ছুটি

দেখো, দেখো নিতি
আজ মানুষের আনন্দ রাখবার ঠাঁই নেই,
কিন্তু দুঃখ রাখবারো যে জো নেই
দুঃখ রাখবারও যে ঠাঁই নেই ওগো নৃপতি।

আমি বলছি পতিতার কথা
আমি বলছি পথশিশুর কথা
আমি বলছি বেকারের কথা
আমি বলছি স্বাধীন দেশের অবাক স্বাধীনতার কথা
আমি বলছি দু পায়া হাটা থমকে যাবা পথের কথা
আমি বলছি নিস্তব্ধ ঘণ্টা সমস্ত বিদ্যাপীঠের কথা
আর সমস্ত বাঁশি নিরবতা এসেম্বলি সাইলেন্টের কথা
সাইলেন্ট প্রবর্তন খেলো ইন্সটিটিউশনের দুঃখ খেলো না,
মানুষের দুঃখ নিয়ে আর খেলো না!
স্বাধীনতা কিছু খেলো সব খেলো না, কবো না কথা।
আমি বলছি হৃদপিণ্ড দগ্ধ হওয়া মানুষের কথা
আমি বলছি না দুখী মানুষের কথা
আমি বলছি সব সুখী মানুষের কথা!

দেখো, দেখো নিতি
আজ মানুষের ব্যথা রাখবারো যে ঠাঁই নেই
ব্যথা পুষে রাখবারো যে অত্যন্ত ছুটি নেই
সব ব্যথা সব জ্বালা নিয়ে দাও প্রভু এবার ছুটি
……………………………………………

পাগল মন

ছোঁবো ক্যানো, ছোঁবো না
হাত দিয়ে ছোঁবো না
মন দিয়ে ছোঁব
দু মনকে একমনা করে মনদেওয়ানা হবো।

ফাঁকি দেবো, ফাঁকি দেবো না
শুনি, ক্যানো ফাঁকি দেবো
ফাঁকি দিলে শুধবো কি করে!
ফাঁকির ফাঁকফোকর বন্ধ করে একমনা হবো।

স্তব্ধ হবো, ক্যানো স্তব্ধ হবো
জানি, চঞ্চলা মন অঞ্চলা যাবো
চুপিচুপি শ্যামরার বাঁশি হবো
তুমি রাধা আমি শ্যাম হয়ে যমুনার জলে যাবো!
……………………………………………

ভাগ্যলিপি

যে জলে কচুরিপানার জন্ম সে জলই ফাঁক
যেই বৃক্ষে শুভ্র গোলাপ সেই বৃক্ষেই ঝঁঝাট

যে হাওয়া তপ্ত ধরে সেই হাওয়াতেই হিম
যেই মুখে মুক্তঝরে সেই মুখেতেই ইয়াস

যে আকাশে আনন্দধারা সেই আকাশেই অসুখ
যেই মাটিতে গড়া দেহ সেই মাটিতেই নিঃশেষ

শেষযজ্ঞে পড়ে রবে ছাইপাঁশ তবুও দিয়ে যায় বাঁশ
সম্পদের পাহাড় গড়ো দেখে লাগে কবির অট্টহাস
……………………………………………

মুক্তি

মড়ক মড়ক চতুর্দিকে আজ মড়ক
মড়কের খোঁপাতে তলিয়েছে মহাসড়ক।
আকাশে মড়ক আবর্তে মড়ক জ্বালা,
করোনার মড়কে ভরে গেছে বসুন্ধরা!
স্বদেশে মড়ক বিদেশে মড়ক আর্তনাদ,
জীবন হলো ক্ষতবিক্ষত তবুও কলহ-বিবাদ।
যখন মড়ক থেকে ডামাডোলে নাচছে মারক,
তখন দেশ দেশান্তরে বোমা রক্তে বিশ্ব নির্বাক!
খবর এলো খবর কবর দেবার নেইতো কোনো লোক,
খবর এলো শ্মশানে মুখাগ্নি দেবার নেই কোন ফোক!
তবুও হায় হায় চারিদিকে দেখি মানব নামে সব দানব
সাড়ে তিন হাত মাটির কপাল কাঁচা তবুও যে ভূলোভ
কেউ লোনা জলে নাচে কেউ ভাসে জনশূন্য অঁচলে
তবুও ধর্ষণ, ব্যভিচার, বিকার, বিশ্রী বদমাশ নেই থেমে!
দেখো না প্রভু ক্ষিতিতে কতো হাত তুলেছে মুনাজাত
দাও না ভব শুদ্ধ শুচি হাতের বদলাতে মুক্তি নাজাত!
……………………………………………

দৃশ্যান্তরে হারাব বুঝি

যে আকাশ থেকে আগুন ঝরে পড়ে
সে আকাশ থেকে তো বাদল নেমে আসে
তবুও যে সব অভাগারা আকাশটাকেই
বড় বেশি বেশিই ভালোবাসে !
আমিও তো ঐ আকাশের লোক
বড্ড বেশি আমারো যে ঐ আকাশের প্রতি ঝোঁক!

যে মুখে বড় বেশি তপ্ত কথা আসে
সে মুখ দিয়ে তো মধুর ধ্বনি বাজে
তেমনি তো আমিও ঐ মানব-মানবীর প্রেমে পড়ে
তাদেরকেই বাসি বড় ভালো
তাহারা যে যাই বলুক আমি তাদের বাসি বড় ভালো
আমি যে তাদের লোক তাদের প্রতি আমার বড় ঝোঁক!

যে শিশিরে ভিজে ঘাস সেই ঘাসেতেই শরীর শিহরণ
সেই শিশিরে শুভ্রচাদর মোড়ানো শীতের কম্পন
কম্পনেতে দখিণমেরু শ্বেতশুভ্র হিম পাহাড়
শতশত দেহের ভেতর জমাতো কষ্টেরই প্লাবন
তবুও আমি বাসি ভালো ব্যসন সাগর।

ওগো হাকিম আমি যে লাচালে পড়ে গেছি
মাফ করে দাও আজি নইলে দৃশ্যান্তরে হারাবো বুঝি!
……………………………………………

কী খেলা খেলিছো শূন্যপুরে বসে

বড় সাধ জাগে
গো দয়াল বড় সুখে আত্মঘাতী হতে!
আমার ইচ্ছে করে আজ আত্মঘাতী হতে।

ইচ্ছে ছিলো জগৎটারে দেখবো ভবে
ইচ্ছে গেছে ডুবসাগরের পাতালপুরীর বনে

দেখছি তো কাঙ্গালটারে আষ্টেপৃষ্ঠে কুরে কুরে খাচ্ছে
মৎস্যন্যায়ের মতন এক দেশ আরেক দেশের চাচ্ছে
তাই নিয়ে ভাই বড় ভায়েরা কী দারুণ হাততালি দিচ্ছে!
আমার বড় ঘৃণা হয় ঘৃণায় যে মরে যেতে ইচ্ছে হয়
ঘৃণার ভয়াল থাবা দিলেম ছুঁড়ে পক্ষের পরাশক্তির গায়!
নিশ্চিত জেনে রেখো ফিলিস্তিনের হবে জয় হবে জয়
ওরা আমার নবী-রাসুল আর আল কুরআনের অনুসারী তাই
অন্তর্যামীর হিসেব মিলানো সত্যিই বড় দায়! হবে জয়! হবে জয়।

শিয়াল কুকুর হায়েনা কিংবা
হিংস্র জন্তু জানোয়ার খেলে তো কোনো কথা নয়
ওহে বুদ্ধিজীবীর দল বলো তো কী করে হবে আজ মানবতার জয়!
চারিদিকে আজ ক্ষয় ক্ষয়ে যায় যে মানবতার অবক্ষয়!
চারিদিকে আজ জয় ইহুদি আর বিধর্মীদের বিজয়কেতনের জয়! ওরা শুধু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যায়!
বে আইনকে আইন করলেই কী সত্য চেপে যায়
সত্য যে সূর্যের মতন চিরকাল আলো ছড়িয়ে যায়।

কে কবে চিরকাল ক্ষমতার দাপট দেখাতে পেরেছে এ দুনিয়ায়!!

এক নিমিষেই দেখো উলোট পালোট করে দেবে ঈশ্বর অব্যয়!
চারিদিকে শান্তির পতাকা আর ফোয়ারা উড়বে ঝরছে নিশ্চয়!

আমার বড় ঘৃণা হয় ঘৃণায় গায়ে গা লাগিয়ে কোথায় চলে যায়?
ওরা আজ আস্ত গিলে গিলে খাচ্ছে
আজ মানুষ মানুষের রক্ত কী করে খাচ্ছে?
ওরা কী মানুষ! ওরা আসলে মানুষ নামের জানোয়ার!
খাচ্ছে আরো আরো তো চাচ্ছে; অবাক পৃথিবী শুধু তাকিয়ে দেখছে! দূর প্রতিবাদ করে কতটুকু সমাধান হচ্ছে?
যাও না এগিয়ে ওরে ওরে আমার জাতভাই।
ওদের লাগি সমস্ত পূতাত্মা কাঁদে ওরা যেঁন পাই ঠাঁই।
আজকের দিনে আর কিছু চাওয়া নাই ওগো ও সাঁই!

ওরা তো রক্ত খেকো
বেবি শিশুর মতো
ফিডার টেনে টেনে খাচ্ছে
আর আরাম সারাম পাচ্ছে
দুধের বদলে গরম গরম রক্ত শুধু টেনে টেনে খাচ্ছে
আমার মায়ের রক্ত খাচ্ছে
আমার বাবার রক্ত খাচ্ছে
আমার বোনের রক্ত খাচ্ছে
আমার সন্তানের রক্ত খাচ্ছে
আমার স্বজনের রক্ত খাচ্ছে
আমার পড়শীর রক্ত খাচ্ছে।

ওদের পেট আর কতো বড় হবে!
আমি অম্বলের রোগ হয়ে ওদের বিস্ফোরিত হাওয়াতে অভিশাপ দিয়ে দেবো
ওরা বিলিয়ে গুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে
আমি বিশ্ব মানচিত্র সুদ্ধ খেয়ে ইজরায়েলের মুখে একদম বমি করে দেবো
আমি সপ্তসাগর জল পান করে করে ওদের চিহ্ন বমি করে সত্যিই ভাসিয়ে দেবো

আমার বড় ঘৃণা হয় ঘৃণায় যে মরে যেতে ইচ্ছে হয়

সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে প্রিন্ট মিডিয়া
অথবা ইলেকট্রনিক মিডিয়া মিলেমিশে আজ কী খবর আনছে
খবর দেখে মান হৃদয় পুড়ে পুড়ে গোরস্তান হয়ে যাচ্ছে।

দেশ দেশের খাচ্ছে
আকাশ আকাশের খাচ্ছে
ভূমি ভূমির খাচ্ছে
সীমান্ত সীমান্তের খাচ্ছে
প্রাচীর প্রাচীরের খাচ্ছে
কাঁটাতারের বেড়া কাঁটাতারের খাচ্ছে
গুষ্টিসুদ্ধ রকেট স্পিডে আস্তো খেয়ে একদম
উদ্ধার করে দিচ্ছে!
করোনা করোনার খাচ্ছে
অদৃশ্য অদৃশ্যের খাচ্ছে
তবুও খাওয়াখায়ির দুনিয়ায় পেটটা কী ভরছে?
মনটা কী ভরছে?
শুধু শুধু হৃদয় পুড়ে যাচ্ছে!
আর অন্তর পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে।
এ কেমন জ্বালা দিয়ে পাঠালে ওগো দয়াময় অন্তর্যামী
কেউ সুখী নেই ওগো বিধাতা ধরিত্রীর কোনো মানব-মানবী!

কেমন সুখের পৃথিবী পেলাম বলুন তো আজ হাতে?
ওগো খোদা তোমার রাজ্যে সবকিছু তো তোমার-ই হাতে!
তবে এ কেমন খেলা খেলিছো তুমি শূণ্যপুরে বসে??

আমার ইচ্ছে করে আজ আত্মঘাতী হতে
খোদা ক্যানো বলো না আত্মহত্যার অধিকার আছে!
……………………………………………

শংসাপত্রে নৈরাশ্য

আমি কতেক শংসাপত্র তোশকে কী করে ঘুমাই?
বরং আমি তপ্ত উষ্ণ ল্যান্ডস্কেপ ধরে হেঁটে বেড়াই!
এবং আমি দেখা সমস্ত সদনের লোনা জলে
সাতাশ সাগর আর পাঁচ মহাসাগর আতস আগে!

উনুনের হাড়ির কান্না কৃষকের লাঙলের কান্না
প্রতিটি পুত্রের প্রতিটি কান্নায়
প্রতিটি স্বরে; প্রতিটি অবজ্ঞার ক্রন্দনে
ক্রমে ক্রমে হৃদয়ে লুটনের অন্তর্দাহ আমি জ্বালি

টিনি খেতিমজুরের কাঁদনে
কান্নার জলপুরে লহু ইন্ধন করে
নয় নিবাসে বাহিরে নিরাধারে
ইঙ্গিত সঙ্কেতে অঙ্গ স্বেদে রক্ত নামে

নচেৎ স্তূপে স্তূপে সারা সরণিতে আমি দেখি
কিউট সনন্দে কীভাবে ক্লেশ সাক্ষ্য দেয়
দেখে আনকা অপত্য আসা কচি দূর্বা কুঁড়ি
দেখিলে ভয়ে আতঙ্কে শঙ্কিত হয়ে পালায়

পলকা, সমস্ত শংসাপত্র সময়ে স্রোতে হারায়
আজ থেকে তার সমস্ত দায়ভার আমার
……………………………………………

দুঃখ পর্যালোচনা

দুঃখগুলো মিলেমিশে একাকার ব্লু ব্রাইন জলে
জল নেমে পুড়িয়ে দেয় দুখীর বিশালতায়
নিয়মিতই নিরয় নিরাকারে নাড়া দিয়ে জাগায় ভয়
দুখীর দিলে এক অতৃপ্তিদায়ক অম্ল বিষণ্ণতায়
এই সাংসারিক স্থানে কেহ একান্ত পান্থ পথিক নয়;
জনিতা নিয়তি হতে নেমে এসেছে দ্বৈতসঙ্গীত হয়ে
পরম সুখের সেই দুধরাজ সংসক্তির অবসন্নতায়-
ঠাহরে তব কেন মদীয় গুণে একতা পাবো না!

দেখো আলিঙ্গনে কিভাবে ছুঁয়েছে ঐ সাগর-
অশান্ত জলতরঙ্গরা কোলে কোলে ফেটে পড়ে উপচে পড়া জলে
কঠিন পাষাণপ্রতিমা কোন সহোদরা সিদ্ধি না দিয়ে পারে তার ব্রো মুকুলকে
দুনিয়াসম দুঃখ নিয়েও যদি নিবেদন করে তাকে করজোরে
যেমন এই অক্সিজেন আলিঙ্গনে আলিঙ্গনে আদর করে বাঁচিয়ে রেখেছে প্রাণীজগতটারে
লা! লো! পানির চাপ চুম্বনে কেমন আলো ছড়ায় মহাপৃথিবীর ঘরে

দুঃখগুলো মিলেমিশে একাকার ফাগুন বনে
দেখ মনের বনে সমস্ত সুখবৃক্ষও আনমনে
……………………………………………

কুয়াশার কারনেশান

স্বপ্নবিলাসী এ বাগান বিলাস-
তাই স্বপ্নতেই সাজিয়েছিলাম।
কখনো স্বর্গ বলাকার ডানায়,
কখনো বা কজ্জলের ছাদে বসে!
কিংবা নায়াগ্রার ধারাপাতে শুয়ে;
ইদানীং এখন কল্পনার সুতি কাঁটা ঘুড়িতে দাঁড়িয়ে।
কখনোবা চৈতী হাওয়ার শোঁ শোঁ জল নাচে
বোশেখের ঘটা কাল বোশেখের কালঝড়ে কর্ণপূরক বনে
কখনও কখনও শ্রাবণ বাদল জলধারায়।
কখনো বা ভাদ্রার ফুল হলুদ বেগুনি রঙে
সেজে সেজে সাজিয়েছে নীলাকাশে জলরাশি বনে
কখনো আবার উদাস দুপুরে রাখাল বাঁশির সুরে

স্বপ্নবিলাসী এ বাগান বিলাস-
অতএব স্বপ্নতেই সাজিয়েছি সুরে সুরে সব সুর
স্বপ্নতেই সমস্ত নক্ত করেছি সকাল সকাল

স্বপ্নবিলাসী যদি গোস্তাকি হয়,
চলে যাবো আমি স্বপ্নের সিঁড়ি ধরে স্বপ্নপুরীর দেশে
স্বপ্নবিলাসী আমি-ই বাগানবিলাস!
……………………………………………

মাটির আত্মকথা

তুমি কি আমার মাটি হবে?
দেহ গড়া এ মাটির মতো!
আমি জানি আমার ভিতরে
মাটি তুমি বিশ্বাস করো,
সে ততোটুক উষ্ণতা সহে
যতোটুকু প্রতাপে নয়নে;
তুমি আমার দিকে তাকাও
আনুগত্য রাখো, খালি এতোটুকু বেশি নয়!
যদি সে তোমার আত্মা অন্তরকে অধীর করে
তাহলে আস্থা অভয় আরো সূর্যের আলোর মতো হয়

তুমি কি আমার মাটি হবে?
কোনো তপ্ত কিংবা সাহারার উত্তাপ মাটি নয়
কোনো জলমগ্ন ভূমির আভায় জ্বাজ্জল্যমান ও রৌদ্রোজ্জ্বল মাটি!

এখানে কী ভালোবাসা কভু নিঃশেষ হয়ে যায়!
এখানে কী ভালোবাসা নিরেট ভোঁতা হয়ে যায়!
এখানে ছন্দহীন হৃদয় শুধু মাটিতে হয় অসাড়
যখন সত্তার খুব গভীরে গভীরতম ভাবেই ভাবায়!

যদি আমি মৃত্তিকা হতাম
তবে কোথায় শূন্যতা পূরণ করতে হয় খবর রাখতাম
আসলে আমি মৃত্তিকা নয়
অই কারিগরের গড়া দেহ মাটি আসলে ধ্রুব ভগবান।