ট্যান্টে ফিরে মীর্জা সগীর জানতে পারে বিলু-মিলু বের হয়েছে পনের মিনিট আগে। সগীর চিন্তিত হয়ে বের হয়ে যায় ট্যান্ট হতে। দু’জন গার্ড ট্যান্টে রেখে আর দু’জন ঝানু শিকারী গঙ্গারাম শঙ্করকে নিয়ে বের হয়ে গেল। ট্যান্ট হতে বের হওয়া যে বিপজ্জনক এটা রেশমা আপু ও দুলাভাইকে সগীর ইচ্ছে করে বলেনি। তাহলে বীরজাতি রেশমা আপু ও দুলাভাই আসতেই সাহস পেতো না। তাই, এখানে যে পদে পদে বিপদ তা বলেনি। তাছাড়া বাগানের ম্যানেজারদের শত্র“র কোন শেষ নেই। বিশেষ করে যারা দেশের বৃক্ষ সম্পদ ও প্রত্ন নিদর্শন বিদেশে পাচার করে তারা তো বটেই।
এছাড়া আছে নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রও এই বনে। আছে কুখ্যাত ডাকাত। নেশা দ্রব্যের পাচারকারী দল। ঘৃণ্য এবং দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আশ্রয় স্থল হল এই বন। শোনা যায় বনের ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে বহুদূর পর্যন্ত সম্পদ পাচারের ব্যবস্থা করা আছে এই বনে। এসব বললে ওরা বন দর্শনে আসতে রাজী হতো না। সাহস পেতো না। তাই সগীর এসব চেপে গেছে। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে জোরদার। কিন্তু বিলু-মিলুর কোন অঘটন হলো নাতো! ট্যান্ট থেকে বের হতে দেওয়া উচিত হয়নি। এখন এসব বলে কি লাভ! সময় যতো গড়িয়ে যাবে ততোই জটিল হবে উদ্ধার। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সগীরের পা খানিকটা আড়ষ্ট হয়ে আসে।
-তোমরা ট্যান্টে থাকবে, আমি বিলু-মিলু কোথায় গেল দেখছি।
বলেই বের হয়ে গেল গঙ্গা-শঙ্করসহ সগীর।
-গঙ্গা- শঙ্কর!
-জ্বে হুজুর!
-তোমাদের কি মনে হয়?
-হুজুর! ভালা মনে হচ্ছি না-
-কি রকম!
-এখানে রতনের গুরুপ খুব শক্তিশালী। উহারা সাব্ ধরনের খারাপি কোরে। নেশা বিক্রি, মাইয়া লোগ, বাচ্চা লোগ পাচার- সাব্- সাব কুছ- শঙ্কর বলল হাঁটতে হাঁটতে।
-গঙ্গা! তুমি কি বল?
-জ্বে হুজুর! এখানে অজিতের গুরুপটাও খুব কমজোরি না। ওদের সঙ্গে রতন গুরুপের হার-হামেশা লাড়াই লাগে। প্রত্যিক নাহিমায় মারা পড়ে হুজুর, গুরুপের কেউ-গঙ্গা বলল।
-কিন্তু ওদের সঙ্গে তো বন বিভাগের একটা মামলা আছে- আমাদের সঙ্গে তো না, আমার লোকদের কেন কিডন্যাপ করবে- কোন মতলবে?
-মাতলব আছে হুজুর- আছে
-কি মতলব সেটা বলতে পারো?
-অজিতের গুরুপ বলে চা-বাগান বাংলাদেশের-হামারা বাংলাদেশীরা মালিক হবো বিদিশী কেন-
-রতনের গুরুপ বলে, চা-বাগান আর বাড়াইতে লাগবে না- আনারস ফল ফলাইতে হবে- অন্য ফল কমলা, জামির ফলাইতে লাগবে-
-তার মানে চায়ের নতুন প্লান্টেশনের বিরোধী ওরা?জ্বে হুজুর, লোতুন বাগান উহারা চায় না- গঙ্গা বলল।

-সেটা তো আমাকে কখনো জানায়নি ওরা।
-এখোন তো হুজুর আপনার ভাগ্লাদের চোরি করলে- এখোন জানাইবে-
-তার মানে মুক্তিপণ চাইবে?
-নাও চাইতে পারে- শঙ্কর বিজ্ঞের মতো বলে।
-বিলু-মিলুকে কোন গ্র“প কিডন্যাপ করল শেষ পর্যন্ত! কারা করল। কি উদ্দেশ্য তাদের? সগীর মহাফাঁপরে পড়ে। গার্ডদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল একটা গ্র“পের কাজ এটা। হয়তো বিলু-মিলুকে উদ্ধার করা যাবে। কিন্তু উদ্ধার করতে যে সময় লাগবে এর মধ্যে রেশমা আপুকে প্রবোধ দিয়ে রাখবে কে! এতক্ষণে নিশ্চয়ই কেঁদেকেটে সংজ্ঞাহারা। দুলাভাই নিশ্চয়ই পাগল প্রায়। কি যে ঘটছে ট্যান্টে আল্লা মালুম। এখন সে কী করতে পারে। ট্যান্টে ফিরে গেলে বিলু-মিলু ছাড়া আরেক বিপত্তি। আবার ট্যান্টে আপু-দুলাভাইকে সামলাবে কে!
সগীর দাঁড়িয়ে পড়ে। ঝরনার পাশে। ঝরনা তার আপন গতিতে বয়ে চলেছে। কুলু কুলু ধ্বনিতে। দূর চলার পথ পানে চেয়ে সগীর নীরবে ভাবে। দাঁড়িয়ে থেকে লাভ? বরং ঝরনার মতো চলাই উত্তম।
-গঙ্গা-শঙ্কর!
-জ্বে হুজুর!
-কোথায় খোঁজ করা যায়? সূর্য ডুবে যাচ্ছে- অন্ধকার হয়ে গেল চারিধার, বল, কি করবে?
-ভাব্ছি হুজুর-
-লাল সূর্যের আভা পানিতে এসে পড়ে রক্তাক্ত হয়ে গেছে ঝরনা। নিষ্পলক চেয়ে থাকে সগীর। এমন সময় চোখে পড়ে পানিতে ভেসে আসছে এক টুকরো কাপড়। কাপড় নয় একটা রুমাল। সমস্ত মনোযোগ গিয়ে পড়ে রুমালের দিকে। ঢেউয়ের তালে তালে রুমাল এগিয়ে আসে। খুব কাছে এসে আটকে পড়ে বড় পাথরের সঙ্গে।
-শঙ্কর! রুমালটা আনতো দেখি!
-শঙ্কর তৎক্ষণাৎ ঝরনার পানিতে নেমে পড়ে, ভেসে আসা রুমাল উদ্ধার করতে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। পানির গভীরে যাওয়ার আগে যতোটা সম্ভব ধুতিটা গুটিয়ে হাত দিয়ে মালকোচা বাঁধে। খুব বেশি গভীর নয় পানি। শঙ্কর আরেকটু এগিয়ে হাঁটু পানিতে নেমে পেয়ে যায় রুমালের নাগাল। হাতে তুলে নেয়। একটা গোলাপী রুমাল। লাল ফুল এবং সবুজ পাতা আঁকা। লরকি লোগের বলেই মনে হয় তার, এমন রুমাল মেম সাহেবদের হাতে বহুৎ দেখেছে। দুই হাতে রুমাল নিংড়ে পানি বের করে শূন্যে একটা ঝাড়া দেয়। ‘ফটাস’ একটা শব্দ হয় রুমাল হতে। সে শব্দ প্রতিধ্বনিত হয় ঝরনার আশপাশে।
-নিয়ে এসো শঙ্কর! সগীর চিৎকার করে বলে।
-হুজুর লড়কি লোগের রুমাল-
-ঠিক আছে নিয়ে এসো-
-জ্বে হুজুর- আনছি-
-শঙ্কর যেভাবে গিয়েছিল সেভাবে ফিরে এলো রুমাল উদ্ধার করে। মালকোচা ছেড়ে দিয়ে জড়সড় হয়ে রুমাল দু’হাতে এগিয়ে দেয় সগীরের পানে। একটা বিনয়ী ভাব ফুটে উঠে রুমাল প্রদানে।
সগীর হাত বাড়িয়ে নেয়। উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখে। এটা তার বোনের হাতে দেখেছে বলে মনে হয়। বিলু-মিলুর হাতেও দেখেছে। তাহলে বিলু-মিলুকে কিডন্যাপ করা হয়েছে? সগীরের মাথা ঘুরে আসে। ঝাঁ ঝাঁ করতে থাকে। কানের ভেতর দপ্ দপ্ করে কয়েকবার। একটা মারাত্মক সংকটে পড়া গেল। কী জবাব দেবে রেশমা আপুকে? দুলাভাইকে?
-হুজুর!
-কী বল শঙ্কর। চিন্তামগ্ন অবস্থায় সগীর জবাব দেয়।
-আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আসলে হুজুর, বলব?
-বল। সগীর রুমালটা হাতে নিয়ে ভাবতে থাকে।
-আমার মনে হয় এই রুমালটা আমাদের নিশানা- যে পথে উহাদের লিয়ে গেছে- তা এই রুমালটা বলে দেয়-
-ব্যাপারটা আমিও ভাবছিলাম- তোমার সঙ্গে আমার মিল হয়ে গেল।
-হুজুর! চলেন, আগ বাড়াই- গঙ্গা বলল।
-হুজুর! আমার জানা একজন রতন গুরুপের লোক আছে তার বাড়ি নজদিক- যদি ঐ গুরুপের কাম হয় তবে ইশারা মিলবে।
-ঠিক আছে চল, কতদূর তার বাড়ি?
-ঐ পঞ্জীতে হুজুর। চেংড়া পঞ্জী।
-ঠিক আছে চল।
সগীর দ্রুত পা চালাতে থাকে। এদিক ওদিক তাকায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। চেংড়াপঞ্জী পর্যন্ত যেতে রাত ঘনিয়ে আসবে। জায়গাটা মোটেই ভাল নয়। মানুষ এবং হিংস্র পশু উভয় দিক থেকে বিপদের, কিন্তু এখন, সে কথা ভাবার সময় নেই। বিলু মিলুকে উদ্ধার করতেই হবে। সময় মতো খোঁজ না পেলে উদ্ধার করা আরো কঠিন হবে। ওরা তিনজন হাঁটছিল উদোম পায়ে। মাঝে মধ্যে পাখির ডাক আর শঙ্কর-গঙ্গার হাঁক বনের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করছিল। শালগাছ সুপারী-পাইন-দারু চিনি, এলাচির বাগান পেরিয়ে যেতে হবে আরও দূরে। চেংড়া পঞ্জীতে মূলত মণিপুরী সম্প্রদায়ের বাস। তবে আশপাশে বাঙালী পরিবারও থাকে। এদের সঙ্গে মণিপুরীদের কোন সম্পর্ক নেই। বনের মধ্যে পশুদের নাকি একটা সহঅবস্থানের নিয়ম থাকে। মানুষের নেই।
ওরা তিনজন হাঁটছে কখনো মানুষের পায়ে চলা পথের চিহ্ন ধরে কখনো চড়াই উৎরাই টিলা মাড়িয়ে। প্রায় পনের বিশ মিনিট হাঁটার পর ওরা এসে পড়ল পঞ্জীর কাছে। দৃষ্টির পরখে চেংড়া পঞ্জী। একটা টিলার ধার ঘেঁষে ওরা হাঁটছিল। অন্তত পাঁচতলা উঁচু এই টিলা। খাড়া এবং খাঁজকাটা এই টিলা।
এই টিলার ধার দিয়ে যাওয়া সাহসের ব্যাপার। কারণ প্রতি বছর এই টিলায় চিতাবাঘের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। দু’চারটে গরু-ছাগল এবং রাখালের লাশ এ টিলায় পড়ে থাকে। কিন্তু এখন ভয়কে জয় করতে হবে। এসব ভাবলে চলবে না।
সগীর আরো জোর কদমে হাঁটতে থাকে। শঙ্কর-গঙ্গারাম ওরাও হুজুরের সামনে পেছনে জোর কদম হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ ওরা চলে আসে একটা ছড়ার কাছে। এটাকেই গঙ্গাছড়া বলে।
সগীর ছড়ার সামনে দাঁড়ায়। শঙ্কর ও গঙ্গাও হুজুরের পাশে দাঁড়ায়।
-হুজুর! এই হইল গঙ্গাছড়া।
-হ্যাঁ, চিনি। বিলু-মিলুদের এই ছড়া দেখতে আনার কথা ছিল।
-ছড়ার ওপর সুপারীগাছ কেটে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। দু’টো সুপারী গাছ পাশাপাশি রেখে একটা সুপারী গাছ রেলিং হিসেবে খাড়া করে দেওয়া আছে। পার হওয়া যায় আয়েসেই। ওরা তিনজন পার হলো। এরপর একটা ধানের ক্ষেত। ক্ষেত পার হয়েই একটা নাতি দীর্ঘ উঁচু টিলা- গাছ গাছালিতে ঘেরা। অন্ধকার ভেতরটা। গাছের পাতায় পাতায় ঢাকা। আলো প্রবেশ তাই করতে পারে না।
-সগীর শঙ্কর-গঙ্গা চেংড়াপঞ্জিতে এসে পড়ল। একটু উঁচু মাটির ঢিবিতে উঠতে হলো ওদের। দেখল মাচার ওপর এখানের ঘর। বেশ উঁচু মাচা। বন্য প্রাণীর হাত হতে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা।
-সিদ্ধালিঙ্গা ঘরমে আছে?
শঙ্কর উচ্চস্বরে ডাকে একটা বাড়ির কাছে এসে।
-ও সিদ্ধা-সিদ্ধা-ঘরমে আছে? এবার গঙ্গা ডাকে।
-কা… হো… সিদ্ধাতো ঘরমে নাইখাল-
-হুজুর! সিদ্ধলিঙ্গা ঘরে নাই।
-এখন কি করব আমরা? সগীর জানতে চায় ওদের কাছে। এমন সময় দরোজা খোলার শব্দ। কে যেনো একটা কুপি হাতে বের হয়ে এলো ঘর থেকে।
-কা.. হো.. কা… হো .. কাঁপা গলায় মহিলার কণ্ঠ। দূর থেকে দেখা গেল একটা কুজো বুড়ি হাতে কুপি নিয়ে দাঁড়িয়ে।
-বাগানের বড় হুজুর আয়া সিদ্ধাকো সাথ কথা বলনে-
-সিদ্ধা বাজারে গেইগি-
-হুজুর! সিদ্ধার মা বললে বাজারে গেইগি-
-এখন কী করবে গঙ্গা?
-চলুন হুজুর তাম্বুতে ফেরৎ যাই। আরো রাইত হইলে মহাবিপদ ঘটতে পারে।
-চলো ফিরে যাই।
-উঁচু মাটির ঢিবি হতে নামতেই সিদ্ধার দেখা পেয়ে যায় ওরা। কাঁধে বাঙ্। দু’পাশে দড়িতে ঝোলানো বস্তা দু’টো।
-হ্যারে সিদ্ধা- তোর বাড়িত গেলাম রে! এই হুজুর বি গেল। শঙ্কর হাত দিয়ে সগীরকে দেখিয়ে পাশে সরে গেল।
-নমস্কার হুজুর! সিদ্ধা বাঙ্ রেখে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে নমস্কার জানায়। অন্ধকারেও সিদ্ধার গায়ের রঙ যে ফর্সা তা বোঝা গেল। বয়স ত্রিশ/ বত্রিশ হবে। পেটানো শরীর। চেহারায় ভূটিয়াদের প্রভাব আছে।
-হুজুর! কি জন্য আমার গরীবের বাড়ি- সিদ্ধা বিনয়ের সঙ্গে বলে।
-সিদ্ধা, হুজুরের দুই ভাগিনা চোরি গিয়া বিকালে
-চোরি হ গিয়া! কা সব্বনাশ কা বাত!
-সিদ্ধা, এই কাম রতন করছে, তোম খবর লে কার জলদি ব্যবস্থা করো।
-না– না, রতন কভি না করে- এ কাম শালা জ্যোতিষী করে-
-জ্যোতিষী! কোন জ্যোতিষী?
-র্যাইচরণ জ্যোতিষী।
-কী বললে রাইচরণ জ্যোতিষী! সে আবার কে? সগীর ইতিপূর্বে এ নাম শোনেনি। অনেক অপারাধীর নাম সে জানে। ওদের দুষ্কর্মের কথাও জানে। কিন্তু এই নাম একদম নতুন।
-তাহলে এখন কি করা?
-হুজুর! আপনি বাংলোতে চলিয়া যান। আমি গঙ্গা শঙ্কর একটা খবর পাঠাইবে।
-কিন্তু !
-তাহলে আমার বাড়ি চলেন। সিদ্ধা বলল খুব অনুনয়ের সঙ্গে।
সগীর ভাবতে থাকে। কোন খবর ছাড়া সে কিভাবে ফেরৎ যাবে! রেশমা আপু-দুলাভাই পূর্বের কথামতো ফিনলে কোম্পানির বাংলোতে ফিরে যাবার কথা। ওদের নিয়ে এখন ভেবে কি লাভ! বরং বিলু-মিলুর খবর নিয়ে ঘরে ফিরতে পারলেই তার জন্য বাঁচা।
-ঠিক আছে সিদ্ধা চল তোমার বাড়িতে। শঙ্কর গঙ্গারামকে নিয়ে সগীর সিদ্ধার বাড়িতে ফিরে এলো। ঘরের ভেতর অত্যন্ত যতœ করে বসালো সিদ্ধা ওদের। ঘরে একটা মশাল জ্বলছে। তাতে দেখা গেল বেশ পরিপাটি ঘর। কাঠের ঘর বলে পুরো ঘরই বিছানা। বেশ কিছু ছিকায় হাড়ি-পাতিল বোতল ঝোলানো। একটা টিনের বাক্স ও ঘরে।
-হুজুর! আপনি আরাম করুন, আমরা একটু খবর লই।
সগীর কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। সিদ্ধাও অপরাধ জগতের লোক। এই বন বাদাড়ে এই মণিপুরী পঞ্জীতে কিছু একটা ঘটলে এই পৃথিবীর কেউ জানবে না। অবশ্য গঙ্গা-শঙ্কর তার খুবই বিশ্বস্ত। ওদের হাতেও আছে বন্দুক। তাই, কিছু করার সাহস পাবে না।
-হুজুরের কাছে আমি থাকি-গঙ্গা, তু যা সিদ্ধার সাথ-
-হ্যাঁ, শঙ্কর থাকুক- একা একা আমার ভাল লাগবে না।
-ঠিক বাত ঠিক বাত- আমি গঙ্গা যাই শঙ্কর থাক।
ওরা দু’জন বের হয়ে গেল। শঙ্করের দিকে তাকিয়ে সগীর একটু সাহস পায়। এই বনে চেংড়া পঞ্জীতে সিদ্ধার বাড়িতে শঙ্করকে মনে হয় তার পরম আত্মীয়, বন্ধু।