৮১.
পূবেতে উঠিলে কাড়।
ডাঙ্গা ডোবা একাকার।।

ব্যাখ্যা:
পূর্বদিকে রামধনু যদি দেখ বর্ষাকালে।
ভাঙ্গা ডোবা একাকার হয়ে যাবে জলে।।

৮২.
চাঁদের সভার মধ্যে তারা।
বর্ষে পানি মুষলধারা।।

ব্যাখ্যা:
চন্দ্রমন্ডলে মধ্যে তারা যদি দেখ।
বর্ষিবে মুষলধারে বৃষ্টি জেনে রাখ।।

৮৩.
চৈত্রেতে থর থর।
বৈশাখে ঝড় পাথর।।
জ্যৈষ্ঠেতে তারা ফুটে।
তবে জানহ বর্ষা বটে।।

ব্যাখ্যা:
চৈত্রমাসে যে বৎসর শীত বোধ হবে।
বৈশাখেতে শিলাবৃষ্টি ঝড় দেখা দিবে।।
জ্যৈষ্ঠমাসে পরিস্কার আকাশ মন্ডল।
সে বৎসর বর্ষায় বেশ হইবেক জল।।

৮৪.
কি কর শ্বশুর লেখাজোখা।
মেঘেই বুঝবে জলের রেখা।
কোদালে কুড়লে মেঘের গা।
মধ্যে মধ্যে দিচ্ছে বা।।
বলো চাষার বাধতে আল।
আজ না হয় হবে কাল।।

ব্যাখ্যা:
শ্বশুরকে সম্বোধন করি খনা ক’ন।
লেখাজোখা করিয়া কিবা করিবে গণন।।
হবে কি না হবে জল লক্ষণে বুঝিব।
মেঘ দেখিলেই তা বুঝিতে পারিব।।
কোদালে কুড়ুলে মেঘ যদি দেখা যায়।
তার মধ্যে মধ্যে বায়ু প্রবাহিত তায়।।
সত্বর হইবে জল নিশ্চয় জানিবে।
ক্ষেত্রে গিয়া চাষী আলি বন্ধন করিবে।।
সেদিন না হলে বৃষ্টি হবে পরদিনে।
হইবে বৃষ্টি ঠিক মনে রেখ জেনে।।
ধূসর বর্ণের খন্ড খন্ড মেঘ যত।
কোদালে কুড়লে বলি হবে তাহা জ্ঞাত।।

৮৫.
দূর সভা নিকট জল।
নিকট সভা রসাতল।।

ব্যাখ্যা:
ধরামন্ডল সভা দূরবর্তী রবে।
তবেই সত্বর বর্ষণ হইবে।।
নিকটে যদ্যপি তবে অনাবৃষ্টি হয়।
রসাতল কারে আর বলো তবে কয়।।

৮৬.
পশ্চিমে ধনু নিত্য খরা।
পূবের ধনু বর্ষে ধারা।।

ব্যাখ্যা:
পশ্চিমে উদিল রামধনু অনাবৃষ্টি।
পূর্বদিক হলে হবে জলের বৃষ্টি।।

৮৭.
বেঙ ডাকে ঘন ঘন।
শীঘ্র বৃষ্টি হবে জেনো।।

ব্যাখ্যা:
ঘন ঘন ভেকের গর্জন যদি হয়।
ত্বরায় হইবে বৃষ্টি একথা নিশ্চয়।।

৮৮.
ভাদুরে মেঘ বিপরীত বয়।
সে দিন বৃষ্টি কে ঘোচায়।।

ব্যাখ্যা:
ভাদ্রমাসে মেঘোদয় হইবে যখন।
বহে যদি বিপরীত পবন তখন।।
অত্যন্ত জলবর্ষণ হইবেক তবে।
খনা বলে কার সাধ্য অন্যথা করিবে।।

৯০.
পৌষে কুয়া বৈশাখে ফল।
য’দিন কুয়া ত’দিন জল।।
শনির সাত মঙ্গলের তিন।
আর সব দিন দিন।।

ব্যাখ্যা:
পৌষ মাসে যে ক’দিন কুয়াশা হইবে।
বৈশাখেতে ঠিক ততদিন বৃষ্টি হবে।।
শনিবারে যদি বৃষ্টি আরম্ভ হয়।
এক সপ্তাহকাল স্থায়ী তাহা হয়।।
মঙ্গলে আরম্ভ হলে তিন দিন থাকে।
অন্য বার হ’লে সেই দিন মাত্র থাকে।।