৭১.
দাতার নারিকেল বখিলের বাঁশ।
কমে না বাড়ে বার মাস।।

ব্যাখ্যা:
মধ্যে মধ্যে যত নারিকেল পেড়ে খাবে।
ততবেশী নারিকেল ফলিতে থাকিবে।
বাঁশঝাড়ে যত বাঁশ না কাটিবে।
ততই তাহার ঝাড় বাড়িয়া উঠিবে।।

৭২.
খনা বলে শুনে যাও।
নারিকেল মূলে চিটা দাও।।
গাছ হয় তাজা মোটা।
শীঘ্র শীঘ্র ধ’রে গোটা।।

ব্যাখ্যা:
ধান্যের আগড়া দিলে নারিকেল মূলে
শীঘ্র গাছ হয় মোটা শীঘ্র ফল ফলে।।

৭৩.
শোন রে বাপু চাষার পো।
সুপারির বাগে মান্দার রো।।
মান্দার পাতা পড়লে গোড়ে।
ঝট পটু তার ফল বাড়ে।।

ব্যাখ্যা:
করিলে গুবাক বাগে মান্দার রোপণ।
পড়িয়া মান্দার পাতা সারের বর্ধন।।
সতেজ সুপারি গাছ হয় তাহা হ’লে।
সতেজ হইলে গাছ শীঘ্র শীঘ্র ফলে।।

৭৪.
হাতে হাতে ছোঁয় না।
মরা ঝাটি রয় না।।
খনা বলে যখন চায়।
তখন কেন না লয়।।

ব্যাখ্যা:
এইরূপে বসাতে হবে নারিকেল গাছ।
একে অপরের যেন নাহি লাগে আঁচ।।
একটি গাছের পাতা না ঠেকে অপরে।
পুঁতিতে হইবে গাছ এমনটি করে।।
উপরের শুষ্কপত্র বৃক্ষমূল আর।
ফল যদি চাও সদা রাখ পরিস্কার।।

৭৫.
পূর্ণ আষাঢ়ে দক্ষিণা বয়।
সেই বৎসর বন্যা হয়।।

ব্যাখ্যা:
সম্পূর্ণ মাস যাবৎ প্রথম হইতে।
দক্ষিণা বাতাস যদি বহে আষাঢ়েতে।।
সুনিশ্চিত সে বৎসর বন্যা তবে হবে।
খনার বচন ইহা কে নয় করিবে।।

৭৬.
আমে ধান।
তেঁতুলে বান।।

ব্যাখ্যা:
যে বৎসর আম্র বহু পরিমাণে হয়।
ধান্য সে বৎসর খুব জন্মিবে নিশ্চয়।।
তেঁতুল অধিক আর হবে যে বৎসরে।
হবে বন্যা সে বৎসর রাখো মনে করে।।

৭৭.
বামুন বাদল বান।
দক্ষিণা পেলে যান।।

ব্যাখ্যা:
দক্ষিণা পেলে যেমন ব্রাহ্মণ না থাকে।
অমনি আপন পথ আপনি সে দেখে।।
দক্ষিণা পেলে অর্থাৎ দক্ষিণ হাওয়ায়।
বান ও বাদল সেইরূপ চলে যায়।।

৭৮.
চৈতে কুয়া ভাদ্রে বান।
নরের মুন্ড গড়াগড়ি যান।।

ব্যাখ্যা:
চৈত্র মাসে কুঙ্কুটিকা বন্যা ভাদ্রে আর।
ধ্রুব সে বৎসর সংখ্যা বাড়িবে মড়ার।।

৭৯.
পৌষে গরমি বৈশাখে জাড়া।
প্রথম আষাঢ়ে ভরবে গাড়া।।

ব্যাখ্যা:
পৌষমাসে যে বৎসর শীত কমে যাবে।
বৈশাখে কিঞ্চিৎ শীত অনুভব হবে।।
প্রথম আষাঢ়ে বর্ষা হবে অতিশয়।
শ্রাবণেতে অনাবৃষ্টি জানিবে নিশ্চয়।।

৮০.
খনা বলে শুনহ স্বামী।
শ্রাবণ ভাদর নাইকো পানি।।
দিনে জল রাতে তারা।
এই দেখবে দুঃখের ধারা।।

ব্যাখ্যা:
প্রথম বর্ষায় দিনে বৃষ্টি হবে।
অথচ রাত্রিতে শূন্যে তারা দেখা যাবে।।
সে বৎসর অনাবৃষ্টি হইবে নিশ্চয়।
খনার বচন ইহা মিথ্যা কভু নয়।।