অন্য বসন্ত

প্রিয়!
ফাগুনের প্রথম সেই দিনটায়
তুমি আমায় ডেকেছিলে!
বসন্ত বনে,
তরু ছায়া ঘেরা পথে; আম্রকাননে।।
প্রিয়!
বধু বেসে ঘোমটায়
তুমি আমায় মেখেছিলে!
তোমার মনে,
ক’ত মায়া প্রেমা স্রোতে; শিমুল বনে।।
প্রিয়!
আজও তবে
অন্য বসন্ত।
কতো ফুল ফুটে আছে বনে
কতো পাখি ঘোরে ফিরে
আম্রকাননে
কত গান কত সুরে হায়!
ভরাইছে মন ওরা কানায়-কানায়
বসন্ত দিনক্ষণ
কিন্তু আজ…
তুমি নেই!
শত ভালবাসা জুটে আছে মনে
শুধাইতে প্রেম ছলনে !
সেই যে গেলে; ফিরে না এলে !
জানি না!
বসন্তের এই ভিড়ে
কুল ভাঙা নদী তীরে
অবশেষে
তুমি আজ নিষ্পেষিত;
কার দলনে?
…………………………………………..

বিষণ্ণ সঙ্গী

প্রিয় কবিতা
আজ তোমাকে ভীষণ মনে পড়ছে
বিষণ্ণ মনে শুধু তোমার কথাই ভাবছি ।
কেনই বা ভাববোনা, বলো!
এমন বিষণ্ণ মুহুর্তে তো তোমাকেই পাশে পাই।
পাষণ্ড এই পৃথিবীর পথে—
চলতে চলতে…
যখন চারদিকে কুয়াশার ধূম্র জালে হাবুডুবু খাই,
তখন তুমি সামনে আশার প্রদীপ নিয়ে দাঁড়াও?

তোমার মনে আছে?
সেদিন পথ চলতে চলতে প্রায় থেমেই গিয়েছিলাম আমি।
এতো দুঃখ, এতো কষ্ট এতটা জীবন জ্বালা নিয়ে
এতদূর? পথ বেয়ে চলা!
সেই মুহুর্তে,
তুমি একটি কলম হাতে ধরিয়ে দিয়ে
বললে—
এই নাও?
বাকি জীবন এতেই ভর করিয়ে চলো।
আজ হতে শুরু হবে তোমার নতুন জীবন।
আমি হব তোমার নিদান কালের বিষণ্ণ সঙ্গী।

আমি তোমার দুঃখের কল্পনা হবো;
সেই কলমের পাণ্ডুলিপি হবো।

তুমি কবি !
আমি সেই কবিতা হবো।

মনে রেখ হে কবি?
পাষণ্ড এই পৃথিবী তে!
কবিতাই কবি দের একমাত্র;
নিঃস্বার্থ জীবন সঙ্গী।

ঠিক মানছি !
আজ আর নয়, ভালো থেকো
ইতি কবি।
…………………………………………..

প্রেমের দুরত্ত্ব

তোমার চোখে একটু খানি
চোখ তুলে চাইবো বলে
তুমি হাসলেনা,
তোমার মুখে আমার
এ মুখ একটু খানি
রাখবো বলে
তুমি আমায় যাচলেনা।
তোমার বুকে, মত্ত সুখে;
সুখের নীড় বাধব বলে
তুমি আমায়—
একটুও ভালবাসলেনা!

আমার তরে,
তোমার সময় নষ্ট বলে
তুমি আমায়—
সঙ্গ করে রাখলেনা।

তোমার হতে—
একটু প্রেম পাব বলে,
অবশেষে হৃদয় দিয়ে ডাকলেনা।
…………………………………………..

সংশয়

হে প্রিয়
যদি তোমার শূন্য বাগান খানি
নানা রঙে রঙীন হয়ে ফোটে;
ওখান থেকে একটি মালা—
আমার তরে
গাঁথবে কি না কে জানে!

যদি তোমার মত্ত আশা
পূর্ণ রূপে জোটে,
লোকের ভিড়ে আমার কথা
ভাববে কি না কে জানে!

যদি অনেক সঙ্গী তোমার হয়;
ওদের মাঝে, আমার ছদ্মনাম
লেখবে কি না কে জানে!

যদি আমার শ্রান্ত দেহে ;
চলতি পথেই
ক্লান্তি নেমে আসে,
আমার হয়ে, সান্ধ্য তরি
বাইবে কি না কে জানে!

যদি আমার শুভ্র আঁখি নীড়ে;
নিদ্রা ভরে ঝাপসা হয়ে ফিড়ে,
আমার পরে’ তোমার দু-চোখ
রাখবে কি না কে জানে!

যদি আমার শান্ত শিশির মুখ
হঠাৎ করে মলিন হয়ে ভাসে,
ভালবেসে মুখের পানে
চাইবে কি না কে জানে!

যদি আমার বিশাল পরিচয় ;
নষ্টে গিয়ে সাগর জলে মিশে,
ঘৃণা ভরে নষ্ট জনে,
চিনবে কি না কে জানে!

যদি এখন বিদায় ধ্বনি হাকে—
বিশ্ব ছেড়ে নিঃস্ব হয়ে যাবো!
সেদিন তুমি নয়ন ভরে ;
শেষ দেখাটা
দেখবে কি না কে জানে!

যদি আমার জীবন প্রদীপ!
এখনি নিভে আসে,
অন্ধকারে বিদায় নিশির গান,
করুণ সুরে
গাইবে কি না কে জানে!
…………………………………………..

বেদনার কাব্য

আমি ভালবেসে ছিলাম ” পূবালী বাতাসে ভেসে থাকা,ঢেউয়ের জলে একেঁ বেঁকে দোলায়ি’ত নৃত্যের সেই ‘কলমিলতা’ কে”।

সেই শ্যামগুচ্ছ ‘কলমিলতা’ আমার মনে খুব ভালবাসা হয়ে উঠেছিল।

ওগো কলমিলতা!
আমি চেয়ে চেয়ে দেখেছিলাম,
জলের বুকে তোমার উদ্দাম পথ হাটা;
শিশির ভেজা ঝিলিমিলি কিরণে আনন্দ উত্তাল খেলা করা।
আমার ভালো লেগেছিল;খুব ভা’ললেগেছিল!
তোমার ফোটা’ন পূষ্পে অঝোরে ঝরে পরা হাসি। সে হাসিতে মুগ্ধ হয়েছিল অনেকে…

তোমার কি মনে আছে? সেদিন জ্যোৎস্না রাতে চাঁদ আর তারার ভিড়ে, ছলনা করে ,আমি গলে পরেছিলাম । তোমারই সহপাঠী, শাপলার একটি মালা।
সেদিন তুমি ভীষণ রাগে তপ্ত জলে হয়েছিলে একাকার। তোমার রাগ আর আত্ব-অভিমানে ফুটন্ত পূষ্প কলি মূর্ছা গিয়েছিল শত লজ্জার ভাড়ে!
একদিন তুমি গোধুলীর লগ্নে আমার অপেক্ষায় ছিলে নির্জনে ; আমি গিয়েছিলাম আমার জীর্ন ভেলা লয়ে।
আমার দর্শনে গোধুলিতে লজ্জায় তুমি ভয়ও পেয়েছিলে।
অথচ বিনা পরশনে মলিন হয়ে উঠেছিল তোমার মুখ।
চাঁদের আলোক দৃষ্টি তে; অসংখ্য তারার ভিড়ে, তুমি ছুতে দেওনি তোমার লজ্জার পরশ। তুমি নির্লজ্জ নও বলে!
একদিন আমার বন্ধুর নির্দয় মিনতিতে, তার প্রিয়া ‘শাপলা’ কে মৃণালে বাধিয়া স্কুলে গিয়েছিলাম। তুমি তা দেখে ভুল বুঝেছিল আমাকে!
সেদিনের সেই চমকি’ত শিহরনে শান্ত কোমল দেহে তোমার প্রচন্ড জ্বর উঠেছিল। তোমার বুকচাপা কা্ন্নায়,নিয়তির গর্জনে সেদিন প্রচুর লোনা বৃষ্টি হয়েছিল তোমার চোখে।
তারপর— লোনা জল গড়িয়ে তোমার হিংসা রাগ আর প্রচন্ড দেহ তাপ শীতল ও হয়েছিল ; প্রকৃতির শীতল রাজ্যে।

ওগো করমিলতা!
আমি তোমাকে চিরসঙ্গি করে আমার সাংসারিক কার্যে চেয়েছিলাম, বৈ কি!
দেখিয়েছিলামও তোমাকে—
ভেবেছিলাম আমার মা তোমাকে নিজ হাতে সাজগোজ করিয়ে আমার সাধনার ভোজ্য করিবে।
তুমি শান্ত বটে; বর্ণে শ্যাম— এ বলে ঘৃনায় মুখ ফিড়িয়ে ছিল।
তুমি খুব কেদেছিলে!আমিও কেদেছিলাম …
বিশ্বাস ক’র! খুব কেদেছিলাম?
যেভাবে কাঁদলে চোখও বোঝেনা আজ লোনা বৃষ্টি হয়েছে।
তুমি কাঁদতে কাঁদতে রুগ্ন দেহে লোনা জলে পচিতে লাগিলে—
তারপর—
হয়’ত আমার অগোচরে লোনা জলে গা ভাসিয়েছিলে—
‘ কো’ন এক গার্হস্থ্য স্নেহের অন্তরালে ‘
এদিকে আমি পূর্ব দিগন্তের পথ চেয়ে, তোমার স্মৃতির স্বপ্ন দেখে দেখে ; শূন্যতায় বসে “বেদনার কাব্য ” লিখি ।
আজও সেই স্মৃতি গুলো আমাকে যন্ত্রনার রাজ্যে জাগিয়ে তুলে!

ওগো কলমিলতা!
এখ’ন মনে পরে তোমাকে—
তোমাকে নিয়েই শত কবিতা;
তোমা পানেই নির্জন নিস্তব্ধ বসে থাকা।
তোমার সেই প্রেমের পরশ এখ’ন আমাকে ভীষণ কাঁদিয়ে তোলে!
তোমার হৃদয় কি একটু কাঁদে ?
আমার জন্য !
…………………………………………..

আমার লেখা একটি নাম

বহু পুরাতন —
চুনকাম করা জীর্ণ দেয়ালে;
স্তম্ভের কার্নিশের ধারে,
অনেক যত্নে লিখেছিলাম—
একটি নাম…
অক্ষ’ত অক্ষরে।

আজও আছে সেই লেখা।

শুধু সেই নেই!
যাকে আমি চেয়েছিলাম

লেখা আছে;
হয়তো থাকবে বহুকাল…
…………………………………………..

প্রণয় প্রশ্ন

তুমি আজ ভালই লিখেছ—
বললে—
“কাঁদবে কি তখন?
চির নিদ্রায় ঘুমাবো যখন”

তুমিও শোনো
কাঁদব ঠিকি…

চোখের কোণের এক ফোঁটা জল অঞ্চলিতে
মুছিয়ে দিতে—
সেদিন তুমি জাগবে কি?

বললে—
“মনে রাখবে কি তখন?
না ফেরার দেশে চলে যাব যখন”

তুমিও শো’ন!
মনে রাখবো ঠিক’ই …

বিদায় বেলা পরাইতে গলে
বকুল ফুলে
আমার গলের একটি মালা গাঁথবে কি?

বললে—
“ডাকবে কি তখন?
তোমার ডাকে সাড়া দিবনা যখন”

তুমিও শো’ন—
ডাক’ব ঠিক’ই …

হৃদয়ের কথা
বহু আকুলতা
প্রেমিকার ছলে—
অবশেষে হৃদয় নিয়ে ভাগবে কি?
…………………………………………..

খেয়ালের ভুলে

অনেক কবিতাই হারিয়ে ফেলেছি—
মনের অজান্তে,
লিখ’ব লিখ’ব বলে ;লিখা হয়নি আজও…

অনেক কল্পনা’ই ভাবিয়ে রেখেছি—
লা’লনার প্রান্তে,
আল্পনা’র তুলিতে,
আকঁ’ব আকঁ’ব বলে ;আকাঁ হয়নি আজও…

অনেক টা স্বপ্ন’ই অঙ্গে মেখেছি—
ঘুমের ঘোরে,
বল’ব বল’ব বলে; বলা হয়নি আজও…

অনেক টা প্রেম স্বযতনে জমিয়েছি—
হৃদয় জুড়ে,
দে’ব দে’ব বলে; দেওয়া হয়নি আজও…

অনেকটা ফুল শুখিয়াছি—
সময়ের ভুলে,
মালা গাথ’ব গাথ’ব বলে; গাঁথা হয়নি আজও…

সেই কবিতা, সেই কল্পনা, সেই স্বপ্ন, সেই প্রেম, সেই ফুল;
আর সেই কবিতা লেখা,সেই আল্পনা আঁকা, সেই স্বপ্ন দেখা, প্রেম দেওয়া -নেওয়া, মালঞ্চে বসে মালা গাঁথা—

এখ’ন আমাকে ভীষণ কাঁদিয়ে তুলে!
জা’ন?
শুধু তোমাকে ভালবাসি বলে।
…………………………………………..

মোম-শিখা

যখন পড়ার টেবিলে
আধারে ঢাকা চারিপাশ,
হৃদয়ের বিরহ বিলাপ তখন
আধারেই ব্যক্ত বিনাশ।
তিমিরের বিভাবরে সাজগোজ করা
শত জনার ভিড়ে…
নিগূঢ় প্রেম আর দীপ্ত আবেগে!
চিলের মত ক্ষীপ্ত বেগে
লোকসভা হতে লোকচক্ষুর অন্তরালে
আমি তাকে টেনে বের করেছিলাম।
ক্ষণিকের বাসগৃহের অগ্নিকুণ্ডু হতে;
বের করেছিলাম সুন্দর সজ্জা ভেদে,
তার প্রফুল্ল প্রজ্বলিত অগ্নি বারুদ।
আমার আঙ্গুলির স্পর্শ মর্দিত ঘর্ষণে!
তার চমকিত দরশন পরশন
বারবার নিদারুণ দীর্ঘশ্বাসে…
লজ্জায় সে লালিত লাল হয়ে উঠেছিল।
গায়ে লাল পার হলুদ বেনারসি
সেই অগ্নিশিখা কে,
ছুঁয়েছিলাম ; জাগিয়েছিলাম
আমার পৌরুষ হাতে
তারপর,
যখন সে নিয়মের ধরাবাধা সময়ে পৌছল।
শত কলঙ্ক মুছে ফেলে!
নিখুত গাঁথুনি ভেঙ্গে অনায়াসে
রাণী রূপে তাঁর বাহু দু-খান পিষ্টে গুজিয়া ধরিল।
সঙ্গী মানিয়া লইলো তাঁকে।
সাদা ধবধবে সফেদ কুর্তা পরা,
উচু সুডাম দেহের কোনো এক রাজপুত্র।
প্রকৃতির বন্ধন আর সুকোমল ছোঁয়া পেয়ে
মিলনের বাসর মোহনা নিস্তব্ধ একাকার…
বিরামহীন বিশ্রান্তলাপ;
স্পর্শ কাতর চুম্বন ফুরি’ল রাতারাতি,
শ্রান্ত প্রেম উড়ন্ত শয্যা
বিদ্যুৎ তড়িৎ আমি এক জলন্ত মোমবাতি।
…………………………………………..

শূন্যতা

নির্জন জ্যোৎস্না রাত
নিরবে চলে যায় একাকী!
নেপথ্যে
নিশিতো জাগার সাথি দুটি হাত পাতি
হাত ছানি দিয়ে কাছে ডাকেনা?
গোপনে গোপন কথা করিতে আলাপন
মধুর জ্বালাতনে
ছলনা ভরি মিনতি করি কেহ
সঙ্গ করি পাশে রাখে না।
গগন গর্জানো ;
তরিৎ চমকানো কালো মেঘ,
অঝোর বারিধারা হয়ে বয়ে চলে যায় নদীকূলে
সীমাহীন তরঙ্গময়ী সমুদ্র খুঁজে পায় পূর্ণতা।
সীমাহীন বর্ষায় দিন কেটে যায়,
শুধু মনে পরে যায় মায়াময়ী কত ছলনা
সঙ্গী হীন বসি একা শূন্যতা।