ভারতের লাহোর হাইকোর্ট এর বার, এট ল’ এডভোকেট গুরুদত্ত সিং এর লেখা মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সা: এর সীরাতগ্রন্থ সম্প্রতি অনূদিত হয়েছে-
‘তোমাকে ভালোবাসি হে নবী’ শিরোনামে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ সীরাতগ্রন্থ প্রণেতা জ্ঞানতাপস আল্লামা সৈয়দ সালোয়মান নদভী (রহ:)-এর অভিমত হচ্ছে:

‘রাসূলে আরাবী’ গ্রন্থের লেখক জনাব গুরুদত্ত সিং দাবা, বি, এল, বার এট ল’ (লাহোর) একজন জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তি। লন্ডনে অবস্থানকালে তার সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ এবং উঠা-বসার বারবার সুযোগ হয়েছে এবং তার অসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও তাওহীদমুখী চেতনার পরিচয় পেয়ে আমার হৃদয় পুলকিত হয়েছি এবং এ বিশ্বাস সুদৃঢ় হয়েছে যে, ভারত বর্ষের জাতি ও সম্প্রদায়গুলোর মাঝে এ ধরনের মানবতাবাদী ও মানব প্রেমিক কিছু মানুষ যদি আত্মপ্রকাশ করে তাহলে ‘ভারত-সন্তানদের’ মাঝে প্রীতি ও সম্প্রীতির যে অটুট বন্ধন সৃষ্টি হবে, বাইরের কোন শত্রু তা ছিন্ন করতে পারবে না।

দারা সাহেব অত্যন্ত উদার মন নিয়ে ইসলামের নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন। তার লেখার হরফে হরফে প্রেম ও ভালোবাসার ‘আবে কাউছার’ যেন ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়ছে ৷ পরিষ্কার বোঝা যায় যে, লেখকের কলম কেমন আবেগ-উচ্ছাসের স্রোতে ‘প্রবাহিত’ হয়ে চলেছে! আমি বইটি আগাগাড়ো পড়েছি এবং একটি প্রেম-ঊদ্বেলিত গতিময় ভাষার রচনা হিসাবে বইটি আমার পছন্দ হয়েছে I ‘

ইতিহাসের মানদণ্ডে এর চেয়ে উচ্চস্তরের গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব ছিলো, তবে এটা অসম্ভব যে, কোন অমুসলিম লেখক ভক্তি-ভালবাসার, এর চেয়ে সুন্দর কোন উপঢৌকন দরবারে নববীতে পেশ করতে পারবেন। আর এটাই আলোচ্য গ্রন্থের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য I

শব্দচয়ন এবং বক্তব্য উপস্থাপনের ধরনে যদি কোন ত্রুটি নজরে পড়ে তাহলে বিষয় ও মর্মকে বিবেচনায় রেখে লেখকের আন্তরিকতা ও উদ্দেশ্যের সততা সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করতে হবে।

দু‘আ করি আল্লাহ তাআলা যেন রহমাতৃল-লিল আলামীনের ওসীলার ভারতবর্ষের বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ের মাঝে একতা ও সখ্যতাৱ চেতনা জাগ্রত করে দেন এবং একে অপরের ‘ধর্ম-নেতাদের’ প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মনোভাব দান করেন

তোমাকে ভালোবাসি হে নবী
মূল: গুরু দত্ত সিং
অনুবাদ: আবু তাহের মিসবাহ
প্রকাশক: দারুল কলম
প্রকাশকাল:১৯৯৮, ২০০২
মূল্য : ৬৫ টাকা