৬১.
ফাগুনে এটে।
পোঁত কেটে।।
বেড়ে যাবে ঝাড়কে ঝাড়।
কলা বইতে ভাঙ্গবে ঘাড়।।

ব্যাখ্যা:
ফাল্গুনে কলার এঁটে কেটে পুঁতে দিলে।
অচিরে কলার ঝাড় বাড়ে তাহা হলে।।
জন্মিবে প্রচুর কলা তাহলে নিশ্চয়।
খনার বচন ইহা মিথ্যা কভু নয়।।

৬২.
ডাক ছেড়ে বলে রাবণ।
কলা লাগাবে আষাঢ় শ্রাবণ।।
তিন শত ষাট ঝাড় কলা রুয়ে।
থাক গৃহস্থ ঘরে শুয়ে।।
রুয়ে কলা না কাট পাত।
তাতেই হবে কাপড় ভাত।।

ব্যাখ্যা:
আষাঢ় শ্রাবণে কলা রোপণ উচিত।
কিন্তু পাতা কাটা তার নহে তো বিহিত।।
তিন শত ষাট ঝাড় করিয়া রোপণ।
নিশ্চিন্ত হইয়া ঘরে কর হে শয়ন।।
ভাতের ভাবনা আর কখননা রবে।
ঘরে বসে অন্ন-বস্ত্র সেই জন পাবে।।

৬৩.
ডাক দিয়ে বলে রাবণ।
রুযে কলা আষাঢ় শ্রাবণ।।
কলা তলায় যাবিনে।
ফল তার যাবিনে।।
লেগে যাবে ভঁয়ে।
কলা পড়বে শুয়ে।।

ব্যাখ্যা:
মতান্তরে এই কথা কেহ বলে।
আষাঢ় শ্রাবণ মাসে কদলী পুঁতিলে।।
পোকায় বিনাশে গাছ, ফল নাহি হয়।
অতএব এ দু’মাসে ত্যজিবে নিশ্চয়।।

৬৪.
সিংহ মীন বর্জ্যে।
কলা খাবে আজ্যে।।

ব্যাখ্যা:
ভাদ্র ও চৈত্র ব্যতীত সকল মাসেতে।
পারহ কদলী রোপণ করিতে।।

৬৫.
যদি রোয়ে ফাল্গুনে কলা।
তবে হবে মাস সফলা।।

ব্যাখ্যা:
ফাল্গুনে রোপিলে কলা মাস মাস ফলে।
ফাল্গুনের মত ফল নহে অন্যকালে।।

৬৬.
ভাদ্র মাসে রুয়ে কলা।
সবংশে মলো রাবণ শালা।।

ব্যাখ্যা:
ভাদ্র মাসে কলাগাছ করিয়া রোপণ।
সবংশেতে তার ফলে মরিল রাবণ।।
এই হেতু ভাদ্রেতে কদলী পোঁতা মানা।
পেতে শুধু সেই যার নাহি আছে জানা।।

৬৭.
আগে পুঁতে কলা।
বাগ বাগিচা ফলা।।
শোনরে বলি চাষার পো।
কলা নারিকেল ক্রম রো।।
নারিকেল বার সুপারি আট।
এর ঘন তখনি কাট।।

ব্যাখ্যা:
যে স্থানে বাগান করিতে সাধ যাবে।
অগ্রে কদলী গাছ তাহাতে বসাবে।।
পরে নারিকেল বৃক্ষ ক্রমেতে গুবাক।
বসাইয়া দিযে যথারীতি ফাঁক ফাঁক।।
নারিকেল বার বার হাত অন্তরেতে।
গুবাক বসাবে প্রতি আট আট হাতে।।

৬৮.
গো নারিকেল নেড়ে রো।
আমটুচুরে কাঁঠাল ভো।।

ব্যাখ্যা:
নারিকেল সুপারিচারা যদি নাড়ি।
সতেজ হইয়া গাছ উঠে শীঘ্র নাড়ি।।
আম্র যদি নাড়ি ফল ছোট ছোট হবে।
কাঁঠাল নাড়িলে তাহা ভোয়া হয়ে যাবে।।

৬৯.
গোরে গোবরে বাঁশে মাটি।
অফলা নারিকেল শিকড় কাটি।।
ওলে কুটি, মানে ছাই।
এইরূপে কৃষি করগে ভাই।।

ব্যাখ্যা:
গুবাক বৃক্ষের মূলে দিবেক গোময়।
বাঁশেতে মাটি দিতে হয় মনে যেন রয়।।
যেই নারিকেল গাছে নাহি ধরে ফল।
কাটিয়া দিবেক তার শিকড় কেবল।।
ওলের গোড়ায় খড় কুটি পল দিযে।
মান গাছে ছাই দিলে তবে তাহা হবে।।

৭০.
নারিকেল গাছে নুনমাটি।
শীঘ্র শীঘ্র বাঁধে গুটি।।

ব্যাখ্যা:
শীঘ্র শীঘ্র ফলভোগ করিবারে চাও।
নারিকেল মূলে তবে নুনমাটি দাও।।