খুব ভোরে আজ ঘুম ভেঙ্গে যায় স্বপনের।অনেক দিন হতে চাকরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই কিচু হচ্ছে ন।পরিবারের বড় ছেলে অনেক দায়িত্ব তার কাঁধে।বাবা অনেক কষ্ট করে তাকে মানুষ করেছে তার বয়স হয়েছে।সংসারের কিছুটা কাজতো তার নিজে থেকে করা উচিত।সকলি বুঝে করতেও চায় কিন্তু করতে পারছে না।সব সময় মনটা খারাপ থাকে স্বপনের।ছোট বোন রিনাটাও দেখতে দেখতে বড় হচ্ছে তাকে মানুষ করতে হবে লেখাপড়া শিখিয়ে।সকল দিক ঠিক রাখতে হবে।দিনে দিনে বাবার বয়সও বাড়ছে এই সংসারের জন্য খেটে খেটে সে এখন ক্লান্ত কিছুটা বিশ্রাম প্রয়োজন তার।

প্রতিদিন বিভিন্ন খবরের কাগজে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকরির আবেদন করে।কিছু টিউশনি করে নিজের এবং বোনের পড়ার যতোটা পারে সহযোগিতা করে।বন্ধু বান্ধব পরিচিত সকলকে বলেছে তার চাকরির কথা।স্বপন যেখানে টিউশনি করে সেখানে ছাবিনার সাথে তার একটা ভাল বন্ধুত্ব আছে।অনেকবার চিন্তা করেছে তাকে বলবে বলবে কিন্তু বলা হয়ে উঠেনি।ছাবিনা একটি এনজিওতে চাকরি করে।এটা একটি সমেবয় মমেতির কাজ তারা বিভিন্ন মানুষকে লোন দেয় ও তা সংগ্রহ করে।সঞ্চয় জমা করাই তাদের কাজ।

ছাবিনা তার বাসায বসে আছে স্বপন বাড়ির সামনে দিয়ে মুখটা মলিন করে বাসায় ফিরছে।ছাবিনা দেখছে স্বপনকে সম্পর্ণ বিধ্বস্ত মনে হচ্ছে এমন মুখের ছবি সে কখনও দেখেনি।ছাবিনা ডাকে স্বপন দাঁড়াও,সে একটু অন্যমনস্ক থাকায় প্রথম দিকে কেয়াল করেনি।আবার ডাকে স্বপন কিরে কি হলো তোর।স্বপন তখন ছাবিনাকে সব খুলে বলে দেখ বলতে গেলে এখন আমি ক্লান্ত হয়ে গেছে।বাসায় আর কত মিথ্যে কথা বলা যায় আমি চেষ্টার কোন ত্রুটি করছি না বাবার শরীরটা দিন দিন খারপ হয়ে যাচ্ছে।চোখের সামনে ছেলে হয়ে এসব দেখা যায় না।

ছাবিনা শান্তনা দিয়ে বলে আচ্ছা তার জন্য এত মন খারাপ করলে কি?চলে।শোন আমার কাজ সম্পর্কে তুই জানিস আমাদের ওখানে কিছু নতুন লোক নিবে শুনেছি।তুই চাইলে আমি কথা বলবো একবার।স্বপন বলে আচ্ছা আমি কালকেই যেতে চাই।ছাবিনা বলে তাহলে তুই সকালে আমার এখানে চলে আয় দুজন এক সাথে যাওয়া যাবে।সকালে দুজনে চলে আসে তাদের অফিসে।কথা বার্তা বলা শেষে তারা বলে আচ্ছা আমরা আপনার বিষয়টি ভেবে দেখবো। জীবন মোহাম্মাদপুর ঢাকা।