সন্ধ্যা আমার যমজ চোখ

জরাজীর্ণ সন্ধ্যা ভাগ্যহীন
আকাশে একটি তারা জ্বলছে
ওটা আমাদের অব্যবহৃত একটি দিন
আগামী কুয়াশায় নৌকা ভাসাবো আর আমরা ঠিক পৌঁছে যাবো পাথরে

পৃথিবীর গায় ছত্রাক
বৃষ্টি ইতিহাস
বিদ্যুতে লেখা জীবন আর মানুষের দেহ একটি শুকনো জলাধার
তারপর রাত্রির রাস্তার ফাঁপা শব্দ
আমি হাত ঢুকিয়ে দিই
জরায়ু থেকে ছিঁড়ে আনি চাঁদ
আমাদের কষ্ট এখন কাঠ
দূরে আগুন জ্বলছে কোনো এক নিশীথ কণ্ঠস্বর

দুঃখ একটি তৈরি করা বাড়ি
আর পানশালার কয়েকটি সিঁড়ি আমাদের আকাশ
ছাদে রোদ পোহায় টক স্বাদ
ইতর হৃদয়
দেয়ালের গায়ে রক্ত
আর ঝড়ে ঝুলে রয়েছে বাঁদর

রান্না ঘরে অসময়
আরশোলার পালক
আমার অসুখ
সন্ধ্যা আমার যমজ চোখ
…………………………………………..

শীত আসে ফেরিওয়ালাদের মতো

তোমার মৃত্যুর বহু বছর পর শহরের ওপর একটি কাগজ উড়ছে
এখানে একটি মহাদেশ এসে অপেক্ষা করে চলে যায়
আলমারির আকাশ
একটা নক্ষত্র
রেস্তোরাঁ
নাগরিক গাছ
কাক মাংস খাচ্ছে
আর তুমি একাকি পুড়ছো

সুদীর্ঘ লেখা ইলেকট্রিক লাইন
হত্যা প্রবণ সমুদ্রের ধার
তোমার শরীরের কিছু তুখোর কথা
তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে

ফিল্ম
ধূসর আর ভাঙা
দু চারটি শতাব্দী
বেনামী মেঘ
আমাদের জানা ছিল না কিছু মানুষের জঙ্গল
যখন একসঙ্গে অসংখ্য প্রতিধ্বনি হয় বুনো হৃদয়ের

অন্ধকার জলাশয়
তোমার ব্যবহার করা প্রেম
সিঁড়ির নিচে কিছু ছায়া
সেসব এখন ঘুমন্ত অসময়

জীবনের হাওয়া
নারী জন্মের চিৎকার
দুর্গের ওপর দূর উদাসীন হাত
আর একটি গৃহপালিত যুদ্ধের বই
দেয়ালে আমার বন্দি আত্মার নিরবতা

সন্ধ্যা হয়েছিলো নিখুঁত একটি মৌমাছির ঝাঁক
শীত আসে ফেরিওয়ালাদের মতো
মৃত্যুর এত বছর পরে শহরের ওপর কাগজ উড়ছে
…………………………………………..

ইতর রাস্তা

বন্যা থামেনি অনেক বছর
আমার উচ্ছ্বাসের ওপর দু-একটা হাত পড়ে রয়েছে

জীবন উড়ছে
দেয়ালে মৃত্যুর রং
ইতর রাস্তাটা বাড়ির চারপাশে সর্পিলের মতো ঘুরছে
প্রতিবেশীদের বাড়িগুলোও জলের নিচে
আবিস্কার করা কোনো এক সভ্যতার নিদর্শন স্বরূপ

হাওয়ার তলপেটে জমাট রক্ত

আকাশে গর্তের মুখে ঈগলের পালক
আর একটি উট ভেসে চলেছে সীমান্ত এঁকে

গাড়ির ভেতরে সময়
আইস ব্যাগে সূর্য

যুদ্ধাপরাধ আমাদের জীবন
পোশাকের মানব ধর্ম
মেঘ করেছে
বৃষ্টি ঝরছে
মৃত্যুও থামেনি গাড়ির চাকায়
ইতর রাস্তা
দেয়ালে মৃত্যুর রং আমাকে সম্মান করে বছরের পর বছর
…………………………………………..

অচেনা ভাগ্য

অন্ধকার গলি
ম্যানহোলের মুখ খোলা
রাত্রি এক বিবাহিত নাগরিকের মতো ফিরে যাচ্ছে গৃহ পানে
সন্ধ্যা নেমেছে অলস হলুদ রঙের

নদীতীরে প্রবাসী শহর
অবিন্যস্ত চুল
আগামী কয়েক বছর কেটে গেছে জানলা দিয়ে চেয়ে চেয়ে

কোমরের বেল্টে সূর্য ঘুরছে
পৃথিবী ক্রমশ ছোটো হয়ে আসছে
ঠিক একটি পুরনো সাইকেলের চাকার মতো
আর আমি জানি না কিভাবে তৈরি হচ্ছে জল
এভাবে আমি সারাদিন কাটিয়েছি ইলেকট্রনিক চুল্লীতে
পোড়া শেষ হয়নি একটি বিষণ্ণ পাণ্ডুলিপি
বিরামহীন বালতির শব্দ

ইতিহাসের ঘরে
লিফটের নিচে আলো জ্বলছে

আমার রক্তের জলাভূমি
যক্ষ্মা আক্রান্ত আমার প্রেম
মাছিদের মর্মর কলরব সব আমি পাঠিয়ে দিয়েছি শূন্যে

ঝড়ের প্রতিবিম্বের ভেতরে গাছ
আমার জিহ্বায় সামান্য একটি এলাচ
সুগন্ধ সমাধি

ঘুমের প্রস্তর যুগ
অনাহার আর দেশ হারাবার ভয়
বালির ছায়া
নীল আকাশ আর অসংখ্য নক্ষত্র
অচেনা ভাগ্য আগামী কাল
…………………………………………..

আমার অসংখ্য জীবন

আমার শরীর ছোটো হয়ে এসেছে
ফাঁপা একটি শব্দের ওপর বসে থাকি দিনরাত্রি
নাভির প্রতিধ্বনি কানে এসে
পুনরায় ফিরে যায়
ঠিক একটি রেলগাড়ি যেমন যাতায়াত করে প্রত্যহ
বাঁকের মুখে হুইসেল বাজিয়ে সতর্ক করে আমার অসংখ্য জীবন

নীল ঘুমে আচ্ছন্ন একটি যুগ
বন্ধ দোকানের ধারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকে কুয়াশারা
আর নিরন্তর হারিয়ে যায় প্রযুক্তির ভেতরে সুখ ভোগের সময়

মানবতায় খাবারের স্বাদ খোঁজে আমার পুরোনো হৃদয়
গর্ব করে বলি আমাদের অহংকার আদার গন্ধ

আমার শরীরের খাঁচায় বন্দী বাঘ
রক্ত স্রোত জলাধার
আমার হাড় পর্বতের আশা

ভালোবাসার মর্মর মূর্তি
গভীর রাত্রি গত শতাব্দীর একটি দুঃখী মেয়ে মতো
আকাশে নক্ষত্রদের ছড়াতে ছড়াতে কারা নিয়ে যাচ্ছে একটি দেহ
এখনো বড় রাস্তায় পড়ে রয়েছে পোশাক
দূরে অসম্ভব মেঘ

ফাঁপা শব্দের ওপর আমি বসে রয়েছি
আমার শরীর ছোটো হয়ে এসেছে
…………………………………………..

অসময়

সূর্যের ব্যালকনিতে ঘন্টা বাজে
শেষ হয় আমার বেলা শেষের পোড়া
নিঝুম সন্ধ্যা নামে
আর আমি নেই

ভুয়ো স্তম্ভ
নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে নদী আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়
অন্ধকারের মহা সমারোহের দিকে
একবিন্দু প্রবল শূন্যতা
জ্ঞান হারা নৌকা
শুকিয়ে আসে মহাকাল

পিশাচের হৃদয়
হাওয়ায় আলো জ্বলছে
যাকে আমি বার বার বর্ণনা করেছিলাম এই শহর
লাল সোনালি স্বর্গের গলি
নিষিদ্ধ পারাবার

শয়তানের মস্তক হাতে সুদীর্ঘ মানুষ
ঘুমন্ত শিশির
রাজপথের ভেতরে মেঘ ডাকে
আর সাড়া দেয় একটি অদ্ভুত অসময়

আকাশের একটি ক্ষত
চুঁইয়ে পড়ছে রক্ত
ভিজে যাচ্ছে আমার হাত

পৃথিবীর একটি মাত্র বই সে সব এখন ঝড়

আমারা শহীদ মিনারের নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম
সেখানে জড়ো হয়েছে সব নক্ষত্ররা
পুনরায় পাণ্ডুলিপি তৈরি করবে বলে
তবুও রাত শেষ হয় না
…………………………………………..

জলে সন্ধ্যা নামছে

জলে সন্ধ্যা নামছে
আর একটা বিষাদ পাথর ভেসে উঠছে ভারাক্রান্ত ভাবের ওপর
মনে হয় বেশকিছু কবর

আমাদের পূর্ব পুরুষরা এখন নদী

দূর অববাহিকায় বাড়ি ঘর গুলো নিঝুম পালক
আর সামান্য কিছু ফসফরাস
চাঁদের ভাঙা অংশে রয়েছে আরো কিছু সর্বনাশ

রাত্রি নেশার মতো হয়ে আসে
ঘুমে পোকা ধরে
রক্তাক্ত হয় নক্ষত্ররা
দরজার ধারে এসে দাঁড়ায় প্রবল ভয়

মৃত্যু মদ আর ইতিহাস
ঊষর ভূমি
কুয়াশা খেয়ে ফেলেছে সব

মানুষের অসুখের মতো আলো উৎস থেকে জ্বলে উঠে নিভে যাচ্ছে

বৃষ্টির দেয়ালে একঝাঁক কান্না
অরণ্যের গুঞ্জরণ
ফাঁকা মাঠে প্রার্থনা

দুঃখ নেই
সুখের ফাঁপা কাঠ ভিজে দেশলাই
ঠিক একটি ধর্মশালা যেমন হয়

আমি ভৌতিক মানুষ
জরাজীর্ণ শরীর
এখানে বাঁশি বাজে দিন রাত্রি
আমাদের পূর্ব পুরুষরা এখন নদী
…………………………………………..

আকাশে মধ্যযুগের চিৎকার

আকাশে বার বার মধ্যযুগের চিৎকার

রাতের শহর
গলি গুলোতে মেঘ এসে দেয়ালে লিখছে মানুষের দু একটা লজ্জা

প্রাচীন উপকথা চাঁদ ডুবে গেলে
অন্ধকারে ভেসে বেড়ায় চিরন্তন এক সত্ত্বা
ভবঘুরে মানুষ নৌকা
বিপন্ন জাহাজ ফেলে গেছে একটা তক্তা

অবচেতনে আমার হৃদয় পান করছে আমার রক্ত
তাই এত সবুজ গাছ
দুঃখ সব কাঠ

হাওয়া রাতের সার্কাসের তাঁবু
দোলা খাচ্ছে আমার শিশু কাল
আর জলের রিজার্ভার আমার কান
উপজাতি ঝর্ণার গুঞ্জরণ

উড়ে যাচ্ছে কাকের কালো বিন্দু
শূন্যের একটি আঁচিল
দিগন্ত বন্ধ
পুনরায় ফিরে আসছে আমার দূরদৃষ্টি

ঘুমের গন্ধ
আমার মনে জন্মাচ্ছে ইঁদুর
আর একটা ঘোড়া দৌড়ে পার হচ্ছে খরস্রোত

প্রবল ইতিহাসের মুখে
শুকনো পাতার উচ্চারণ

তারপর আমার মৃত্যু একটি নিখোঁজ ঘর
আকাশে ঠিকানাহীন বার বার চিৎকার
…………………………………………..

আকাশ নিদর্শন

আকাশ নিদর্শন
আমি তাকিয়ে থাকি মাইলের পর মাইল
পাথরের ওপর নক্ষত্রদের খড়ম পায় হেঁটে বেড়ানোর শব্দ শুনি
আর আমার পূর্ব পুরুষদের চলাফেরা গুলো গুছিয়ে নিই হাতে
কুয়াশা আমাকে আদর করে
বৃষ্টির অপর প্রান্তে ছোট একটি অনন্তকাল নৌকার মতো
ভাসছে আর সুদীর্ঘ এক নদীকে গুটিয়ে নিচ্ছে দাঁড়ে
দুঃখের পর্বতমালা
শূন্যের অন্তরাল থেকে আমি দেখছি কি কঠিন আমার জীবন
প্রাচীন ভোর
মোরগের মতো কাঁধ ঝাঁকালাম আর জেগে উঠল ডাঙা
তারপর প্রবাহমান ঝড়
আকাশ নিদর্শন স্বরূপ
আমি কিছু জানি না
…………………………………………..

মেঘে বাঘের মূর্তি

আমার দেশ কুয়াশা
যদি মরণের পর স্বাধীন একটি রাষ্ট্র পাই তাহলে খুলে দেবো আজন্ম হাত
দুঃখের ও কবর দেওয়ার জায়গা নেই
ছায়াপথ দিয়ে নক্ষত্ররা চলে যায় আমি ইতিহাসের ছাত্র ছিলাম না
তাই ওরা আমার সঙ্গে কথা বলে নি
খড়কুটোর মধ্যে জন্ম একটি গাছ আমি
জল্লাদের হাতে চাঁদ
আর একটি নরক খণ্ড
জ্বলন্ত ছুরিতে কাটা আঙুল

এ কদিন কেউ ফেরেনি ঘরে
একটি প্রজাপতিকে ব্যবহার করে নি হৃদয়ে
আর যে পর্বতকে কামানের মতো সাজিয়ে রাখা হলো
আমাদের উত্তরাধিকারীদের জন্য
আমি তার ওপর রেখে এসেছি একটি মৃত গোলাপ
মেঘে বাঘের মূর্তি
আর আমাদের মাতৃভূমি কুয়াশা