একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে কুয়ালালামপুরের পেতালিংজায়া এলাকায় Shah’s Village Hotel-এ যখোন আমি পৌছালাম তখন সময় প্রায় দুপুর ১২ টা। ট্রেডিশনাল স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি রিসোর্ট টাইপের হোটেলটা দেখেই আমার ভালো লাগলো। সাড়ে বারোটা নাগাদ একটি রুমের চাবি পেলাম। দোতলার প্রশস্থ রুমটাতে দুইখানা বিছানা। অন্য একজন ডেলিগেট আমার সাথে রুম শেয়ার করবেন। জেনেছি, তিনি আসবেন লন্ডন থেকে, এখনো এসে পৌঁছাননি। সাথেই প্রশস্থ বারান্দা। বারান্দা থেকে খোলামেলা পরিবেশ চোখে পড়ে। নীচেই সুইমিং পুল এলাকা ও চারপাশের সাজানো বাগান। সারারাত বিমানে বসে বই পড়েছি, একফোঁটাও ঘুমাইনি। তবু, খুব যে ক্লান্তি বোধ করছিলাম তা নয়। এখানে আসার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি মাত্র তিন দিন আগে। ফলে টিকিট করতে হয়েছে শেষ মুহূর্তে, উচ্চমূল্যে। আমার ছোট বেয়াই ড. রফিকুল ইসলামও ঢাকায় ছিলেন। তিনিও কুয়ালালামপুর আসবেন জানতাম। তাই কবে আসবেন জানার জন্যে টেলিফোন করে বিস্মিত হলাম। আমরা একই ফ্লাইটেই ঢাকা ছাড়বো! বিস্ময়ের পরেই আনন্দ! বাহ! এটা কীভাবে হলো! শুনে বাসায়ও সবাই খুশী।

ঢাকায় ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করার পর বেয়াইর সাথে স্কাই রুমে খেয়েছিলাম। ফলে ফ্লাইটের খাবারের প্রতি আগ্রহ ছিল না। অবশ্য এয়ার এশিয়ার জন্ম হয়েছে ইকোনোমি ফ্লাইট হিসেবে। ফলে ভ্রমণকালীন সুযোগ-সুবিধা এবং সেবা নেই বললেই চলে। আমার মতো হাতে গোণা যে ক’জন ডিনারের জন্য বাড়তি টাকা দিয়েছে তারাও এক গ্লাস পানির পর ২য় গ্লাস চাইলেও পায় নি। কারণ, নিয়ম নেই! ঠান্ডার জন্য একজন যাত্রী কম্বল চাইলেন; আর স্টুয়ার্ট এসে জানিয়ে গেল: ‘ব্লাঙ্কেট আছে তবে ব্যবহার করতে চাইলে কিনে নিতে হবে।’ আমি প্রথম ‘ইকোনোমি ফ্লাইট’ নিয়েছিলাম ২০১৩ সালে লন্ডন থেকে ইতালি যাওয়ার সময়। ওটা ছিল সম্ভবতঃ ‘ভার্জিন এয়ার’। ইউরোপের অনেক যাত্রী লন্ডন থেকে প্রতি সপ্তাহেই (অর্থাৎ উইক-এন্ডে) বাড়ী যায় ইকোনোমি ফ্লাইট নিয়ে। নরমাল ফ্লাইটের তুলনায় ভাড়া খুবই কম; ট্রেনের ভাড়ার প্রায় কাছাকাছি। অথচ সময় লাগে ট্রেন জার্নির চেয়ে অনেক কম। একারণেই ইকোনোমি ফ্লাইট যাত্রীপ্রিয়তা পায়। অনেকটা বাস বা ট্রেনের মতোই ব্যবহার করে সবাই, এবং বিমানের সেবা আশা করে না। কিন্তু আমাকে এয়ার এশিয়ার টিকেট কিনতে হয়েছে অন্যসব নরমাল ফ্লাইটের চেয়ে বরং বেশী মূল্যে, কম তো নয়ই! বুঝলাম, টিকিটের বেলায় ‘নরমাল’ আর সেবার বেলায় ‘ইকোনোমি’! আমাদের বিমান নামলো কুয়ালালামপুরের কেএলআইএ-২ বিমান বন্দরে। এটা মূল বিমানবন্দর কেএলআইএ-র পাশেই। আমি আগে কখনো এখানে নামিনি। এই বিমানবন্দরের পুরোটাতেই কেবলমাত্র এয়ার এশিয়ার কর্মযজ্ঞ। শুনলাম, এই বিমানবন্দর ইন্নয়নের কাজে এয়ার এশিয়াই মালয়েশিয়ান সরকারকে সহযোগিতা করেছে এবং তারাই কেবল বন্দরটা ব্যবহার করছে। বুঝলাম, ইকোনোমি ফ্লাইট হলেও এয়ার এশিয়া আকাশ-যোগাযোগের বিশাল জাল বিছিয়েছে এবং একাজে তাদের অসংখ্য উড়োজাহাজ সক্রিয় আছে।

এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে দেখি আমার ছোট জামাই ইন্জিনিয়ার জুবায়ের গাড়ী নিয়ে হাজির। ওরা নতুন বাসা নিয়েছে ‘বুকিত জলিল’ এলাকায় The Rainz নামের বনেদী এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে। বিশাল এলাকাজুড়ে তিনটি টাওয়ার। প্রতিটি টাওয়ার পঁয়ত্রিশ তলা; ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত পার্কি। নিরাপত্তা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সুন্দর ব্যবস্থা। চীনা-মালিকানাধীন একটি গ্রুপ এই চমৎকার আবাসিক এলাকাটা নির্মাণ করেছে। একটি টাওয়ারের সতের তলায় উঠলাম আমরা। সদ্য নেয়া বাসায় এখনো সবকিছু গুছানো হয়নি। তবে, সকালের নাস্তার বিস্তৃত আয়োজন দেখে ওকথা বিশ্বাস হবে না। বাসার পূর্বপাশটা খোলা। নীচে হাইওয়ের ব্যস্ততা সার্বক্ষণিক। দূরের শহর ও পাহাড় চোখে পড়ে। বিশাল দেশ মালয়েশিয়ার বিস্তৃত অংশ জনবসতিহীন পাহাড়ী এলাকা। গত কয়েকদিন ধরে এই দেশ পার্শবর্তী ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গল-পোড়া ধোঁয়ায় আক্রান্ত। তাই দিনের দশটার পরও পুরো এলাকা কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে যেন, আর সূর্য্যটা ম্রিয়মান হয়ে আছে।

তিন দিনব্যাপী International Benchmark Executive Program(i-Bench)-এর আজ প্রথম দিন, ৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৯, রোববার। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিকেল পাঁচটায় নিচে নেমে এলাম হোটেলের একটি অডিটরিয়ামে। রেজিস্ট্রেশন ও চা-চক্রের পর ওপেনিং সেশন শুরু হয়ে গেল। এই সেশনের সভাপতিত্ব করলেন আহমেদ ফাহমি শামসুদ্দিন। তিনি মুসলিম ইয়ুথ মুভমেন্ট মালয়েশিয়া (ABIM- Ankatan Belia Islamia Malaysia)র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং গ্লোবাল পিস মিশন মালয়েশিয়ার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার। বলে রাখা ভালো যে, এই দুইটি সংগঠন আরো কয়েকটি সংগঠনের সাথে যুক্তভাবে আজকের এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছেঃ মুভমেন্ট ফর এন ইনফর্মর্ড সোসাইটি (WADAH), ইসলামিক দাওয়াহ ফাউন্ডেশন মালয়েশিয়া, পিকেআইএম এবং মজলিস আনতারাবাঙসা জামাহ। জনাব ফাহমি জানালেন, মুসলিম ইয়ুথ মুভমেন্ট মালয়েশিয়ার জন্ম হয়েছে আজ থেকে ৪৮ বছর আগে। এখন তাঁদের মধ্যে রয়েছে পৃথকভাবে ছাত্রদের, যুবকদের এবং বয়স্কদের সংগঠন। স্বাগতঃ ভাষণে তিনি বললেন, তাঁদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বড়দের অভিজ্ঞতা এবং ছোটদের স্পিরিটকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়া। এখানে উল্লেখ করা যায়, বর্তমান মালয়েশিয়ার সরকারের অন্যতম প্রধান অংশীদার জনাব আনোয়ার ইব্রাহিম যুবা বয়সে দীর্ঘদিন এবিআইএম-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কাশ্মীর থেকে আসা একজন অংশগ্রহণকারী সাজিদ আহমেদের সাথে পরিচয় হলো। তিনি জানালেন, বর্তমানে তিনি পিএইচডির ছাত্র। অন্য যারা এসেছেন তাদের মধ্যে আছেন নানা পেশার লোক এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্নভাবে এঁরা নিজ নিজ দেশে সমাজ উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত আছেন। আমার মনে হয়েছে এই সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রত্যেকেই মালয়েশিয়ার সামাজিক উন্নয়নের কাজ কিভাবে হচ্ছে এবং সামাজিক আন্দোলনের মডেলটা কেমন তা স্পষ্টভাবে বুঝে নিতে পারবেন। প্রত্যেকের নিজস্ব চিন্তাকে নাড়া দিতে অথবা পূণর্মূল্যায়ন করতে এখানকার নেতা-কর্মীদের অভিজ্ঞতার বয়ান যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে আশা করা যায়। মগরেবের নামাজের পর তুন হাজি আব্দুল হালিম ইসমাইল একটি ক্লাস নিলেন। ‘ভাল কাজ’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বললেন, পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে ভালো কাজের ব্যাপারে। যত বেশি সম্ভব ভালো কাজ করুন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভালো কাজ করুন। যত রকমের ভালো কাজ আছে তার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। সমাজ উন্নয়নের জন্য এটি অত্যাবশ্যক। তিনি কোরআনের এবং হাদীসের রেফারেন্স টেনে খুব সুন্দর বক্তৃতা দিলেন। রাতের খাবার শেষ করার পর আবিমের এক জন নেতা আমাদের কয়েকজনকে নিয়ে গেলেন জনাব আনোয়ার ইব্রাহিমের বাসভবনে। আমরা যখন পৌঁছাই তখন সেখানে এশার নামাজ হচ্ছিল। নামাজের পর তিনি উপস্থিত সকলের মাঝে বক্তব্য রাখলেন। আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত মনোগ্রাহী কথা বললেন তিনি। আমাদের সাথে দেখা হওয়ার পর তিনি আনন্দ প্রকাশ করলেন এবং খুশি হলেন যে আমরা সমাজোন্নয়নের কথা ভাবছি।

পরদিন যথারীতি অনুষ্ঠান শুরু হলো সকালের নাস্তার পর। দু’জন প্যানেল বক্তা বক্তব্য রাখলেন। প্রথম জন হলেন দাতো প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ রেজওয়ান ওসমান। তিনি মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। গ্রন্থ রচনা করেছেন ২০ টিরও বেশি। ২০১৫ সালে তাঁর লেখা বই Secularism and Democracy Process: The Islamic Empowerment and Leadership of Erdogan শ্রেষ্ঠ বই নির্বাচিত হয়েছিল হিউম্যানিটি এন্ড সোশ্যাল সাইন্স ক্যাটাগরিতে। ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক এবং মানবাধিকার সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনিও এক সময় আবিমের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি খুব গুরুত্ব দিয়ে বললেন, শুধুমাত্র রাজনীতি দিয়ে কাজ হবে না আবার শুধুমাত্র শিক্ষা দিয়েও কাজ হবে না। এই দুটোর মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে এবং এই সমন্বিত প্রচেষ্টাই সমাজকে সঠিকতার দিকে নিয়ে যাবে। তিনি ‘কালেক্টিভ লিডারশিপ’-এর উপর গুরুত্ব দিলেন। তিনি বললেন, মালয়েশিয়ানদের জাতিগত চরিত্র হচ্ছে সকলের সাথে সদ্ভাব রেখে হিংস্রতাকে বর্জন করে ধীরে ধীরে কাজ করে যাওয়া। মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সাক্ষরের ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বললেন, একমাত্র মালয়েশিয়াতেই রক্তপাতহীনভাবে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এটা এতদঞ্চলের মানুষের চরিত্রের প্রতিফলন। তিনি বললেন, মুসলমানদের আত্মপরিচয় নিয়েই মুসলমানরা পরিবার পরিচালনা করবে, সমাজ পরিচালনা করবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, এটাই নিয়ম। কিন্তু এর জন্য হিংস্রতার আশ্রয় নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে মূল্যবোধের অনুশীলন ও পরিচর্যার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তিত হবে। তিনি মালয়েশিয়ান নারীদের পোশাকের মধ্যে হিজাবের প্রচলন সম্পর্কে বললেন, “সত্তরের দশকে এই দেশে হিজাব মালয়েশিয়ান নারীদের পোশাকের অংশ ছিল না। গ্রামের কিছু মানুষ হিজাব করতেন, কিন্তু শিক্ষিতরা কখনোই মাথায় হিজাব পরতো না। কিন্তু আমরা ধীরে ধীরে হিজাবের অনুশীলন করা শুরু করলাম। আমাদের মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে হিজাবের অনুশীলন করতে থাকলো। এখন দেখুন, মাত্র চার/ পাঁচ দশকের ব্যবধানে বর্তমানে মালয়েশিয়ার পোশাকের এবং সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে হিজাব। এটাই আমাদের সাফল্য।” তার কথাগুলো শুনে ভালো লাগলো। এর মধ্যে ধৈর্যে্যর উপদেশ স্পষ্ট।

পরের প্যানেল বক্তা হলেন প্রফেসর ডঃ মোঃ নুর নববী। তিনিও একজন শিক্ষাবিদ এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর। পড়াশোনার জন্যে দীর্ঘদিন বিদেশে কাটিয়েছেন। তিনিও একসময় আবিমের (ABIM) প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং সারা জীবন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বললেন, আমাদের দেশে আমরা মুসলমান, বৌদ্ধ এবং হিন্দুরা অর্থাৎ মালয়, চীনা এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত(তামিল)রা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করি। শুধুমাত্র একবার এখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল ১৯৬০ সালের ১৩ই মে। এতে অনেক লোক প্রাণ হারিয়েছিল এবং অনেকেই আহত হয়েছিল। সেই দুর্ভাগ্যজনক দাঙ্গাকে আমরা সমঝোতার কাজে ব্যবহার করেছি; হিংসাকে উসকে দিয়ে নয়, পারস্পরিক বোঝাপড়াকে বাড়িয়ে দিয়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মালয়েশিয়ায় আর কোন জাতিগত দাঙ্গা হয়নি।” তিনি খুব গুরুত্ব আরোপ করলেন “ইন্টেলেকচুয়ালিজম” এবং “ইন্ডিপেন্ডেন্ট মাইন্ড”-এর উপর। তিনি বললেনঃ আমাদেরকে সবগুলো সংগঠনের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আগাতে হবে, সহিংস প্রতিযোগিতা অথবা সংঘর্ষের মাধ্যমে নয়। তিনি বললেন, মালয়েশিয়াতে আমরা মুসলিম ইয়ুথ মুভমেন্ট মালয়েশিয়া যেমন গঠন করেছি তেমনিভাবে এখানে চীনাদের (মূলতঃ বৌদ্ধ) ইয়ুথ সংগঠন আছে এবং তামিল হিন্দুদের ইয়ুথ সংগঠনও আছে। আমাদের সংগঠন তাদের সংগঠনগুলোর সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করে যায়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বললেন যে, তুরস্কে কঠোর ধর্মহীনতার (সেকুলারিজমের) মুখোমুখি থেকেও সেখানকার মুসলমানরা নিজেদের কৃষ্টি-কালচারকে উদ্ধার করে আনতে সক্ষম হয়েছে। বুঝতে পারলাম, তিনি উস্তাদ বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসীর সুদূরপ্রসারী দর্শন, সকল বাঁধার মুখেও তাঁর অরাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলন এবং এর সফল ও কল্যাণকর প্রভাবের দিকেই অঙ্গুলী নির্দেশ করছেন। তিনি বললেন, আমাদেরকে সচেতনতার সাথে আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে বসবাস করতে হবে। তাতেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

লাঞ্চের পর বক্তব্য রাখলেন মালয়েশিয়ান ইয়ুথ কাউন্সিলের (MBM) প্রেসিডেন্ট জনাব জুফিতরী বিন জোহা। তাঁর বিষয় ছিল Issue and Challenge of Re-generation. একটি বিশেষ সময়ের লোকদের বলা হয় ‘জেনারেশন’। আমরা সেজন্যই বলে থাকি নতুন জেনারেশন, পুরাতন জেনারেশন বা জেনারেশন গ্যাপ ইত্যাদি। ‘বেবি বুমার্স’ বলে আমরা বর্তমানকালের যে জেনারেশনকে চিহ্নিত করে থাকি তাদের সাথে আমাদের অনেক বেশি দূরত্ব হয়ে গেছে, নানা কারণে নানাভাবে। জেনারেশনগুলোর মধ্যে দূরত্ব থাকা বাঞ্ছনীয় নয় এবং এই দূরত্ব কমানোর জন্য ব্যবহার করতে হবে বড়দের অভিজ্ঞতা এবং ছোটদের স্পিরিট ও উৎসাহকে। যুবকদেরকে কাজে লাগাতে হবে এবং তাদের ভাল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। এদেরকে সামাজিক কাজে ব্যবহার করতে হবে। যুবকদের পারসেপশনকে আমাদের বুঝতে হবে এবং সম্মান করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মক্কা বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকদের হাতেই ইসলামের পতাকা বহনের দ্বায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। তুরস্কের ইতিহাস বিখ্যাত সুলতান মাহমুদের, ইতিহাস যাঁর নাম দিয়েছেঃ ‘ফাতিহ মাহমুদ’ বা বিজয়ী মাহমুদ, কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, এই যুবককে প্রশিক্ষিত করেছিলেন অত্যন্ত প্রবীণ একজন ধর্মপ্রাণ শিক্ষাবিদ শায়খ শামসুদ্দিন। আমাদেরও এইভাবে আগামী প্রজন্মকে তৈরি করতে হবে। তাদের সকল সক্ষমতার মুখ খুলে দিয়ে কর্মযজ্ঞের ফল্গুধারা বইয়ে দিতে হবে। উদ্দীপ্ত এই যুব-নেতা বললেন, “ইয়ুথ ওয়ার্ক”কে আলাদা বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে এবং কাজে লাগাতে হবে। ইয়ুথ ওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য গুলো হচ্ছে:
ক. স্বেচ্ছাসেবী সম্পর্ক,
খ. একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পদ্ধতি,
গ. মূল্যবোধের সম্পৃক্ততা, এবং
ঘ. গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ।
তিনি বললেন যুবকদেরকে সক্ষম (Enable) করতে হবে, নিশ্চিত (Ensure) করতে হবে এবং ক্ষমতায়ন (Empower) করতে হবে। আবার আমাদের যুব-সম্পদকেঃ
ক. ইতিহাসের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে,
খ. তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং শিক্ষাগত উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা করতে হবে, আর
গ. সামাজিকভাবে যুবকদের কথা যেন শোনা যায় এবং তাদের অবস্থান যেন নজরে পড়ে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
কথা প্রসঙ্গে তিনি বল্লেন, এর একটি উপায় হলো “ইয়ুথ পার্লামেন্ট” প্রতিষ্ঠা করা, ইয়ুথ মিনিস্টারের সাথে মিটিং করা এবং ‘ইয়ুথ ওয়ার্ক’র উপর একাডেমিক ডিগ্রির ব্যবস্থা করা। এছাড়াও, “ইয়ুথ ওয়ার্কে”র সামগ্রিক পেশাগত মান বৃদ্ধি করা।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে “কমনওয়েলথ ইয়ুথ ফোর্স”-এর কথা উল্লেখ করলেন। তিনি জানালেন, এর কিছু সুনির্দিষ্ট মান আছে; যেমন,
১. ইয়ুথ-ইয়ুথ সম্পর্ক এবং ইয়ুথ-বয়স্ক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস থাকতে হবে।
২. কম্পিউটারের উপর ভালো জ্ঞান এবং ব্যবহারিক দক্ষতা থাকতে হবে।
৩. বয়স্কদের অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।
৪. ইয়ুথদের নৈতিকতার অনুশীলন করতে হবে বেশি বেশি ভালো কাজের মাধ্যমে, কারো ক্ষতি করতে বা কাউকে ফাঁকি দিয়ে নয়!
৫. নিজস্ব নৈতিকতার সীমারেখা সম্পর্কে সচেতনতা থাকতে হবে।
৬. বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বা হতে পারে তার সম্পর্কে এবং তার মোকাবিলা করার সক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।
পরিশেষে তিনি ইয়ুথ ওয়ার্ককে ‘বিশেষ পেশা’ হিসেবে গ্রহণ করার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন।

বিকেলে ছিল Islamic world challenge and opportunity এই বিষয়ের উপর Ahmed Azam Abdur Rahmanএর বক্তৃতা। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বললেন, “মুসলিম বিশ্ব শত শত বছর ধরে খেলাফতের ছত্রছায়ায় সংগঠিত এবং লালিত হয়েছে। কিন্তু গত প্রায় এক শত বছর ধরে মুসলমানদের মাথার উপর খেলাফতের কোন ছায়া নেই। ১৯২৪ সালে উসমানী খিলাফতের পতনের পর প্রায় ১০০ বছর হতে চললো, বিশ্বের মুসলমানরা অসংগঠিত এবং ছত্রছায়াহীন! তিনি প্রশ্ন করলেন, এর ফলাফল কী হয়েছে আমরা কি ভেবে দেখেছি?” এ নিয়ে তিনি দীর্ঘ পর্যালোচনা করলেন। মূল কথাগুলো যা উঠে আসলো তা হচ্ছেঃ মুসলমানদের খেলাফতের মতো কোনো মুরুব্বী না থাকায় যা হয়েছে তা হলোঃ
১. অনৈক্য,
২. অজ্ঞানতা ও অশিক্ষা, এবং
৩. মুসলিম উম্মাহর শত-ছিন্নতা ও খন্ডিত রূপ।

বিগত এক শ’ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে মুসলিম বিশ্বের যে দেশেই হোক না কেন, যখনই কোন মুসলমান নেতার আবির্ভাব হয়েছে, যার মধ্যে দেখা গেছে মুসলিম উম্মাহকে সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ করার যোগ্যতা আছে, তাকেই নানা পদ্ধতিতে নানা ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। অজ্ঞানতা মূলতঃ কোরআন থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফসল। জ্ঞানের উৎস থেকে নিজেদেরকে আমরা, আধুনিকতার নামে হোক অথবা পশ্চাৎপদতা থেকে বাঁচার কথা বলে হোক, বহু দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছি। একই সাথে, আধুনিক জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে যে অনীহা, অনাগ্রহ এবং বিরুদ্ধতা তার ফলে অজ্ঞানতা এবং অশিক্ষা আমাদের মধ্যে স্থায়ী বাসা করে নিয়েছে, প্রতিটি মুসলমান দেশে প্রত্যেকটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজের আনাচে কানাচে। পরবর্তীকালে এর অনিবার্য্য যে ফলাফল আমাদের উপর আপতিত হয়েছে তা হলোঃ অনগ্রসরতা ও অনুন্নয়ন। একমাত্র এই কারণেই মুসলমান দেশে দেশে দারিদ্রতার পরিমাণ বেড়ে গেছে। আমরা দান-খয়রাতের উপর বেঁচে থাকতে পছন্দ করি কিন্তু, ‘দুনিয়াবাদী না হওয়া’র কথা বলে, সক্ষমতা অর্জনের কোনো চেষ্টা করি না। এই সবকিছুর অত্যন্ত খারাপ প্রভাব পড়েছে উম্মাহর উপর এবং ফল হয়েছে এই যে মুসলিম উম্মাহ্ শতধা বিভক্ত হয়ে গেছে। নিজেরা খন্ডিত হতে হতে বিবাদমান জনগোষ্ঠিতে পরিণত হয়েছে এবং পৃথিবীর সমগ্র মানচিত্র জুড়ে উম্মাহর বিভিন্ন দেশে নানা সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কোন সঙ্গতি নেই, কোন ঐক্য নেই, পারস্পরিক কোন যোগাযোগও নেই। বিচ্ছিন্নভাবে উম্মাহ মার খাচ্ছে পৃথিবীর সমগ্র মানচিত্রজুড়ে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এখন আমরা তাহলে কি করতে পারি? তিনি সূরা রুমের কিছু আয়াত উদ্ধৃত করলেন। নবীর (দঃ) হিজরতকালীন সময়ের সুরাকা বিন মালিক-এর ঘটনা এবং খন্দকের যুদ্ধের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি Optimism in Struggle-এর ব্যাখ্যা করলেন। কঠোর দুঃসময়েও সফলতা লাভের সুদৃঢ় আশাবাদ! আমি বুঝে নিলামঃ যত কল্যাণমুখী কাজই হোক, আমাদের সংগ্রাম করেই এগোতে হবে এবং ঈমানের স্বাদ পরখ করার জন্যে শত বাধা ও বিপদের মধ্যেও আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ ভরসা ও সার্বিক নিশ্চিত সাফল্যের অব্যর্থ আশাবাদ মনে রেখে এগোতে হবে। কত হতাশাপূর্ণ অবস্থাতেই না আল্লাহর রসুল (দঃ) অবিচল আস্থার সাথে এগিয়েছেন! কেউ কেউ হয়তো বলবেঃ তিনি প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে অসহায়ভাবে প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে পালিয়েছেন। কিন্তু, তাঁর কাছে এটা হতাশার কিছু ছিলো না, বরং তা ছিল পরিস্থিতির বাস্তবতা! সেজন্যে তেমন পরিস্থিতিতেও তাঁকে হত্যার জন্যে তাড়া করে ছুটে আসা সুরাকাকে সাফল্যের স্বপ্ন দেখিয়ে আল্লাহ রসুল (দঃ) বলতে পেরেছিলেন, “সুরাকা! যেদিন পারস্য সম্রাট কিসরার মুকুট আর বাজুবন্ধ তোমার মাথায় ও হাতে পরিয়ে দেয়া হবে সেদিন তোমার অবস্থা কেমন হবে?” আমাদের সীমাবদ্ধ দৃষ্টিতে তা হয়তো ‘পলায়নপর পরিস্থিতিতেও অসাধারণ বিজয়ের গল্প! আর, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, হযরত ওমরের (রাঃ) শাসনকালে এটা বাস্তবায়িত হয়েছিল। মুসলমান সেনাবাহিনীর হাতে পতন ঘটেছিল পারস্য সম্রাজ্যের। সম্রাটের মুকুট ও কঙ্কন এনে উপস্থিত করা হয়েছিল হযরত ওমরের (রাঃ) সামনে। তিনি সুরাকা বিন মালিককে ডেকে পাঠালেন। যখোন পারস্য সম্রাট কিসরার মুকুট আর বাজুবন্ধ সুরাকাকে পরিয়ে দেয়া হলো তখোন আল্লাহর রসুলের (দঃ) ভবিষ্যৎবাণীর কথা স্মরণ করে উপস্থিত সাহাবীদের সকলেই ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলেন আর সুরাকা উচ্ছস্বরে রোদন করতে থাকেন! অন্য ঘটনাটা খন্দকের যুদ্ধের সময়ের। পরিখা খনন কালে একটি কঠিন শিলা কোন সাহাবীই আঘাত করে ভাঙতে বা কাটতে পারছিলেন না! খননের কাজে আল্লাহর রসুল (দঃ) নিজেও ব্যস্ত ছিলেন। তিনি সাহাবীদের সাহয্যে এগিয়ে এলেন। তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পাথরটিতে এতটাই জোরে আঘাত করলেন যে, পাথর থেকে স্ফুলিঙ্গ বেরিয়ে এর একাংশ ভেঙ্গে যায়! তিনি স্মিত হাস্যে তাঁর ক্লান্ত-শ্রান্ত সাথীদের বললেন, “আল্লাহু আকবর! আমাকে সিরিয়ার চাবি দেয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ, আমি ওখানকার লাল মহলগুলি দেখতে পাচ্ছি।” তাঁর দ্বিতীয় আঘাতেও আরেকটি স্ফুলিঙ্গ বেরিয়ে পাথরটির আরেক টুকরো ভেঙ্গে যায়। এবার তিনি বললেন, “আমাকে পারস্য দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ, আমি এখন মাদায়েনের শ্বেত মহল দেখতে পাচ্ছি।” তৃতীয় আঘাতে পাথরটি ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেল, এবং রাসুলুল্লাহ (দঃ) বললেন, “আল্লাহু আকবর! আমাকে ইয়েমেনের চাবি দেয়া হয়েছে। আমি এখন সানাআ’র রাজ তোরণ দেখতে পাচ্ছি।” শুনে আশাবাদের এক অপার্থিব শীতল বাতাস ক্ষুধার্ত ও মহাক্লান্ত সাহাবীদের উপর পরশ বুলিয়ে গেল। উল্লেখ করা যায় যে, ইয়েমেন বিজিত হয়েছিল রাসুলুল্লাহর (দঃ) জীবদ্দশাতেই, আর সিরিয়া ও পারস্য বিজিত হয় তাঁর ওফাতের পর।

জনাব আজম সমাজ কল্যাণমুলক কাজের মেথডোলজি হিসেবে উপস্থাপন করলেন সূরা আলে ইমরানের ১১০ নম্বর আয়াত। ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মাত, মানব জাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজের নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে।’(৩:১১০) তিনি জোর দিয়ে বললেন, আমাদেরকে নিজ নিজ ঈমানের পূণঃপরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

এরপর তিনি যে কথাগুলো বললেন তার সারাংশ হলোঃ আমাদেরকে বদলাতে হবে নিজেদের মধ্য থেকে। প্রথমে বদলাতে হবে নিজেকে, তারপর পরিবারকে, এভাবে পরিবর্তন করতে হবে সমাজকে, এবং তাতেই জাতির পরিবর্তন হবে। আমাদের সর্বোপরি লক্ষ্য হলো কল্যাণের জন্য সমস্ত পৃথিবীকে বদলানো। কল্যাণের জন্য এই যে পরিবর্তনের আন্দোলন তা যেন কখনো রাজনৈতিক দলবাজিতে পরিণত না হয়। তিনি বললেন, পলিটিক্যাল ইসলাম বা ইসলামী রাজনীতি নিয়ে বর্তমানে বিশ্বের নানা দেশে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই আমাদেরকে প্রচলিত রাজনীতির বাইরে থাকতে হবে এবং সমাজ কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে। এরপর আমাদেরকে বের করতে হবে আমাদের পন্থাগুলো কিরকম হবে তা!এই পন্থা এক এক সমাজ ও জনপদের জন্য একেক রকম হবে।

এবার তিনি নিজের জীবন দিয়ে উদাহরণ দিলেন। প্রথম দশ বছর তিনি শিক্ষকতা করেছেন। এরপর আবিমের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সমাজোন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন ইসলামী আদর্শবাদের কারণে। আবিম (ABIM) একটি এনজিও, কোন রাজনৈতিক দল নয়। কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের জন্য নিরন্তর কাজ করে যাওয়া একটি আন্দোলন এটি। জনাব আজম সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কাজ করেছেন ১৬ বছর। তিনি বললেন, কেউ যদি জেলে যায় তবে সেই সময়টাকে প্রশিক্ষণকাল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এখানে তিনি জনাব আনোয়ার ইব্রাহিমের নাম উল্লেখ করে বললেন, বিগত প্রায় এক যুগ ধরে তিনি জেলে ছিলেন এবং এই সময়টাতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন তারবিয়া বা প্রশিক্ষণের কাল হিসেবে; পড়াশোনা করেছেন, চিন্তাভাবনা করেছেন।

এবার তিনি নারী সমাজকে সমাজোন্নয়নের ব্যাপারে কাজে লাগানোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করলেন। আমরা সাধারণত ইসলামের নামে নারীদেরকে অব্যবহৃত রাখি এবং তাদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি না করে বরং বাঁধার সৃষ্টি করি। তিনি বললেন, মালয়েশিয়ায় নারীদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব ও সহজ। এই সুযোগ তাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন, আনোয়ার ইব্রাহিম যতদিন জেলে ছিলেন এবং যতদিন অভিযুক্ত হয়ে দলের নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না ততদিন অর্থাৎ প্রায় বিশ বছর ধরে তাঁর স্ত্রী আজিজাহ দলের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। এই ব্যাপারটা অনেক মুসলমান সমাজেই হয়তো গ্রহণযোগ্য হবে না, এটা আমরা জানি। তিনি বললেন, আমাদের জনসম্পদের অর্ধেক হলো নারী। তাদেরকে যদি আমরা রাজনীতি, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে লাগাতে না পারি তাহলে আমাদেরই বরং ক্ষতি, অন্য কারো নয়! আমরাই পশ্চাৎপদ থেকে যাবো। তিনি আরও জানালেন, বর্তমানে যে রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে আনোয়ার ইব্রাহিম কাজ করছেন তা কোন ইসলামিক দল নয় বরং এটা বহুজাতিক দল হিসেবেই কাজ করছে। সবশেষে তিনি বৈশ্বিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে বললেন, আমাদের কল্যাণকামী ইসলামী ভাবধারার লোকগুলোকে দেশের ভেতরে এবং দেশে দেশে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে, যাতে করে শুধু দেশীয় ভাবেই নয় আন্তর্জাতিকভাবেও নেতৃত্ব দেওয়ার উচ্চমানের লোক সৃষ্টি হতে পারে।

সূরা আয-যারিয়াতের একটি আয়াত [তুমি উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মু’মিনদের উপকারে আসে।(৫১.৫৫)] স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বললেন, “আমাদের কাজই হচ্ছে মানুষকে কল্যাণের কথা বলা এবং সমাজে কল্যাণের কাজ করা। আর তাই, আমাদেরকে স্কলার্স বা বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে হবে। আবার, অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের জন্য আমাদেরকে ভালো ব্যবসায়ী তৈরি করতে হবে এবং দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিজেদের যোগাযোগ রাখতে হবে।” জনাব আজমের পুরো ক্লাসটাই ছিল একমনে শোনার মতো। তিনি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে কথাগুলো বলেছেন, মালয়েশিয়ার পরিপ্রেক্ষিতকে সামনে রেখে। সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, অন্য দেশে নিজেদের সংস্কৃতি এবং পরিবেশ অনুযায়ী নিজেদের মতো করে কাজ করতে হবে। একথা বলে উনি শেষ করলেন যে, সকল দেশেই বিশেষতঃ যেসব দেশ মুসলিমপ্রধান সেখানে মুসলমানদের এগিয়ে আসা উচিত ইসলামের কল্যাণকামিতার দৃষ্টিভঙ্গীতে সমাজকল্যাণের কাজ নিয়ে। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং এতে সফলতা আসবে চলার পথের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর।

রাতে ছিল আনুষ্ঠানিক ডিনারের আয়োজন। এতে প্রধান অতিথী ছিলেন মালয়েশিয়া সরকারের বর্তমান ডেপুটি ওয়ার্কস মিনিস্টার হাজী মোহাম্মদ আনোয়ার বিন মোহাম্মদ তাহির। ডিনারের পর মনোমুগ্ধকর বক্তব্য রাখলেন তিনি। তিনি ছিলেন আবিমের সেক্রেটারী জেনারেল। তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে বললেন যে, ছাত্রজীবনে ছাত্র-প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ঢাকায় এক যুব সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাই তাঁর জীবনকে বদলে দিয়েছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মুসলমানদের কল্যাণে আন্তর্যাতিক অঙ্গনেও কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এই কাজেই তিনি তাঁর পুরো জীবনটাই অতিবাহিত করেছেন। অত্যন্ত আবেগের সাথে তিনি সেই যুব সম্মেলনের ‘মটো’ এবং ‘শ্লোগান’ গরগর করে খাঁটি বাংলায় উচ্চারণ করে গেলেন। এতবছর পরেও তিনি ওসব কথা ভোলেন নি। শুনে আমরা আনন্দিত ও অভিভূত হলাম।

প্রোগ্রামের তৃতীয় দিন অর্থাৎ দশ তারিখে সকালের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ লেকচারটি ছিল Professor Dr. Ahmad Rahman Songip-এর। বিষয় ছিল: “The Way Forward: Creating Transformational & Excellent Organisation”. তিনি Innovation Management এর বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হিসেবে অনেক বছর কাজ করেছেন এবং তিনি ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ সেলাঙগরের সপ্তম ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি এখন ফ্রি লান্স ট্রেইনার হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর লেখা একটি বই Break The Pattern: The Science of Transformational Value Creation সৌজন্য কপি হিসেবে আমার হাতে তুলে দিলেন তিনি। আমি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ একটি কাঠের তৈরি কলম তাঁর হাতে অর্পণ করলাম। Break The Pattern দিয়েই তিনি বক্তব্য শুরু করলেন। তিনি কিছু শব্দের ব্যাখ্যা করলেন, যেমন: প্যাটার্ন বলতে তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন মানুষের চিরাচরিত অভ্যাসকে। বললেন, অভ্যাস হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য দেয়া “স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর”এর মতো। তিনি যেটা বলতে চাইলেন সেটা হলো, আমাদের সমস্যা কি তা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং সেটার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। সবচেয়ে উত্তম এবং দ্রুততম পন্থায় একাজ করতে হবে। আমাদেরকে প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে সমস্যার মূল কারণ কি, তাকে। এটার জন্য আমাদের তথ্য সংগ্রহ (ডাটা কালেকশন) করতে হবে, সেই তথ্যকে অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ (ডাটা এনালাইসিস) করতে হবে এবং সমস্যাকে চিহ্নিত (প্রবলেম আইডেন্টিফিকেশন) করতে হবে।

তিনি বললেন, ‘ইনসান’কে তৈরি করা হয়েছে ‘ভুলে যাওয়া’র প্রকৃতি দিয়ে। ‘নসিআ’ থেকে ইনসান শব্দটি এসেছে। ‘নসিআ’ মানে যে ভুলে যায়! মানুষ যদি সত্যিই ভুলে না যেত তাহলে কিন্তু মানুষের জন্য সমস্যাই হতো। মানুষের জীবনে সুখের-দুঃখের যত ঘটনা ঘটে তার সবই যদি মানুষ আপন মনের মধ্যে ধরে রাখতো তাহলে মানুষ সত্যিই পাগল হয়ে যেত। কিন্তু, সত্যিকার অর্থে তা হয় না। মানুষ আঘাত পায় আবার ভুলে যায়, মানুষ আনন্দ করে আবার ভুলে যায়! মানুষের এই ভুলে যাওয়াটাই মানুষের জন্য উপকারী গুণ বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। এই কথাটাই মানুষকে আল্লাহ আবার পবিত্র কোরআনে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে মোট নয় বার শাহাদাতের সাক্ষ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। আমাদের নামাজ, আমাদের রোজা ও হজ্জ এসব কিছুই আমাদেরকে সত্য সম্পর্কে এবং আমাদের বিশ্বাস সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি পদ্ধতি মাত্র। ইসলামের স্তম্ভ গুলোই আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার নিমিত্ত মাত্র। এরপর তিনি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলাপ করলেন। এরপর বললেন, রাজনীতির আগে শিক্ষাটাকে গ্রহন করতে হবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে। শিক্ষায় উন্নতি এবং সামর্থ্য অর্জন করা না গেলে রাজনীতি করে কোন লাভ হবেনা। শিক্ষাকে পৌঁছে দিতে হবে জনগণের নিম্ন স্তর পর্যন্ত। এরপর তিনি ‘ট্রানসফর্মেশনাল ভ্যাল্যু ক্রিয়েশন’ সম্পর্কে বললেন। একটা উদাহরণ দিলেন এভাবেঃ একটা ডিম বাজারে অত্যন্ত অল্প দামে পাওয়া যায়। কিন্তু সেটাকে ভেঙ্গে যখন কেউ পোজ করে গ্রাহকের কাছে দেয় তখন এর দাম বেড়ে যায়। আবার ওই পোজ করা ডিমটাকে যদি আরও উন্নতভাবে পরিবেশন করা হয়, যেমন ফাইভস্টার হোটেলে করা হয়, তখন এর দাম আরো বেড়ে যায়। অর্থাৎ, উনি বললেন, আমাদেরকে স্বাভাবিক কাজগুলোকে গ্রহণ করতে হবে অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে এবং ব্যবহার করতে হবে মানের উন্নয়ন ঘটিয়ে যাতে এর মূল্য বেড়ে যায়। ইনোভেশন বা উদ্ভাবনকে উনি ব্যাখ্যা করলেন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে, যার অনেকগুলো ধাপ আছে। আমাদেরকে সেই ধাপগুলো সতর্কতার সাথে অতিক্রম করতে হবে।

আজকের দিনটাকে মালয়েশিয়ায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে মহান রাজার জন্মদিন হিসেবে। নয়ই সেপ্টেম্বর হলো রাজার অফিশিয়াল বার্থডে। ১৯৫৭ সালে মালয়েশিয়া, মালয় রাষ্ট্রসমুহের ফেডারেশন হিসেবে, বৃটেনের নিকট থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্ত হয়। প্রত্যেক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রেরই একজন রাজা আছেন। এইসব রাজারা তাঁদের সভায় একজনকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রধান রাজা হিসেবে নির্বাচন করেন এবং তিনিই হন সেই মেয়াদের জন্য সমগ্র মালয়েশিয়ার রাজা, যিনি রাষ্ট্রীয় এবং সাংবিধানিক প্রধান। তাঁকে বলা হয় “ইয়াং ডি-পারতুয়ান আগঙ” (শাব্দিক অর্থেঃ ‘He Who is Made Lord’) এবং তিনি হলেন বর্তমান বিশ্বের অল্প কয়েকজন নির্বাচিত রাজাদের অন্যতম। তাই মালয়েশিয়াকে বলা হয়ঃ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে একজন রাজা নির্বাচনের মাধ্যমে, সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। বর্তমান রাজা হলেন পাহাঙ রাজ্যের আল সুলতান আবদুল্লাহ, ৩১ জানুয়ারী ২০১৯ থেকে। এর আগে রাজা ছিলেন কেলানতান রাজ্যের পঞ্চম মোহাম্মদ। রাজাকে সম্ভোধন করা হয় ‘হিজ ম্যাজেস্টি’ এবং রাণীকে ‘হার ম্যাজেস্টি’ হিসেবে। কুয়ালালামপুরের বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন এক রাজ বাড়ীতে প্রধান রাজা বসবাস করেন।

আজ রাজার জন্মদিন উপলক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যস্ততার শেষ নেই। গত নির্বাচনের বিজয়ী দলের নেতা এবং মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের অংশীদার হিসেবে জনাব আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রচন্ড ব্যস্ততা। তারপরও তিনি একটু সময় বের করে আমাদের সিম্পোজিয়ামে আসলেন এবং বক্তব্য রাখলেন। তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করলেন বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাস দিয়ে। এতে মুসলমানদের এবং মুসলমান নেতৃবৃন্দের গৌরবপূর্ণ ত্যাগের কাহিনী আছে এবং সমাজ-সেবার ও সমাজ পরিবর্তনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে। এরপর তিনি অটোক্রেটিক বা স্বেচ্ছাচারী নেতাদের দোষ-গুণ বর্ণনা করলেন। তারপর তিনি বললেন, যুব সমাজের ভূমিকার কথা। যুবকদের কাজ করার বিশাল একটি ক্ষেত্র এবং সুযোগ রয়েছে, সমাজকে গঠন করার জন্য ও দেশকে গঠন করার জন্য। তিনি উপদেশ দিয়ে বললেন, মুসলমানদের প্রতি পূর্ণ আন্তরিকতা রাখতে হবে। দেশের সরকারে যারাই থাকুক না কেন সরকারের সাথে সহযোগিতার সম্পর্ক রাখতে হবে। ইসলামের দাওয়াতের কাজকে অবশ্যই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সন্দেহপ্রবণতা ত্যাগ করতে হবে এবং আপনার কাজকে দেখে সরকার বা অন্য কেউ যেন সন্দেহ পোষণ না করে। কারণ আপনি করছেন পবিত্র সমাজ গঠনের কাজ এবং উন্নয়নের কাজ! সন্দেহ করার তো কোনো কারণই থাকতে পারে না! ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। একবার যদি আপনি ক্ষমতায় যেতে পারেন তখন আপনি আপনার প্রতিশ্রুতি গুলোকে পালন করবেন, আর শান্তি এবং নিরাপত্তা বিধান করবেন মানুষের এবং সমাজের। খুব সংক্ষেপে এটাই ছিল তাঁর বক্তব্য। আমাদের ভালো লাগলো এবং মনে হল আজকের দিনটা সার্থক হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করলেন আবিমের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জনাব মোহাম্মদ রাইমি আবদুর রহিম। বিকেলে ব্রেইন স্টর্মিং সেসন হলো। বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছেন। দেশের কথা, বিদেশের কথা, আবেগের কথা, বেদনাময় অভিজ্ঞতার কথা। এখানে উপস্থিত চেনা-অচেনা সকলেই অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ, একথা হলফ করে বলতে পারি। পরিবেশ যখোন আলোচনার তুঙ্গে আমি তখোন নীরবে ক’টা লাইন লিখে ফেল্লাম। শিরোনাম দিলামঃ

ভালোবাসার কবিতা।

আমারও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
টকটকে লাল রক্ত আমার কলিজার
দেয়াল বেয়ে
যখোন গড়িয়ে পড়ে তখোন
চিনচিন করে ওঠে কোথাও,
এটা তো আমিই শুধু জানি;
যখোন তোমাকে উপহাস করি কিছু
আরো খানিকটা রেগে গিয়ে
কিছু কটু কথা উচ্চারণ করি-
কষ্ট পাই
কষ্ট পাই আমিও,
কারণ আমার গড়ে ওঠার সাথে
আমার বেড়ে ওঠার সাথে
আমার চিন্তায় মননে ও আবেগে
অকুন্ঠ মিশে আছো তুমি।

মিরপুর।।০৫.১০,২০১৯