করোনা হিরোদের ঋণ
(চিকিৎসক, সাংবাদিক, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সকল সমাজসেবকদের উৎসর্গ করা হলো)

করোনা হিরো জীবন দিয়ে করছে রোগীর সেবা,
তাদের মতো নিবেদিত প্রাণ আছে এমন কেবা?
নিজের জীবন তুচ্ছ করে রোগীর সেবা করে,
তার চিন্তায় বউ বাচ্চার চোখে অস্রু ঝরে।

রোগীর সেবা করতে গিয়ে তারা রোগী হলে,
পাড়া পড়শির মুখে তখন ভীষণ গালি চলে।
এই না হলে পাড়াপড়শি অমানুষের দল,
ডাক্তারদের কি অপরাধ মুখ ফুটে তুই বল।

তাদের সেবা না যদি পাই মরে যেতাম কবে,
সেই মানুষদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে হবে।
সাংবাদিক পুলিশ, সেনাবাহিনী কেউ ফেলনা নয়,
সবাই মিলে চেষ্টা করেই করোনা করবে জয়।

আমরা তাদের সাহস দিয়ে তাদের পাশেই থাকি,
তাদের কাজের সুনাম করে মনটা ভালো রাখি।
ঘুচবে আঁধার ফুটবে আলো আসবে নতুন দিন,
এই হিরোদের সবার কাছে মোদের অনেক ঋণ।

দেশের সেবা করতে গিয়ে শহিদ হলেন যারা,
চির স্মরণীয় করোনাযোদ্ধা পরম পূজনীয় তারা।
…………………………………………..

করোনা কালে ভয়
(সকল চিকিৎসক, পুলিশ, ব্যাংকার, স্বাস্থ্যকর্মী ও সমাজসেবকদের উৎসর্গকৃত)

মনবালক, তুমি কেমন আছো?
বলো সেটা আগে,
একটুখানি খোঁজ না পেলে
হাজার প্রশ্ন জাগে।

করোনা কালে তোমায় নিয়ে
হাজার রকম ভয়,
ধৈর্য, শক্তি, সাহস দিয়ে
করতে হবে জয়।

তোমায় নিয়ে খুব চিন্তা
কেমনে কাটে দিন?
এই জীবনে পারবে কি কেউ
শুধতে তোমার ঋণ?

মানব সেবা করে তুমি
করছো জীবন ধন্য,
মন থেকে তাই শুভকামনা
শুধুই তোমার জন্য।
…………………………………………..

মন বালকের খোঁজে

মন বালকটা ব্যস্ত ভীষণ
চায় না ফিরে আর,
তার খোঁজেতে মেসেঞ্জারে
আসছি বার বার।

ডাকছি তারে নানা নামে
শুনছে না সে কেনো?
আমি তার কেউ হই না
শুধুই শত্রু যেনো।

শত্রু হলেও মানুষ আমি
তোমার মনের মতো,
কারণ ছাড়াই মনের মাঝে
করছো কেন ক্ষত?

বালক তুমি ভালো থাকো
সেই দোয়াটাই করি,
আজাইরা নক করার জন্য
ভীষণ রকম সরি।
…………………………………………..

ভ্রাম্যমাণ স্মৃতি

বাঘের ভয়ে মুষড়ে যাই বার বার।
কেবলই মনে হয় এই বুঝি বাঘ এলো।
তুমি, তোমার অস্তিত্ব সব আজ
বাঘের দখলে।
এতোটা আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকাই কষ্টকর।
তাই তোমাকে পুরোটাই উৎসর্গ করলাম
বাঘের পদতলে। আমি না হয় আজন্মের মতো বিলীন হবো স্মৃতিগহ্বরে।
অসময়ে কিংবা মন খারাপের দিনে তুমি আমার স্মৃতির জাবর কেটো।
আজ থেকে আমি না হয় স্মৃতি হয়ে ভেসে বেড়াবো তোমার মনের অলি গলিতে,
বাঘ টের পেলে সেটারও দখল নেবে জানি।
তাই ওটাও একদিন বিলুপ্ত হবে।
আমার এসব কিছুই ভালো লাগেনা,
একদম ভালোলাগে না।
কোথাও আমার ঠাঁই নাই, নাই এতোটুকু অধিকারবোধ।
তবে আমি কে? কি আমার পরিচয়?
আমি কি তবে কোনো ভ্রাম্যমাণ বেয়াড়া স্মৃতি?
…………………………………………..

বন্ধু হবে খুব সাধারণ
ভি আই পি অহঙ্কারী বন্ধুদেরকে)

বন্ধু হবে খুব সাধারণ
ভি আই পি কেউ না,
অহঙ্কার পোষা মানুষগুলো
সামনে থেকে যা।

তোদের মতো বন্ধুকে তাই
ঘৃণার জলে ভাসাই,
সবই ছিল সাজানো নাটক
মিথ্যে কাছে আসাই।

বিপদে যে লাগে না কাজে
কেমন বন্ধু সে?
এমন বন্ধুর গায়ে সবাই
থু থু ছিটিয়ে দে।

বন্ধু নামের ভি আইপি রা
আসিস না আর কাছে,
তোদের মতো বন্ধু গেলে
প্রাণটা আমার বাঁচে।

বুকের মাঝে অহঙ্কার পুষে
যায় না থাকা ভালো,
মনের কালি দূরে ঠেলে
বন্ধুকে দিস আলো।

বন্ধুরা সব খুশি হয়ে
তোর কাছেতে ছুটবে,
অহঙ্কারহীন তোকে পেয়ে
বন্ধুর হাসি ফুটবে।
…………………………………………..

করোনা চলে গেলে

করোনা চলে গেলে আমি মায়ের কাছে যাবো,
ভাইয়ের কাছে যাবো।
বোনের সাথে রাত জেগে গল্প করবো।
মায়ের হাতে রান্না করা চিংড়ি করলার ঝোল খাবো,
মায়ের হাতে রান্না করা ভাঙ্গা মাছের তারকারি খাবো,
করোনা তোর দোহাই লাগে, যা না চলে।
করোনা চলে গেলে পর পর সাত দিন যেখানে খুশি সেখানে বেড়াতে যাবো,
শিবানীদি,পলিদের সাথে সুখ নগরে যাবো।মারিয়া,শারমিনদের সাথে জাহাঙ্গীর নগরের পেছনের বিলের ধারে যাবো।
করোনা চলে যুবকের মুখোমুখি বসে ধোঁয়া ওড়া লাল চা খাবো।
করোনা চলে গেলে আমি আবার যান্ত্রিক হয়ে উঠবো।
করোনা চলে গেলে মনবালকের ডেরায় গিয়ে মনখুলে বকবক করবো।
করোনা চলে গেলে ভোকা অফিসে গিয়ে আড্ডার ঝড় তুলবো।
করোনা চলে গেলে বন্ধু সায়ন্হর চেম্বারে গিয়ে
রেজা, রিংকু, দীপু ভাই, লিপিসহ তুমুল চাড্ডা দিব।
করোনা চলে গেলে শুভঙ্করের সাথে ধোঁয়া ওড়া গরম কফি খাবো।
করোনা চলে গেলে আমার পুরো পরিবার নিয়ে আস্ত একটা দিন নদীর বুকে কাটাবো।
করোনা চলে গেলে আরও অনেক কিছুই করবো।
যদি বেঁচে থাকি আমরা সবাই।
খুব সামান্য মানুষ আমি।
তাই চাওয়াটাও খুব সামান্য।
কখনও কি পূরণ হবে?
এইসব প্রিয় মানুষদের খুব কাছ থেকে
দেখার স্বপ্ন।
কখন কি পূরণ হবে?
…………………………………………..

দুঃখগুলো আমার ছিল

দুঃখগুলো আমার ছিল
আমার হয়েই থাক,
একজীবনের কষ্টগুলো
করেছে নির্বাক।

কষ্টটাকে আড়াল করি
শুকনো হাসি দিয়ে,
দুঃখরা সব করছে মাতম
আমার কষ্ট নিয়ে।

কষ্ট পেয়ে কষ্ট খেয়ে
জীবন হলো নীল,
সুখের সাথে এই জীবনে
হলোনা আর মিল।

দুখবিলাসী নারী বলেই
দুঃখ ভালোবাসি,
কাঁদতে গিয়ে এমনি করেই
লোক দেখানো হাসি।
…………………………………………..

প্রেমিক কবি প্রিয়
(নির্মলেন্দু গুণ দাদাকে)

“তোমায় গেছি ভুলে”
খায়রুননেসা রিমি

ভোরের আলোয় তোমায় খুঁজি
দাও না তুমি সাড়া,
হাজার মাইল দূরে থেকে
মনকে দাও নাড়া।

চুপটি করে আমার সব
করছো তুমি ফলো,
মোখলেসটা মন বাড়ালে
তখন কেনো জ্বলো?

মন আকাশে উড়ছে এখন
হরেক রকম ঘুড়ি,
দূরে থেকেই মজা দেখো
বাজাও তুমি তুড়ি।

বাঁচতে হলে রঙিন জলে
দিতে হবে ডুব,
রঙিন রঙে মন রাঙাতে
শখ হয়েছে খুব।

এইতো আমি ভালো আছি
তোমায় গেছি ভুলে,
তোমার নামটা মনের জলে
খাচ্ছি আমি গুলে।
…………………………………………..

শুভ জন্মদিন

আজ তোর জন্মদিন!
কি দিব তোকে?
কি ই বা দিতে পারি আমি?
মন বাগানের সবগুলো গোলাপ দিয়ে তোর পাযুগল ঢেকে দিব।
আমার অপ্রকাশিত সব কথামালা,
একজীবনের ভালোবাসা।
অশরীরি প্রেম, সব আমি তোকে দিব
সম্প্রদান কারকে।
মনাকাশের নীল জোছনা,
হৃদয়পোড়া দুঃখ?
না থাক, ওটা একান্তই আমার।
দুঃখগুলো কাউকে দিবনা।
ওটা আমি আগলে রাখবো,পোষা পাখির মতো।
সুখ বাগানের সুখ স্মৃতি,কিছু রঙীণ কল্পনা, অবাস্তব কিছু স্বপ্ন,
সব তোকে দিতে চাই নিঃশর্তভাবে।
দিতে ইচ্ছে করে আরো অনেক কিছুই।
থাকনা কিছু ইচ্ছে অপূর্ণ।
অপূর্ণ ইচ্ছেরাই হয়তো একদিন…
থাকনা কিছু অপ্রকাশিত সত্য।
হৃদপুকুরের উছলে ওঠা
ভালোবাসায় তোকে সিক্ত করবো।
আমার যা কিছু সব
আজ উৎসর্গ করলাম তোর তরে।
শুভ জন্মদিন!!!শুভ জন্মদিন!!!
আমি সত্যিই তোকে খুব ভালোবাসি।
…………………………………………..

এই রক্ত গোলাপ তোর জন্য

আমি আজকাল অনেক কিছুই ভুলে যাই।
ভুলতে চাই তোকেও।
তোকে ভুলে থাকার জন্যই আমি হন্যে হয়ে ছুটে বেড়াই পুরো ঢাকা শহর।
মৌচাক কফি শপ থেকে শুরু করে হাতির ঝিলের সবুজ অরণ্যে।
তোকে ভুলবো বলেই মনের উঠোনে লাগিয়েছিলাম একটা রক্ত গোলাপ।
বুকের রক্ত জমে জমে একদিন
সে গাছে ফুলও ফোটে।
ফুলটা তোকে দিতে চেয়েছিলুম।
কাছে যেতেই দেখি তোর হাত ভর্তি সাদা রজনীগন্ধা।
আমার ফুল নেয়ার জন্য একটি হাতও অবশিষ্ট নাই।
অতঃপর ভগ্ন হৃদয়ে ফুলটি শূন্যে তুলে দিয়ে বলি,
শুভঙ্কর, আজ তোর জন্মদিন।
রক্তে রাঙানো এই গোলাপ আজ তোকেই দিতে চেয়েছিলাম।
আমি তোকে বড্ড ভালোবাসি।
ভালোবাসি বলেই
আমি ইচ্ছে করেই ভুলে যেতে চেয়েছিলুম তোকে।তোর জন্মদিনটাকে।
কিন্তু রক্তগোলাপটা আমাকে মনে করিয়ে দিল আজ তোর জন্মদিন।
শুভঙ্কর,তুই কি আজকের দিনের জন্য হলেও
আমার গোলাপ নিবি?
গোলাপের প্রতিটি পাপড়িতে আমার হৃদয়ের রক্ত মিশে আছে।
মিশে আছে আমার অব্যক্ত কথামালা।অষ্টদশী কিছু স্বপ্ব।
একটিবার গোলাপটা ছুঁয়ে দেখিস
বুকের কাছে রেখে গোলাপের গন্ধ শুকিস।
তখনই টের পাবি আমি তোকে কেমন ভালোবাসি।
কিছু ভালোবাসা একজীবনে শেষ হয় না।
আর তাইতো আমি তোকে ভুলতে চাই।
ভুলে গিয়েও যত্ন করে একজীবনের
শেষ না হওয়া ভালোবাসাটাকে পরম যত্নে আগলে রাখতে চাই।
…………………………………………..

যদি মরে যাই…

আমার মরার খবরটিও হয়তো
পৌঁছবে না তোমার কানে।
আমার শরীর পচে গন্ধ ছড়াবে, হাড়গুলো খুলে আলাদা হয়ে যাবে, তারপরেও তুমি জানবে না
আমি মরে গেছি।
আমার মৃত্যুর পরেও কি চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়বে না তোমার?
একটুও কি কষ্ট হবে না আমার জন্য?একটুও কি মনে ঝড় উঠবে না?
তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে আমার আবেগগুলো সব পচে গেছে।
পচে গেছে মনটাও। মন পচে গেলে শরীরের আর থাকলো কি?
এইসব পচে যাওয়া, ক্ষয়ে যাওয়া জীবন নিয়েই অনাদরে, অবহেলায় চলে যাবো একদিন।
তুমি জানতেও পারবে না তা কস্মিনকালেও।
যদি মরে যাই…
মাস ছয়েক পড়েও যদি খবর পাও
জোড়া কদম দিও আমার শুকনো কবরে।
…………………………………………..

কাল নাগিনী

কাল নাগিনীর বিষে আমার
জীবন হলো নীল,
মনের ভিটায় উড়ছে এখন
মাংস খাওয়া চিল।

নাগিনরে তুই আর কতোকাল
মারবি ছোবল আমায়?
তোর ছোবলে দাগ লেগেছে
আমার শুদ্ধ জামায়।

পা চাটা সব কুকুরগুলো
তোর কাছেতে ভালো,
উচিত কথা বললে তুই
মুখটা করিস কালো।

উচিত কথার নাইরে ভাত
কালনাগিনীর কাছে,
সুযোগ পেলেই ছোবল মারে
নাগিন আমার পাছে।
…………………………………………..

মন বালকের দাবি

মন বালকটা মনের মাঝে
করছে ঘোরাঘুরি,
কোন বনে যে হারিয়ে গেল
মনটা করে চুরি।

মন বালক তোর মনের মাঝে
কে বানালো বাসা?
ইচ্ছে করেই বাদ দিয়েছি
তোর কাছেতে আসা।

তোকে ছেড়ে গাছের কাছে
মনের কথা কই,
গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তাই
পথ চেয়ে রই।

একদিন ঠিক আসবি ফিরে
এই গাছেরই তলে,
এই কথাটি তোকে আমি
যাচ্ছি আজ বলে।

খোঁজার মতো খুঁজলে তুই
এই আমাকে পাবি,
আসবো ফিরে তোর কাছেতে
রাখবো তোর দাবি।