ইচ্ছের মৃত্যু

ইচ্ছে জাগে বৃষ্টিতে আজ
আগের মতো ভিজতে থাকি
আকাশ জলের প্রেমের ধারায়
একটি প্রেমের গল্প আঁকি।

উঠোনপানে যেই ছুটেছি
উড়িয়ে আঁচল ঝড়ের সাথে
বৃষ্টি তখন উড়েই গেছে
তোমার দেশের আঙিনাতে।

আকাশ কালো বৃষ্টি ও নেই
একলা আমি দাঁড়িয়ে থাকি
ভাবছি এখন বৃষ্টি তো নেই
কেমন করে গল্প আঁকি!
…………………………………………..

অসময়ের ডাক

অনঙ্গ বৌ, অনঙ্গ বৌ
পেছন বাড়ির ডাক
শুনিসনে আর, দুঃখ পাবি
যা গেছে তা যাক।

অনঙ্গ বৌ, অনঙ্গ বৌ
চোখ কেন তোর ভিজে?
ভুলেই গেছিস,দোর দিয়েছিস
তোর হাতে তুই নিজে।

অনঙ্গ বৌ, অনঙ্গ বৌ
জীবন নদীর বাঁকে,
এসব কথা চিরদিনই
রক্ত গোলাপ আঁকে।

অনঙ্গ বৌ, অনঙ্গ বৌ
বাজছে ছুটির বাঁশি
হয়নি বলা তোকে আজ ও
ভীষণ ভালোবাসি।
…………………………………………..

অসহায়

কবিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের লেখা কবিতা পাঠ করতে গিয়ে
বহুবছর পর দর্শক সারিতে বসা সেই চোখের সাথে দৃষ্টি বিনিময় হয়ে যায়।
আজ ও কি বৃষ্টি ঝরলো অতীতের মতো?

সেই উপচে পড়া গভীর দৃষ্টিতে না বলা কথার প্রকাশের
ব্যাকুলতা! শুধু কোথায় যেন আজ মিশে আছে ধূসর
পাণ্ডুলিপি।

সেই কবে কখন অবুঝ মনের না ফোঁটা কুঁড়ির মতো ফুটেছিল ফুল।
সে তো মাঝ আকাশে না যেতেই মিলিয়ে গেল ছায়ার মতো।
দুজন পৃথিবীর দুই প্রান্তে।

তারপর সে তো ইতিহাস হয় নিয়মের অধিনতায়।
কতো জল বয়ে গেল জীবনের যাপিত দৈনতায়।
কখনো স্মৃতির জানালায় উঁকি দেয় অস্পষ্ট ক্ষয়াটে চাঁদ।
তার আলোয়বিষণ্ণ সুর।

দিগন্তের প্রান্তে এসে হঠাৎ আলোর ঝলকানি।আজো
বৃষ্টিতে ভেজা হলো না। অবুঝ মনে অন্য রকম আকুতি
ঝড় হয়ে নিজেকেই পোড়ালো আগের মতো।
…………………………………………..

মানুষ নই

আমি কি আর মানুষ আছি?
মানুষ হলে দুঃখ পেতাম
সুখের কাছে হাত পাততাম
ভালোবাসায় সিক্ত হোতাম।

আকাশ দেখে অবাক হোতাম
চাঁদের আলোয় মুগ্ধ হোতাম
নদীর কাছে গান শুনতাম
ফুলের গন্ধে বুক ভরতাম।

এখন আমি মানুষ নামের যন্ত্র বটে
খাচ্ছি-দাচ্ছি, নকল হাসির ঠোঁট
মেলছি, বন্ধু দেখে হাত তুলছি।

কিন্তু আমি মানুষ নই। মানুষ
নামের রোবট বটে।একে কি
আর মানুষ বলে?
…………………………………………..

কে

এক হাতে মোর
শূন্য থালা
অন্য হাতে ফুল,

কি নিবি তুই
বলতে পারিস
হয়না যেন ভুল।

এক চোখেতে
আছি ধরে
সুরের ঝর্ণা ধারা

অন্য চোখে
দেখ চেয়ে তুই
ঝরছে অশ্রুধারা।

অশ্রু না কি
ফুল নিবি তুই
যা নিবি তুই নে,

দুই এর মাঝে
আছি আমি
বলতো আমি কে?
…………………………………………..

সুখের অসুখ

কোন কোন রাতে চাঁদ কথা বলে,
তখন তার হাসি ঝরে জ্যোৎস্নার আদলে।

আমার দু চোখ দেখে বন জ্যোৎস্নায়
গাছেরা নাচে দু হাত তুলে,করে
কেলী অপ্সরীর বেশে।

এমন রাতে আমি হই খুব কাছাকাছি
নিসর্গের কাছে।বুকে জাগে অনিন্দ্য
এক দুঃখ বড়ো সুখে।এ আমার
সুখের অসুখ।

এমনই রাতে আমার মরনের সাধ জাগে।
…………………………………………..

মুক্তি

মনের ঘরে বন্দী আছি
মুক্তি আমায় কে দেবে,
নিজের বাঁধন নিজেই রচি
তাই মেলেনা এই ভবে।

শিকল ছাড়াই পায়ে আমার
কে পরালো শিকল যে
কাটলে শিকল ভুলেই থাকি
বাঁধণ আমার ঘুচলো রে।

বাহিরপানে তাকাই যখন
ডাক যে শুনি সুন্দরের
মনের আঁধার ঢাকলো আমায়
বন্দী আমি অন্দরের।

আপন আপন করেই মরি
আপন আমার অ–জানা
বিশ্বমাঝে আছে যে জন
সেই তো আমার স্বজনা।

একলা আমি বিশ্বমাঝে
এমন আমার ভাবখানা
একলা হয়ে ভিতর থেকে
এঁটে আছি দ্বারখানা।
…………………………………………..

কবিতা অকবিতা

গতকাল সন্ধ্যায়
বাসায় ফিরেই খবর এলো
আত্মীয়া মৃত্যুর প্রহর গুনছে
হাসপাতালের বেডে।

ছুটে গেলাম।
মৃত্যুর যন্ত্রণা তাঁর সারামুখে।

ডাক্তার নেই,সিস্টার নেই
আয়া তার নোংরা হাতে
অক্সিজেন চালু করে দিল।

নীরব যন্ত্রণায় ফেরার পথ ধরি।
লীফটের সামনেই দেখি
প্রসুতি মায়ের ট্রলি

আনন্দের ছাপ মাখা যন্ত্রণা সারামুখে।

যেতে যেতে ভাবি আহা
সব যন্ত্রণার ছাপ কেন
হয়না এমন?
…………………………………………..

সুখ

বলার জন্যে নয়তো বলা
সুখের জন্যে বলা,
সুখের নাগাল ছোঁব বলে
দুরন্ত পথ চলা।
সুখের চাবি কতকটা দূর
সাত সমুদ্দুর পাড়ে?
ভেবে ভেবে পার করেছি
শুধুই জীবনটারে।
সুখ খুঁজেছি তোমার প্রেমে
সুখ খুঁজেছি আমার প্রেমে
সুখ খুঁজেছি বন্ধনেতে
সুখ খুঁজেছি একলা ঘরে।
সুখ পাখিটা দেয়না ধরা
থাকবে অধরা,
আশায় আশায় দিন কেটে যায়
এমন বিড়ম্বনা।
…………………………………………..

বেলা অবেলার গান

আমি অসীম শূন্যতাকে বুকে নিয়ে
আবহমানকাল হেঁটে চলেছি পৃথিবীর
বুকে,অতিথি পাখীর মত সন্ন্যাসীর বেশে।
কোনখানে গেলে সুখ মেলে তার খোঁজে।
যদিও প্রকৃত সুখের রূপ আমার জানা নেই
তবুও হাত পেতে আছি অনন্ত প্রত্যাশায়।
মানুষ তো চিরকাল সুখের গান গাইতে
গাইতে দুঃখের সাগরে ভাসে।তবুও দাঁড়
টানে।চাঁদের কাছে বসে শুনেছি মৃত জ্যোৎস্নার
কান্না,নদীর বুকে ভাঙনের সুর,গাছের
বিষণ্ন ভাষা।এইসব দুঃখী মানুষের সাথে
কাটে গেয়ে বেলা অবেলার গান।