অসুস্থ পথচলা

সময়ের অ্যালকোহল পান করে আমরা উল্লাস করি
মানবতার বিপক্ষে
আমাদের মাঝে জেগে ওঠে
জমে থাকা দানব
খুবলে খাই সাজানো গোছানো রমণীর শাড়ি।

নুয়ে পড়া রাইফেল লেপ্টে আছে কামুক জলে
আমাদের আছে দাপুটে দল
দলীয় কনডম
আর কনডমের হিংস্যা ব্যবহার।

এখানে কোনো লাল-সবুজ নেই
কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন একাত্তর
বায়ান্নের গলায় ছুরি ধরে বের করি
‘হাউ আর ইউ?’
অতঃপর …

সেই যে শুরু, থামেনি আর
একে একে ধর্ষণ করেছি প্রতিটি কবিতা
অবশেষে ঠেকেছি গোলাপি নারীচিহ্নে।
…………………………………………..

বিচার মুক্ত হোক

প্রেমিকার স্তন দেখা পাপ
তাই তো চুমো খাই সংবিধানের নাভিমূলে
জনশ্রুতি আছে, চুমোতে নাকি অ্যালকোহল থাকে
তবুও চোখ সংবরণ অসাধ্য নয়!

একজন কবি রাজমুকুটকে প্রশ্ন করলো-
আপনি নাকি দ্বিচারিণী?
আহত চোখ অভিধানে খুঁজে পাওয়া বড় মুশকিল
যদিও আমরা নিয়মমাফিক বাইরে যাই।
এশট্রেতে লুকিয়ে রাখি ইতিহাসের অনন্ত হিংসা;

আসর জমতো সন্ধ্যা হলে
কিংবা খোলা হতো ডিপ ফ্রিজ।

জিভ লম্বা বুর্জোয়ার অধীনে ফুলবাগান
হুতুম প্যাঁচা আজ মগডালে
নেতাজি আজ কোথায়?
আমরা স্মরণ করি রুটির দোকানের রাখালকে;
প্রেম করি শব্দ আর অশব্দের সাথে।
যদিও অশব্দ বলতে মৌলিক কোনো শব্দ নেই।
সত্যি বলছি মহত্মা আমি চাই না!

প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক ভালোবাসা বিরোধী মিছিল করে না
প্রেমিকারা প্রকাশ করেছে বদরুল!
বখাটের অবৈধ শীৎকারে শিক্ষিকার আর্তচিৎকার
“বাঁচাও, বাঁচাও। এই অন্যায়ের বিচার করো!”
অবহেলিত শিক্ষক আনমনে বলে ওঠে,
“বিচার মুক্ত হোক।”
…………………………………………..

গন্ধজাগা স্বর্গরেণু

খোঁপায় কুয়াশা চেপে আসে হেমন্ত
ধোঁয়াশার যানজট হাসে শহুরে মেঘে
নেই সোনালি ধানের দাপাদাপি
পাখির মহুয়া ডাক!
ফজর শেষে বেলকনিতে দাঁড়ালেই-
ফিনকি দিয়ে নাড়া দেয় শীতল পরশ
ক্ষণিক আবেগের মতই উবে যায়
দিনমণির আগমনে
ব্যস্ততার উঁকিঝুঁকি
অমোঘ কৃত্রিমতা
পিঠা উৎসবের আড়ালে চলে ফ্যাশনের মহোৎসব।

কলমের ফুলঝুরিতে আঁকা রূপসীর বর্ণমালা
নগরজীবনে ধরা দেয় ছেঁড়া জামার কাকতাড়–য়া।
…………………………………………..

বৈধ হত্যা

পৃথিবীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে-
আমরা সংবাদ সম্মেলন করি বৃক্ষরোপণের
যে জায়গাটায় আজ প্রেসক্লাব দাঁড়িয়ে আছে
তার অন্তরালে লাশ হয়েছে একটি জঙ্গল
কী মানবতা
অসহ্য ন্যাকামি।
তাই তো সংসদে পরিবেশবান্ধব প্রস্তাবে সবাই “হ্যাঁ” বলে
যেহেতু সুন্দরবন পৃথিবীর বাইরে
বমিতে পদ্মা কাঁদে
ক্ষুধায় পদ্মা কাঁদে
অযাচিত কলম পিষে মারে প্রান্তীয় বর্ণমালা
আমরা তাকে নাম দিয়েছি “বন্ধুত্ব”।

মানবতা অতিক্রম করেছে অমানবিকতা
রক্ত
মৃত্যু
লাশ
দেখতে দেখেতে আমরা কানা হয়েছি
আর্তচিৎকার
হাহাকার
শুনতে শুনতে আমরা কালা হয়েছি।
…………………………………………..

সেদিনের গল্প

একটি রাজকীয় কুঁড়েঘর
যেখানে জোছনা ছুঁয়েছুঁয়ে পড়ে
বৃষ্টির মাতাল শব্দ উথাল করে সুষুপ্ত বাসনা
দেখা যায় অমাবস্যা
সত্যি সত্যিই এখন অমাবস্যা
অভিমানের নিচে শায়িত আমাদের জ্যান্ত মৃতদেহ
সমস্ত আকাক্সক্ষা পোঁতা আছে ভালোবাসার চাদরে

নগ্নমাঠে হাত ধরে আর হাঁটা হলো না
জানা হলো না তোমার অব্যক্ত নীলাকাশ
চাওয়া-পাওয়ার অমীমাংসিত হিস্যা!

বেড়ার ফুটোয় যে স্বপ্ন দেখা যায়
তাতেই এখন রাত পার করি!
হিজিবিজি লাগে যাপিত স্বপ্নকলা
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ঢেঁকুর তুলি হারানো কুয়াশার

তবুও একপশলা হাসি নিয়ে রোমন্থন করি
পাহাড়ি জীবন!
…………………………………………..

আমাদের দূরত্ব

মাথায় পৈশাচিকতা ভর করলে ধর্মকে টেনে আনি
তাই তো আমরা মসজিদে যাই না
প্রার্থনা করি না মন্দিরে
কিংবা আসে না কোনো রবিবার
মানুষের রক্ত খেয়ে শুদ্ধ হয় পরজন্মের আশা।

রাতে পৃথিবী দেখি গোলাপের মতন
সকালে পায়চারি করি দুনিয়াবি অলিগলিতে
মানুষ পিটিয়ে গেয়ে যাই ধর্মের আরাধনা
মৃত্যুল্লাসে জেগে ওঠে জাতিগত পরিচয়
তবে কি পৃথিবীতে কোনো মানুষ নেই?

বাড়াবাড়ির কাড়াকাড়িতে মনুষ্যত্ব বিলীন
হাসাহাসির ঠাসাঠাসিতে হারিয়ে ফেলি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল
টেবিলে পড়ে থাকে পরিত্যক্ত মানবতা
যার উপর বুলডোজার চালায় মহামান্য ধর্মগুরু।

দূরে সরতে সরতে আমরা সিরাত ভুলেছি
ভুলে গেছি সিরাতুল মুসতাকিম
মূল ছেড়ে আগাছার পরগাছায় আমাদের বসবাস
ধর্মের দোহাই দিয়ে খুন করছি পবিত্র ধর্ম।
…………………………………………..

মানবতার অমানবিকতা

গভীর রাতে নির্মীলিত অবস্থায় তক্তপোশে
কোলাহল মাড়িয়ে নির্জনতা জড়িয়ে সন্তর্পণে
অপেক্ষায় ঘুমকন্যার প্রেমের সোঁতা অর্পণে
মধ্যরাতে আমায় জাগ্রত রেখেছ কোন দোষে?

কনকনে শীতে নিশাচর হতে মন চায় না
তবুও সাধ জাগে পথমানবের রাত্রিযাপন দেখতে
যারা থাকে অনাবৃত অবস্থায় কাঁপতে কাঁপতে
প্রতিফলিত করে না আজ মানবতার আয়না।

সাহেব-বিবি দিব্যি ঘুমোয় মোটা বস্ত্র বিলাসে
মানবতা পিষ্ট করে জনস¤পদ লুট করে
সপদের অসম বণ্টনে দরিদ্রতা ঘরে ঘরে
প্রার্থনা ধনী-গরিবের মেলবন্ধন হোক নিমিষে।
…………………………………………..

আক্রান্ত আকাশ

সন্ধ্যা নামলে পৃথিবীতে যে আকাশ দেখা যায়
আমি তা থেকে পালিয়ে থাকতে পারি না
পালিয়ে বাঁচতে পারি না ভোরের কিরণে
কিংবা
সমুদ্রের গর্জনে

আমাদের দেখা হয় টঙ দোকানে
যেখানটায় বসে সিগারেটের আড্ডা
আমি লুকিয়ে থাকতে পারি না!
চায়ের সাথে সখ্য জমে আনমনে
ফুঁক আর চুমুকের পার্থক্য আমি খুঁজি না

বিরহের সাথে মিশে গেছে রাতের আকাশ
এখানে জ্বলে না কোনো এলইডি লাইট
দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে স্মৃতির অ্যালবাম
দুঃখ নেই
আফসোস নেই
ভালোবাসি সময়ের হুক লাগানো গার্বেজ।

অবুঝের দেশে সজীব গজব

এই বৃষ্টির নেই কোনো সকাল-সন্ধ্যা
টগবগে যুবকের মত ঝাঁপিয়ে পড়েছে পিপাসার্ত লোকালয়ে
সঙ্গমের পর প্রেমিকা যুবতী হয়
কিন্তু
ধর্ষণের পর পৃথিবীর বুকে জেগে ওঠে অভিশপ্ত আ’দ্ব জাতি
আমাদের নেই কোনো হুঁশ
বেহুঁশের মত ভোগ করি নির্জীব বিলাসিতা।

অঝোর বৃষ্টি আমাদের মনে দাগ কাটে না
ফেলি না দু’ফোটা অশ্রু
জাল নিয়ে বেরিয়ে পড়ি মাছ ধরার আশায়
আগে ঘরে চুলো ছিল কিন্তু মাছ ছিল না
আজ মাছের ফোয়ারাতে চুলো খুঁজে পাই না।

সমস্ত রুক্ষতা কেটে গেছে, চারদিকে স্রোতের গর্জন
পানিতে ভেসে আছে তওবার বাণী
আমরা বুঝি না, ভাসিয়ে দিই ভেলার হাওয়ায়
কাদামাটির বিছানা স্মরণ করায় না কবরের অন্ধকার।
…………………………………………..

জীবিত লাশ

শান্তি বলে বলে যে শান্তিসংঘ তৈরি হয়েছে
সেখানে আজ আগুন বিক্রি হয়
বুলেটের লাইসেন্স দেয়া হয় মানবতার বিরুদ্ধে
অবৈধ অর্গাজমের প্রফুল্ল সিমেন ছোঁড়া হয়
নিসপাপ নদীতে
দূষিত হয় সমস্ত লোকালয়

ইফতারের আয়োজন নিভে যায় হিংস্র ধোঁয়াশায়
রকেটের আঘাতে থেমে যায় একই দেহের
দু’টি প্রাণ
অনাগত পৃথিবী

মদ নিষিদ্ধ দেশের বার থেকে তাদের নামে চিয়ার্স হয়
ফিলিস্তিনে বারবিকিউ হয় হোমো সেপিয়েন্স
আমরা প্রতিবাদ করি
মোনাজাত করি ঈমানি দায়িত্বে
বেশ!
ফুরিয়ে যায় আঙুলের বিভবশক্তি।
…………………………………………..

কোকিলের ডাক

শহরের নিরেট কোলাহলে অসহ্য ভিড়ে
তোমাকে শুনে আঁতকে ওঠি
হারিয়ে যাই নির্মোহ মাতাল ছোঁয়ায়
দাঁড়াতে দাঁড়াতে হাঁটি
হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়িয়ে যাই
কান উপুড় করে বাড়িয়ে দেই মনোযোগের সিঁড়ি
বেড়ে যায় রক্তসঞ্চালন

ভুলে যাই ট্র্যাফিক জ্যাম কিংবা
হাঁপিয়ে ওঠা সমস্ত ধুলোবালি
পায়ে পা চেপে এগিয়ে যাই স্বর্গের গালিচায়।