তিন মাস জ্বরে ভুগে বেঁচে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহন করল কদের। গত বছর তার প্রতিবেশি পচা এই পেশা নিয়েছিল। রক্ত আমাশয়ে সেও মরতে বসেছিল। তেমন কিছু সামর্থ ছিল না। উপায় না দেখে গত সনেই পচা ভিক্ষার ঝুলি ঘাড়ে নিয়েছে। এখন দশবাড়ি মেঙ্গে তার দিন ভালোই চলে। পচার বউ অন্যের বাড়িতে ঝিয়ালি করে। হাঁস-মুরগি পোষে। এসব করে তারা মোটামুটি চলছে। অভাবের সাথে যুদ্ধ করে কদের ঠিকই ছিল। খন্তা-পাসুন ঠেলে সাতজন মানুষের খোরাকি যোগাড় করা সহজ কাজ নয়। এমন দুঃসাধ্য কাজ সে অত্যন্ত সাবলীলভাবে করে যাচ্ছিল। কিন্তু বিমারিটা তাকে দারুণ ঘাবড়ে দিল। একদিন কাজ না করলে পেট চলে না তিন মাস বসে বসে চলে কী করে।

কদের বয়সে পচার ছোট। একদিন সন্ধ্যাবেলা পচার বাড়ি যায় সে। পচার বউ তখন কড়া মশলায় গোশ্ত রান্না করছে। কদেরের মুখে তো কতদিন থেকে গোশ্ত চড়ে না। পকেটে টাকা থাকলে তো কিনবে। পচা মনে হয় ভিক্ষায় গোশ্ত পেয়েছে। তাহলে এরা মনে হয় মাঝে মাঝে মাছ-গোশ্ত খায়। কদেরের বউ এ কথা আগেই বলেছে যে ভিক্ষা করেই পচা ভালো চলছে। রাতের জোসনা চারদিক খোলতাই করেছে। হালকা বাতাসে মেঘ যাচ্ছে দক্ষিণ থেকে উত্তরে। চাঁদটা ভাসছে আর ডুবছে মেঘের পাথারে। গাছের পাতা, ঝোঁপ-ঝাড়, খেত-খামারে চলছে আলো-আঁধারির খেলা। আশা নিরাশার দোলাচলে কদেরের মনটাও ধুকপুক করছে। পাটি বিছিয়ে ভেতর বাড়িতে বসে আছে পচা। তার দিকে নজর করলে বুঝা যায় মৃদ্যুভাবে পা নাচাচ্ছে সে। বিড়ি টানছে ঠা-া মেজাজে গুনে গুনে। পচার দেহে আগের ভাঙ্গন নেই। খোলা গায়ে চেকের লুংগিতে সুন্দর লাগছে তাকে। ফূর্তি ফূর্তি চেহারা। বিড়িতে লম্বা টান দিয়ে মুড়োটা কদেরকে দিয়ে পচা বলে-“নে টানিসতে টান, আসল বেঙ্গল নোয়ায়। যেটাই যান খালি নকলের কারবার।” কদের উপোস থাকা মানুষের মতো বিড়িতে ঘন ঘন টান দেয়। মন লাগিয়ে পরখ করে পচার কথায় সম্মতি জানিয়ে মাথা ঝাকায়-“দেওয়ানি ঠিকে ধইচ্চেন, আসলটা নোয়ায়, এক্কেবারে ডেরেনের পানির নাহান পাইনসা। মুই গোন্দ শুঙ্গি টের পাইচঙ। আসল বেঙ্গলের ধকে আলদা।”

বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় না দুজনে। একটু কেশে পাতলা নিরবতা ভেঙ্গে কদেরই কথা তোলে-“দেওয়ানি আগ টাগ হন না। একনা কতা কবার চাঙ।” পচার চেহারায় পরিমিত গাম্ভীর্যের ছাপ। সে বলে-“কী কবার চাইস ঝটপট কয়া ফেলাও। মুই দারগা না হাকিম।” পচার কাছে চেপে বসে কদের। বিনয়ের সাথে বলে-“মুই তো আইসঙ না। তোমার বোয়াসিনের জেদ সবার না পায়া আসনু। এই মঙ্গাত বালবাচ্চাক কি খোয়া বাচাঙ। এই শইল্লে মুই কি আর কামাই কইরবার পাঙ?”

পচার কাছে কী বুদ্ধি আছে আয় উন্নতির। জীবনযুদ্ধে পরাজিত মানুষ সে। অন্যের দরজায় হাত পাতা ছাড়া কোন উপায় তার জানা নেই। তবু তার মুখের দিকে চোখ বড়ো করে তাকিয়ে থাকে কদের। তার প্রত্যাশা পচা এখনই হয়ত তাকে একটা নতুন পথের সন্ধান দেবে। কিন্তু পচা তেমন কিছু বলে না। সে গা বাঁচানোর কায়দায় বলে-“মোক কী কবার কইস তা। মেম্বর চেয়ারমেনক ক যদি দুই চাইর কেজি গোমটোম দ্যায়। আনি ভাজাভাজি করি খাও।” পচার কথায় হতাশ হয় কদের। আপত্তির সুরে বলে-“উগলা ছকরা নকরা দিয়া হবার নয়। মোক তোমার সাতে ভিক্ষাত নেও। বাপদাদা জোতদার আছলো, হামরা খুজি মাঙ্গি খামো। মতন চুরি চামারি না করি।”

পচার সাখে ভিক্ষা করে বেড়ায় কদের। দুজনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গ্রামে নতুন ধানের কাটামারি। ব্যাগ ভর্তি ধান পায় তারা। দুজনের মন আনন্দিত হয়। নিজ এলাকা ছেড়ে বড়ো মাঠ পেরিয়ে তারা চলে যায় দূরের গ্রামে। কখনো বালুচর পার হয়ে, কখনো নদির পাড় ধরে-পরিচিত লোকালয় ছেড়ে অপরিচিত লোকালয়ে তারা ভিক্ষাবৃত্তি করে। অনেক মানুষের দয়ার উপর তারা আশার বীজ বপন করে। কদের পচার পেছনে পেছনে যায়। সে এতটা বেতমিজ নয় যে মুরুব্বির মর্যাদা জানে না। একজন অনুগত সাগরেদ পেয়ে পচার মনটাও ভালো। কদেরকে তালিম দিয়ে সুযোগ্য করে গড়ে তোলার ইচ্ছে আছেতার । প্রথম প্রথম ভিক্ষা নেয়ার পর তারা লম্বা দোয়া করতে লাগল। “আল্লাহ ভেস্তখানা নসিব করিয়া দ্যান…জানে-মালে ধন্য করিয়া দ্যান।” কিছু ওয়াজ জানা আছে পচার। সেই ওয়াজের সুর নকল করে সে।

কদেরের চেহারায় অপরিসীম সংকোচ। যে ঝামেলার লাইনে সে এসেছে না জানি কখন কোন ভুল হয়ে যায়। পচার কাছে যত নিয়ম সে জানতে পেরেছে তাতে তার খুব কঠিনই মনে হচ্ছে। সবচেয়ে ভেজালের বিষয় হল পেসাব করে কুলুখ আর পানি ব্যবহার করা। পচা আর কদেরের আদব-কায়দা, ভদ্রতা ও বিনয়ের অনুপম নিদর্শন বলা চলে। রাস্তার ডান দিক দিয়ে এমন ভাবে যায় তাতে মনে হয় শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত এরাই স্থাপন করে গেল। থোরকা নাওডাঙ্গার দুই কৃতিসন্তানের আদর্শ সবাই যদি অনুসরণ করত সমাজে অশান্তি বলে কোন জিনিষ থাকত না। মেয়ে মানুষকে তারা মা বলে ডাকাই যথোচিত মনে করে। যে কোন কবর দেখলে তারা জিয়ারত করে। বাড়ির সামনে যেয়ে অনুনয়ের সুরে বলতে থাকে,“দ্যান মা চাইট্টা ভিক্কা মা। একদানা দান কইল্লে সাত দানা পাইবেন। আল্লায় দিলে তোমার বাড়ি ধনে জনে উতলিবে। আল্লায় হামাক দশবাড়ি খুজি খাওয়াইয়া কইচ্চে।” পচা একটা গজল বলে সবার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে-
“ও মোর আব্বাজান, ও মোর বাবাজান
মাওয়ে যেন শোনে না মোর কান্দনের বয়ান।
দশোমাস দশোদিন মাওয়ে ওদরে দিচে ঠাঁই
হামার মাওয়ের মত দুকি আব্বা ত্রিভূবনে নাই।
ও মোর আব্বাজান, ও মোর বাবাজান
মাওয়ে যেন জানে না মোর কোরবানির বয়ান।”

এমন ভাবে ভিক্ষা করে পচা ও কদেরের দিন চলে যায়। সকলের ঘরে নবান্ন আসে। ইদ ও কুরবানি আসে। রমজানের এক মাস রোজার পর আসে পবিত্র ইদুল ফিতর। পচা ও কদের অপেক্ষা করে সূদিনের। হয়ত তাদের ভাগ্য বদলে যাবে। ইসলামের শিক্ষায় নিশ্চয় মানুষের মন নরম হবে। মৃত্যুর বিভীষিকা, কালের শিক্ষা, ঝড়-ঝঞ্ঝা, ভূমিকম্প, বজ্রপাত, মহামারি ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন মানুষের বিবেক ও চেতনায় অবশ্যই আঘাত হানবে। তখন মানুষের দানের হাত খুলবে। সেদিন পচা ও কদেরের দুর্দিন থাকবে না। যারা ভিক্ষা করে দিন চালায় তাদের জীবনযাত্রা এমন কি উন্নত হয়। কিন্তু কদেরের বউ উৎসাহ দিয়ে ওকে এই পেশায় নিয়োজিত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যায়। বেঁচে থাকার এ হীন বৃত্তির উপর সে অবজ্ঞা প্রকাশ করে না।

কেন জানি কদেরের মনটা নীরবে কেঁদে ওঠে। কয়েক বছর আগে সে ভিক্ষা করত না। না খেয়ে থাকলেও ভিক্ষুক জীবনের গ্লানি তাকে পীড়া দেয়নি। সবখানে সে মর্যাদা পেত আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে। এখন তাকে মজলিসে ভিক্ষুকের সারিতে বসতে হয়। এক বিয়ে বাড়িতে নিমন্ত্রিত লোকের সাথে বসতে চেয়েছিল সে। ভিক্ষুক বলে তাকে তিরস্কার করে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। একদল মস্তান টাইপের ছেলেপেলে হৈ চৈ করে বলাবলি করছিল-“কোন জাগার ফকিররে, একনা সাইজ করি দেমো নাকি। বাব্বা! বওনাইর সাইরত বইসপার আশা। এঁয়ায় তো যেমন তেমন ফকির নোয়ায়।” কেউ আবার ইয়ার্কি করে বলে,“ক্যানে আগ করেন বাহে। আশা যকোন কইচ্চে পাত্রির বগলোত বসে ঝোল টোল দিয়া একমুট ভাত খোয়ান। ফকির দোয়া দিলে তোমার কইনা বছরবিয়ানি হইবে। হামার উতি একনা মানুষ ফকিরক ব্যাজার কচ্চিল। শ্যাষোত কি হইচে জানেন। শাগ তুইলবার যায়া ওমার কইনার নাকোত চিনা জোঁক ধচ্চিল।” বিয়ে বাড়ির লোকেরা এসব শুনে দারুণ হাসাহাসি করে। হেসে হেসে একজন আরেকজনের গায়ে পড়ে। “কী জামনা আসিল বাহে ফকির আসি বওনাইর সাইরত বইসে।”

এরকম তিক্ত অভিজ্ঞতা কদেরের ছিল না। সে মনে করত ভিক্ষুকও অন্য দশজনের মতো এই সমাজেরই মানুষ। জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়েছে বলে সে এই হীন বৃত্তি গ্রহন করেছে। গরিবকে দান করার হুকুম ধর্মের বিধানে আছে। সে ভালো আলেমের মুখে শুনেছে, বিত্তবানের সম্পদে আছে মিসকিনের অধিকার। কিন্তু মিসকিনরা কোনকালে সে অধিকার পায় না। দুঃখি মানুষের জীবনটা কত তুচ্ছ, কত ঘৃণিত। একমুঠো অন্নের জন্য কত কাকুতি-মিনতি করতে হয়। এই ঘৃণিত, অবহেলিত, পরমুখাপেক্ষা জীবনের অবসান ঘটাতে চায় কদের। তার ভেতরে জেগে ওঠে আর একজন কদের। যে অদম্য আবেগ আর নিরাপোষ মনোভঙ্গিতে তাকে খোঁচাতে থাকে। যে অন্যের দয়ায় আর এক মূহুর্তও বাঁচতে চায় না। একা একা অনেক পথ ঘুরে গভীর রাতে বাড়ি ফেরে কদের। পচাকে সে খোঁজ করে না। তার দুটো হাত উত্তোলিত হয় আকাশের পানে। স্রষ্টার কাছে সে শক্তি চায় স্বাধিনভাবে বাঁচার। চায় স্বচ্ছ সুন্দর জীবনবোধ, চায় মুক্তির অবারিত আলো। তখন চৈত্রের ধূলিঝড়ে অবশ প্রকৃতির বাতায়নে বিমুগ্ধ স্বপ্ন ছড়িয়ে জেগেছিল অগণিত তারা। পত্রহীন বৃক্ষের রুক্ষ ডালে করুণ স্বরে ডাকছিল রাতের পাখি। গ্রাম থেকে গ্রামান্তে উড়ে যাওয়া বাদুড়ের পাখার ঝাপটায় রাতের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ছিল বিবর্ণ ভীতি। সবকিছুর ভেতর থেকে স্বাপদের অদ্ভুত গোঙানির মতো একটি অজানা শব্দ তার ক্লান্ত অবসন্ন মনের বিজন মাঠে ছড়িয়ে পড়ছিল। পৃথিবীর সমস্ত অবহেলা, সমস্ত আঘাতের মধ্য থেকে একটি উজ্জয়িনী সুর তার মনকে প্রতিবাদি করে তোলে। সে বাড়ি ফিরে আসে ভিক্ষার ঝোলা আঁধারে ছুড়ে ফেলে সবল পদক্ষেপে।

কদের ফিরে আসে অভুক্ত পেটে, একেবারে শূন্যহাতে। সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে। গলায় ঝাঁঝ তুলে ওর স্ত্রী বলে,“মাইনষের আক্কেল আছে না নাই। সারাদির গাঁওহাটি এ্যালা সেনে আসিল খালি হাতেপাতে। বিয়ার বাড়িত জিয়াপত খায়া নিজের তো প্যাটকোনা ভইচ্চে। কাঁইয়ো এ্যালা উপাস থাকি মরুক না কিছু হউক।” স্ত্রীর কথার খোঁচায় ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গে কদেরের। রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে সে বলে, “একো শালির যদি জিয়াপত খাবার হাউস থাকে পেলেট ধরি গেইলে তো হয়। ফকিরের জন্যে মানুষ ভাত আন্দি পাকা দিয়া হাকায়তো।” খুব সকালে খালি মুখে বের হয়েছিল কদের। সারাদির তার পেটে দানাপানি পড়েনি। পচা আগেই ফিরেছিল বাড়ি। সেই সব কথা প্রকাশ করে দিয়েছে। সে বলেছে,“বামন হয়া দেওয়ার চাঁদ ধরা যায় না কদেরের বউ। ফকিরের জন্যে গোস্ত আর দই নোয়ায়।”

কদেরের চকে দুটো খড়ের ঘর। তার একটা হেলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। টাকার অভাবে মেরামত করতে পারেনি। সকালে জেগে সেই ঘরটা কেটে কুটে টুকরো করে কদের। বাচ্চারা কান্নাকাটি করে। তারা কোথায় থাকবে। বউটা বোকার মতো চুপ করে থাকে। কদেরের যে মেজাজ কী হতে কী করে বসে। লোকের হিতোপদেশ,পচার অনুরোধ তাকে ঘর ভাঙ্গা থেকে বিরত করতে পারে না। ঘর ভেঙ্গে ছোট ছোট বোঝা করে বাজারে বিক্রি করতে যায়। ভিক্ষা করতে একদম যায় না সে। বোঝা বিক্রি করে খাবার কিনে নিয়ে আসে। খাওয়া করে তৃপ্তি মতো ঘুমায়। এরপর থেকে সকাল বিকাল বাজারে লাকড়ি বিক্রি করতে লাগল সে। মানুষের পুরণো ঘর আর গাছ-গাছড়া কিনে খড়ি বানিয়ে বাজারে নিয়ে যায়। বাড়িতেও খড়ি বিক্রি করতে লাগল সে। বাচ্চাদেরকেও সে কাজে লাগাল। খরচ বাদে হাতে বাড়তি পয়সা জমতে লাগল কদেরের। মনে আসল অফুরন্ত কর্মচাঞ্চল্য। উন্নতির জন্য একটা অবলম্বন দরকার। সেটা সহজে পেয়ে গেল কদের। ভিক্ষা করার আর প্রয়োজন থাকল না তার। জীবনের যে সময়টা অনন্যেপায় হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেছে তার জন্য নিজকে ধিক্কার দেয় সে। সম্ভাবনার হাজারো পথ খোলা থাকার পরও সে পচার কাছে কেন এই হীন কাজের ছবক নিতে গেছে তার জন্য খুব কষ্ট হয় তার। চকে একখানা টিনের ঘর তোলে কদের। তাতে বড়ো একখানা জানালা লাগায় সে। সে জানালা দিয়ে সকালের একমুঠো রোদ তার ঘরে প্রবেশ করে। প্রত্যহ সকালে পচার ভিক্ষায় যাবার দৃশ্যটাও এই জানালা দিয়ে নিরীক্ষণ করে সে। একজোড়া চোখ দিয়ে প্রতিদিনই সে প্রত্যক্ষ করে বাঁশবনের চিকোন পথে পচার অপসৃয়মান গ্লানিময় ক্ষীণদেহ।