বর্ষাকালে ব্রহ্মপুত্র নদীর সঙ্গে মিশে যায়। বেশ বড়সড় প্রশস্ত না হলেও নতুন ঘোলাপানির ছোট ছোট ঢেউ এক পরিপূর্ণ যুবতীর মতো মায়াময় রূপ নেয়। চোখ ফিরিয়ে নেয়া যায় না। মাল বোঝাই বড় বড় গয়না নৌকা রঙিন পাল উড়িয়ে গঞ্জ থেকে গঞ্জে অতিক্রম করে যায়।
এই শাখা নদীর ওপাশে আরেক জীবন। চর। শান্দার পাড়া বলে। আর পাড়ে জেলা শহর। জামালপুর। দুটো ধারার জীবন। এক জীবনে আছে শহরের আধুনিক ধারার সঙ্গে গাঁও-গেরামের পাঁচ মিশালী সংস্কৃতি। ও পাড়ে সভ্যতার আলোহীন এক প্রায় আদিম জীবন। অথচ বর্ষাকাল চলে গেলে নদীর বিভেদ মুছে যায়। কে বলবে ঐ স্থল অংশটাও এ শহরের ভেতর নয়। তবু যুগ যুগ ধরে দু’টি অংশের মানুষের মাঝে যোজন যোজন বিচ্ছিন্নতা। বিভেদ। কোনভাবেই মিশে যায়নি। আর যাবেও না বোধহয়।
আগে এ চরের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার ধার ধারতো না। সম্প্রতি ওদের ছেলেরাও শহরের স্কুলে পড়ে। আগে ঐ চরের মানুষের মধ্যে অদ্ভুত মিলমিশ ছিল। এখন প্রায়ই শোনা যায় খুন-খারাবির কথা। অধিকাংশ ঘটনাই ঘটায় শহরের লোকেরা। চরের জমির অংশ নিয়েই লেগে থাকে। অবশ্য জমি যখন পানির তলে অদৃশ্য সেই বর্ষা মওসুমে খুন-খারাবির ঘটনা তখন কম ঘটে। তবে একেবারেই ঘটে না, এমন নয়। বর্ষা চলে গেলে ধীরে ধীরে জমি জেগে ওঠে। আর ফসলে ভরে ওঠে বিস্তীর্ণ মাঠ। খুন-খারাবির ঘটনাও শুরু হয়ে যায়। ওসব ঘটনা শুনতে শুনতে এই শহরের শান্তিপ্রিয় মানুষের মনে এক রকম ভীতি বদ্ধমূল হয়ে গেছে, চরের মানুষ ভালো নয়- ভয়ানক প্রকৃতির। ওখানে যাওয়া-আসা নিরাপদ নয়। এ রকম ভীতি থেকে নিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ থেকেছে শহরের ছেলে আমীরুদ্দীন। শৈশব থেকেই তার মন ভীষণ তড়পাতো ঐ চরের কালো মানুষের প্রতি। ইচ্ছে জাগতো ঐ চরে গিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ওদের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে সৌহার্দ্য-প্রীতির সম্পর্কে গড়ে। কিন্তু না, সংস্কার তাকে বেঁধে রাখে। অথচ শুকনো মওসুমে হেঁটেই ঐ চর পাড়ায় যাওয়া যায়। কতো লোকই যায়! বিকেলের বেড়ানোর জায়গা হিসেবে শহরের অনেকের পছন্দ। হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়া যায়। অনেক সময় পাড়ার লোকজনদের বসত-বাটি পর্যন্তও কেউ কেউ বেড়িয়ে আসে। গায়ের রঙ কালো, চেহারা সুরতে বন্য ভাব থাকলেও, আচার-আচরণে তেমন হিংস্র নয়। বরং ঐ চরবাসীর মনগুলো এঁটেল মাটির মতো নরম, কোমল এবং প্রেম ভালোবাসায় পূর্ণ। ঠিক তরমুজের মতো রসালো।
এই চরের মাটিতে কী না হয়! ধান, কলাই, মটর, তরমুজ, বাংগি, শাকসবজি তরিতরকারি সব। শহরের বাজারে এসব প্রতিদিন যায়। বিক্রি হয়। তবে শহরের পাইকাররাই ওদের খদ্দের। পাইকাররা কিনে শহরবাজারে তোলে। বেশি দামে বিক্রি করে লাভ করে। সরাসরি কৃষকরা বিক্রি করার সুযোগ পায় না। নিষিদ্ধ। কে নিষিদ্ধ করলো বা নিষেধের কার্যকারণ কি, তা অনেকটা অজ্ঞাত-রহস্যময়। চরের সহজ সরল মানুষগুলোও এ নিয়ে মাথা ঘামায় না। তবে কেউ কেউ যে ঐ নিষেধের বেড়া ডিঙিয়ে শহরে এসে পসরা করে না, এমন নয়। এ নিয়ে এখন আর তেমন বাড়াবাড়ি নেই। তাছাড়া ব্রহ্মপুত্র দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে বলে নদীও দূরে সরে যাচ্ছে। বর্ষাকাল ছাড়া নদীর সঙ্গে সম্বন্ধ দূরবর্তী। ঐ চরও ক্রমে বেড়ে যাচ্ছে। বাড়ছে মানুষের বসতি।
আমীরুদ্দীন এখন বেশ বড়। নদীর কিনার ঘেঁষে শহরের এক প্রান্তে ওদের বাসা। উকিল পাড়া। স্থানীয় কলেজে বিএসসি ক্লাসের ছাত্র। ঊনসত্তরের উত্তাল গণঅভ্যুত্থানের ঢেউ তার বুকেও আঘাত হানে। আর তখনই সে সিদ্ধান্ত নেয় রাজনীতি করার। দেশের অধিকার আদায় করতে হলে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। অথচ আমীরুদ্দীনের শৈশবে যতোসব নিষিদ্ধ বিষয় ছিল, রাজনীতি অন্যতম। রাজনীতি করা ছেলে মানে বখে যাওয়া ছেলে- এমন বিশ্বাস তার অভিভাবকদের। কিন্তু আমীরুদ্দীনকে কেউ আটকাতে পারলো না। শহরের আতাহার বিএসসি স্যারের ছেলে আমীরুদ্দীন অবশেষে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লো। ঐ চরের সঙ্গেও তার সম্পর্ক গড়ে উঠলো। ঐ চরের এক যুবকের মাধ্যমে। রাজনৈতিক আশ্রয় হিসেবে তার সঙ্গে ভাব জমে। নাম হানিফ। রাজনীতি করতে এসে আমীরুদ্দীনের সঙ্গে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পংখি। পংখি গুন্ডা। ভয়ানক লোক হিসেবে শহরে পরিচিত। পংখির সঙ্গে তার পরিচয় পর্বটি ছিল এমন, পার্টির সভাপতি বাবলু ভাই একদিন পার্টি অফিসে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমীরুদ্দীন! ইনিই পংখি ভাই। পার্টির শুভাকাংখি। পংখি ভাই! এ হচ্ছে আমীরুদ্দীন। তুখোড় কর্মী, আমি তার উপর অনেক ভরসা করি।
কেন ঐ দিন বাবলু ভাই ‘ভরসা রাখা’ প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছিলেন তা অনেকদিন পর সে বুঝেছিল। তবে প্রচণ্ড আবেগ নিয়ে পার্টির সকল নির্দেশ পালন করে যেতে থাকে। তার চোখেমুখে পশ্চিমা শাসকদের ক্রুর আক্রোশ থেকে স্বদেশের অধিকার আদায়ের দীপ্ত অঙ্গীকার। অল্পদিনের ব্যবধানে আমীরুদ্দীন কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যায়। ‘ছাত্রনেতা’ ঐ শব্দের মোহে পড়ে নয়, দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চায় এমন গভীর আকুতি মেধাবী ছাত্র আমীরুদ্দীনকে শহরের অন্যতম ছাত্রনেতা বানিয়ে দিলো।
তোমার নাম আমি শুনছি। তুমি খুব ভালা পোলা। ছোড ভাই হিসেবে তোমারে তুমি বললাম, মনে কিছু করলা?
না মনে কিছু করি নাই। আপনি আমারে তুমিই বলবেন। আমি আপনার ছোট ভাইর মতো। আপনারে এতো কাছে থেকে দেখবো ভাবি নাই কোনদিন।
পংখি হাসে। হাসিটা বেশ সরল। এমন ভয়ানক লোকের হাসি এতো সুন্দর! আমীরুদ্দীন অবাক হয়। এই সেই পংখি! যার নাম শুনে শহরের সবাই ভয়ে কাঁপে। শাদা লুঙ্গি। শাদা পাঞ্জাবি। গলায় সোনার চেন। চেহারায় নেই হিংস্রতা। গায়ের রং কালো নয়- শ্যামলাই। গোলগাল চেহারা। চোখ দু’টি অদ্ভুত চকচকে। বিদ্যুৎ আছে দৃষ্টিতে। হাতে একটা একহাতি বাঁশের লাঠি। লাঠি নয়, ওটা পংখির সার্বক্ষণিক অস্ত্র। কিরিচ। ঐ বাঁশের লাঠির ভেতর দু’পাশ ধারাল সুঁচালো আগার মারাত্মক ঐ অস্ত্রটি মানুষে হননের হাতিয়ার। আমীরুদ্দীন বুকের ভেতর শীতল একটা প্রবাহ অনুভব করে।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আরো তীব্র রূপ ধারণ করলো। পূর্ব পাকিস্তানকে ভারতীয় যোগসাজসে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। কারাবন্দী শেখ মুজিবকেও এই মামলায় জড়ানো হয়। অভিযোগ, এরা ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি পি এন ওঝার সহায়তায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং আগরতলা সীমান্তে অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য বৈষয়িক সাহায্যের জন্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে। প্রতিদিন কাগজে সেই ষড়যন্ত্র মামলার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ হচ্ছে। রাজপথে মিছিল দীর্ঘ ও উত্তাল হতে থাকে। আমীরুদ্দীনেরও ব্যস্ততার শেষ নেই। পড়াশোনার সময় কই! বাড়িতে বেশিরভাগ সময় থাকাই হয় না। পার্টির সিদ্ধান্ত মোতাবেক লীগের লিডারদের রাতে নিজের বাসায় থাকা নিষেধ। সেও গা ঢাকা দিয়ে প্রায়ই চরে হানিফের বাসায় রাত কাটায়। সকালে শহরে চলে আসে। কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল বক্তৃতা নিয়ে কাটায়। শ্লোগান দেয় : জেলের তালা ভাঙবো, মুজিব ভাইকে আনবো। আমীরুদ্দীন থাকে মিছিলের পুরোভাগে। সে বেপরোয়া। এ মিছিল তো শুধু মিছিল নয়- মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। পাঞ্জাবি শাসকদের ভেদ বৈষম্যের বিরুদ্ধে এ মিছিল- কারু ধমক চোখ রাঙানি পুলিশী নির্যাতন পারবে না রুখতে।
আমীরুদ্দীন বকুলতলার মিষ্টির দোকানে বসে সঙ্গীদের নিয়ে দুপুরের খাবার সারছিল, এমন সময় একজন হন্তদন্ত প্রবেশ করে খবর দিল- আমীরুদ্দী ভাই, এন এস এফের গুণ্ডারা কলেজ ছাত্রাবাসে হামলা করছে। লীগের কর্মীদের মারধোর করছে। দুজন হাসপাতালে-
আমীরুদ্দীনের মাথায় খুন চড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সে এলো পার্টি অফিসে। সঙ্গী-সাথী কিছু যোগাড় করে দশ-বারোটা রিক্সা যোগে হাজির হলো ছাত্রাবাসে। ততক্ষণে এন এস এফের গুণ্ডারা পালিয়ে গেছে। আমীরুদ্দীন ছাত্রাবাসের সকল ছাত্রদের জড়ো করে এক প্রতিবাদ সভা করলো। উপস্থিত ছাত্রদের সামনে শপথ করলো, এ ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বিকেলে পার্টির জরুরি মিটিঙে আমীরুদ্দীন জোরালো ভাষায় বক্তব্য রাখে। সে বলল : এন এস এফ যে কাজ করেছে তা একা করেনি, ইউনিয়নের যোগসাজসেই করেছে। সামনেই কলেজ ইলেকশন। ইউনিয়ন চায় লীগকর্মীদের ভিন্নমুখি করতে। সভায় পংখিও ছিল। সভাশেষে পংখি আমীরুদ্দীনের কাছে এসে বসে চেয়ার টেনে। পিঠে হাত রাখে সস্নেহে। কানের কাছে মুখ এনে স্ফূট স্বরে বলে : ছোট ভাই, একটু সাবধানে চইলো, তোমার উপর নজর আছে। কোন অসুবিধা হইলে আমারে বুলাইয়ো।

আমীরুদ্দীন অবাক! তার ক্ষতি করতে পারে এমন কে আছে। কলেজের সবচেয়ে প্রিয় নেতা সে। তাছাড়া সে-ও খালি হাতে থাকে না। পংখির মতো কিরিচ না রাখলেও একটা মূলতানী চাক্কু তার প্যান্টের জেবে লুকানো। বাবলু ভাই অনেকদিন আগেই ঐ জিনিসটা তাকে হস্তান্তর করে বলে, আমীরুদ্দীন রাখো, বিপদে কাজে দেবে, আর গা গরম থাকবে।
পংখি ভাই, আমার কাছেও আছে, এত্তো সহজ না।
কী আছে?
এই যে। প্যান্টের বিশেষ জেব থেকে বের করে দেখায়।
পংখি হাসে। সবাই কাজে লাগাতে পারে না ঐ জিনিস। চল মিষ্টির দোকানে। তুমি আজ খুব সাবাসের কাম করছো। তোমারে মিষ্টি খাওয়াবো।
আমীরুদ্দীন পংখির সঙ্গে মিষ্টির দোকানে এসে বসে। বকুল তলার তাদের মিষ্টির দোকানে। ‘মোহন চাঁদ মিষ্টি ঘর।’
ছোড ভাই, রাজনীতি আমি বুঝি কম। আমি মুখ্য মানুষ। যা বুঝতে পারতাছি, দেশের অবস্থা ভালা না। বেশি বাড়াবাড়ি করতাছি আমরা সবে। ঠিক অইতাছে না। সামনে আরো গাণ্ডগোল লাগবো। তুমি এট্টু সমঝে চলবা। এইডা আমার অনুরোধ।
পংখি ভাই আবারও হুঁশিয়ার করে বলে আমীরুদ্দীন খানিকটা বিরক্ত হয়।
আমীরুদ্দীন পংখির কথার গুরুত্ব দেয় না। ও রকম কিছু হলে পার্টির নেতা হিসেবে সে-ই আগে টের পাবে। পংখি পার্টির তেমন কিছু নয়, পোষ্য গুণ্ডা। পংখিকে মোটা অংকের মাসোহারার বিনিময়ে পার্টিতে ভিড়ানো হয়েছে। পার্টির শক্তি বৃদ্ধির জন্য। পার্টিতে পংখি আছে, এটাই বড় কথা। প্রতিদ্বন্দ্বী পার্টি সমীহ করে চলবে।
আমীরুদ্দীন কারো ভরসা করে না। সে নিজেই নিজের ভরসা। তার সামনে কেউ রুখে দাঁড়ালে তাকে হাশর দেখিয়ে দেবে। সাহস, শক্তি আর ক্ষুরধার বক্তৃতার জন্যই আমীরুদ্দীন আজ পার্টির বড় লিডার। কারো দয়ায় না।

প্রচণ্ড রাজনৈতিক অসন্তোষ সারা দেশে। বিলম্বিত শীত তাড়াতে বুঝিবা রাজপথ উত্তপ্ত! ঢাকায় ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদ ও মতিউরের নিহতের ঘটনায় সারাদেশে দাবানল জ্বলে ওঠে। আর নয়, এবার রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। শেখ মুজিবের মুক্তির দাবিতে উচ্চকিত জনগণ। কারাগারে অবস্থান করে কিভাবে মুজিব আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী হতে পারে, এটাই আলোচ্য বিষয় সবার। এ মামলা প্রকারান্তরে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনকে ধ্বংস করার জন্য। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের নেতাকে বিনাশ করার জন্য। সারাদেশে এক আলোচনা। পত্রিকা, রেডিওতে মানুষের মনোযোগ। হাঁটে মাঠে রেস্তোরাঁয় অফিস আদালতে আগে যারা রাজনৈতিক আলোচনা থেকে বিরত থাকতো, তারাও উৎসাহী হয়ে যোগ দেয়। মন্তব্য করে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে। আইয়ুব খান সম্পর্কে কটুক্তি করতেও অনেকে দ্বিধা করে না।
তাই এখন আর আগের মতো ডেকে ছাত্র জমায়েত করতে হয় না আমীরুদ্দীনকে। সভা-মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করলেই ছাত্র-জনতা এসে যোগ দেয়।
১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি।
পড়ন্ত শীত বিকেলে শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাসহ (সার্জেন্ট জহুরুল হককে আগেই হত্যা করা হয়েছিল) সামরিক হেফাজত থেকে বেরিয়ে এলেন। বিকেলেই শেখ মুজিব রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করেন। আমীরুদ্দীন শেখ সাহেবের মুক্তিতে শহরে বিরাট বিজয় মিছিল বের করে। ‘জেলের তালা ভেঙেছি, মুজিব ভাইকে এনেছি’ শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহর।
কিছুদিন পর শেখ মুজিব এলেন জামালপুর। স্টেডিয়ামের বিশাল মাঠে জনসভা। লোকে-লোকারণ্য। এতো লোক বুঝি আমীরুদ্দীন জীবনে দেখেনি। সদ্য কারামুক্ত শেখ সাহেবকে একনজর দেখার জন্য বহু লোক দূর-দূরান্ত থেকে হাজির হয়েছে। আমীরুদ্দীনের গর্বে বুক স্ফীত হয়ে ওঠে। নেতার জনসভায় এতো লোক! ঠিক বর্ষাকালে পূর্ণ যৌবনা নদীর মতো কূল ছাপানো।