আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে আছে যেকোন মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে। জামাইকাটা হাওর পানিতে টুইটুম্বুর। লহরী থেকে নোয়াগাঁও নিউমার্কেটের পিচঢালা রাস্তার বেশির ভাগই পানিতে তলিয়ে গেছে অন্যান্য বছর থেকে এবারের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেশি যার ফলে হাওরের সাথে চলাচলের রাস্তাও ডুবে একাকার পিচঢালা বলে একটু কষ্ট হলেও যাতায়াতের কোন সমস্য হচ্ছে না। রাস্তা পাকা হওয়ার আগ পর্যন্ত বর্ষাকালে এটি দুর্গম রূপ ধারণ করতো, কাদা জমে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়ত রাস্তাটি গাড়ি তো দূর মানুষ চলাচলই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তো। সজীব, রাজুরা ঘাগুটিয়া হযরত শাহজালাল র. উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তো তাই দীর্ঘ পাঁচ বছর এই রাস্তায়ই ছিলো তাদের নিত্যদিনের চলাফেরা। রাস্তা পাকা ছিলোনা সেই সময় তাই এই দুর্গম কাদাযুক্ত রাস্তার সাথে জড়িয়ে আছে তাদের বিষাদময় স্মৃতি।
সজীব দুপুর দুইটার দিকে সজীব রাজুকে ফোন দিলো, হ্যালো কোথায় তুই, ফোনের ওপার থেকে রাজুর উত্তর আমি বাড়িতেই আছি তুই কোথায়, আমি বিকালের দিকে আসছি কারও নৌকা একখান রেডি রাখিস আজকে হাওরে যাবো বহুদিন এরকম সুযোগ হয়নি। আর শুন একটা সারপ্রাইজ আছে কিন্তু। রাজু বললো কিসের সারপ্রাইজ! আরে এখন বলে ফেললে তো আর এটা সারপ্রাইজ থাকবেনা সময়মতো ঠিক দেখতে পারবি বললো সজীব। ঠিক আছে আয় রাজু বললো।
বিকাল তিনটার দিকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সজীব তার পিঠে তার বইয়ের ব্যাগ কিন্তু ব্যাগে যে এখন বই থাকার কথা নয় মোটেও!
লহরী পূর্বপাড়ার শাহজালাল জামে মসজিদের পাশে এসেই আবার সজীব ফোন দিলো রাজুকে, হ্যালো আমি তোর বাড়ির কাছে, আসছি বলেই ফোন রেখে দিলো রাজু। মসজিদের ব্রীজে বসে আছেন আঙ্গুর মামা, নানু মামা, হাজির বাড়ির শফিক নানা।
তাদের সবাইকে সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করলো সজীব। হাজির বাড়ির শফিক নানা বললেন কিরে তোর মা কেমন আছেন, ভালোই আছেন নানা, তোর মাকে বলিস একদিন যেন সময় করে আসেন তোর নানি হরহামেশাই তোর মাকে স্মরণ করেন। ঠিক আছে নানা আমি আম্মাকে নিয়ে আসবো একদিন।
ইতিমধ্যে রাজু এসে উপস্থিত তার পরনে একটা হাতকাটা গেঞ্জি একটি পুরনো লুঙ্গী আর গলায় একটা গামছা ঝোলানো। কোথায় সে সজীবকে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করবে তা না করে এসেই বললো কিরে সাথে ব্যাগ কেনো? সজীব আবার বললো সারপ্রাইজ! ঠিক আছে বলেই রাজু সাইকেলের পিছনে বসলো। সজীব জিজ্ঞেস করলো নৌকা কোথায়?
রাজু বলল কথা বাড়াসনা সামনে চল। রাকিব আলীদের নৌকা বলে রেখেছি।
ওহ!বলে সজীব সাইকেলে একবার হর্ণ বাজিয়েই টান দিলো চলতে থাকলো নিউমার্কেটের রাস্তা ধরে।চলতে চলতে রাজুকে জিজ্ঞেস করলো সজীব পলিথিন এনেছিস মোবাইল তো বাঁচাতে হবে পানি থেকে। হ্যা আমার লুঙ্গীর পেঁচে আছে বললো রাজু। সামনেই হিজল গাছের ঠিক পূর্বে রাকিব আলীদের বাড়ি। দুই মিনিট সাইকেল চালানোর পরই দেখা গেলো সামনের রাস্তা অনেকখানি পানিতে ডুবে আছে। সাইকেলের গতি বাড়িয়ে দিলো সজীব। পানি হাটুর নিচে একটু কষ্ট হলেও পানিতে সাইকেল চালানোর মজাই আলাদা। সাইকেলের চাকার ধাক্কায় হড়হড় করে পানি ছিটকাতে লাগলো সজীবের প্যান্ট আর রাজুর লুঙ্গী ভিজে গেলো প্রায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা রাকিব আলীদের বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হলো।নতুন বাড়ি বানিয়েছে ওরা পানি ওদের ভিটার এক হাত নিচে রয়েছে।
আজ রাত বৃষ্টি দিলে হয়তো তাদের ঘরে পানি উঠবে। শুধো রাকিব আলীদের বাড়িই নয় আশেপাশের যে কয়েকটি বাড়ী আছে সবগুলোরই একই অবস্থা, কতোটুকু কষ্টে সবাই দিনাতিপাত করছে বোঝাই যাচ্ছে।
একটু পরেই দেখা গেলো রাকিব আলির ভাই সুরমান আলী নৌকা নিয়ে আসছে। এই ফাকে রাজু আর সজীব সাইকেল সাইট করে ফোন হাতে নিয়ে নিজেদের ক্যামেরা বন্দি করলো, রাতে যে ফেইসবুকে আপ দিতে হবে। রাস্তার যেখানে পানি উঠেনি সাইকেল সেখানে সাইট করে তালা দিয়ে রাখলো সজীব। এবার দুজনে নৌকায় উঠলো। মোবাইল আগেই পলিথিনে ভরে রেখেছে সজীব। রাজু সুরমান আলীকে বললো ওই আমাকে বৈঠা দে আমি দাড় বাইছি তুই বরং বস। কোন কথা না বলেই সুরমান আলী রাজুর দিকে বৈঠা বাড়িয়ে দিলো। নৌকার গলুইয়ে বসে রাজু দাড় বাইতে বাইতে গান ধরলো, আমায় বাসাইলিরে আমায় ডুবাইলিরে, অকুল দরিয়ার বুঝি কূল নাইরে। রাজুর গানের সুর খুবই সুন্দর, তার সাথে সজীবও গান ধরলো।রত্না নদীকে আজ ছোট নদী মনে হচ্ছে না, সমস্ত হাওর পানিতে ভরে গিয়ে রত্না নদী যেনো সাগরে রূপ নিয়েছে। এই গরমেও দখিনা বাতাসের তীব্র বেগে শীতের আমেজ অনুভব করছে সজীব। আকাশ এখন আগের থেকে অনেকটা পরিষ্কার বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। রাজু আর সুরমান আলীর মুখে কথার খৈ ফুটছে কিন্তু সজীব নীরব। দমকা হাওয়ায় সজীবের লম্বা চুল ঘুড়ির মতো উড়ছে। একে একে সজীবের মনে পড়লো ছোটবেলার সেই বর্ষা মৌসুমের দিনগুলির কথা। দুরন্ত শৈশবে সকল ছেলেপেলেরা রাস্তার ধারের কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে নদীতে ঝাপ দিতো তাদের একজন সজীবও ছিলো। একবার মা দুপুরে ভাতই খেতে দেননি সজীবকে এসব দুরন্তপনার কারণে বলেছিলেন যা নদীর জল খা।
লাল ব্রীজের কাছাকাছি এসেই রাজু সজীবের গায়ে জল ছিটিয়ে দিয়ে বললো কিরে কথা বলছিসনা কেনো? তুই খুব সুন্দর গান গাইতে পারিস,আরেকটা গান ধরনা।যাহহ পারবো না।
সারপ্রাইজটা দেখার ইচ্ছে নেই বোধহয় তোর! আরে না মজা করছিলাম বলেই রাজু গান ধরলো, তুমি বিনে আকুল পরাণ থাকতে চায়না ঘরেতে সোনা বন্ধু ভুইলনা আমারে, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গান যিনি সুনামগঞ্জ জেলার ভাটি বাংলা তথা সারা বাংলাদেশের গর্ব। সজীব রাজু দুজনেরই জন্ম লহরী গ্রামে যেটি এই সুনামগঞ্জ জেলারই একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম।
লাল ব্রীজের নীচ দিয়ে নৌকা জামাইকাটা হাওরে পড়লো। কোন কালে কোন বজ্জাত মহিলা তার স্বামীকে এই হাওরে বলি দিয়েছিল কে জানে। সেই থেকে হাওরের নাম জামাই কাটা। সে অনেক বড় ইতিহাস। সজীব দেখতে পেলো পানির উপর কেমন সুন্দর কলমিশাক ভেসে আছে। পটাপট সে অনেকগুলো কলমি শাক তুলে নিলো। তার মা কলমি শাক বেশ পছন্দ করেন।মনেমনে ভাবলো সজীব আজ আম্মা অনেক খুশি হবেন।
আলাইখালির (জামাইকাটা হাওরের একটি জায়গার নাম) রাস্তা সামান্য ভেসে আছে রাজু সেখানে নৌকা ভেড়ালো। মোবাইলের পলিথিন ব্যাগটা নৌকার গলুইয়ের ঠিক নিচের পাটাতনে রাখলো সুরমান আলী।
তার পর ওরা দেখতে পেলো বেশ কিছু ছোটছোট ছেলেরা বানের পানিতে ঝাপাঝাপি করছে। ঠিক যেমন ছোটবেলায় সজীব রাজুরা কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে নদীর জলে ঝাপ দিত। আর তর সইলোনা সজীবের।ঝাপ দিল পানিতে, ছোটছোট ছেলেদের সাথে জলকেলি শুরু করলো সজীব। ছেলেরাও যেনো উৎসাহ পেলো সজীব তাদের সাথে যোগ দেয়ায়। সুরমান আলী রাজুকে ধাক্কা মারলো পানিতে ফেলে দেয়ার জন্য। রাজু পানিতে পড়েছে ঠিক কিন্তু একা পড়েনি। ধাক্কা মারার সাথেসাথেই সে সুরমান আলীর শার্টের কলারে ধরে ফেলল। ফলে দুজনই একসাথে পানিতে পড়লো। প্রায় একঘন্টা পানিতে সাতার কাটার পর ওরা তিনজন তীরে এসে উঠলো, কিন্তু ছেলেগুলো আগের মতোই পানিতে ঝাপাঝাপি করতে থাকলো ওরা পারেও বটে। কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিলো রাজু সজীব আর সুরমান আলী। রাজু বললো আজ জ্বরের জন্য প্রস্তুত হও বাচারা। এরকম আনন্দের কাছে জ্বর অতি নগন্য বললো সজীব।
এবার বাড়ী থেকে নিয়ে আসা ওর বইয়ের ব্যাগটি নৌকা থেকে নামিয়ে আনলো সজীব। রাজু এবং সুরমান আলী এখনো জানেনা এই ব্যাগের ভিতরে কি রহস্য লোকিয়ে আছে। সজীব ব্যাগের চেইন খুলল কোন কথা না বলেই। তারপর ব্যাগ থেকে সজীব বের করলো একটি বড় আকারের হটপট। রাজু আর সুরমান আলী তাকিয়ে দেখছে শুধু এখনও তারা বুঝে উঠতে পারছেনা সজীব তাদের আসলে কি সারপ্রাইজ দিতে যাচ্ছে।
কিন্তু যেই সজীব হটপটের ঢাকনা খুলল অমনি সব রহস্যের দ্বার খুলে গেলো। ঢাকনা খুলতেই ভিতর থেকে মুরগির কষা মাংসের ঘ্রাণ বেরিয়ে এলো। হটপটের ভিতর থেকে টিফিন বের করলো সজীব। রাজু আর সুরমান আলীর চোখ বিস্ময়ে ছানাবড়া।
রাজু বললো এমন সারপ্রাইজের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না সজীব। সুরমান আলী তো খুসিতে সজীবকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। সজীব টিফিন রাজুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো টিফিন খোল। রাজু টিফিন খুলে সবকয়টি বাটি তার গামছা মাটিতে পেতে তার উপর রাখলো। মুরগির কষা মাংস তার সাথে চিকন চালের পোলাও। রাজু আর সুরমান আলী খুশিতে গদগদ করতে লাগলো। সজীব এবার ছোটছোট সেই ছেলেগুলোকে ডাকলো পানি থেকে উঠে আসতে। ডাঙায় এমন আয়োজন দেখে ওরা বড়ো আগ্রহের সাথে উঠে এলো। ওরা চারজন আর সজীব, রাজু, সুরমান আলী মিলে মোট সাতজন। রাজু একবার চোখ বুলিয়ে নিলো টিফিন বাটির দিকে। চেয়েই খুশিতে তার দুচোখ ভরে উঠলো। যা খাবার আছে সাতজনের অনায়াসে পেটপুরে খাওয়া হয়ে যাবে।
রাজু বললো সবকিছুতো রেডি এবার প্লেট কোথায় পাবো। আমি নিয়ে আসছি বলে একটি ছেলে উঠে সামনে একটু এগিয়ে সাতটি বড়ো কচুপাতা নিয়ে আসলো। হাসিমুখে রাজু বললো সাবাশ বেটা প্লেটের অভাব এক ঝটকায় পূরন করে ফেললি!
সজীবকে রাজু বললো নে সজীব তুই খাবার পরিবেষণ কর। সজীন বললো না তুই কর। রাজু আর কথা বাড়ালোনা। সবার মাঝে সমান ভাবে খাবার বন্টন করলো সে।
রাজু পলিথিনের ব্যাগ থেকে তার ফোন বের করে বেশ কয়েকটি ছবি তুলল। খাওয়া শুরু করলো সবাই। মাংসের টুকরো চিবুতে চিবুতে রাজু সজীবের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো কেমনে কি সজীব এসব কি করে ম্যানেজ করলি?
সজীব খেতে খেতে বললো শুন তাহলে। সেদিন দেখলাম ছোটমামা উনার বন্ধুদের নিয়ে নৌকায় চড়ে সারা হাওর চষে বেড়াচ্ছেন। ফেইসবুকে ছবি দেখে আমার আফসুস হলো ইস কাজের চাপে কতোদিন এরকম জলকেলি করার সুযোগ হয় না। তারপরের দিনই মনেমনে প্লান করে নিলাম এবার আর মিস করবো না একদিন বেরোতেই হবে হাওর দর্শনে। আর শুধো জলকেলিই না জল ভোজনের ব্যবস্থা করবো যাতে দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকে। তারপর আম্মাকে জানালাম আমার পরিকল্পনার কথা। আম্মা বললেন করে দিতে পারি এক শর্তে আমার জন্য কলমিশাক নিয়ে আসতে হবে কিন্তু। এটুকু বলেই থামলাম আমি। রাজু বললো বাহহ বাহহ কি সুন্দর পরিকল্পনা। আর হ্যা সত্যিই এটাকে জল ভোজন বলা যায় কারণ চারদিকে কি সুন্দর পানি আর এই সামান্য যায়গায় এতো সুন্দর আয়োজন ফাইভষ্টার হোটেলেও যদি খেতাম এমন স্বাদ পেতামনা। তারপর খুব মজা করে আরও নানা রকম গল্প করতে করতে সবাই ভোজন সেরে নিলো। সজীব রাজুকে বললো ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করতে। সবাই পানি পান করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলল। রাজু সজীবের পিঠ চাপড়ে বললো কি খানা খাওয়াইলি ভাই সারাজীবন মনে থাকবে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ছোট ছেলেগুলি টিফিন বাটি গুলো হাতে হাতে ধুয়ে নিয়ে এসে টিফিন আগের মতো সাজিয়ে হটপটের ভিতরে রাখলো। পরে হাসি মুখে তাদের মধ্যে একজন বললো অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আমার মায়ের রান্নার মতো ঠিক নিশ্চয় আপনার মা রান্না করেছেন?সজীব বললো হ্যা ছোটভাই।
আরেকটি ছেলে এবার বললো ভাইয়া আপনি না অনেক ভালো।
সজীব এবার বললো সবাই নিয়মিত লেখাপড়া করবে ঠিক আছে।ঠিক আছে ভাইয়া বলে এবার তারা তাদের বাড়ির দিকে পা বাড়ালো। সজীব লক্ষ করলো একটি ছেলে কচু পাতার ঝোপ থেকে কি বের করে সজীবের দিকে আসতে লাগলো কাছে আসতেই সজীব বুঝলো ছেলেটির হাতে ওগুলো আসলে কলমি শাক। ছেলেটি হাসি দিয়ে বললো এই নিন ভাইয়া আমি আপনারা আসার আগে এগুলো তুলে লোকিয়ে রেখেছিলাম যাতে কেউ দেখতে না পায়। আপনার আম্মা অনেক খুসি হবেন। সজীব বলল আরে তুমি অনেক কষ্ট করে তুলেছ আমাকে দিচ্ছ কেনো আমিতো তুলেছি অনেকটা। ছেলেটি এবার বললো গতোকাল যা তুলেছি পাড়া প্রতিবেশীদের দিয়েও আমাদের আরও তিনদিন চলে যাবে। আপনি যদি না নেন আমি কষ্ট পাবো ভাইয়া। বাধ্য হয়ে সজীব কলমিশাকগুলি হাতে নিয়ে হেসে বললো ধন্যবাদ তোমাকে। আপনাকেও ধন্যবাদ ভাইয়া বলে ছেলেটি দৌড়ে চলে গেলো।
রাজু সজীবকে বললো এবার যাওয়া যাক সন্ধা ঘনিয়ে আসছে। সজীব বললো হ্যা চলো।
নৌকা চলছে
এবার সুরমান আলী নৌকা বাইছে।
সজীব একেবারে সামনের গলুইয়ে গিয়ে বসলো। নৌকা চলছে, বৈঠার ধাক্কায় পানির শব্দ যেনো মনে হলো বিরহের ক্রন্দন। পিছনে ফিরে তাকালো সজীব। সূর্য পশ্চিম আকাশে বিলীন হয়ে গেলো।