আস্সালামুআলাইকুম…আল্লাহর রহমাতে আশা করি সকলে সুস্থ আছেন। প্রথমেই সেই মহান সত্তার প্রশংসা না করলেই নয়, যিনি আমাদেরকে এখনো জীবিত রেখে আমাকে আবারো লেখার এবং আপনাদের পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। (আলহামদুল্লিলাহ) একটা কথা আপনাদের না বলে থাকতে পারলাম না। আমি আমার জীবনে প্রথম কোনো পত্রিকায় লিখলাম (ইয়াতিমের সম্পতি ও তার সাথে আচারণ) তা প্রকাশও পেলো মার্চ মাসেশাপলানামক শিশুদের মাসিক পত্রিকায়। আর এই লেখার জন্য আমাদের খুলনা বিভাগের ইনর্চাজ আব্দুল গফুর স্যার আমাকে উসাহিত করেন। আমি স্যারকে এবং শাপলা নামক পত্রিকার সম্পদকসহ সকল বন্ধুদের জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে এমন সুন্দর একটি সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমি এখানে লিখতে পেরে এতো খুশি যে লিখে প্রকাশ কারতে পারবো না। ইনশাআল্লাহ আমার পারবো বিদ্রহীকবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের চাইতে বড় হতে। আল্লাহ আমাদের সহয়হন (আমিন)

চরিত্র মানব জীবনের শ্রেষ্ঠে সম্পদ। এবার আমি আপনাদেরকে চরিত্র নিয়ে কিছু কথা স্বরন করিয়ে দিতে চাই। চরিত্র এমন একটি সম্পদ যেটাকে একবার হারালে আর কখনোই ফিরে পাওয়া যায় না।যেমন ধরুন আপনার নামায নষ্ট হয়ে গেলে আপনি পুনরায় (নির্দিষ্ট ওয়াক্ত এর মধ্যে) আদায় করে নিতে পারবেন। ওজু নষ্ট হলে আবার করা যায়। কিন্তু চরিত্র এক বার নষ্ট হলে, সেটা কি ফিরে পাবেন ?ধন-দৌলত, আভিজাত্য, শক্তি, রূপ প্রভৃতি মানুষের প্রকৃত পরিচয় নয়।মানুষের চরিত্রই হলো তার আসল বা প্রকৃতি পরিচয়।

সকল কাজের ফলাফল নিয়াতের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়াত অনুসারে কাজের ফলের অধিকারী হয়। “সর্ব উত্তম ব্যাক্তি সে যে নিজে শেখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়” হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা আমার পক্ষ থেকে (অন্যের কাছে) পৌছে দাও, যদিও একটি মাত্র আয়াত (বাক্য) হয়। আর বনী ইসরাঈলের কাছ থেকে শোনা কথা বলতে পারো, এতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে আমার উপার মিথ্যা আরোপ করে চালিয়ে দেয় সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে ঠিক করে নেয়। (বুখারী)

আমরা ছোট বেলায় পড়েছি যে মুনাফিকের আলামত তিনটি, নিম্মের হাদিস থেকে জানলাম চারটি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন ঃ রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন ঃ যে লোকের মধ্যে চারটি দোষ থাকবে সে খাঁটি মুনাফেক। আর যার মধ্যে যে কোনো একটি দোষ থাকবে, তার মধ্যে মুনাফেক হবার স্বভাব বিদ্যামান। তবে সে (আপন দোষ সংশোধন করে) যতক্ষণ না তা ত্যাগ করে। (আর চারটি দোষ হলো) ঃ ১. আমানত রাখা হলে তা সে খেয়ানত করে, ২. কথা বললে মিথ্যা বলে, ৩. ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) করলে তা খেলাফ কওে এবং ৪. ঝগড়া-বিবদি করলে সে অশ্লীর ভাষা ব্যবহার করে। (বুখারী-মুসলিম)

চরিত্র কি বা কাকে বলে?

মানুষের জীবনের কাজ-কর্ম, চিন্তা-ভাবনায়, ওঠা-বসা, আচার-আচারণের অর্থাৎ মানুষের সমগ্র জীবন পরিচালনায় সর্বদা পুত পবিত্র ভাবকেই চরিত্র বলে। চরিত্র মানুষকে ন্যায় পথে, সৎ পথে ধাবিত করে। সত্যনিষ্ঠা, গুরুজনের প্রতি বক্তি, ন্যায়পরায়নতা, আত্মসংযম ইত্যাদি গুণই চরিত্রবান বা স্বচরিত্রবান লোকের লক্ষণ। যিনি চরিত্রবান তিনি কখনই সত্য থেকে স্খলিত হন না, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না, ক্রোধে আত্মহারা হন না, কখনও কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন না। তিনি সব সময়ই মানুষকে ভালোবাসার চোখে দেখেন।

ভালো মানুষ কে?
সবাই ভালো মানুষের প্রংশসা করে। যাকে ভালো মানুষ বলে মনে করা হয় তাকে সবাই শ্রদ্ধাও করে। কেউ তাকে মন্দ বলেনা। ভালো মানুষের পরিচয় কি? যে সব সময় সত্য কথা বলে, কখনও মিথ্যা বলেনা; যে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করে, কারো
সাথে ঝগড়া-বিবাদ করে না; কাউকে ঠকায় না, কারো ক্ষতি করে না, ওয়াদা খেলাফ করে না কথা দিলে কথা রাখে, যে আপদে-বিপদে অন্যকে সাহায্য করে, হাসি মুখে মিষ্টি ভাষায় কথা বলে। কিন্তু আমাদের সমাজে এমন চরিত্রের মানুষ খুবিই কম, আমরা যদি সমাজে শান্তিতে বসবাস করতে চাই তাহলে জানতে হবে যে, কীভাবে উত্তম চরিত্র অর্থাৎ ভালো মানুষ হওয়া যায়। তবে এ চরিত্র এমনিতেই স্বাভাবিকভাবে আসেনা, এটাকে অর্জন করতে হয়। এ অর্জন এক দিনে সম্ভব নয়। মানুষকে তার জীবন প্রণালীর ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এটি অর্জন করে নিতে হয়।

আমি যদি আমার জীবনে সত্যি উন্নতি করতে চাই তাহলে আমার প্রত্যেক দিনের চব্বিশটি ঘন্টা কিভাবে খরচ করব তা চিন্তা ভাবনা করে লিখে নিতে হবে। এটা হলো আমাদের দিনলিপি,আমার বড় বড় দায়িত্ব ও কর্তব্য কী কী। এসব কর্তব্যের দিকে খেয়াল রেখেই সময় ভাগ করতে হবে। মুসলিম হিসাবে প্রথম জামায়তে নামায আদায় করা, কুরআন বুঝে পড়া, ইসলামী বই পড়া, পাঠ্য বই-পুস্তাক পড়ার সময় ইত্যাদি যার যার প্রয়োজন মতো তৈরি করে নিও। আর হ্যাঁ! ছোট্ট-ভাই বোনদের কে আদর করা, আব্বু-আম্মুর কোনো কাজে সাহায্য করা এবং ফেসবুকের কথা ভুলো না, অর্থাৎ বিনেদনের জন্যও সময় রেখে নিজের দিনলিপি তৈরি কর।

ভালো বন্ধু কে?

আমরা এখন তরুন-তরুনি, কিশর-কিশরী এই বয়সে আমাদের অনেক বন্ধু-বান্ধব হয়ে থাকে। তাই বন্ধু-বান্ধব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখবো। যে তার চরিত্র কেমন ? সে কি তোমার বন্ধু হওয়ার যোগ্য ? মনে রেখো “সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ”এটা আমার কথা নয় গুরুজনদের কথা। তোমার বন্ধু নামায পড়ে, রমযানে রোজা রাখে, অন্যের কাজ সাহায্য করে, বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করে, নিয়মিত পড়া-লেখা করে, ইসলামি সাহিত্য পড়ে ?তুমি নিজে করতো ?তোমার একজন ভালো বন্ধুই পারে তোমার জীবনটাকে সুন্দর পরিপাটি করে সাযাতে। বন্ধু হলো অনুপ্রেরনার মাধ্যম, উৎসহের ভান্ডার।

উত্তম চরিত্র গঠনের উপায় কি ?

মানুষের তৎপরতা যত বৃদ্ধি পায়, যত অধিক গুরুত্ব অর্জন করে, সেখানে শয়তানের হস্তক্ষেপও ততই ব্যাপকতর হতে থাকে। এদিক দিয়ে বর্তমান যুগ উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এ যুগে একদিকে পাশ্চত্যের বস্তুবাদী ও স্বার্থপূজারী সভ্যতা আমাদের জতির নৈতিক পতনকে চরম পর্যায়ে উপনীত করেছে, অন্যদিকে চলছে সমাজতন্ত্রের নাস্তিক্যবাদী চিন্তার হামলা। এ হামলা আমাদের জাতির মৌলিক ইমান-আকিদার মধ্যে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ইসলামের সাথে জাতির গভির প্রেম-প্রীতিময় সম্পর্কের ভিত্তি নড়ে উঠেছে। বিপর্যয় ও অনিষ্টকারিতার ‘সিপাহসালার’ শয়তান যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল হুবহু তারই চিত্র যেন আজ ফুটে উঠেছে। শয়তান বলেছিল ঃ আমি (হামলার করার জন্য) এদের (মানব জাতির) সামনে থেকে আসবো, বাম দিক থেকে আসবো।
“এ অবস্থায় আমাদের অনেক কল্যাণকামী বন্ধু দুনিয়ার ঝামেলা থেকে সরে এসে সংসারের একান্তে বসে কেবল নিজের মুসলমানিত্বটুকু বজায় রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালাবার উপদেশ দান করে থাকেন। অবশ্য এ অবস্থার মধ্যে অবস্থান করা মামুলী ব্যাপার নয়। সাধারণ অবস্থায় প্রত্যেক সৎ ব্যাক্তি নৈতিকতার আদের্শকে কায়েম রাখে। কিন্তু নৈতিক উচ্ছৃঙ্খলার প্রবল বাত্যা পরিবেষ্টিত হয়ে উন্নত নৈতিক বৃত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা চাট্টিখানি কথা নয়।”(সূরা আরাফা:১৭) “হে ইমানদারগণ! যদি কোন ফাসেক ব্যাক্তি তোমাদের নিকট কোন খবর নিয়ে আসে, তাহলে (সে সম্পর্কে চিন্তা গ্রহণের পূর্বে) অনুসন্ধান করো, যাতে করে তোমরা অজ্ঞাতে (বিক্ষুব্ধ হয়ে) কোন দলের ওপর আক্রমণ না করো এবং পরে এ জন্য পস্তাতে না হয়।”(সূরা হুজরাত:০৬)

পরিশেষে বলা যায়, যদি আমরা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক কায়েমের যথাযথ ব্যবস্থা করে দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলার আনুগত্য করি এবং উল্লেখিত নৈতিক গুনাবলী নিজেদের মধ্যে সৃষ্টি করে কর্মক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পড়ি, তাহলে ইনশাহআল্লাহ আমাদের ব্যর্থতার সামান্যতম সম্ভাবনাও নেই। আল্লাহ যদি আমাদেরকে স্বয়ংসম্পূর্ন হবার তিনটি সুযোগ দেন তাহলে বিশ্বাস করুন, আমার ব্যবসায় যে পুঁজি খাটাচ্ছি তা কয়েক গুন অধিক মুনাফা দানে সক্ষম হবে।