প্রেমের ঢেউ

পাগলা হাওয়া ঝড় তুলেছে গোলাপ তনু বনে
বলতে গেলে মুচকি হাসে
ভালোবাসার গায়ে ভাসে
ছড়িয়ে দেয় প্রেমের পরশ অস্থির এ ভুবনে।

ঝড়ের মাঝে ঘর বেধেছি মনে প্রেমের ঢেউ
উথলে উঠে সকাল সাঝে
করে দহন হৃদয় মাঝে
বিভেদ ভুলে হাত বাড়াবে আছ এমন কেউ?

সাত সাগরে আঁচড়ে পরে কুলহারা সব নদী
কী যে উদার
সাগরের দ্বার
প্রেমের বুকে মন বাড়িয়ে লুফে নেয় তার গতি।
…………………………………………..

আমার পতাকা

আমার পতাকা সবুজের ভীড়ে লালের সমাহার,
রক্তমাখা জামা পড়ে ঘুরে বেড়ায় মাঠ ঘাট তেপান্তর।
যেখানেই থাকি আগলে রাখে ডিমে তা দেয়া মুরগির মত।
বর্ণীল জীবনের গায়ে আঁচড় দিয়ে মনে করিয়ে দেয় সংগ্রামের ইতিহাস-
তাই তো থামি না, থামতে পারি না।

আমার পতাকা সবুজের গায়ে রক্তের কারুকাজ।
১৭৫৭ থেকে বিন্দু বিন্দু রক্ত মিলিত হল একাত্তর সাগরে।
অজস্র সহসী চোখ খেলা করে এই লাল বৃত্তের ভেতর।
নব জন্ম সূর্যের মত মূহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীতে।

আমার পতাকা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখায় নিষ্পেষিত জাতিকে।
নীল বিদ্রোহ করে যারা উঠে এসেছে আধুনিকতার গলি পথে।
বাঁশের কেল্লাকে গ্রেট ওয়াল মনে করে সীসার মত দাঁড়িয়ে থাকে কামনের সামনে।
বিশ্বাসের গায়ে চিমটি কেটে ঝাপিয়ে পড়ে গ্রেনেটের মত।

আমার পতাকা অসাম্যের নিকট হার মানে নি কোন কালে।
সাম্যের মুকুটের জন্য সংগ্রাম করেছে শত সহস্র যুগ
কখনো রক্ত দিয়ে কখনো অশ্রু দিয়ে কখনো বা বলি দিয়েছে প্রিয় জনের হাসি।
তাই তো আমরা থামি না, থামতে পারি না-
দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাই আগামীর পথে।
…………………………………………..

আযাযিল

মসজিদ মন্দির তোর তরে খোলা নেই আযাযিল
ফিরে যায় ব্যারাকেতে; আগে গিয়ে ঠিক কর তোর দিল।
মারছিস এ মানুষ; চেপে ধরে তার মুখ
কাঁপেনি তো একটুক পাষানের ঐ বুক।
কাবা আর মক্কাতে পরে ছুট
ঘরে বসে ঠিক কর তোর ঠোঁট
হৃদয়ের বেলকনি হলো লুট হলো লুট।
…………………………………………..

Messenger

We are eternal passanger
We work here as a messenger
We have to accross long way
we have a pure work; still away.

The road is tough enough to cross it
The road is taugh enough to cross it.

We came from a long drive
We never stop our thrive.

We are eternal passanger
We work here as a messenger.
…………………………………………..

ঝড়ের রাত

নিষ্ঠুর চাহনির ছোবল!
সব কিছুই অস্থির!

এখন তো ঝড়ের রাত…
ঝিঁঝির বিলাপে যে পাখির ঘুম ভাঙে
সোনালী আভা’র মাঠ যে চোখ-
ঝড়ের আস্তিন খাবলে ধরে তার হৃদয়ের বাট।

এখন তো রাত গভীর…
চক্র বায়ুর লীলা!
ঘোরলাগা স্বভাব।

নিরব নিমগ্নে…
ধৈর্যের পাঠ নাও হৃদয়ের কোলে
খুলবে খুলবেই ভোরের কপাট।
…………………………………………..

বিজয় ফুল

বিবেক গায়ে প্রশ্ন কর পাবে তুমি সাড়া
আজকে কেন সব হারিয়ে হলে দিশেহারা!
ক্লান্ত দুপুর গোধুলীর ঢেউ রাত গড়িয়ে আসে
রাতের গায়ে জোনাক সুবেহ ঊষার আলো হাসে।

বিন্দু বিন্দু জল মিলেই তো সাগর বনে ঢেউ
দু’চোখ ভরে সত্য সুপান দেখার নাই কী কেউ!
শীতের উঠান ক্লান্ত কেন! বসন্ত কী দূরে?
শীতের বুকে বসন্তরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে।

হিয়ার মাঝে করলে কভু অগ্নিগিরি চাষ
বিজয়ের ফুল ফুটবে জেনো দেহে বারোমাস
…………………………………………..

কারবালার ঢেউ

আমাদের রক্তে ঝলমল করে কারবালার ঢেউ ঊষার দ্বীপ্ত সূর্যের মতো
সাহসের পিঠে চড়ে বেড়ায় বিপ্লবের নার্গিস।
শাহাদাতের তামান্নায় অস্থির মুমিন হৃদয় এ বিশ্ব কারবালার মাঠে!
মুক্তির মিছিল যাবে শুনে মায়ের কোল ছেড়ে চলে আসে স্তন্যপায়ি শিশু।
বলে কারবালা পরাজয়ের ইতিহাস নয় – নব বিজয়ের চেতনা, জাগার তাগিদ নিয়েই আসে বারংবার।
একি সাহসের ফুলকি উড়ে গগন জুড়ে।
চেয়ে দ্যাখ, আবার প্রস্তুত খালেদের ঘোড়া; বুঝি রণাঙ্গনের নেশা চেপেছে মনে।
কে আছো সওয়ারি হবে কাশিমের বেশে?
দ্যাখ প্রতিটি মসনদ থেকে বেরিয়ে আসছে ক্ষুধিতের আহাজারি।
দ্যাখ, বাতাস ভারি আজ বারুদের গন্ধে!
কোথায় জাতির তাগড়া জোয়ান ছেলে
বিজয়ের নেশায় এগিয়ে চল যুগের কালিমা ঠেলে।
তোমার মসনদে কেন চষে বেড়ায় জালিমের শান
তোমার বোনের বক্ষ বিদীর্ণ কেন শকুনের আঁচড়ে?
আজ বিশ্ব বিবেক ঘুমিয়ে আছে নিস্তব্ধ পাথরের মতো।
এক চোখ হারিয়েছে হিরোশিমায়;
অন্যটি ফিলিস্তিনে!
আজ এজিদের আচরণ ভুলতে বসেছে তাদের ভুলে!
প্রতিদিন বোবা লাশের মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নিষ্পাপ মানুষ।
তবে কেন সূর্য ডুবে না জালিমের বুকে?
কেন হাসি ফুটে না মজলুমের মুখে?
কেন মায়ের উদরে বসে মৃত্যুর বার্তা শুনে অনাগত শিশু?
তবে জেনে রেখ বধির বিশ্ব মরতে মরতে বেচে যাবে নব যুগের মূসা।
…………………………………………..

আমাদের ঈদ

আমাদের ঈদ হলো নিদ ভাঙা গান
ফুল দিয়ে ঢেকে দেই পাপিষ্ঠের বান।
আমাদের ঈদ আসে মানবতা নিয়ে
বঞ্চিতের ভালোবাসা কুটি বাসে গিয়ে।
আমরা তো পড়ি নামাজ শহীদের মাঠে
জালিমের থাকে হাত বন্দুকের বাটে।
আমাদের ঈদ হউক চেতনার পাঠ
দিকে দিকে রচে যাক বিজয়ের মাঠ।
…………………………………………..

নামাজ

শরতের শাদা মেঘের মত হঠাৎ সরে যেতে থাকে সমস্ত আরশি পর্দা
আর তারকা সাগরে বিলি কেটে কেটে এগিয়ে চলে আমার বোরাক মন।
জাগতিক জীবনের শত ঘাত প্রতিঘাত নিমিষেই ঘুমিয়ে পড়ে আসহাবে কাহাফের মত।
যেন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া পৃথিবী; নিভে গেছে সমস্ত আলো।
আমার কল্পনার আঙিনায় শুধু তাঁরই তাসবী খেলা করে।
তখন আমার হৃদয়ের মসনদ থেকে বেরিয়ে আসে- “ইহদিনাস সিরাতল মুসতাক্বিম “।
…………………………………………..

সময়ের ডাক

চিরন্তন পথে ফিরে এসো, হে পাপিষ্ঠ আত্মা!
রহমান কাহহার হওয়ার পূর্বেই।
চির কাল থাকে না সুখের পরাগায়ন!
পূর্ণ যৌবনা সকালের ফুল বিকালে ধূসর-মলিন!
ঊষার রবি ক্ষণিক হেসে রাতের গায়ে হারায়!
হৃদপিন্ডের প্রতিটি স্পন্দনে বরফ গলে জীবন নদীতে!
তবুও হারার ভয় নেই ডাকাতের মনে।