পশ্চিম আকাশে বাঁকা চাদ হেলেছে। বলছে রমযান আমি এসে গেছি। মানবজাতীর জন্যে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে হাজির হয়েছে। আহলান সাহলান মাহে রমযান। উপস্হিত হয়েছে সাথে করে আসল বোনাস নিয়ে মহা পবিত্র মাস। রোযা যেমন ফরজ হিসাবে পালিত হবে তা আবার সত্তরগুণেও নেকি বৃদ্বি করা হবে। রমযানের এই বার্তা নিয়মিত মুসল্লিদের জন্যে মহাখুশির খবর তো বটে। অনিয়মিতদেরও সুযোগ এসেছে নিজেকে ঝালাই করবার। মুসল্লিরা সাধারণত প্রস্তুতি নিতে থাকে এই মাসের জন্যে।

তা কিন্তু অনেক আগে থেকে একেকজনের একেক রকমভাবে। জিঙ্গাস করেছিলাম একজনকে রমযানের প্রস্তুতি কি রকম? তিনি বললেন, এই বছর বেতন বোনাস কম পাব প্রস্তুতি ঐ রকম হবে। দিত্বীয় জনকে জিঙ্গাস করছিলাম তিনি বলেছিলেন, পরিকল্পনা নিয়েছি সময়গুলো যাতে ইবাদত বন্দেগীর জন্যে কাজে লাগানো যায়। আসুন, একটু পর্যালোচনায় আসি একটু ভিন্ন হলেও দুটোই ইবাদত হিসাবে পালিত হবার নিয়ামক। রোযা যেহেতু শারিরিক ইবাদত হলেও অর্থের অবস্হান এখানে অস্বিকার করার উপায় নেই। তবে দুটো সমন্বয়ে করে ইবাদতে মশগুল থাকতে হবে। সময়টা কাজে লাগানোর জন্যে বিভিন্নজন বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।যেমন কেউ পুরো কুরআন শরীফ একবার পড়বে বা অর্থসহ পড়বে, নফল ইবাদতে সমুহ বেশি পালন করবে। কিয়ামুল লাইল ইবাদত বন্দেগিতে কাটিয়ে দিবে। যারা নামায, কুরআন জানে না,তারা শিখে নিবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্পেশাল তাদের জন্যে যারা শুধু ফরজ আদায় করেছে মাঠে ময়দানে ছড়িয়ে থাকার কারণে নফল ইবাদত আদায়ের সুযোগ হয়নি। রাসূল স., সাহাবীগণ এমাসকে মোক্ষম সুযোগ হিসাবে কাজে লাগাতেন দিনে সিয়াম রাতে কিয়ামে মশগুল থাকতেন। তবে একটা গূরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, শরীয়াতে নামায রোযার মত কতগুলো গূরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যেগুলো জানা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য। সেগুলো জানার চেষ্টা করবে কোনটা হালাল, কোনটা হারাম। যেমন মুয়ামালাত, বিবাহ এবং পারস্পরিক দায়িত্ব, মিরাস বা উত্তরাধিকার, শরিয়াতের বিভিন্ন মাসআলা মাসায়েল
ইত্যাদি। এছাড়া আরো গূরুত্বপূর্ণ বিষয় অজানা থেকে যায় অনেক বিষয় কৌতুহলি মন জানতে ইচ্ছে করে। রমযান মাসের গূরুত্ব ফযিলত অনেক বেশি অন্যান্য মাসের তুলনায়।

হেদায়তের ঐশি গ্রন্থসমূহ এই মাসে নাযিল হয়েছে, এমন একটি রজনি আছে যেটাতে হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায় তার থেকেও বেশি এই রাতে পাওয়া যায়। যেটাকে লাইলাতু কদর বা সম্মানিত রজনি বলা হয়। রহমতের দরজা যেমন খুলবে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে।শয়তানদের শিকল পরানো হবে। ফেরেশতারা প্রতিযোগিতায় নেমে যাবে কে কতো সওয়াব লিখতে পারেন। নফলকে ফরযের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। মানুষের সহানুভূতি সবচেয়ে বেশি কাজ করে এই মাসে। এটার সাথে আরেকটা ফরয বিষয় রয়েছে যাকাত যেটা ভাতৃত্বের বন্ধন ও সামাজিক সহাবস্হানকে মজবুত করে। এমাসে ওমরা পালন করলে সবচেয়ে নেকি হাসিল করা যায়। যেহেতু সিয়াম সাধনার প্রতিদান আল্লাহপাক নিজ হাতে দিবেন। এতে বান্দা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। এতে বান্দার ভালো কাজের প্রতিযোগিতায় নামা দরকার। প্রতিদানের কথা যদি বলি যিনি গাছের মালিক তিনি কতটুকু দিবেন তিনিই ভালো জানেন অন্য কেউ নয়। কারণ এর দায়িত্ব তিনিই নিয়েছেন। সূতরাং এই মাস আমাদের কাছে এসেছে ক্ষমা ও মুক্তির সুসংবাদ নিয়ে। দুর্ভাগা তাদের যারা এরকম একটা মাস পেয়েও নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে পারেনি। সংযমের সুযোগ পেয়ে অসংযমী হয়েছে তাদের জন্যে। একটু শুকরিয়া আদায় করুন যে, আপনি এখনো বেঁচে আছেন বিগত বছর মত এবারো ইবাদত বন্দেগি, শোকর গোজার করার সময় পাচ্ছেন। যারা গতবছর ছিল যাদের জীবন নিঃশেষ হয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে। তারা হাজার বার চেষ্টা করেও একটা রোযা আদায় করে দিতে পারবে না। কিন্তু বিগত বছরের ভুলটা শুধরাতে আপনি পারবেন। নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগও পাচ্ছেন। কষ্ট হলেও ধৈর্য ধরুন, অসহনীয় তাপমাত্রাতে প্রচন্ড গরমে রোযা রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। দিনে সিয়াম রাতে কিয়ামে অতিবাহিত করুন। সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালি করুন। সবশেষে হাজির হবে মহান খুশির দিন ঈদুল ফিতর। আজি ধনী গরিব মিলিত হবে একি ছাতার নিচে। হিংসা, বিভেদ, বিস্বাদ ম্লান হবে খুশির জোয়ারে।