ইনবক্স পরকীয়া

বিছানা বালিশে বাতজ্বরে এপাশ ওপাশ ঠকঠক কাঁপছে বউ
সেলফোন চ্যাটিংয়ে মজে ওঠা স্বামী করে প্রণয় কথার আলাপন!
প্রিয়তমা বধুটি স্বামীর গতরে হাত রেখে কয় ‘ ঘুমাওতো, শরীর খারাপ করবে ‘
নেট চ্যাটিংয়ে মত্ত সোহাগচাঁদ পরকীয় স্বামী ম্যাসেঞ্জারে লেখে-
‘মুখ করে হিসফিস, এসো দেই কিস’

পোয়াতি চাঁদ নেতিয়ে পড়া ফেসবুক ইউজার শুয়েপড়ে কাঁথা-বালিশে…
…………………………………………..

নক্ষত্রসম পূর্বপিতামহ, চৈতন্যের পাঠ

পূর্বপুরুষ প্রপিতামহদের সুফলার বীজ পলীবিধৌত নদী সন্ধ্যার তট ; দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অগণন নারিকেল, সুপারী গাছ। চিংড়ি ধরা ওৎ পেতে থাকা নিবারণ মাছুয়া রোদপোড়া দুপুরে তুলছেন বড়শীর ছিপ ; বকসীবাড়ি, ভূঁঞাবাড়ি, পূর্বপাড়ের দত্তবাড়ি স্বরূপকাঠির আদি ভূমিপুত্র কী এক মোহগ্রস্ত বাঁশী সুরে জুয়েল আইচ কিংবদন্তি জাদুবিদ্যাকর ; গয়না নৌকো, স্টীমার ঘাট, জল সিঞ্চনে পারি দিতো কোলকাতার বাবুদের বাড়ি। বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ, ধূসর পান্ডুলিপি, উদ্ধারিত কালোট্রাংক ; মৈষাণীর কবিতামোহর ড. ভূমেন্দ্র গুহ জীবনানন্দ বাবুকে নিয়ে এলেন লোকচক্ষুর আলোচিত প্রাণকেন্দ্রে। ঐতিহ্যবাহি ইন্দুরহাট সুখ্যাতি সেই প্রাগৈতিহাসিক কালেই ; প্রিয় কোলকাতা, বরিশাল-স্বরূপকাঠি অন্ত:প্রাণ ঘনিষ্ট সখা। নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রসিদ্ধ গড়ইবাড়ি, রাখাল কর্মকারবাড়ি এখনও হাই তোলে সুবর্ণ জলে ; শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত যাত্রপালা,স্মৃতিমঠ গড়ইবাড়ি তোলপাড় তোলে বুকে!

চুলের ফিতা, বিলিকাটা লাল টুকটুকে বউ ; বাবুলাল মাঝি তোলেন হাঁক ‘ ওপার ওপার, ওপার যাইবেন কেউ… ওপার ! ‘
জল ভাঙার গান, স্নান শেষে চাল ধুয়ে যাওয়া বউ, ঠাকুমার জল পদচ্ছাপ এখনও খুঁজি মেঠো পথে।
‘ বাঁকেরগঞ্জ ভূগোল ‘ বইয়ে উল্লেখিত কৌরিখাড়া গ্রাম ভদ্রলোকর বাস ; কড়ি দিয়ে বিকিকিনি বিবর্তনে কৌরিখাড়া গ্রাম। ভূলে যেওনা, পূর্ব পিতৃভূমি বরিশাল-স্বরূপকাঠি ! স্বর্গ তো অদৃশ্য রোদ ; ফিরে এসো, নক্ষত্রসম পূর্বপিতামহের আদুরে ধন !
…………………………………………..

পাঠক ভিড় ঠেলে কেনে কবিতাবই

কবিতা উঠে দাঁড়াচ্ছে শিরদাঁড়া সোজা হয়ে
উত্তরে হাওয়া লেগেছে সমকালীন কবিতায়।
দশক বিভাজন মানেনা কোনো প্রজ্ঞাবান কবি
অতীত সম্পর্কনীতি ভেঙে পড়ুক কবিতায়।
ক্রমশঃ লিখে চলুক অপভ্রংশ সম্প্রসারিত যতিচ্ছেদ
সমষ্টিভাষা ভূলে কবিতায় উঠে আসুক প্রকৃতিভাষা।
অনুকরণ অনুসরণ ভেদীমূলে হানো কুঠার আঘাত
নিজেই দিকদ্রষ্টা, ভাবুক এবার নতুনের কবি।
বইমেলায় দেখেছি কবিতাকৌতুহলে উতসুক জনতা
কবিতাসম্মোহনে এখনও পাঠক আছেন কবিতা পড়েন।

আকাশপ্রবণ পাঠকপ্রিয় কবি মারজুক রাসেল
শিরদাঁড়া হয়ে কবিতায় তোলেন পাল উত্তরে হাওয়া
‘ দেহবন্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর ‘ নতুনের কবিতা
সুদীর্ঘ লাইন, পাঠক ভিড় ঠেলে কেনেন কবিতাবই!
…………………………………………..

মন তুই লালন হবি, দেখনা বুক ঝাঁক মেরে

মানুষ ভাবে শূন্য দিয়ে গুণ করিলে শূণ্যইতো যোগফল হয় ;
ভবের কেমন আজব নিয়ম মানুষ সেতো মাইন্যা লয়।
জনে জনে ঝগড়া ফ্যাসাদ আজব মানুষের রোজ কারবারি ;
জিন্দা মরার ভাব করে ভাবেনা তার কোথায় আসলবাড়ি !
মানুষ বানায় দালান কোটা শুন্যের ভিতর বসত ঘর ;
কোনটা খাঁটি কোনটা নকল চিনলোনা তার দেহান্তর।
সদাই ভাবে বেশভূষা খাইতে হবে টাকা ধন মালপানি ;
বুকটারে টান করিয়া টাকার নেশায় সাজায় আজব ফুলদানী।
কতো রঙে রঙ্গ করো গতরে পেন্দো সাধের লাল জামা ;
ভাই বোন আপন না চিনে চিনলি তুই শ্যালক মামা।
লালন কী আর সাধে পালায় মগের মূলুক দেশটাতে ;
মানুষ এখন গতর খাটায়ে নিজে ল’বে সকল চেষ্টাতে !

ছেউরিয়াতে ভজন লয়ে লম্বা চুলে হেলে দুলে সাধু গঞ্জিকা টানে ;
দর্শক বসা মঞ্চে হঠাৎ মাথাটা ঝাঁক মারিয়া বুঝে লয় লালনের মানে!

চব্বিশ শিকে বন্দি পাখি বুক চাঁপড়ায়ে পরানটারে বাইন্দা লয় ;
হেসে খেলে জীবন বাজি রেখে স্বার্থের টানে নেইকো ভয়।
কোথায় আজো মানুষ ভবে কোথায় পাবো মানুষ তবে ;
দলে দলে দল বাইন্দা একদিন সবে ঠিকই মানুষ হবে !
গানে কী আর লালন হবে ফরিদা পারভিনের সুর তানে ;
আসল গান বান্দো বুকে সদা ভেবে লও ‘ মানুষের মানে ! ‘
…………………………………………..

তরকারি কোটার কোরাস

ও রমনী, শাক কোট পিঁড়িতে বসে
কুটকাট কেটে রাখো চালকুমাড় শাক
সংসার রমনী কোনো কাজে চলে গেলে
বাসায় রেখে যাওয়া প্রিয়পুরুষ শিখে চলে
কুমাড় শাক-আলু কাটার নামতালিপি !