এসো জরায়ু কেটে বাদ দি

আজকাল মার বুকের দুধের ঋণ মা কে ই ধর্ষণ করে
এসো মার জরায়ু কেটে বাদ দিয়েদি
না থাকবে বাঁশ আর না বাজবে বাঁশি

নারী মাংসের দুর্গন্ধে ভাসছে প্রকৃতি
দূর্গা, লক্ষী, সরস্বতী তোমার আমার
আমাদের যোনি নিয়ে ক্রিকেটের টেস্ট সিরিজ চলছে
ভালো করে দেখ স্বর্গে যোনি উৎসব চলছে
যোনির রক্তে ভাসছে ত্রিলোক
দলে কজন করে আছে?
কে কে আছে?
কোন ধর্মের, কোন রাজ্যের?
ধারাভাষ্যে আছে
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর

মর্গে যে মেয়েটা ছিন্ন ভিন্ন যোনি নিয়ে শুয়ে আছে
আবার সে লুট হলো ঠান্ডা ঘরে
নারী মাংস আবার মৃত জীবিত হয় না কি?
সব যোনির তো এক ই স্বাদ

ও মেয়ে তুই স্বর্গে না কি র্মতে না কি মার গর্ভে কোথায় লুকিয়ে রাখবি নিজেকে?
চারদিকে হায়নার বিচরণ ছোঁমেরে তুলে নেবে তোকে
তার থেকে আয়, মা হয়ে তোকে বিষ দি মুখে ।
…………………………………………..

ফ্যাকাশে ভালোবাসা

অনেক টা সময় কেটেছে তোমাকে ভুলতে
তুমিও ভুলে যেও আমাকে
তুমি কেন বোঝো না, আমার সাথী আমি নিজেই
ভুল ভেবে পিছু নিও না তাই
ভালোবাসার মিথ্যে মোড়কটা ছুঁড়ে ফেলেছি বাদলা আকাশের গায়ে
বৃষ্টির জল ঝরেছে চোখের কোণে
নিজেকে ভুলিয়ে চলে যাও তুমি
ঐ বাউল রাঙানো রাস্তায়
একা থাকাটাকে অভ্যাস নয় ইচ্ছে করে নাও সাথে
একদিন অভিমান করে দূরে যেতে চেয়েছিলাম
কাছে টেনে দুহাতে ভালোবাসা দিয়ে ধুইয়ে দিয়েছ অভিমানটাকে
ভরাট বুকে মুখ ডুবাতাম
দুটো হৃদয় সঙ্গম করতো আদরের ভাষায়
ধীরে ধীরে ভালোবাসার আকাশ ফ্যাকাশে হলো
নিরবে চাতক হয়েছিলাম একটু কাছে পাবার আশায়
সময় টা কেমন যেন জলে ধুয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে…
অভিমান যে শুধু আমার জন্য
রাজার থাক শুধুই মান।
…………………………………………..

অপেক্ষা

সবাই অপেক্ষায় থাকে
সেদিন কোকিল টা কথা বলেনি
মাথা নিচু করে বসেছিল সে
তখনও বসন্ত আসেনি যে।

সবাই অপেক্ষায় থাকে
পাশাপাশি অনুরাধা আকাশ
চোখের ইশারায় অনুমতি
ঝড় উঠলো দুটো ঠোঁটে।

সবাই অপেক্ষায় থাকে
নদী টা চাতকের মতো ঘড়ি দেখছিল
মিলন সুখ পাওয়ার আশায়
জোয়ার আসতে তখনও দেরি ছিল।

সবাই অপেক্ষায় থাকে
ডাক্তারের একটা পরীক্ষা
আনন্দের চিৎকার
মা, আমি ‘মা’ হতে চলেছি।
…………………………………………..

নীলাঞ্জন

নীলাঞ্জন তোমাকে কিছু বলতে চাই
আমার বলা কথা গুলো
তোমার বুকে পাবে ঠাঁই?

তুমি তো সেই প্রাচীন কাল ধরেই আছো আমার সাথে
আমার যত কষ্ট সব নিয়েছ তোমার বুকে ।

তুমি রাবন, সীতাকে করেছিলে হরণ
মনে প্রানে তুমি ছিলে নীলাঞ্জন
সপর্শ করোনি তাঁর শরীর মন।

তুমি দাতা কর্ণ সুতো পুত্র
ব্যাঙ্গ করেছিল তোমার ভালোবাসা কে
বুকে কষ্ট নিয়ে প্রান দিয়েছ বীর সন্তান
তুমি যে নীলাঞ্জন ।

কুরুসভা যখন দ্রৌপদীর নারীত্ব কে ধুলায় মিশিয়ে দিতে একত্রিত হয়েছে
নীলাঞ্জন, কে ছিল সেদিন ত্রাতা রুপে?

আজ আমি যখন আত্মহত্যা করতে চেষ্টা করছি
ঠিক তখুনি ভালোবাসা হয়ে জীবন দান করলে আমার।
আমার অ্যাসিডে পোড়া শরীর টা কে ভালোবেসে সারা জীবনের আশ্রয় দিলে
একমাত্র তুমি’ ই নীলাঞ্জন ।

তুমি যুগ যুগ ধরে ছিলে আছো থাকবে
ভালবাসার রুপ ধরে
তোমার মৃত্যু নেই
তুমি যে নীলাঞ্জন ।
…………………………………………..

মন ভাসি

আমি পাহাড়ের চূড়ায় স্বপ্ন টা কে তুলে রেখেছি
ভো কাট্টা পেট কাটা চাঁদিয়াল যেন হাত বাড়ালেই তাকে ধরতে না পারে…

আমি আমার নিঃশ্বাসকে রেখেছি বাদামের খোসায়
বিশ্বাস করি যে কোনো মূহূর্তে
এক ফুঁয়ে উড়বে আকাশে…

আমি ইচ্ছে টাকে কাগজের নৌকাতে ভাসিয়েছি মাজ দরিয়ায়
লাইভবোর্ড টা ভেঙে ফেলেছে
কপালের রেখা গুলো…

আমি ভালোবাসা কে ভালোবেসে লুকিয়েছি
ডুবুরি চুনি খোঁজার পরীক্ষায় সফল হতে চায়
বিজ্ঞান হেরেছে মনের কাছে
ভাঙা চোরা হৃৎপিন্ডে সাদা রক্ত বইছে…

চাওয়া পাওয়ার হিসাব টা
জলের মতন শুকিয়ে আসছে পৃথিবী থেকে
এখন দিন আর রাতের মধ্যে
আলোকবর্ষ দূরত্ব…

সুখ, সে তো শুধুই ক্ষণিকের।
…………………………………………..

ভালোবাসার মোহ

তোমাকে কাছে পেতে হাজার বছর বাঁচতে পারি
তোমার পলাশ রাঙা যৌবনে নিজেকে রাঙাতে পারি সযত্নে
বিনিময়, শর্ত ছাড়াই …

আগুন হয়ে ঝড়তে পারি
তোমার বৃষ্টি ভেজা শরীরে
এক নিমেষে মুঠোয় ভরে
শিশির দেবো হাসি মুখে…

আমার বীজ বপনে তুমি উর্বর জমির মালিকানা পাবে
বিষ নয় ভালোবাসা নিংড়ে দাও
হৃৎপিন্ডে শুধু একটাই আলো জ্বলুক…

সর্বনাশের খেলায় মিথ্যে মোহতে আকৃষ্ট হয়ো না
তবে ধবংস হয়ে যাবে দীর্ঘশ্বাসে
ভালোবাসার মানে ডিকশনারিতে পাওয়া যায় না
ভালোবাসা কি খুব ছোট্ট?
…………………………………………..

ভালোবেসে লিখি তাই

তোমার একটা কথা আমাকে খুব ভাবায়
‘ভালোবেসে লিখি তাই ‘ মনে আছে তোমার এই উত্তর টা?

সেদিন দেখলাম তোমার ঝুল বারান্দার কার্নিশ ধরে ঝুলছে তোমার ভালোবাসা
চিৎকার করে উঠলাম
সা ব ধা ন
নীচে অজগর, গোখরো, কালনাগিনি এক দৃষ্টে দেখছে তোমাকে
তুমি হাত নেড়ে একটাই কথা বলেছিলে
আমি ভয় পাই না ‘আমি আমিই’

আকাশের গায়ে জলছবি ঘুড়ি টা
তোমার ভালোবাসা কে উড়িয়ে নিয়ে গেল ঠাকুরমার ঝুলিতে

এখন নিস্তব্ধ প্রাসাদে রূপোর খাটে ভালোবাসা শুয়ে আছে
জীয়ন কাঠি পাবার আশায়।
ভালোবাসা খুব কঠিন।
…………………………………………..

উল্টে দেখি

নীলাঞ্জন জীবন টাকে উল্টো করে দেখ
নীল আকাশ আমি, তুমি মিষ্টি একটা মেঘ হয়ে ভাসো।

ওপর থেকে দেখেছি পৃথিবীটাকে
মাপিনি তার গভীরতা কতো টা যে।

তোমার চোখ কে করেছিলাম আমার দৃষ্টি
ভালো টা দেখিয়েছ, দেখিনি কতো যে অনাসৃষ্টি।

ভালবাসা দেখেছি, দেখিনি ভগ্ন হৃদয়
দুঃখ সে তো রুদ্ধ দ্বারে রয়।

গর্ব করে বলতে তুমি কত কথা
আমি না কি সবার থেকে আলাদা।

অনায়াসে ফেলে, গেলে চলে
পেছন ফিরে একটিবার ও চাইলে না যে।

নীলাঞ্জন
স্বর্গ পেয়ে ভুলেছ আপনজন
একবার ভেবে দেখো, আমি যদি চলে যেতাম তোমার মতন?
…………………………………………..

মেঘের গায়ে জল দিয়ে

যা তোকে বলতে পারিনি আজ বলবো অনায়াসে
সে দিন তোর নাম লিখেছি মেঘের গায়ে জল দিয়ে।

তোর প্রেমে ঘর ছেড়েছি হৃৎপিন্ড ফিকে করে
জানি তুই যাবি ভুলে
তাই ঠিকানা টা রাখিনি মনে।

মান অপমান সব ভুলে
ডাকিস যদি নিশ্চুপে
দেখবি আমি দাঁড়িয়ে আছি
হাসি মুখে, তোর বুকের পাশে।

ফড়িং যেমন নাচে ঘাসে
শিশির ভাসে বিন্দুতে
ঠিক তেমনি থাকব আমি
তোর রঙেতে রঙ মিশিয়ে।

ভালোবেসে করবি যতন
লজ্জা পাবে তোর মন
ঘরের কোনে একলা হয়ে
ভাববি বসে অন্ধকারে।

‘সখী ভালোবাসা কারে কয়’
…………………………………………..

মুখোশধারী

আজ চাঁদের আলোটা কাঁদছে নিঃসঙ্গ আকাশে
হাওয়ার, মেরুদণ্ডটা ভেঙেছে
শেষ হয়ে আসা ভোরের আকাশটা…

সূর্যটা মুখ লুকাতে ব্যাস্ত শুকতারার কোলে
তাহলে তারাগুলো থাকবে কোথায়?
মনে রেখো এই বিপদ সবারই হয়…

নদীটা অনেক দিন পরে একটু সুখ খুঁজে পেয়েছিল
শকুনির নজরে পাতাল প্রবেশ করেছে সে…

পাখির কলতান বন্ধ করেছে বেইমান বন্ধু
শান্তি পেতে হলে মুখোশধারীদের খুঁজে চিহ্নিত করো…

স্বর্গের দেবীরা এখন সমালোচনায়
কানাঘুষো শুনছি পৃথিবীটা না কি কোমায় চলে যাচ্ছে ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে…

‘সত্যি’ র মেরুদণ্ডে ক্যানসার হয়েছে।