৪১.
উঠান ভরা লাউ শশা।
বলে লক্ষ্মীর দশা।।

ব্যাখ্যা:
সকল গৃহে লাউ শশা দেওয়া ভাল।
এমন গৃহস্থ-পোষা দ্রব্য কোথা বল।।
উপযুক্ত স্থান যদি নাহি পাও ফাঁকে।
অন্ততঃ উঠানে স্থান দিবেক তাহাকে।।

৪২.
ছায়ার ওলে চুলকায় মুখ।
কিন্তু তাতে নাহিক দুখ।।

ব্যাখ্যা:
জন্মিলে ছায়ার ওল মুখে তা লাগিবে।
কিন্তু বড় হবে খুব বেচে বেশী পাবে।।

৪৩.
পটোল বুনলে ফাল্গুনে।
ফল বাড়ে দ্বিগুণে।।

ব্যাখ্যা:
ফাল্গুনে করহ যদি পটোল রোপণ।
দ্বিগুণ পাইরে ফল মিথ্যা না বচন।। ।

৪৪.
নদী ধরে পুঁতলে কচু।
কচু হয় তিন হাত উঁচু।।

ব্যাখ্যা:
নদীর ধারেতে যদি কচু পোঁত গিয়া।
ত্বরায় সে কচু তথা উঠিবে বাড়িয়া।।

৪৫.
ফাল্গুনে না রুলে ওল।
শেষে হয় গন্ডগোল।।

ব্যাখ্যা:
ফাল্গুন মাসেতে ওল রোপন সময়।
সে সময় যদি তা রোপণ না হয়।।
অন্ডাকৃতি হবে তাহা বন্য ওল প্রায়।
হাটেতে ভয়েতে কেহ না করিবে ক্রয়।।

৪৬.
কচু বনে ছড়ালে ছাই।
খনা বলে তার সংখ্যা নাই।।

ব্যাখ্যা:
কচুবনে ছাই যদি নিত্য দিতে পারে।
ত্বরায় বাড়ে সে কচু অতি তেজ ভরে।।

৪৭.
মুলার ভূঁই তুলা।
ইক্ষুর ভুই ধূলা।।

ব্যাখ্যা:
নরম তুলার ন্যায় করিবে সে ভূমি।
ভূমিতে মূলার বীজ বসাইবে তুমি।।
ইক্ষু যাতে দিবে ধূলা সম করিবেক।
তবে ত প্রচুর মূল্য ইক্ষু মিলিবেক।।

৪৮.
শোন্ রে মালী বলি তোরে।
কলম রো শ্রাবণের ধার।।

ব্যাখ্যা:
কলমের চারা শ্রাবণেতে পুঁতিবেক।
তবেই তো সেই চারা তেজ করিবেক।।

৪৯.
ভাদ্দর আশ্বিনে রুয়ে ঝাল
সে চাষা ঘুমায়ে কাটায় কাল
পরেতে কার্ত্তিক অঘ্রাণ মাসে
বড় গাছ ক্ষেতে পুঁতে আসে
সে গাছ মরিবে ধরিয়া ওলা
না হবে ঝালের গোলা।।

ব্যাখ্যা:
আলস্যে ভাদ্র আশ্বিনে না করি রোপণ।
মরিচ কার্তিক অঘ্রাণে পোঁতে যেই জন।।
ওলা ধরি তাহার মরিচ ঘাছ খায়।
আলস্যের ফলে সে ফল তার পায়।।

৫০.
বৈশাখ জ্যৈষ্ঠেতে হলুদ রোও।
দাবাখেলা ফেলিয়ে থোও।।
আষাঢ় শ্রাবণে নিড়ায়ে মাটি।
ভাদ্দরে নিড়ায়ে করহ খাঁটি।।
অন্যথায় এ পুঁতলে হলদি।
পৃথিবী বলেন তাতে কি ফল দি।।

ব্যাখ্যা:
বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে হরিদ্রা রোপিলে।
আষাঢ় শ্রাবণ ভাদ্রে নিড়াইয়া দিলে।।
প্রচুর হরিদ্রা যথাসময়ে পাইবে।
অন্যথায় সুফল কিছুতে নাহি হবে।।