ব্রহ্মপুত্র নদীর শাখার কিনার দিয়ে যে জনবসতি গড়ে উঠেছে তারই একপাশে আমীরুদ্দীনের বাবা জায়গা কিনে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছেন। এলাকাটা বেশ ফাঁকা। বাড়ি-ঘরগুলো গা ছাড়া ছাড়া। শহরের মূল রাস্তা থেকে দক্ষিণ দিকে পোস্টাফিস ঘেঁষে ইট বিছানো রাস্তা চলে গেছে একটু বেঁকে। রাস্তাটা খুব বেশিদূর যায়নি। উঠেছে শহরের বাজার রাস্তার ওপর। পোস্টাফিসের পেছনেই পুলিশ ফাঁড়ি। ফাঁড়ির সামনে বিশাল ময়দানটির ঠিক মাঝখানে প্রকাণ্ড বকুল গাছ। এতোবড় বকুল গাছ সাধারণতঃ কম চোখে পড়ে। কিন্তু এ শহরের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিশাল আকারের বকুল আর জাম গাছের ছড়াছড়ি। ছোটবেলায় খুব সকালে বকুলফুল কুড়াতে আসা এক রুটিন ওয়ার্ক ছিল আমীরুদ্দীনের। বোনসহ আসতো বকুল কুড়াতে। আসতো পাড়ার অনেক ছেলেমেয়ে। সেসব ছেলে-মেয়েদের মধ্যে একটি মেয়ের মুখ আমীরুদ্দীনের মানসপটে আজো উঁকি দেয়। নাম কি যেনো, মিনা। যদিও শৈশবকালের ঐ অনুভব-অনুভূতির কোন আকার ছিল না। রিক্সা এই গলির রাস্তায় পড়তেই আমীরুদ্দীনের মনে হঠাৎ ঐ মেয়েটির মুখ মনে পড়ে যায়। আমীরুদ্দীনদের বাসা পুলিশ ফাঁড়ি ও দারোগার বাসা রেখেই একটু দক্ষিণে। এখান থেকে রাস্তা পূর্বদিকে মোড় নিয়েছে। অনেকে এ বাসাকে ‘দক্ষিণের বাসা’ বলে। আরেকটি নাম আছে তা হলো ‘কামিনী ফুলের বাসা’। বাসার গেটের দু’পাশে দুটো বড়ো বড়ো কামিনী গাছ। বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করা বাসা। গেটটিও বাঁশের বুনন দিয়ে গোলাকৃতির তোরণ নির্মাণ করা। বেশ আকর্ষণীয়। তোরণের ওপর লতিয়ে আছে অপারিজতা ফুল গাছ। এ গাছের আরেক নাম বোগেনভিলিয়া। আমীরুদ্দীনদের বাসায় হরেক রকম ফুল গাছ আছে। বাগান চর্চা করেন আমীরুদ্দীনের বাবা আতাহার বিএসসি। এক নামে শহরের সবাই চেনে। ফুল ভালবাসে সেও। আর তার ছোটবোন পিয়ারী। সর্বকনিষ্ঠ বলে বাবা আদর করে এ নাম রেখেছেন।
রিক্সা এসে থামল বাসার গেটের সামনে। আজ সে বাসায় সন্ধ্যা রাতে ফিরল। এমন সময় বাসায় ফেরার নিকট ইতিহাস আজকাল কম। ইদানিং পলিটিক্সের কারণে বাসায় থাকাও কালে ভদ্রে ঘটে। রিক্সা থেকে নামার সময়ই কামিনী ফুলের মাদকতাময় সুঘ্রাণ তার নাকে এসে ধাক্কা খেল। চোখ তুলে তাকাল। দু’টি গাছেই অজস্র শাদা ফুল। শরতের আকাশ হলেও আজ বেশ পূর্ণিমা। শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া কি তৃতীয়া চাঁদ।
ভাড়া মিটিয়ে আমীরুদ্দীন গেটের সামনে দাঁড়ায়। ঘরে ঢুকতে মন চায় না তার। ইচ্ছে করে একটা চেয়ার নিয়ে এখানে খানিক সময় কাটিয়ে দেয়। কামিনী ফুলগুলো আমীরুদ্দীনের কাছে আকাশের তারার চেয়েও উজ্জ্বল মনে হতে থাকে। আসলে তার বাবা এমন রোমান্টিক মনের মানুষ ভাবলে অবাক লাগে। এমন সুন্দরভাবে তাদের বাসা সাজিয়েছেন কুড়েঘর হলেও মনে হয় জমিদার বাড়ি। সবকিছুতে রয়েছে বাবার নিপুণ স্বভাবের ছাপ। ভাই-বোনদের মাঝে বাবার এই গুণ কারও মাঝেই এখনো দেখা যায়নি। অবশ্য পিয়ারী হলেও হতে পারে। ওর স্বভাবে খানিকটা পারিপাট্য রুচিশীলতার ছাপ মেলে।
ভাইয়া! তুমি কখন? পিয়ারী এসে কখন পেছনে দাঁড়িয়েছে আমীরুদ্দীন টেরই পায়নি।
এইতো, এখন।
এইখানে দাঁড়ায়ে কি করছ?
ফুলের ঘ্রাণ শুঁকছি আর দেখছিলাম।
তু-মি ফুলের ঘ্রাণ শুঁকছ?
কেন, আমি ফুল ভালবাসি না?
বাসতাম, এখন না।
এখনও বাসি।
ঠিক আছে চল ঘরে।
পিয়ারীর কথায় আমীরুদ্দীনের মনে চোট লাগল। ক্লাস সিক্সে পড়া মেয়ে এমন পাকা পাকা কথা শোনাল। পিয়ারী তাকে কি বলতে চাইল? আগে ফুল ভালবাসতাম এখন না। ওর কথার মধ্যে অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আছে। সত্যিই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর সবকিছুই তার বদলে গেছে। চলনে বলনে রুক্ষতা। প্রেম-ভালবাসার অনুভূতি যেনো খুব একটা পাত্তা পায় না। হয় না আগের মতো পাড়ার বাড়ন্ত মেয়েদের দিকে তাকানো। কিংবা কোন মেয়েটি কিভাবে তার দিকে তাকালো তা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বসে আলাপ জমানো। ব্রহ্মপুত্র নদীর কিনারে বসে গানের আসর জমানো। বর্ষা মওসুমে নৌকা নিয়ে ব্রহ্মপুত্রের উপর বিহার করা। এখন সব বাতিল।
ঘরে ঢুকে আমীরুদ্দীন নিজের কক্ষের দিকে যাচ্ছিল মেঝ’র সঙ্গে দেখা। পাপিয়া। ওর পরে আছে আরও তিনজন ছাদিয়া, আতিয়া ও পিয়ারী। পাপিয়া এবার ম্যাট্রিক পাস করে কলেজে প্রবেশ করেছে।
ভাইয়া! এতো আগে তুমি?
আমীরুদ্দীন জানে কেউই এমন সন্ধ্যারাতে তার ঘরে ফেরা প্রত্যাশা করে না। তাই এ বিস্ময়ভরা প্রশ্ন সবার মুখে। এখনও মা-বাবার মুখোমুখি সে হয়নি। হলে একই প্রশ্ন তাদের মনেও জাগবে। অবশ্য তারা মুখে প্রকাশ করবেন না। বাবার ফিরতে বেশ রাত হয়। টিউশনি করেন দুটো। কোন কোন দিন টিউশনি শেষ করে ফিরতে রাত দশটা পার হয়ে যায়। মা পথ চেয়ে থাকেন। বাবা এলেই সব খাবার গরম করে দু’জনে একসঙ্গে খাবেন। মার এই নিয়ম করা অভ্যাস সত্যিই অপূর্ব। বাবাকে ছাড়া মাকে একাকি খেতে কখনো সে দেখে না। কতো গভীর ভালবাসা থাকলে এটা সম্ভব।
আমীরুদ্দীন নিজ কক্ষে এসে কাপড় পাল্টায়। মেঝটা এসে টেবিলে একগ্লাস শরবত রেখে যায়। ভাইয়ার প্রতি মেঝর টানটা একটু বেশি। কখন কোন জিনিসটা ভাইয়ার দরকার এই মেঝ বিলক্ষণ জানে। কিভাবে কোন জিনিস খেতে পছন্দ করে তা মা আর মেঝই জানে। বোঝেও। তাই মা প্রায়ই বলেন, আমীর, তোর যখন খাইতে মন লইবো, তুই মেঝর বাড়িত যাইবি।
মেঝ!
জ্বী, ভাইয়া।
মা কোথায় রে?
পাশের বাসায় গেছে।
শোন, পেটে বেশ খিদা, রান্নাটান্না কি আছেরে?
তেমন কিছু নাই, তুমি হাত-মুখ ধুয়ে টেবিলে আস আমি ব্যবস্থা করতেছি।
আমীরুদ্দীন জানে স্কুলমাস্টারের বাসায় খাওয়া-দাওয়ার খুব আয়োজন থাকার কথা নয়। তবে বাবা একটু পেটুক স্বভাবের বলে তাদের বাসায় খুব একটা খারাপ যায় না। মাছ, গোশ থাকেই। কিন্তু আমীরুদ্দীনের পছন্দ আবার একটু ভিন্ন। প্লেন মাছ, গোশ রান্নার চেয়ে একটু ভিন্ন ধরনের হলে জমে ভাল। অবশ্যই ভাজা যেকোন মাছ আর নারকেলের দুধ দিয়ে মুরগির গোশ কোর্মা রান্না আমীরুদ্দীনের সবচেয়ে প্রিয় খাবার।
আমীরুদ্দীন রান্না ঘরের পাশে টিউবওয়েল চেপে এক বালতি পানি ভরে। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে খুব ভাল করে হাত-মুখ ধোয়। গামছা নিয়ে দাঁড়িয়েছিল পিয়ারী। এতোদিন পর ভাইয়াকে এমন অপ্রত্যাশিত সময়ে পেয়ে সেবা করার দুর্লভ সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চায় না। ছাদিয়া-আতিয়া পড়ছিল স্যারের কাছে। তাই ভাইয়ার খেদমতে হাজির হতে পারেনি ওরা। স্যার মানে তাদের বাসায় থাকে বাবার চাচাত ভাই ইউনুছ। এসডিও অফিসের ইউ ডি। বিয়ে করেনি। জামালপুর শহরে এমন কেউ নেই থাকার। তাই এখানেই থাকে। খায়-দায় আর তিনবোনকে পড়ায়। পিয়ারী একটু স্বেচ্ছাচারী বলে যখন ইচ্ছে হয় পড়তে যায়। যখন ইচ্ছে করে না যায় না। এ নিয়ে কেউ পিয়ারীর সঙ্গে কথা বলে পেরে ওঠে না। তার অবশ্য একটা যুক্তিও আছে। পড়াশোনায় সে মোটেই খারাপ নয়। ক্লাসে সেকেন্ড গার্ল। নিজের পড়ার ব্যাপারে তার রয়েছে সজাগ দৃষ্টি। আর পড়াশোনায় ভাল বলে বাবা নিজেও তার প্রতি দৃষ্টি রাখেন।
এই নাও গামছা। পিয়ারী গামছা এগিয়ে দিয়ে প্রস্থান করে। আমীরুদ্দীন গামছা দিয়ে ভালভাবে হাত-মুখ মোছে। এমন সময় চোখ যায় আকাশের পানে। পরিপূর্ণ চাঁদ তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। চাঁদকে বরাবর তার মায়ের মায়াবী মুখের মতো মনে হয়। কেমন শান্ত ধীরস্থির ধৈর্যশীলা মায়ের মতো। মেঘ এসে ঢেকে দেয় তার মুখ। আবার খানিক পর মেঘের ফাঁক দিয়ে জেগে ওঠে। হাসি দিয়ে সান্ত্বনা জানায়। প্রীতিপূর্ণ চাহনিতে গভীর ভালবাসার ছোঁয়া। ঠিক মায়ের মতো।
ভাইয়া! পাপিয়ার কণ্ঠস্বর।
আমীরুদ্দীন আকাশের দিক থেকে দৃষ্টিকে ফেরায়। মনে হয় কয়েক মিনিট চাঁদের সঙ্গে কাটিয়ে দিয়েছে। খড়ম দু’টি পানি দিয়ে ধুয়ে নেয়। বাড়ির সবাই খড়ম ব্যবহার করে। নানা সাইজের খড়ম এ বাসায় শোভা পায়। পিয়ারী খড়ম ব্যবহারে আপত্তি তোলে। বলে এমন অদ্ভুত খড়ম পরতে তার শরম লাগে। খটাস খটাস শব্দ হয়। আমীরুদ্দীনের সেই পুরনো অভ্যাস। ভালই লাগে তার। খটাস খটাস শব্দ ধ্বনির মধ্যে অশ্ব খুর ধ্বনির এক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
আমীরুদ্দীন খাবার টেবিলে এসে বসে। পাপিয়া টিনের থাল এগিয়ে দেয়। এ বাসায় সবার থাল, গ্লাস আলাদা আলাদা। কেউ কারোটা ব্যবহার করার নিয়ম নেই। আমীরুদ্দীনের থালটি বেশ সুন্দর, গোল্ডেন কালার করা চারিধার। মাঝে লাল ফুল।
ভাইয়া, তুলে খাও, আমি পড়তে যাচ্ছি। পাপিয়া চলে গেল তার ঘরে। আমীরুদ্দীন নিজের মতো খেতেই পছন্দ করে। তোলাতুলি তার কাছে বিরক্তিকর। ভাত নেয় থালায়। টেবিলে ছোট ছোট বাটি ঢাকা দেওয়া। কিসের মধ্যে কি আছে একবার পরখ করে দেখার জন্য একটা একটা করে ঢাকনা তোলে। বেগুন ভাজা, লাল শাক, পুটি মাছ চচ্চড়ি, ডাল ও ডিমের কোর্মা পরপর সাজানো। একটা পিরিচে খানিকটা বরইর আচারও। বোঝা গেল ঐ ডিমের কোর্মাটা পাপিয়ার অবদান। জিনিসটা ভাইয়ার পছন্দ মনে করে এখনই রান্না করেছে। মনে মনে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হতে থাকে। চারবোনের একমাত্র ভাই বলে নয় এমন আদুরে গুণী বোনদের ভাই হওয়া কম কথা নয়। অবশ্য বড় ভাই হিসেবে দায়দায়িত্বের ভারটাও একটু গুরু।
খাওয়া-দাওয়া প্রায় শেষ। এমন সময় মা ঘরে ঢুকলেন। আমীরুদ্দীনকে খেতে দেখে মাও বিস্ময় প্রকাশ করলেন। ‘কীরে আমীর। তুই এতো সকালে! কী দিয়া খাস? পাপিয়া! পাপিয়া! আমীরুদ্দী আইসে আমারে খবর দিলা নাÑ
মার স্বভাবই ও রকম। আমীরুদ্দীনকে দেখা মাত্রই ডেকে হেঁকে একাকার করেন। আর মার সময় জ্ঞানও খুব ওলট-পালট। রাতকে বলবেন সকাল, আর সকালকে বলবেন রাত।
মাও, আমার খাওয়া শেষ। আমি পেট ভইরা খাইছি। পাপিয়া ডিমের কোর্মা করছিল। খুব মজা লাগছে।
ভালা কইরা খাইছত বাজান?
হ, খাইছি। আমি আমার ঘরে যাই, তুমি চা পাঠাইও। আমীরুদ্দীন দ্রুত হেঁটে তার ঘরে চলে আসে। আমীরুদ্দীনের ঘর পড়েছে পশ্চিম দিকে। নদীর দিকে। একদম খোলা। জানালা খোলা থাকলে নদীর রূপ শুয়ে শুয়ে দেখা যায়। অবশ্য তা বর্ষাকালে। যখন নদী কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়। যৌবনবতী নারীর মতো। এ নদীর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কতো রাত-দিন কাটিয়ে দিয়েছে আমীরুদ্দীন। মেয়েদের দেখে দেখে যেভাবে তৃষ্ণা মেটে না নদীর রূপ দেখেও তেমনি কখনো চোখ ফিরে আসে না। নদী এখন অনেকটা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। পরিপূর্ণতা নেই। আজ ইচ্ছে করলেই শুয়ে শুয়ে নদীর রূপ দেখা যাবে না। তবে বারান্দায় বসে বসে দেখা যেতে পারে।
ভাইয়া চা, ছাদিয়ার হাতে চা।
বলতো চা কে বানাইছে?
মা।
না, হয় নাই।
তুই! তাহলে চা খাওয়াই মাটি।
কেন, আমি চা বানাতে পারি না?
পারিস তবে সে চা খাওয়ার অযোগ্য হয়।
ঠিক আছে পরীক্ষা প্রার্থনীয়, আগে খাও পরে বলোÑ
আমীরুদ্দীনের বড় সাইজের পেয়ালার চায়ে চুমুক দেয়। বেশ মজাদার চা। দুধের সর দিয়ে যতœ করে বানানো। ‘আহ বেশ মজা তো!’ বলে আমীরুদ্দীন ছাদিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসে। ‘তুই চা বানাতে পারিস, সার্টিফিকেট দিলাম যা।’
ছাদিয়া হাসতে হাসতে চলে গেল। ছাদিয়ার এই হাসি রহস্যপূর্ণ। মনে হয় সে তাকে ঠকিয়েছে। একটু পর পিয়ারী এলো ঘরে।
ভাইয়া, চা কেমন হইছে?
কেন তুই বানিয়েছিস? একটু আগে বলে গেল ছাদিয়া তারপর এখন তুই…
না, ভাইয়া আমরা কেউ বানাইনি। কে বানিয়েছে তাই বল?
কেরে?
দেখ মনে করতে পার কি না?
রহস্য রাখ কে বানিয়েছে বল।
আ-র-জু আ-পা। বলতে পারলে না তো ভাইয়া। তুমি ভুলে গেছ আরজু আপাকে, উনি ভুলেন নাই তোমাকে। এখন বাসায়। বলেই পিয়ারী ছুট দিলো।
আরজু! এতো রাতে! নিশ্চয়ই তার খোঁজ পেয়েই এসেছে। কিন্তু কী হবে আর এভাবে তার ডেরায় আনাগোনা করে? আমীরুদ্দীনের পথ এখন বহুদূর বিস্তৃত। যেতে হবে সে পথ বেয়ে বহুদূর। এই ডেরায় তার আশ্রয় নেই। নেই কারু আশ্রয়।