প্রথম অধ্যায় : (শস্যগণনা, হালগণনা, শস্য রোপণ ও কর্তনের সময় নিরূপণ, আলিবন্ধন প্রণালী, বন্যা গণনা, বৃষ্টি গণনা, বৎসর গণনা, ধান্যাদি গণনা, মড়ক গণনা)

১.
শ্রাবণের পুরো ভাদ্রের বারো।
এর মধ্যে যত পারো।।

ব্যাখ্যা :
সমস্ত শ্রাবণ আর ভাদ্রের দ্বাদশ।
ধান্যাদি রোপিবে এই কয়েক দিবস।।

২.
ষোলো চাষে মূলা।
তার অর্ধেক তুলা।।
তার অর্ধেক ধান।
বিনা চাষে পান।।

ব্যাখ্যা:
চষিবে মূলার ক্ষেত্র ষোল দিন ধরি।
তুলার অষ্টাহ মাত্র ধান্যের দিন চারি।।
পানের জমিতে নাহি ধরিবে হাল।
যথাকালে ফলাফল পাবে চিরকাল।।

৩.
শুভক্ষণ দেখে ক’রে যাত্রা।
পথে যেন না হয় অশুভ বার্তা।।
আগে গিয়া কর দিক্ নিরূপণ।
পূৰ্ব্বদিক্ হ’তে হল চালন।।
যা কিছু আশা পূরবে সকল।
নাহি সংশয় হবে সফল।।

ব্যাখ্যা :
যে দিন প্রথমে হাল চালনে যাইবে।
শুভক্ষণ দেখি গৃহ হ’তে বাহিরিবে।।
পথিমধ্যে অশুভ সংবাদ যদি পাও।
তখন গৃহেতে পুনঃ ফিরিয়া আসিবে।।
আবার তেমনি শুভক্ষণ দেখি যেও।
দিক নিরূপণ করি হাল চালাইও।।
পূর্বদিক হতে হাল চালনা করিবে।
এইরূপে কর কার্য সুফল ফলিবে।।

৪.
থোর তিরিশে।
বোড়ামুখো তেরো জেনো।।
ফুলোবিশে।
বুঝেসুঝে কাটো ধান্য।।

ব্যাখ্যা :
কাটিবে থোড় জন্মিলে ত্রিশ দিন পরে।
ফুলিলে কুড়িটি দিন রেখ মনে করে।।
শির নত হ’লে তের দিন পরে কাটো।
অন্যথায় হবে হানি যত তায় খাট।।

৫.
পূর্ণিমা অমায় যে ধরে হাল।
তার দুঃখ হয় চিরকাল।।
তার বলদের হয় বাত।
ঘরে তার না থাকে ভাত।।
খনা বল আমার বাণী।
যে চষে তার হবে হানি।।

ব্যাখ্যা :
পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় না ধরিবে হাল।
যদি ধরো তবে দুঃখ রবে চিরকাল।।
অধিকন্তু বাতে পঙ্গু হইবে বলদ।
বৃথায় এ কার্য না হবে ফলদ।।

৬.
আষাঢ়ে কাড়ান নামকে।
শ্রাবণে কাড়ান ধানকে।।
ভাদ্দরে কাড়ান শীষকে।
আশ্বিনে কাড়ান কিস্ কে।।

ব্যাখ্যা :
আবাদের যোগ্য কথা কাড়ান বলি তায়।
বৃষ্টিপাতে ভূমিতে কাড়ান আনায়।।
আষাঢ়ে কাড়ানে ধান্য জন্মে না সর্বত্র।
কিঞ্চিৎ আবাদ তাহে হয়ে থাকে মাত্র।।
শ্রাবণের কাড়ানে প্রচুর জন্মে ধান।
শীঘ্র মাত্র জন্ম হ’লে ভাদ্রতে কাড়ান।।
আশ্বিনে কাড়ান একেবারেই নিষ্ফল।
কোন কার্য তাহে যাতে নাহি দেয় ফল।।

৭.
থেকে বলদ না বয় হাল।
তার দুঃখ সৰ্বকাল।।

ব্যাখ্যা :
মায়া করে যে বলদে না খাটাইতে চায়।
যাহার বলদ সদা ব’সে বসে খায়।।
চিরকাল দুঃক তার নিত্য অন্নাভাব।
যেহেতু জমিতে তার কর্ষণ অভাব।।

৮.
বাড়ীর কাছে ধান গা।
যার মার আছে ছা।।
চিনি বা না চিনি।
খুঁজে দেখে গরু কিনিস্।।

ব্যাখ্যা :
বাটির নিকট তব থাকিবে যে জমি।
তাহাতেই চাষকর্ম করিবেক তুমি।।
ফসল যা পাবে চুরি দেখিবারে পাবে।
দূরে হ’লে কেবা তথা চৌকি দিয়া রবে।।
খুঁজি দেখি ঘাতে-ঘোতে গরু যদি কিনো।
হইবে নিশ্চয় লাভ চিন বা না চিন।।

৯.
কোল পাতলা ডাগর গুচ্ছি।
লক্ষ্মী বলেন ঐখানে আছি।।
ব্যাখ্যা :
মোটা মোটা গুছি দেয় রাশি রাশি।
ফাঁক ফাঁক রাখ যত ফল বেশী বেশী।।

১০.
আঁধার পরে চাঁদের কলা।
কতক কালো কতক ধলা।।
উত্তর ভঁচো দক্ষিণ কাত।
ধারায় ধারায় ধান্যের ধাত।।
চাল ধান দুই সস্তা।
মিষ্টি হবে লোকের কথা।।

ব্যাখ্যা :
কৃষ্ণপক্ষ অবসানে যে চন্দ্র উদিবে।
প্রথম প্রথম যাহা দেখিবারে পাবে।।
কিয়দংশ অন্ধকারাচ্ছন্ন কিছু আর।
নিম্ন দক্ষিণে আর হবে সে বৎসরে।।
সে বৎসর ধান্যের না রবে দিকপাশ।
মিষ্টভাষী হবে নর পাবে শস্য পাস।।