২১.
ভাদ্রের চারি আশ্বিনের চারি।
কলাই রোবে যত পারি।।

ব্যাখ্যা :
ভাদ্রের শেষ চারি দিবস তথা আর।
আশ্বিনের প্রথম চারি সঙ্গে তার।।
এই অষ্টদিন মধ্যে বুনিবে কলাই।
প্রশস্ত সময় এই শুন সবে ভাই।।

২২.
সরিষা বুনে কলাই মুগ।
বুনে বেড়াও চাপড়ে বুক।।

ব্যাখ্যা :
এক ক্ষেত্রে সর্ষপ কলাই বুনিয়া দিতে পারি।
অথবা সর্ষপ মুগ যাহা ইচ্ছা করি।।
উভয় ফসল একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
মনের আনন্দে চাষা বুক বাজাইবে।।

২৩.
আশ্বিনের উনিশ কার্তিকের উনিশ।
বাদ দিয়ে মটর কলাই বুনিস।।

ব্যাখ্যা :
আশ্বিন মাসের শেষ উনিশটি দিবস।
চৈত্রের প্রথম আট— এই ষোড়শ।।
রোপণ করিবে তিল মিটিবেক আশ।
অন্যথায় হায় হায় করো বারো মাস।।

২৪.
ফাল্গুনের আট চৈত্রের আট।
সেই তিল দায়ে কাট।।

ব্যাখ্যা :
ফাল্গুন মাসের শেষ আটটি দিবস।
চৈত্রের প্রথম আট —- এই ষোড়শ।।
রোপণ করিবে তিল মিটিবেক আশ।
অন্যথায় হায় হায় করে বারো মাস।।

২৫.
খনা বলে, চাষার পো।
শরতের শেষে সরিষা রো।।

ব্যাখ্যা :
শরতের শেষভাগে সর্ষপ বপন।
মনে যেন থাকে ভাই খনার বচন।।
অপর ঋতুতে যদি বপন করিবে।
ফসল উচিত মত তাতে নাহি পাবে।।

২৬.
সাত হাতে তিন বিঘতে।
কলা লাগাবে মায়ে পুতে।।
লাগিয়ে কলা না কাট পাত।
তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।।

ব্যাখ্যা :
সাত হাত অন্তরেতে এক এক।
এক চারা রোপে দেখ।।
তিন বিঘত পরিমিত গর্ত হবে।
তবে তো কলার গাছ তার ফল দিযে।।

২৭.
থাকে যদি টাকা করবে গো
চৈত্র মাসে ভুট্টা রো।।

ব্যাখ্যা :
চৈত্র মাসে ভুট্টা যেই করিবে রোপন।
তার অন্নাভাব নাহি হয় কদাচন।।
টাকা করিতে সাধ যদি থাকে চিতে।
রোপণ করহ গিয়া চৈত্র মাসেতে।।

২৮.
দিনে রোদ রাত জল।
দিন দিন বাড়ে ধানের বল।।

ব্যাখ্যা :
দিনে রৌদ্র রাত্রে বৃষ্টি হয়।
করিবে ধানের গাছ খুব তজোময়।।

২৯.
আউশের ভূঁই বেলে।
পাটের ভুঁই আঁটালো।।

ব্যাখ্যা :
আউশ ধানের জমি বেলে ভাল।
পাটের জমি ভাল শুধু হইলে আঁটালো।।

৩০.
মানুষ মরে যাতে।
গাছলা সারে তাতে।।
পচা সরায় পাছলা সারে।
গোঁধলা দিয়ে মানুষ মরে।।

ব্যাখ্যা :
পচা গোবরের গন্ধে পীড়া হয়।
বিলক্ষণ তেজ কিন্তু গাছ তার পায়।।
ফলবান হয় বৃক্ষ পচলার সারে।
কিন্তু আশ্চর্য নর তাহাতেই মরে।।