অনেক বছর আগে, মিথিলার বয়স তখন পাঁচ কি ছয়, সে আনমনে উঠোনের এক কোণে গাছের ছায়ায় বসে রান্নাবাটি খেলছিল। তখন ভর দুপুর। খাঁ খাঁ উত্তাপে পুড়ছিল পৃথিবী। আগুনের হলকা ছড়াচ্ছিল মধ্যগগনে থাকা সূর্য। ভাই-বোনেরা বাড়িতে ছিল না কেউই। বাবাও বাইরে। রেহানা ব্যস্ত নিজের কাজে। তখন বুঁচি পাগলী এসেছিল ওদের বাড়িতে। বুঁচি অন্য পাড়ার মেয়ে। খুব গরীর এবং মাথার ঠিক ছিল না তার। খিদে পেলে এপাড়া ওপাড়া ঘুরত। গ্রামের একটু যারা অবস্থাপন্ন তারা সুযোগমত বুঁচিকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিত। বিনিময়ে কিছু খাবার দিত তাকে। বুঁচি তাতেই খুশি হয়ে, কৃতজ্ঞতায় গদগদ হয়ে, গোগ্রাসে সে খাবার গিলত। তারপর চলে যেত নিজের পথে। তার পাগলামি আর বোকামির সুযোগ নিয়ে অনেকেই তাকে খাটিয়ে নিয়ে দূরদূর করে তাড়িয়ে দিত, প্রতিবাদে চিৎকার করে কাঁদত আর নিজেই নিজের চুল ছিঁড়ত বুঁচি।

মিথিলা কোনো কারণ ছাড়াই ভয় পেত বুঁচিকে। তাকে দেখে দৌড়ে পালাত। রেহানা বুঁচিকে মাঝে মাঝেই খাবার দিত, টুকটাক কাজ করিয়ে নিত তাকে দিয়ে, আর বুঁচিও খাবারের লোভে প্রায়ই ঢুঁ দিত তাদের বাড়িতে।

সেই দুপুরে নিজের জগতে আত্মমগ্ন শিশু মিথিলা আচমকা বুঁচিকে দেখে ভীষণ চমকে, ভয়ে চুপসে গেছিল। মুখ শুকিয়ে গেছিল, দৌড়ে পালাবার শক্তিটুকুও আর ছিল না তার। সে চোখ বড়বড় করে বুঁচির দিকে তাকিয়েছিল, ঢোক গিলছিল ভয়ে।

তখন অসুস্থ, পাগলী বুঁচি তার দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত রহস্যময়ভাবে হাসল। বুঁচির তখন ষোলো কী সতেরো বছর বয়স। কিংবা আরো বেশি বা কম। কালো, বেঁটে আর কুৎসিৎ, হাসলে লাল মাড়ি বের হয়ে পড়ে। তার সে হাসি দেখে অবাক, বাকরুদ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়েছিল মিথিলা। তখন বুঁচি এদিক ওদিক চেয়ে, কোথাও কেউ নেই দেখে, মিথিলাকে কোলে তুলে নিয়েছিল, তার শরীরে হাত বুলিয়েছিল। ঘরের পেছন দিকে তাকে নিয়ে যেতে যেতে বলেছিল, ভয় কী রে? আমাকে ভয় কী? ভয় নাই।

কী উৎকট গন্ধ ছিল বুঁচির গায়ে! গন্ধে গা গুলিয়েছিল মিথিলার। কিন্ত প্রতিবাদের শক্তি বা সাহস কোনোটাই ছিল না তার। তাদের ঘরের পেছন দিকে ঘন জঙ্গল ছিল তখন, সচরাচর কেউ মাড়াত না সেদিক। সেদিকেই, মিথিলাকে নিয়ে গিয়ে, বড় এক গাছের নিচে তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল বুঁচি। নিজে বসেছিল গাছের গায়ে হেলান দিয়ে। আর তারপর, সেই দমবন্ধ করা দুপুরে, সেই ভীষণ উত্তাপ ছড়ানো দুপুরে, বুঁচি একটানে খুলেছিল তার ব্লাউজ। উন্মুক্ত করেছিল তার কালো গন্ধছড়ানো স্ফীত বর্তুল। মিথিলাকে একটানে টেনে নিয়ে বসিয়েছিল কোলে! মিথিলা কিছু বোঝার আগেই, উঠিয়ে নিয়েছিল নিজের শাড়ি, খুলে দিয়েছিল মিথিলারও প্যান্ট! যেন কোনো ভৌতিক ছবির দৃশ্য ছিল সেটা, ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছিল পরপর। বুঁচি নিজের দুই বর্তুলে টেনে বসিয়ে দিয়েছিল মিথিলার নরম, কচি দুটো হাত। নিজেই চাপ দিচ্ছিল, পিষছিল পাগলের মত, নিজের অপরিষ্কার, অন্ধকার জঙ্ঘায় সজোরে চেপে ধরেছিল মিথিলার পবিত্র, নরম, অস্ফুট ত্রিভূজ! ঘষছিল, চাপ দিচ্ছিল। উন্মাদ, পাগল বুঁচি যেন উন্মাদ হয়ে উঠেছিল তখন! সে নিজের সেই দুর্গন্ধযুক্ত কালো, বিশাল, উন্নত বর্তুলবৃন্ত জোর করে পুরে দিয়েছিল মিথিলার মুখের ভেতর। অস্ফুটে, কী সব বলছিল সে। লেহন করতে বলছিল কিংবা চুষতে বলছিল তার বর্তুলবৃন্ত, সম্ভবত! মিথিলার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল তার শরীর, যা বুঁচি বাঘিনীর উন্মত্ততায় চেপে নিয়েছে নিজের অপরিচ্ছন্ন, অন্ধকার জঙ্ঘায়, ছড়ে যাচ্ছিল। ভীষণ জ্বালা করছিল। যন্ত্রণা, তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করছিল সে! আর তার মুখের মধ্যে ঐ দুর্গন্ধময় স্তনবৃন্ত! ঘেন্নায় বমি আসছিল তার।

কিন্তু তাকে শক্ত, ভীষণ শক্ত করে চেপে রেখেছিল বুঁচি। মিথিলা ছটফট করছিল। মিথিলা প্রাণপণ চেষ্টা করছিল নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে। কিন্তু তার মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত দম বন্ধ হয়েই মারা যাবে সে! তার যন্ত্রণার অবসান হল অবশেষে। তাকে ছেড়ে দিল বুঁচি। আর মিথিলা, আতংকে, ত্রাসে, ভয়ে অস্থির হয়ে এক ছুটে দৌড়ে গেল রেহানার কাছে। জড়িয়ে ধরে, শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে রেহানাকে বেষ্টন করে তার শরীরের মধ্যে মুখ গুঁজল, ফোঁপাল মিথিলা। কী এক অভিমানে ও কষ্টে, যাতনায় ও অপমানে, অপরাধবোধে, ভরে গেল তার শিশুমন। রেহানা সস্নেহে সেদিন টেনে নিয়েছিলেন তাকে। বারবার জানতে চেয়েছিলেন কী হয়েছে মিথিলার, কেন সে কাঁদছে, ভয়ই বা কেন পেয়েছে সে! কিন্তু মিথিলা কিছুতেই বলতে পারেনি কেন সে কাঁদছিল, কেন সে ভয় পেয়েছিল। তার শিশুমন এটা ধরেই নিয়েছিল যে, যেহেতু সে পছন্দ করে না বুঁচিকে, তাই তাকে শাস্তি দিয়েছে বুঁচি! এক্ষেত্রে অপরাধটা তারই, বুঁচির নয়। এমনটি ভেবেই সে রেহানাকে বলল না কিছুই। পাছে রেহানা তাকে আরও কঠোরতর কোনো শাস্তি দেয়, কিংবা বকে! বেচারা মিথিলা! বমি করে, সেদিনও, ভাসাল সে।

বুঁচি আর তাদের বাড়িমুখো হয়নি তারপর। এবং এক সময়, কে জানে কোথায়, উধাও হয়ে গেছিল সে গ্রাম থেকে। সম্ভবত সে কারণেই মিথিলার শিশুমন ধীরে ধীরে ভুলে গেছিল সেই ভয়ংকর স্মৃতি, যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা। কিন্তু তার অবচেতন মন ভোলেনি সে স্মৃতি, বরং জমা করে রেখেছিল ভীষণ সংগোপনে। মিথিলা নিজেও জানত না সেটা। ভাবেওনি কোনো দিন। মিথিলার জীবনের চরমতম ক্ষণে, নিবিড়তম মুহূর্তে, স্মৃতিটা ফিরিয়ে দিয়েছিল অতঃপর তার অবচেতন মন।

সেই রাতে, স্বপনের সাথে প্রথম অভিজ্ঞতার সেই রাতে, সেই যন্ত্রণাময় স্মৃতি আর স্বপনের যৌনতায় ভরা, স্থূল সেই চুমুর মধ্যে কোনো প্রভেদ করতে ব্যর্থ হল মিথিলা। ভীষণ কষ্টে ও যন্ত্রণায়, হতাশা ও বেদনায় আচ্ছন্ন হল তার মন। প্রবল বমনেচ্ছা সে দমন করতে পারল না কিছুতেই! কলতলায় বমি করে নির্জীব বসে থাকল সে, বসেই থাকত সারারাত।

কিন্তু স্বপন, তার ভালোবাসায় সিক্ত, স্নাত, তার পরম আরাধ্য স্বপন, বোঝেনি তার যন্ত্রণার কারণ। পড়তে পারেনি তার যন্ত্রণাদগ্ধ মন। সেই রাতে সে ক্ষমা করতে পারেনি মিথিলাকে। যে রাত কল্পনা করে বহু রাত্রি নির্ঘুম কাটিয়েছে মিথিলা, রোমাঞ্চিত হয়েছে, শিহরিত হয়েছে কতবার, সুখানুভূতিতে ছেয়ে গেছে তার মন, অদ্ভুত পুলক জেগেছে মনে, কত কল্পনা, কত স্বপ্নে বিভোর হয়েছে সে যে স্বপনকে নিয়ে, সেই স্বপন তাকে পাঁজাকোলা করে সে রাতে তুলে আনল কলপাড় থেকে। মিথিলার অনিচ্ছুক, অনভ্যস্ত শরীরে জোর করে, জোর করেই উপগত হল সে! নিজের পরম প্রার্থিত পুরুষ দ্বারা, নিজের স্বামী দ্বারা ধর্ষিত, পিষ্ট হতে হতে হাহাকার জাগল তার বুকে। তার অনভিজ্ঞ শরীরেও সে বুঝল স্বপন নারী শরীরে মোটেই অনভ্যস্ত নয়!
প্রবল ঘৃণায় সে স্মরণ করল আবার বুঁচির সেই গা গুলানো স্মৃতি, শিউরে উঠল!