একজন সাহিত্যিকর্মীর কাজ কি শুধুই মনের মাধুরী মিশিয়ে নিজের কথা অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য পরিবেশনায় সীমাবদ্ধ? যুগে যুগে এ প্রশ্ন উঠেছে বার বার শিল্পীর সাধনা কি একের অনুভব অনুভূতিকে সুললিত সুমধুর ভাষায়, বর্ণে ও চিত্রে সকলের মননে মগজে পৌঁছানো ,না তার মধ্যে থাকতে পারে আরো অন্য কিছু-উদ্দেশ্য বিধেয়? অবশ্যই থাকতে পারে অনুপ্রেরণার উদ্দেশ্য বিধেয়। উদ্দেশ্য বিধেয় ছাড়া কোন ভাব বিনিময়ই অর্থবহ বা সার্থক হয়না। অন্যের হৃদয়ে নিজের স্থান করে নেয়ার, অন্যের আগ্রহকে নিজের দিকে ফেরানোয়, অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের পারঙ্গমতার মধ্যেই নিহিত শিল্পের স্বার্থকতা। রবীন্দ্রনাথ এটাকে সারবান সাহিত্যের দর্শন বলেছেন। সাহিত্য জীবনের দর্পন। সুতরাং জীবনের আশা আকাঙ্খা প্রত্যয় প্রত্যাশা সাহিত্যে প্রতিফলন হবে এবং তদ্বারা জীবন যাপনে নানান উপায় উপলব্ধি লাভ ঘটবে সাহিত্যের কাছে এটাই প্রত্যাশা। সাহিত্য তাই তা প্রবন্ধ, কবিতা কিংবা গল্প নাটক হোক মানুষের জীবন যাপন উপলব্ধিকে সমৃদ্ধ সক্রিয়করনের মুখ্য ভূমিকা থাকে সেখানে। সাহিত্য নোবেল বিজয়ী ভি.এস নাইপাল (১৯৩২-) যেমন বলেছেন তিনটি জীবন দরকার: কাজের জন্য, অভিজ্ঞতার জন্য, ভালবাসার জন্য।
ইতিহাস ঐতিহ্যের কবি, বাঙালী মুসলিম জাতিসত্ত্বার চিন্তাচেতনার চৌহদ্দি নির্মাতা , স্বপ্ন ও সত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন নির্মাণকারী সাহিত্যি-সংস্কৃতিকর্মী কবি ফররুখ আহমদের (১৯১৮-১৯৭০) রচনাবলী পাঠ ও পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তাঁর সাহিত্যকর্মও জীবনের তিন ধারা বা দর্শনের ভিত্তিতে পল্লবিত ও প্রকাশিত হয়েছে। নানান আঙ্গিকে মানবিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্যগত চিন্তা চেতনাকে শানিত ও জাগ্রত করার ভূমিকায় তার কলি ও কলম ব্যাপকভাবে উৎসর্গিত। বিশ শতকর ত্রিশের দশকের কবি ফররুখ রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল উত্তর আধুনিক কাল পরিক্রমার যোগসূত্রসম মধ্যবর্তী প্রধানতম পুরষ। তাঁর লেখায় রবীন্দ্রযুগ এবং রবীন্দ্র উত্তর সময়ের সরব সচকিত উচ্চারনে পরিপূর্ন। ত্রিশের দশক ছিল ভারতবর্ষের বাংলা অংশে আত্মনিমান প্রয়াস প্রচেষ্টার কাল। প্রথম মহাযুদ্ধের ধাক্কা সামলিয়ে ওঠা এক মধ্যবর্তী সংগ্রাম ও সংকটের উন্মেষ সবে দৃশ্য গোচর হতে চলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তখন নির্মিত হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে দারুন মন্দা চলছে। ভারতবর্ষে স্বাধীনতার দাবী প্রবল হচ্ছে-ইউরোপে পুনর্গঠনের কাজ যেমন চলছে একই সাথে রাষ্ট্র ও জাতিনিচয়ের মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠে অনৈক্য ও রেষারেষির মাত্রা বাড়ছে। ভাঙ্গছে প্রথাবদ্ধ পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা। ত্রিশের দশকে বাংলায় আর্থ-সামাজিক পরিবেশে কিছুটা স্বস্তি ও স্বাধীনতার প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকলেও আসন্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুতির মহড়ায় বিভ্রান্তিও বাড়ছিল। এ সময়কার কবি-ফররুখ আহমদ। তিনি একাধারে নৈসর্গের ও সুস্মিত মন ও রোমান্টিক ভাবধারার কবিতা যেমন লিখেছেন তেমনি পরবর্তীকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও মধ্যবর্তী দুর্ভিক্ষ প্রপীড়িত মানব ও সমাজের দুর্দশার ছবিও এঁকেছেন তার কাব্য ক্যানভাসে। এরপর ভারত বিভাগ প্রেক্ষাপটে মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে উজ্জীবিত হয়েছেন। ফররুখ আহমদই প্রথম কবি যিনি নিসর্গ, প্রেম, ধ্রুপদ আকাঙ্খা নিয়ে যেমন কাব্য লিখেছেন আবার তিনিই মানবতার সংকটকাল উপস্থিতিতে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে কলম ধরেছেন, একইসাথে স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম নিয়েও গীতিকাব্য রচনা করেছেন। এ ভাবেই ভালবাসার, কাজের ও অভিজ্ঞতার তিন অধ্যায়েই তার সাহিত্যভুবনে প্রথিত হয়েছে।
সমকালীন রাজনীতির প্রতি, সময়ের প্রতি ‘কাল সচেতন’ হয়ে দায়িত্ব পালনে ফররুখ বরাবরই ছিলেন সৃজনশীল, উচ্চ কন্ঠ। সমকালীন পরিবেশ পরিস্থিতির প্রতি দায়িত্ব বোধ থেকে তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ব্রিটিশ ভারতবর্ষ থেকে স্বাধীনতা লাভার্থে তদানীনতন সময়ের মুসলমান জনসমাজের পাকিস্তান আন্দোলনের প্রচেষ্টায় অবগাহন করেছেন। ফরতুখ এই আন্দোলনকে আত্মস্থ করতে তিনি এর সপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। উপলব্ধি করেছিলেন ‘ঘুমন্ত’ মুসলমানদের জাগিয়ে তোলা দরকার। তাদের উজ্জীবনী শক্তিকে জাগ্রত করতে ধরেন কলম। হাতেমতায়ীর সততা, সংগ্রামী ও মানবহিতেষী মূল্যবোধকে অধ্যয়নের ও অনুপ্রেরণার বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণে নিপীড়িত উপমহাদেশের মুসলমান সমাজ তাদের গৌরবময় অতীত ঐতিহ্য, শৌর্যবীর্যের কথা ভূলেই গিয়েছিল। মুক্তচিন্তার সকল দুয়ার বন্ধ করে তারা ‘আয়েশী রাতের প্রহর গুনে’ চলছিল। অন্ধকারে হাবুডুবু খাওয়া ছাড়া তাদের আর কোন গত্যন্তর ছিল না। বিশ্বের সর্বত্র যখন গ্রগতির জয়যাত্রা শুরু হয়েছে ভারতীয় মুসলমান তখনো ঘুমন্ত। তাদের ধিক্কার দিয়ে জাগরণের উদ্দীপ্ত প্রেরণা সৃষ্টি করেন ফররুখ আহমদ-
কত যে আঁধার পর্দা পারায়ে ভোর হল জানি না তা;
নারঙ্গীবনে কাঁপছে সবুজ পাতা।
দুয়ারে তোমার সাত-সাগরের জোয়ার এনেছে ফেনা।
তবু তুমি জাগলে না? তবু তুমি জাগলে না?
ফররুখ আহমদ বুঝেছিলেন ইসলামি ঐতিহ্য ও আদর্শবোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে মুসলমানদের সম্বিত ফিরে আসবে। তিনি তাই মুসলিম ইতিহাস থেকে ঘটনা বেছে নিয়ে সেখানকার আদর্শ চরিত্রাবলিকে তাঁর কাব্যের আদর্শ হিসাবে বিনির্মাণ করেন। তিনি চেয়েছিলেন ইসলামী চিন্তাধারার নবমূল্যায়ন করতে এবং তার মাধ্যমে অতীতমুখী মুসলমানদের প্রগতিমুখী করতে।
নবচেতনায় দীক্ষিত হতে বাঙালী মুসলমানদের মুক্তবুদ্ধি চর্চার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন তিনি। আর এ জন্য ফররুখ আহমদ তাঁর কাব্যের উপকরণ সংগ্রহ করেন পুঁথিসাহিত্য, আরবি ফারাসি উপন্যাস, ইকবাল, সাদী, রুমী, আর মুসলিম সাধক পুরুষদের জীবনেতিহাস থেকে। সাহিত্যের উপকরণ খুঁজতে যেয়ে তিনি পুঁথিসাহিত্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলে তাঁকে সেকেলে ভাবতেন কেউ কেউ। কিন্তু এটা ভাবা অসঙ্গত হবে যে পুঁথিসাহিত্যের হাতেম তাঈ এবং ফররুখ আহমদের হাতেম তাঈ এক। যদিও উভয়ে একই ইয়েমেন দেশের অধিবাসী তবু ভাব, ভাষা, পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীবনবোধ সবদিক দিয়ে তাদের মধ্যে এক বিরাট ব্যবধান বিদ্যমান।
মুসলমানদের মধ্যে অনুসরণীয় আদর্শ রয়েছে এমন দৃষ্টান্ত তুলে ধরাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। শুধু শিল্পের খাতিরে পুঁথিসাহিত্যের ঐতিহ্য রক্ষা ফররুখ আহমদের উদ্দেশ্য ছিল না- তার আসল অভিপ্রায় ছিল এ সমস্ত বিষয়াবলিকে চিন্তাচেতনায় কল্যাণপ্রদ ও প্রেরণাদাত্রী হিসেবে উপস্থাপন করা। হাতেম তাঈকে তিনি এঁকেছেন মানবতাবাদী সমাজসেবী মহৎপ্রাণ ব্যক্তি হিসাবে। প্রকারন্তরে তিনি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, মুসলিম পুনরজ্জীবন সম্ভবপর হতে পারে মানবতার নি:স্বার্থ সেবার মাধ্যমে।
ফররখ আহমদের ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্য রচিত হয় ১৯৪৩-৪৪ সালে। ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে স্বাধিকার চেতনার উম্মেষ সবেমাত্র তখন দেখা দিয়েছে। এ কাব্যের অধিকাংশ কবিতাতেই কবির আদর্শ ও ঐতিহ্যপ্রীতির পরিচয় ফুটে উঠেছে। ‘পাঞ্জেরী’ কবিতায় হতাশাগ্রস্ত মুসলমানদের অধ:পতনের কারণ ও সঠিক চলার পথ প্রার্থনা করে তাঁর তীব্র ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। মুসলমানদের অধ:পতনের কারণ বর্ণনায় বলা হয়েছে-
শুধু গাফলতে, শুধু খেয়ালের ভূলে
দরিয়া অথই ভ্রান্তি নিয়াছি তুলে
আমাদেরি ভূলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়াছে তাদের সেতারা শশী।

মুসলিম জাতি যেন ‘অনিমেষ নিরুদ্দেশ যাত্রী’, তারা এখন ‘দীঘল রাতের শ্রান্ত সফর শেষে কাল দরিয়ার কাল দিগন্তে’ এসে পড়েছে। তরীর পাইলট ‘পাঞ্জেরী’ কে কবির আকুল জিজ্ঞাসা-
রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তুুলে, আমি দাঁড় টানি ভূলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
‘রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
মানবতার ধর্ম ইসলাম। ইসলাম যে সাম্যনীতি ঘোষণা করেছে বিশ্ববাসীর শান্তি পূর্ন জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য তা সকলের জন্যই মহাকল্যাণকর। কিন্তু আধুনিক বিশ্বমানবতার অবমাননা দেখে কবি ক্ষুব্ধ, মর্মাহত। তাই কবিতায় কবির সে করুণ আর্তি প্রকাশ পেয়েছে-
‘পড়ে আছে মৃত মানবতা
তারি সাথে পথে মুখগুঁজে
পৈশাচিক লোভ
করিছে বিলোপ
শাশ্বত মানবসত্তা মানুষের প্রাপ্য অধিকার
ক্ষুধিত মুখের গ্রাস কেড়ে নেয় রুধিয়া দুয়ার
মানুষের হাড় দিয়ে তারা আজ গড়ে খেলাঘর
সাক্ষ্য তার পড়ে আছে মুখ গুঁজে ধরণীর পর’।
কবি মানবতার এ অপমান দেখে শুধু বিলাপ করে ক্ষান্ত হননি। কবিকন্ঠে পরিশেষে ধ্বনিত হয়েছে প্রতিবাদ, অভিশাপ আর সংগ্রামী হুঙ্কার:
হে জড় সভ্যতা!
মৃত সভ্যতার দাস স্ফীতমেদ শোষক সমাজ?
মানুষের অভিশাপ নিয়ে যাও আজ
তারপর আসিলে সময় বিশ্বময়
তোমার শৃঙ্খলগত মাংসপিন্ডে পদাঘাত হানি
নিয়ে যাব জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে টানি।
ফররুখ আহমদ শুধু ইসলামি জীবন ইতিহাস ও তার পরিমন্ডলীয় উপকরণ নিয়ে কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেননি-আরবি-ফারসি শব্দাবলি তাঁর কাব্যে সুনিপুণভাবে প্রয়োগ করে বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারকে সম্পদশালী করেছেন। ফলে বাংলা কাব্যে রাম-লক্ষণ, যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, ভীস্ম, কর্ণ, দ্রোণ, সীতা-সাবিত্রীর পাশাপাশি ইউনুস নবী, সোলায়মান নবী, খিজির, হাতেম তাঈ, রুস্তম, নমরূদ, কারুন, জোলেখা, লায়লী, শিরি, রাবেয়া, হাজেরা প্রমুখের নাম পাওয়া যায়। এটা মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতিফলন। ফররুখ কাব্যের ভাব, ভাষা, বিষয় এবং আবেদন সবকিছুর মধ্যেই এ ঐতিহ্যবোধ সুস্পষ্ট।
সময়ের অবসরে অকৃতজ্ঞ সমাজ ভুলতে বসে তার চিন্তা চেতনার ধারকবাহক ও প্রেরণদাত্রী পৃষ্ঠপোষককে। কিন্তু অবিনাসী চিন্ত চেতনার মৃত্যু ঘটেনা। শিরা, উপশিরা, ধমনীতে প্রবাহিত রক্তধারার মধ্যে জাগ্রত চেতনার উজ্জীবিত শক্তির মৃত্যু নেই। একদিন না একদিন তা ফলগুধারার অবয়বে বের হবেই। ফররুখ আহমদ

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানবতার লেবাসধারী জালেম শাসকের সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে, অন্যদিকে বিশ্বাসী প্রতিবাদী মজলুম মানুষের সংখ্যা অনেকটা কমেছে বলা যায়। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বাসী মানুষকে নতুন এক ক্রুসেডের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী চিহ্নিত করে বিভেদ-সংঘাত বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। যেন বর্ণবাদের নতুন এক ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠেছে বিশ্ব। মানুষে মানুষে হানাহানির এ যেন নতুন এক নীলনকশা। এ যেন নমরূদ-ফেরাউনের যুগের আবির্ভাব। সন্ত্রাসবিরোধী, জঙ্গিবিরোধী-যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে প্রকারান্তরে বিশ্বব্যাপী নতুন একটি ক্রুসেড চালানো হচ্ছে শুধু মুসলমানদের বিরুদ্ধে। একদিকে আইএস, তালেবান ও জঙ্গি অন্যদিকে জঙ্গিবিরোধী জালেম-বিশ্ব সবারই একমাত্র টার্গেট মুসলিম দেশ ধ্বংস করা ও মুসলমানদের হত্যা করা। ধনতন্ত্র বা পুঁজিবাদ বর্তমান বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বস্তুবাদী, সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদীদের শ্যেনদৃষ্টি পড়েছে প্রধানত মুসলিম বিশ্বের উপর। মানবতার নামে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধবাজরা মুখে বলছে, সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই। তাদের কোন আদর্শ নেই, দেশ নেই। সন্ত্রাস নিন্দনীয়। আমরা ইহুদি সন্ত্রাসী চাই না। ইহুদিবাদ পছন্দ করি না। হিন্দু সন্ত্রাসী চাই না। খৃস্টান আর মুসলমান সন্ত্রাসীও চাই না। কিন্তু তারা কার্যক্ষেত্রে গোপনে-প্রকাশ্যে ইহুদিসন্ত্রাসীসহ অন্য ধর্মের সন্ত্রাসীদের অস্ত্র-শস্ত্রসহ সবধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে শুধু মুসলমানদের হত্যা করার জন্য এবং নিজেরা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসাবে টনকে টন বোমা ফেলে হত্যা করছে নিরীহ মুসলমানদের। ফিলিস্তিন, সিরিয়া, কাশ্মীর, ইরাক, আফগানিস্তান এর জলজ্যান্ত উদাহরণ। ধ্বংস করছে একটার পর একটা মুসলিম দেশ। এর স্বাভাবিক পরিণতি হিসাবে আক্রান্ত হচ্ছে ইসলাম, জাতি হিসাবে মুসলমান, রাষ্ট্র হিসাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আমরা মনে করি, তারপরও কালজয়ী আদর্শ ও বিশ্বাসের নিজস্ব একটা প্রাণশক্তি থাকে। বেছে বেছে বিশ্বাসী সব মানুষকে নির্মূল করে দেয়া সম্ভব হলেও আদর্শের কারণে নতুন করে আরো বেশি প্রবল প্রাণশক্তিসম্পন্ন বিশ্বাসী মানুষ জন্ম নেয়। আমরা বলতে চাই আদর্শের কখনো মৃত্যু ঘটে না। আদর্শ কখনো মরে না। আদর্শকে কখনো হত্যা করা যায় না। একজন আদর্শিক ব্যক্তিকে হত্যা করা খুবই সহজ কাজ। এর মধ্যে কোন বাহাদুরি নেই। পৃথিবীতে বিভিন্ন আদর্শের কোটি কোটি লোককে নানা কারণে হত্যা করা হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু তাদের অনুসৃত আদর্শকে পৃথিবীর বুক থেকে নিচিহ্ন করে ফেলা সম্ভব হয়নি। যদি মহান আল্লাহ না চান তাহলে কোন আদর্শ কখনো ধ্বংস হয়ে যায় না।