প্রিয় অদ্রি,
লিপির শুরুতেই দুবলার অষ্টধরে শিশির আবৃত সকালের রোদে ঠোঁটের চুম্বনের শিহরিত তীব্র অনুভূতির শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আশা না, বিশ্বাস করি ভালো আছো! কারণ আমার শত জনমের ভালোবাসা টুকু ভালো থাকার আরাধনায় করে। আমার ব্যস্ত পথের দূরত্ব টুকু তোমার কেটে যাওয়া রাতদিন হয়তো কষ্ট দেয় তবুও হৃদয়ে উৎকণ্ঠা, লেগে থাকা ভালোবাসার নরম অনুভবটুকু নিশ্চয় ভাল রাখে।

আজ কতদিন তোমার স্বপ্ন দেখে আমার সুপ্ত বিনিদ্র হয়নি। দেখিনি ললাটে টিপটা সরে গিয়ে ব্রুতে লেগে আছে! দেখিনি আঁখির কাজল ললাট ছুঁয়েছে। কেশগুলো লেপ্টে ধরেনি আমার আনন। আহ্ হিজাবের অন্তরালে সুবাসিত কেশ সে গন্ধ সব সময় মাদকতা ছড়ায়! তোমার ছবি জুম করে প্রতিদিন কয়েক বার প্রেমে পরি!

অদ্রি, আমি তোমাকে নিঃস্বার্থ শর্তহীন ভাবেই ভালোবাসি। কিন্তু শর্ত জুড়ে জুড়ে ৩৬৫ দিন পরে যখন ভালোবাসি বললে, তখনো প্রতিশ্রুতি দিলে না যে, তুমি আমার। কিন্তু দিপ্ত ভাবে বলতে লাগলে আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমিও তা মেনে নিলাম কারণ “অঙ্গিকার দিয়া ভালোবাসা হয় না , ভালোবাসা হয় ভিতর থেকে, যা হল অদৃশ্য শক্তি”। কিন্তু আমি সে শক্তি দিয়ে তোমার মনে আলো জ্বালাতে চেয়ে নিজে দগ্ধ হই। আমি যেন একটা দেশালাইয়ের কাঠি; আলো জ্বালাতে গিয়ে মিনিটখানেক জ্বলে একেবারে শেষ পর্যন্ত পুড়ে যায়। তোমার বিহ্বল অভিলাষ আমাকে হতাশা আর বিষন্নতায় দিন দিন নিঃশেষ করে দিচ্ছে !

তোমার সমুদ্রের মত গভির
চোখে কেন স্বপ্ন নেই?
মনে হয় জন্মান্ধ চোখে
শুধু ভুল অন্ধকার।
তোমার সিক্ত রসভরা ঠোঁটে
কেন আদর নেই?
মনে হয় নিজেকে আবদ্ধ
রাখাই অহংকার?
হিজাবে বেধেঁ রাখা কপালটা
তোমার নিয়ন্ত্রণে নেই।
তবে কেন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
সংজ্ঞা কর?

তোমার এসব পর্যবেক্ষণে যখন বুঝতে পারলাম তোমাকে ছেড়ে যাওয়া বাধ্য করছে সম্প্রদায়, আর কোন পথ খোলা নেই। মনটা বিষাদে ছেয়ে গেলো। মনে হলো জেনেশুনে একটা ফাঁস গলায় পরলাম। ধরে নিলাম আমার মৃত্যুদণ্ড লেখা হয়ে গেছে। কখন কার্যকর হবে শুধু ঘোষণাটা বাকি। ভীষণ ভারি , ভীষণ কষ্টদায়ক ক্রুশের মতো মৃত্যুদণ্ড আদেশ চেতনায় বয়ে নিয়ে অন্য জীবনে দিকে পা বাড়ালো বলে যখন স্থির করলাম, বুকের ভেতর গুমরনো কান্নার শব্দ কান পেতে শুনলাম। আমার বুকের ভেতর কাঁদছে আমার অতীত। এখনো দেখছি ভেতর থেকে তুমি বিদায় হওনি। বুকের ভেতর রাজ্যপাট বিস্তার করে বসে আছো। মাটির গভীরে দেবে যাওয়া বোমা যেমন সমস্ত তেজস্ক্রিয়তাসহ আত্মগোপন করে থাকে, নাড়াচাড়া লাগলেই বিস্ফোরিত হয়; তেমনি আমিও যতোই অতীত থেকে নিজের অস্তিত্ব টেনে আনতে চাই, তেমনি বিস্ফোরিত হয়ে হৃদপিন্ড আহত হয়।

কাদায়-আটকানো হাতি যেমন ডাঙায় ওঠার জন্য সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করে, আমিও সেরকম স্মৃতির জলাভূমির থেকে ছুটে বেরিয়ে আসার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি প্রাণপণ। কিন্তু কাজটা সহজ না, অদ্রি। একজন মানুষের শরীরের একটা হাত কিংবা পা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে অবশ হয়ে গেলে যেমন স্বেচ্ছায় আপন হাতে সে অঙ্গটি কেটে বাদ দিতে পারে না, সে রকমই অতীতকে বর্তমানে টেনে তুলে তার জীর্ণ অংশ ছেঁটে ফেলাও অসম্ভব।

কিন্তু তুমি ১০৯৫ দিন নৈসর্গিক ভাবে মুছে দিলে? কিভাবে স্মৃতি মুছে ফেলতে হয়; সে প্রক্রিয়া যদি বলে দিতে তাহলে নতুন কাব্যটি লেখে শেষ করতে পারতাম__

আত্মবিশ্বাসী আত্মউপলব্ধিতে অবিলাশী হোক তোমার মন মস্তিক। পৃথিবীর সমস্ত সুখ বাইজেনটাইন সম্রাজ্ঞীর মত তোমাকে ঘিরে থাক। পত্রের উত্তর পাওয়ার দৃঢ়আস্হা রেখে ইতি টানছি।

  • ইতি
    ওমর অক্ষর