দেবরাজ ইন্দ্রও যদ্যপি রক্ষা করে।
তথাপি নীচের অন্ন খেতে হবে তারে।।
দুঃখের তাহার নাহি অবধি থাকিবে।
এমন দুঃখেতে সেই কাল কাটাইবে।।

১২৩.
খনা কয় বরাহেরে কেন লগ্ন দেখ।
লগ্নে সপ্তম ঘরে গ্রহ কোন এক।।
আছে শনি সপ্তম ঘরে।
অবশ্য তারে খোঁড়া করে।।
থাকয় রবি ভ্ৰমায় ভূমন্ড।
চন্দ্র থাকয়করে নব খন্ড।।
মঙ্গল থাকে করে খন্ড খন্ড।
অস্ত্রাঘাতে যায় তার মুন্ড।।
থাকে বুধ বিষয় করায়।
গুরু শুক্র থাকে বহু ধন পায়।।
অগ্নে আঁকা লগ্নে বাঁকা।
লগ্নে দি ভানুতনুজা।।
লগ্নের সপ্তম অষ্টমে থাকে পাপ।
মরে জননী পীড়ে বাপ।।

ব্যাখ্যা:
লগ্নের সপ্তম ঘরে থাকে যদি শনি।
অবশ্য খোঁড়া সে হয় স্থির ইহা জানি।।
রবি যদি সপ্তমেতে পর্যটক হবে।
উদাসীন প্রায় সেই পৃথিবী ঘুরিবে।।
থাকে শশী রাজদন্ড করিবে ধারণ।
মঙ্গল সপ্তমে অস্ত্রে যাইবে জীবন।।
বুধ যার সম্পত্তি বিস্তর তার হবে।
গুরু শুক্র সপ্তমেতে বহু ধন দিবে।।
কভু ভাল কভু মন্দ লগ্নে থাকে শনি।
অবস্থা বিশেষে তার ব্যবস্থা তো জানি।।
সপ্তমে অষ্টমে কেতু কিংবা থাকে রাহু।
মরে মাতা পিতা তার পায় দুঃখ বহু।।

১২৪.
যে যে মাসে যে যে রাশি।
তার সপ্তমে থাকে শশী।।
সেই দিনে হয় পৌর্ণমাসী।
অবশ্য রাহু গ্রাসে শশী।।
দুই তিন পাঁচ ছয়।
একাদশে দেখতে হয়।।

ব্যাখ্যা:
মেষ বৈশাখের রাশি বৃষ সে জ্যৈষ্ঠের।
আষাঢ়ের মিথুন রাশি কর্কট শ্রাবণের।।
ভাদ্রে সিংহ রাশি জানা কন্যা আশ্বিনে।
কার্তিকের তুলা রাশি বৃশ্চিক অঘ্রাণে।।
মাঘ মাসে মকর রাশির অধিকার।
ফাল্গুনে কুম্ভ চৈত্রে মীন জান সার।।
যে রাশির মাস চন্দ্র সে রাশি হইবে।
থাকে যদি দেখ ইহা সপ্তম ঘরেতে।।
সেই পূর্ণিমার হবে চন্দ্রর গ্রহণ।
নিশ্চয় কে হেন নর করয়ে বারণ।।
দ্বিতীয় চন্দ্র হইবেক যার।
পঞ্চম কি ষষ্ঠ কিংবা একাদশ আর।।
সে সেই বার দেখিবেক সে গ্রহণ।
অন্যে কদাচন নাহি করিবে দর্শন।।

১২৫.
কিসের তিথি কিসের বার।
জন্ম নক্ষত্র করি সার।।
কি করো শ্বশুর মতিহীন।
পলকে জীবন পাবে যেদিন।।

ব্যাখ্যা:
যে নক্ষত্রে ভূমিষ্ট হইবে সে হাস্যানন।
তদবধি বাকী তার যত পরিমাণ।।
প্রতি পলে বারো দিন ধরিয়া তাহার।
পায় আয়ু নহে মিথ্যা বচন খনার।।
মনে কর দশ দন্ড মাত্র আর আছে।
বিশাখা নক্ষত্রে এক জন্মেছে।।
ষাট পলে এক দন্ড পুরো দশ ষাটে।
গুণফল ছয়শত বটে কিনা ঘটে।।
প্রতি পল বারো দিয়া পুরো।
সাত হাজার দু’শত গুনফল ধরো।।
তিনশত ষাটি দিন বৎসরেতে।
বিশ বৎসর শিশু জীয়িবে ধরাতে।।

হিসাব:
৬০ পলে এক দন্ড, অতএব ১০ X ৬০ = ৬০০০ পল
প্রতি পলে বারো দিন, অতএব ৬০০ X ১২ = ৭২০০ দিন।
৩৬০ দিনে বৎসর, অতএব ৭২০০ / ৩৬০ = ২০
২০ বৎসর বালকের পরমায়ু হইবে

১২৬.
সাত পাঁচ তিন কুশল বাত।
নয়ে একে হাতে হাত।।
কি করবে ছটে চটে।
কাৰ্যনাশ দুয়ে আটে।।

ব্যাখ্যা:
প্রশ্নকর্তা শ্রোতা দুইজনের নামাক্ষর।
তিথি দশ দিন যার সংখ্যা একত্রিত কর।।
নক্ষত্রের সংখ্যা শূন্য যোগ তার দিয়া।
কত বাকী দেখ শেষে বিভাগ করিয়া।।
সাত পাঁচ তিন যদি থাকে ভাগশেষ।
সংবাদ মঙ্গল তারা জানিবে বিশেষ।।
এক কিংবা নয় যদি বাকী থাকিবেক।
অচিরে প্রত্যক্ষ ফল প্রাপ্ত হইবেক।।
ছয় চারি অবশেষে বুঝিবে বিফল।
দুই আটে কার্য নষ্ট হইবে সকল।।
অরিন্দম জিজ্ঞাসিল শ্রীমধুসূদনে।
কার্য মম শুভ কি অশুভ দেহ গণে।।
দোসরা বৈশাখ, তিথি প্রতিপদ জেনো।
অশ্বিনী নক্ষত্র আর সোমবার গণণা।।
নমের অক্ষর সংখ্যা দশ দু’জনার।
দাও মাস তিথি তারা আর বার।।
মাস এক তিথি এক তারা এক পাই।
বার দুই একুনেতে পাঁচ সংখ্যা পাই।।
নামাক্ষর সংখ্যা দশে যোগ ইহা করো।
যোগফল তাহলেই হইল পনেরো।।
দশ দিয়া পনেরোয় করিলে হরণ।
ভাগশেষ পাঁচ হলো করহ দর্শন।।
অতএব সংবাদ মঙ্গল — কার্য শুভ।
ইহাতে নিশ্চয় কিছু হইবেক লভ্য।।

হিসাব:
অরবিন্দ ও শ্রীমধুসূদনের অক্ষর – ১০ + মাস বৈশাখ, অতএব – ১ + তিথি প্রতিপদ, অতএব -১ + নক্ষত্র অশ্বিনী, অতএব -১ + সোমবার, অতএব – ২ = মোট ১৫ জন
১৫/১০ = ১ ভাগশেষ ৫, অতএব শুভ