ভাষার জন্য শহীদ

সব বাঙালীর প্রান,
বাংলা ভাষায় মাকে ডাকি
রং তুলিতে ছবি আঁকি
মনের ভেতর ভালবাসার
মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ।

কবি লেখে গান কবিতা ছড়া,
আকাশ জুড়ে লক্ষ তারার
দু’ চোখ আলোয় ভরা।
বর্ণমালার আগুন ছড়ায়
কৃষ্ণচূড়ার ডালে,
মিছিল চলে এই জনতার
বাহান্নর ঐ সালে।

বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা
বীর বাঙালীর মনের আশা
প্রতিবাদে রাজপথে সব
মশাল হাতে কারা।
রক্ত দিলো দামাল ছেলে
হাসি মুখে কেউ বা জেলে
আজও অমর আনতে ভাষা
রক্ত দিলো যারা।
…………………………………………..

রথযাত্রা এবার শুরু

রথযাত্রা চলছে ছুটে
মনের রাস্তা দিয়ে,
টানবে দড়ি হুড়োহুড়ি
প্রবল ইচ্ছা নিয়ে।

বৃন্দাবনের রাস্তা যেন
লক্ষ লোকের ঢল,
কৃঞ্চ নামে সবাই পা্গল
উত্তাল চঞ্চল।

নেই ভেদাভেদ গরীব ধনী
কিংবা ছোট বড়,
পূন্যি পেতে রথের দড়ি
এসো সবাই ধরো।

শান্তি ঝড়ে বইবে ধবনি
হরে কৃঞ্চ হরে,
সনাতনের এই সিঁড়িটা
আসুক ঘরে ঘরে।
…………………………………………..

ভাষার জন্য

বাংলা ভাষার জন্য সেদিন
উঠলো তুমুল ঝড়
ঝড়ের জোরে পশ্চিমাদের
ঘর হলো নড়বড়।

উর্দু হবে রাষ্ট্র ভাষা
কেউ কখন মানে,
খবরখানা সারা দেশে
ছড়ায় কানে কানে।

ক্ষেপলো মানুষ রাজপথে তাই
রক্ত তাদের ফোটে,
দলে দলে প্রাণের টানে
মিছিলে সব ছোটে।

পিচঢালা পথ রক্তে ভাসে
দামাল ছেলের কত লাশে
তাও থামেনি তারা,
বাংলা ভাষা আনলো সেদিন
রক্ত পলাশ যারা।

সেদিন থেকে শহীদ মিনার
সাজাই ফুলে ফুলে,
বীর সেনানীর ত্যাগের কথা
যাইনি আজও ভুলে।
…………………………………………..

কবি নজরুল

বর্ধমানের কাজীর ঘরে
দুষ্টু ছেলে দুখু,
পাড়ায় পাড়ায় বেড়িয়ে শুধু
হারায় সময় টুকু।

ভুত পে্ত্নী দৈত্য দানব
করতো না সে ভয়,
অগ্নিবীনায় জাগলো এদেশ
জাগলো জগৎময়।

তাইনা দেখে স্বৈরাচারী
পাঠিয়ে দিলো জেলে
একটুও সে ভয় পায়নি
দস্যিপনা ছেলে।

শিকল পরা গানের সুরে
মুক্তি দিলো তার
মান করে সেই দুষ্টু ছেলে
কয়নি কথা আর।

অভিমানি সেই ছে্লেটা
হারিয়ে গেল দুরে
আকাশ বাতাস আজও দেখি
কাঁদছে করুন সুরে।
…………………………………………..

ফাগুনে আগুন ছড়ায়

ফাগুন এলে আগুন ছড়ায়
বুকের মাঝে
রংয়ে রংয়ে শহীদ মিনার
তাইতো সাজে।

নগ্ন পায়ে প্রভাত ফেরী
হয় সকালে
আজো স্মতি বহন করে
কালে কালে।

বর্ণমালা আনলো ফিরে
বাহান্নতে
রক্ত ঝরে দামাল ছেলের
রাজপথে।

বৃষ্টিতে মন ভাসে

বৃষ্টি যখন আসে,
সূর্যমামা লুকিয়ে তখন
মুচকি ঠোটে হাসে।

গাছে গাছে ফুলের মেলা,
করতে থাকে সুখের খেলা।

সোনা ব্যাঙের গানে গানে,
বৃষ্টি যেন ছন্দ আনে।

চোখ জুড়ানো জল থই থই নদী,
হারায় এ মন দাদুর মুখে
গল্প ছোটে যদি।

বর্যা এলে দুষ্টু ছেলে,
বাঁধভাঙা সব দস্যিপনায়
ইচ্ছে মত সাঁতার খেলে।
বৃষ্টি যখন আসে,
দুঃখ ভুলে খুশীর দোলায়
মনটা তখন ভাসে।
…………………………………………..

শহীদ মিনার

শহীদ মিনার শহীদ মিনার
বাহান্নরের স্মৃতি,
রফিক শফিক শহীদ ভাইয়ের
ভালবাসার প্রীতি।

শহীদ মিনার শহীদ মিনার
বাংলা ভাষার দাবি,
ইতিহাসের ভাবলে কথা
সুখটা খুঁজে পাবি।

শহীদ মিনার শহীদ মিনার
বর্ণমালার সারি,
প্রভাত ফেরী আমরা করি
দুঃখ স্মৃতি তারই।

শহীদ মিনারর শহীদ মিনার
আমরা পেলাম ভাষা,
বুকের মাঝে স্বপ্নে ঘেরা
গভীর ভালবাসা।
…………………………………………..

স্বপ্ন আমার

স্বপ্ন আমার মানুষ হবো
করবো লেখাপড়া,
দেশটা নিয়ে আঁকবো ছবি
লিখবো অনেক ছড়া।

স্বপ্ন দেখি আকাশ নিয়ে
জ্বলবো তারার মত,
হারিয়ে যাবো ফুল বাগানে
যেন শিশুর মত

মায়ের কাছে গান শুনবো
মিষ্টি মধুর সুরে,
নৌকা নিয়ে ছুটবো আমি
অনেক অনেক দূরে।

স্বপ্ন আমার পাখির ডাকে
উঠবো ভোরে জেগে,
শিশির ভেজা দূর্বা ঘাসে
দুহাত নেবো মেখে।

স্বপ্নগুলো সত্যি হলে
লাগবে দারুন ভালো,
মুঠো মুঠো ছড়িয়ে দেবো
মিষ্টি রোদের আলো।
…………………………………………..

ভাষা ও দেশের গান

এই বাঙালি হাজার বছর
নিঃষ্পেষিত হয়,
ইতিহাসে সে সব স্মৃতি
করুণ দৃশ্যময়।।

ব্রিটিশেরা করতো নীল চাষ
কত চাষী হত তখন লাশ
প্রতিবাদে চলতো জুলুম
ছিলো চরম ভয়।।

আসলো দেশে হায়েনার দল
ভাষা নেবে কেড়ে,
খড়ক হাতে রক্ত নিতে
আসলো ওরা তেড়ে।

ক্ষেপলো তখন দামাল ছেলে
রাজপথে তাই রক্ত ঢেলে
নেতার ডাকে আগুন জ্বলে
সারা বাংলাময়।।

ভাষাও পেলাম দেশও পেলাম
বীর শহীদের তাইতো সেলাম
মন থেকে সব কাটলো আঁধার
আমরা হলাম জয়।
…………………………………………..

ছড়াকার হাসনাত

হাসনাত আমজাদ,
ছড়া লিখে তাই করে
অন্যায়ের প্রতিবাদ।
দেশ নিয়ে লেখে ছড়া
যেন রসে মিঠে কড়া।

পড়ে পড়ে হয় নাতো শেষ,
ছড়া জুড়ে থাকে যেন
ভালবাসার রেশ।

খোকা আর খুকু নিয়ে
ছড়া লেখে রস দিয়ে
পড়া ভারী মজা,
তক্ষণই মনে হয়
ছড়া লেখা সোজা।

লিখে যাক আরো লেখা
লেখা যাক ছড়িয়ে
ঘুণে ধরা সমাজকে
ঠিক দেবে নড়িয়ে।

ছড়াকার হাসনাত,
ছন্দের তালে তালে
করে দেয় বাজিমাত।