ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাঙালি মুসলিম নবজাগরণের আলোকোজ্জ্বল যুগে কবি গোলাম মোস্তফার (১৮৯৫-১৯৬৪) জন্ম। তিনি একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, শিশুতোষ-রচয়িতা, অনুবাদক, পাঠ্যপুস্তক-রচয়িতা, শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, সমাজসেবক ইত্যাদি বহুমুখী প্রতিভা ও গুণের অধিকারী ছিলেন। রবীন্দ্র-যুগে রবিকরোজ্জ্বলে সমুদ্ভাসিত বাংলা সাহিত্যাকাশে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র-সদৃশ। তার সমসাময়িক কবি কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৪) প্রতিভার খর-রৌদ্রতাপে বাংলা সাহিত্য যখন দীপ্ত-সমুজ্জ্বল, গোলাম মোস্তফা সে সময়কার অন্যতম বিশিষ্ট কবি হিসেবে সমাদৃত।
রবীন্দ্র-যুগের (১৮৬১-১৯৪১) কবি গোলাম মোস্তফা যেমন রবীন্দ্র প্রভাব-বলয় থেকে মুক্ত ছিলেন না, পরবর্তীতে তার সমসাময়িক যুগ-স্রষ্টা কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রভাবকেও তেমনি অস্বীকার করতে পারেননি। উভয় কবির প্রভাব সত্ত্বেও গোলাম মোস্তফা স্বকীয় বিনম্র ধারা নির্মাণে তৎপর ছিলেন। এখানেই তার যথার্থ সার্থকতা।
১৮৯৫ সালে (বাংলা ১৩০২ সন ৭ পৌষ রবিবার) মনোহরপুর, শৈলকুপা, ঝিনাইদহে গোলাম মোস্তফার জন্ম। অনেকে তার জন্ম সাল ১৮৯৭ (সার্টিফিকেট অনুযায়ী) বলে উল্লেখ করলেও তার প্রকৃত জন্ম সাল ১৮৯৫। এ সম্পর্কে ‘আমার জীবন স্মৃতি’তে গোলাম মোস্তফা নিজেই উল্লেখ করেছেন : “আমার জন্ম পল্লী হলো ঝিনাইদহ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) শৈলকুপা থানার অন্তর্গত মনোহরপুর গ্রামে। আমার ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেটের বর্ণনানুসারে দেখা যায় ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে আমার জন্ম। কিন্তু আমার মনে আছে শৈলকুপা হাইস্কুলে ভর্তি হবার সময় আমার আব্বা আমার বয়স প্রায় বছর দুই কমিয়ে দিয়েছিলেন। কাজেই প্রকৃত জন্ম হয়েছিল সম্ভবত ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে। তবে এটা ঠিক যে, যেদিন আমার জন্ম হয় সেদিন বাংলা তারিখ ছিল ৭ই পৌষ রবিবার।”
বিখ্যাত কুমার নদীর তীরবর্তী মনোহরপুর গ্রামের শান্ত, নিরিবিলি, শ্যামল, মনোরম পরিবেশে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে গোলাম মোস্তফার জন্ম। পিতা কাজী গোলাম রব্বানী এবং দাদা কাজী গোলাম সরোয়ার উভয়েই শিক্ষিত ও কাব্য-রসিক ছিলেন। কবির আদি পিতৃভূমি ছিল ফরিদপুর জেলার (বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা) পাংশা থানার অন্তর্গত নিভেকৃষ্ণপুর গ্রামে। পরবর্তীতে কবির পিতা শ্বশুরালয়ে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। মনোহরপুর কাজী পরিবারে পূর্ব থেকেই বিদ্যাশিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা চলে আসছিল। বাংলা ছাড়াও আরবি-ফারসি ভাষার ব্যাপক চর্চা ছিল সেখানে। কবির পিতা ও পিতামহ উভয়েরই গ্রাম্য কবি হিসেবে বিশেষ খ্যাতি ছিল। মনোহরপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী বিজুলিয়া গ্রামে এক সময় নীল কুঠি ছিল। ইংরাজ নীলকরদের অত্যাচারে নিরীহ গ্রামবাসী কৃষক অতিষ্ঠ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নীলকরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এ বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক ছিলেন কবির পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার। তৎকালে মুসলিম সমাজে রাত্রিবেলা বাড়ি বাড়ি পুঁথি পাঠের আসর বসতো। কবির পিতা গোলাম রব্বানী নিজ বাড়িতে পুঁথি পাঠের আসরে সুর করে পুঁথি পাঠ করতেন। এসব পুঁথির মধ্যে জঙ্গনামা, আমীর হামজা, কাসাসুল আম্বিয়া, গুলে বকৌলি ইত্যাদি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীতে কবির পিতা শ্বশুরালয়ে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। মনোহরপুর কাজী পরিবারে পূর্ব থেকেই বিদ্যাশিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা চলে আসছিল। বাংলা ছাড়াও আরবি-ফারসি ভাষার ব্যাপক চর্চা ছিল সেখানে। কবির পিতা ও পিতামহ উভয়েরই গ্রাম্য কবি হিসেবে বিশেষ খ্যাতি ছিল। মনোহরপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী বিজুলিয়া গ্রামে এক সময় নীল কুঠি ছিল। ইংরাজ নীলকরদের অত্যাচারে নিরীহ গ্রামবাসী কৃষক অতিষ্ঠ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নীলকরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এ বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক ছিলেন কবির পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার। তৎকালে মুসলিম সমাজে রাত্রিবেলা বাড়ি বাড়ি পুঁথি পাঠের আসর বসতো। কবির পিতা গোলাম রব্বানী নিজ বাড়িতে পুঁথি পাঠের আসরে সুর করে পুঁথি পাঠ করতেন। এসব পুঁথির মধ্যে জঙ্গনামা, আমীর হামজা, কাসাসুল আম্বিয়া, গুলে বকৌলি ইত্যাদি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
শিশুকালে পিতার হাতে গোলাম মোস্তফার বিস্মিল্লাহখানি হয়। পরবর্তীতে দামুকদিয়া ও ফাজিলপুর গ্রামের পাঠশালায় লেখাপড়া করেন। এরপর শৈলকুপা হাইস্কুল থেকে ১৯১৪ সালে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক, ১৯১৬ সালে খুলনা দৌলতপুর কলেজ থেকে আইএ ও ১৯১৮ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। এরপর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। শিক্ষক হিসেবে কবি ১৯২২ সালে কলকাতা ডেভিড হেয়ার কলেজ থেকে বিটি পাস করেন। শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হয়ে তিনি ব্যারাকপুর সরকারি হাইস্কুল, কলকাতা হেয়ার স্কুল, কলকাতা মাদ্রাসা, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট ডিমনস্ট্রেশন হাইস্কুল, হুগলি কলেজিয়েট হাইস্কুল, বাঁকুরা জেলা স্কুল এবং সর্বশেষে ফরিদপুর জেলা স্কুলে ১৯৪৬-১৯৫০ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পর অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ঢাকায় শান্তিনগরে বাড়ি করে সেখানেই বাকি জীবন অতিবাহিত করেন। এ সময় তার বাড়ি ‘মোস্তফা মঞ্জিল’ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯৬৪ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি ৬৯ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি গোলাম মোস্তফা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনার সাথেও জড়িত ছিলেন। ১৯২৭ সালে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র মুখপাত্র ‘সাহিত্যিকা’ পত্রিকা তিনি সুসাহিত্যিক এয়াকুব আলী চৌধুরীর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। বাংলা ১৩৬৭ সনে প্রকাশিত পাকিস্তান রাইটার্স গিল্ডের ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘পূরবী’র তিনি যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন। সম্পাদক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর মুহম্মদ আব্দুল হাই। ‘পূরবী’র মাত্র একটি সংখ্যা প্রকাশিত হবার পর গোলাম মোস্তফার একক সম্পাদনায় রাইটার্স গিল্ডের মুখপত্র ‘লেখক সংঘ পত্রিকা’ প্রকাশিত হয়। ‘নও বাহার’ পত্রিকাটিও তিনি পরিচালনা করতেন। এ পত্রিকাটির সম্পাদিকা ছিলেন কবির দ্বিতীয়া স্ত্রী মাহফুজা খাতুন। কলকাতার ৪৫নং মির্জাপুর স্ট্রিটে ‘মুসলিম বেঙ্গল লাইব্রেরি’ নামে তার একটি লাইব্রেরি ছিল। ১৯৪৫ সালে তিনি উক্ত একই নামে ঢাকায় ৯৫নং ইসলামপুর রোডে একটি লাইব্রেরি স্থাপন করেন এবং সে সাথে জিন্দাবাহার লেনে স্থাপন করেন ‘মুসলিম বেঙ্গল প্রেস’।
কবি গোলাম মোস্তফা বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’, ‘পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি’, বিভাগ-পরবর্তীকালে পাকিস্তান আমলে ঢাকায় ‘পাকিস্তান মজলিশ’, ‘রওনক’, ‘পাকিস্তান রাইটার্স গিল্ড’, ‘পাক-সাহিত্য সংঘ’ প্রভৃতি সাহিত্য-সংস্কৃতি সংস্থার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। রাইটার্স গিল্ড-এর কেন্দ্রিয় ও এর পূর্ব পাকিস্তান শাখার তিনি অন্যতম কর্মকর্তা ছিলেন। ‘রওনক’-এর বেশির ভাগ অনুষ্ঠান তার নিজ বাড়ি ‘মোস্তফা মঞ্জিলে’ই অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৬১ সালে ঢাকায় নবগঠিত ‘পাক সাহিত্য সংঘে’র তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সেমিনারের (১১-১৩ নভেম্বর, ১৯৬১) প্রথম দিনে তিনি ‘ইসলামী সাহিত্যের স্বরূপ’ বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ আব্দুল হাই, ডক্টর কাজী দীন মুহম্মদ, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, ডক্টর রফিকুল ইসলাম, ডক্টর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহম্মদ, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, মুহম্মদ মতিউর রহমান। জাতীয় জাগরণের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে তিনি সাহিত্য সংগঠনের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
গোলাম মোস্তফা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। রবীন্দ্র-যুগে জন্মগ্রহণ করার ফলে গোলাম মোস্তফা ঐ যুগের অন্য সকল কবি-সাহিত্যিকদের মতোই রবীন্দ্রনাথের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হন। তবে ক্রমান্বয়ে তিনি সে প্রভাবের ঊর্ধ্বে ওঠার প্রয়াস পান। ভাব, ভাষা ও বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে তার নিজস্বতা ধীরে ধীরে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষত ইসলামী আদর্শ, ঐতিহ্য-চেতনা ও মুসলিম নবজাগরণের প্রেরণা থেকেই তার মধ্যে এ স্বাতন্ত্র্য পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। এছাড়া তার সমসাময়িক যুগান্তকারী কবি-প্রতিভা কাজী নজরুল ইসলামের বর্ণাঢ্য আবির্ভাব গোলাম মোস্তফাকেও বহুলাংশে স্পর্শ করে। উভয়ের ভাব, বিষয় ও আদর্শিক চেতনা ছিল একই ধরনের। তাই সহজেই তিনি নজরুলের যুগান্তকারী প্রতিভার সাথে ঐক্যসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। এ সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেন :
“যে যুগে আমার জন্ম, সে যুগ বাংলার মুসলমানদের অবসাদের যুগ। সে যুগে আমাদের সাহিত্যের না ছিল কোনো স্বাতন্ত্র্য, না ছিল কোনো স্বকীয়তা। প্রত্যেক জাতির মননশক্তি, ঐতিহ্য, ধ্যান-ধারণা ও আশা-আকাক্সক্ষা রূপায়িত হয় মাতৃভাষার মধ্যে। জাতির অন্তরমূর্তি ছায়া ফেলে তার সাহিত্যের মনোমুকুরে। সাহিত্য তাই জাতির মনের প্রতিধ্বনি। সাহিত্যের ভিতর দিয়েই গোটা জাতির সাচ্চা চেহারা দেখা যায়। সেই হিসেবে বাংলার মুসলমানদের কোনো সাহিত্যই তখন রচিত হয়নি। আমি তাই ছোটবেলা থেকেই চেয়েছিলাম মুসলমানদের জাতীয় সাহিত্য রচনা করতে। রবীন্দ্রনাথ বা সত্যেন্দ্রনাথের অনুরাগী হলেও আমার মনে জেগেছিল আমাদের নিজস্ব সাহিত্য সৃষ্টির একটা দুর্জয় আকাক্সক্ষা। সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির তাগিদেই নয় সহজভাবেই আমি বাংলা সাহিত্যে চেয়েছিলাম ইসলামী কৃষ্টির রূপায়ণ। মাইকেল, বঙ্কিম, রবীন্দ্র, শরৎ এরা প্রত্যেকে ছিলেন হিন্দু জাতির মর্মবাণীর উদ্গাতা। … বাঙালির অর্ধেকের বেশি হলো মুসলমান। কাজেই বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের জীবনের প্রকাশ যদি না থাকে তবে সে সাহিত্য কিছুতেই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ইসলামের রূপায়ণ তাই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই অনিবার্য হয়েছিল এবং এখনো আছে।”
গোলাম মোস্তফার সাহিত্য-চর্চার মূল প্রেরণা ও অন্তর্গত তাগিদের বিষয় কবির নিজের ভাষায় উপরে বিধৃত হয়েছে। সাহিত্য-চর্চার ক্ষেত্রে এ প্রেরণা ও তাগিদই তার মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও আবেদন সৃষ্টি করে। রবীন্দ্র-বলয়ের মধ্যে থেকেও তিনি তার স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত সাহিত্য সৃষ্টিতে সক্ষম হন। তার লেখায় তার কাক্সিক্ষত ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ইসলামের রূপায়ণ’ তথা ‘মুসলমানদের জাতীয় সাহিত্য’ সৃষ্টির প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী গোলাম মোস্তফা কবিতা ছাড়াও সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তার রচিত গ্রন্থের তালিকা নিম্নরূপ :
কাব্য : রক্তরাগ (১৯২৭), হাস্নাহেনা (১৩৩৪), খোশরোজ (১৯২৯), কাব্য-কাহিনী (১৯৩২), সাহারা (১৩৩৬), শেষ ক্রন্দন, তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৪৮), বুলবুলিস্তান (১৯৪৯)।
মহাকাব্য : বনি আদম (১৯৫৮)।
গান : গীতি-সঞ্চয়ন (১৯৬৮)।
শিশুতোষ : আমরা নতুন আমরা কুঁড়ি।
অনুবাদ : এখওয়ানুস সাফা (১৯২৭), মুসাদ্দাস-ই-হালী (১৯৪১), কালামে ইকবাল (১৯৫৭), আল-কুরআন (১৯৫৭), শিকওয়া ও জবাব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।
উপন্যাস : রূপের নেশা (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ), ভাঙ্গাবুক (১৯২৮)।
জীবনী গ্রন্থ : হজরত আবু বকর।
প্রবন্ধ : বিশ্বনবী (১৯৪২), মরুদুলাল (বিশ্ব নবীর কিশোর সংস্করণ), আমার চিন্তাধারা, গোলাম মোস্তফা প্রবন্ধ সংকলন (১৯৬৮), বিশ্বনবীর বৈশিষ্ট্য, ইসলাম ও কমিউনিজম, ইসলামে জেহাদ।
পাঠ্যপুস্তক : আলোকমালা (সিরিজ গ্রন্থ), আলোক-মঞ্জুরী (সিরিজ গ্রন্থ), মঞ্জু-লেখা (কথাশিল্পী মনোজ বসু সহযোগে), মণি-মুকুর (কথাশিল্পী মনোজ বসু সহযোগে), খোকা খুকুর বই, নতুন বাংলা ব্যাকরণ, School Boys Translation.
এছাড়া The Mosolman, The Star of India, The Morning News, The Pakistan Observer, The Dawn ইত্যাদি দৈনিক এবং অন্যান্য সাময়িক পত্র-পত্রিকায় তিনি ইংরাজিতে বহুসংখ্যক প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখেন।
শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা গোলাম মোস্তফার অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্রিকায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে। এগুলো এখনো গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। শিশু-সাহিত্য হিসেবে এগুলোর মূল্য অপরিসীম।
গোলাম মোস্তফা নজরুলের আগেই কাব্য-চর্চা শুরু করেন। বাংলা ১৩১৩ সনে দশম শ্রেণীর ছাত্রাবস্থায় গোলাম মোস্তফার লেখা ‘আন্দ্রিয়ানোপল উদ্ধার’ শীর্ষক একটি কবিতা ‘সাপ্তাহিক মোহাম্মদী’তে ছাপা হলে এ কবিতার মাধ্যমেই তিনি সকলের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং কবি হিসেবে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। কাব্য-ক্ষেত্রে নজরুলের আর্ভিভাবের পূর্বে গোলাম মোস্তফার কাব্য-খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লেও তার রচিত কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয় অনেক পরে। গোলাম মোস্তফা সম্পর্কে গবেষক নাজিরুল ইসলাম মোহাম্মদ সুফিয়ান লিখেছেন : “কাব্য জগতে গোলাম মোস্তফা নজরুল ইসলামেরও বহু পূর্ব হইতে বাংলা সাহিত্যে পরিচিত। আধুনিক কালের অনেক কবির নামও যখন শোনা যায় নাই, গোলাম মোস্তফা সেইকাল হইতেই কবিতা রচনা করিয়া আসিতেছেন।” (বাঙ্গালা সাহিত্যের নতুন ইতিহাস, তৃতীয় সংস্করণ, পৃ. ৬১০)।
মূলত কবি হলেও গোলাম মোস্তফার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হলো একটি উপন্যাস- ‘রূপের নেশা’। কবি তখন সবেমাত্র বিএ ক্লাসের ছাত্র। তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ভাঙাবুক’ প্রকাশিত হয় ১৯২৮ সনে। এতে সমকালীন বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্ত জীবনের আলেখ্য রূপায়িত হয়েছে।
কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রক্তরাগ’ প্রকাশের পর তিনি এর একটি কপি রবীন্দ্রনাথকে পাঠিয়েছিলেন। গ্রন্থটি পেয়ে রবীন্দ্রনাথ উৎসাহব্যঞ্জক ভাষায় তাকে দু’লাইনের একটি চমৎকার কবিতা উপহার দিয়েছিলেন। লাইন দুটি এই :
‘তব নব প্রভাতের রক্তরাগখানি
মধ্যাহ্নে জাগায় যেন জ্যোতির্ময়ী বাণী।’
‘রক্তরাগ’ কাব্যে মোট ২৮টি কবিতা স্থান লাভ করেছে। কবিতাগুলোকে মোটামুটি দু’ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগে পড়ে ধর্মীয় ভাবধারাসম্পন্ন কবিতা। যেমন- মরুর মহিমা, ঈদ উৎসব, মোস্তফা কামাল, বিজয় উল্লাস, স্বাধীন মিসর, হযরত মোহাম্মদ ইত্যাদি। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে প্রেমের কবিতা। যেমন- প্রেমের জয়, পাশের বাড়ীর মেয়ে, প্রথম চিঠি ইত্যাদি। ফলে বিষয়গতভাবে এ প্রথম কাব্যেই গোলাম মোস্তফার অনেকটা পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ফুটে উঠেছে। ইসলামী চেতনা, স্বাজাত্যবোধ, প্রেম ও মানবতা গোলাম মোস্তফার সমগ্র সাহিত্যে মূলত এ কয়টি ভাবধারাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এ বিষয়গুলো মোটামুটি তার এ প্রথম কাব্যগ্রন্থেই প্রতিফলিত হয়েছে।
গোলাম মোস্তফার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘হাস্নাহেনা’ প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৩৪ সনে (ইংরাজি ১৯২৭)। এ গ্রন্থের কবিতাগুলো প্রধানত গীতিধর্মী। প্রেম ও সমসাময়িক জীবন-চিত্র এ গ্রন্থের প্রধান উপজীব্য। গোলাম মোস্তফার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘খোশরোজ’ প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। এ গ্রন্থে কবির ধর্মীয় চেতনার প্রাবল্য পরিলক্ষিত হয়। এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ফাতেহা-ই-দোয়াজদহম, শবে বরাত, কুরবানী, আল হেলাল, তরুণের অভিযান, তরুণের গান প্রভৃতি কবিতায় কবির এ ধর্মীয় চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। কবির অন্যান্য কাব্যেও ইসলাম, জাতীয় চেতনা, প্রেম ও মানবতাবাদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ লক্ষণীয়।
গোলাম মোস্তফা একটি মহাকাব্য রচনায় হাত দেন। তবে তা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। তার রচিত অসম্পূর্ণ মহাকাব্য ‘বনি আদম’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে। ইংরাজ কবি মিল্টনের ঞযব পান। এতে হযরত আদমের আ. বেহেশত থেকে বহিষ্কার ও পুনরায় সেখানে প্রত্যাবর্তনের কাহিনী বিবৃত হয়েছে। কবি হিসেবে এতে তার প্রতিভার বহুমাত্রিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
কাব্যানুবাদের ক্ষেত্রে গোলাম মোস্তফা বিশেষ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। তার অনূদিত কাব্যের মধ্যে ‘আল-কুরআন’- মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের কতিপয় নির্বাচিত সূরা ও আয়াতের অনুবাদ। তার অনূদিত অন্য সব কবিতাই উর্দু কবিদের কবিতার অনুবাদ। আল-কুরআনের প্রায় অর্ধাংশ তিনি কাব্যাকারে অনুবাদ করেন। তার এ অনুবাদ সবটা যদিও প্রকাশিত হয়নি, কিন্তু তা কাব্য-গুণে যে মাধুর্যময় হয়ে উঠেছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তার ‘সূরা ফাতিহা’র অনুবাদ এত মনোমুগ্ধকর ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, পাকিস্তান আমলে এটি সকল বিদ্যালয়ে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে ক্লাস শুরুর পূর্বে সমবেত কণ্ঠে গীত হতো।
গান রচয়িতা হিসেবে গোলাম মোস্তফার জনপ্রিয়তা অসাধারণ। ইসলামী গান- হামদ্, নাত ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত রচনায় তিনি যথেষ্ট পারদর্শিতা ও সাফল্য অর্জন করেন। গোলাম মোস্তফা রচিত ‘অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি’, ‘বাদশাহ তুমি দীন ও দুনিয়ার’, ‘নিখিলের চির সুন্দর সৃষ্টি’, ‘হে খোদা দয়াময় রহমানুর রহিম’, ‘আমার মোহাম্মদ রসূল’, ‘তুমি যে নূরের রবি নিখিলের ধ্যানের ছবি’ প্রভৃতি হামদ্ ও নাত বাংলার ঘরে ঘরে একসময় সকলের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল এবং এখনো এসব গানের জনপ্রিয়তা ও আবেদন সকলকে মুগ্ধ করে। এসব ইসলামী গানের জনপ্রিয়তা একমাত্র বাংলা গানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাট কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয়তার সাথেই তুলনীয়। গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের বাংলা অনুবাদক। পাকিস্তান আমলে এ গানটি ব্যাপকভাবে গাওয়া হতো। এছাড়া গোলাম মোস্তফা আরো বিপুলসংখ্যক হামদ্, নাত, মৌলুদ শরীফ (রাসূলের শানে গীত), আধুনিক, দেশাত্মবোধক ও প্রেমের গানের রচয়িতা হিসেবে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সুরকার ও গায়ক হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল অসাধারণ।
আজীবন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত গোলাম মোস্তফা ছিলেন কৃতবিদ আদর্শ শিক্ষক, পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের পরিচয় প্রদান করেছেন। বিভাগ-পূর্বকালে সমগ্র বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন স্কুলে তার বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকের সিরিজ পাঠ্য ছিল। পাকিস্তান আমলেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্কুলসমূহে তার বই পাঠ্য ছিল। পাঠ্যপুস্তক হিসেবে এগুলো যেমন সহজ পাঠ্য, শিক্ষণীয় আবার তেমনি শিশু-কিশোর মনস্তত্ত্বের বিকাশেও সহায়ক।
গোলাম মোস্তফার প্রকৃত সাফল্য সম্ভবত মননশীল প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে। ইংরাজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেন। সমসাময়িক বিষয় থেকে শুরু করে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও গবেষণামূলক বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও গ্রন্থ রচনায় তিনি অসামান্য সাফল্য অর্জন করেন। অনেকের ধারণা, গদ্যশিল্পী হিসেবে গোলাম মোস্তফা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিশেষত তার রচিত ‘বিশ্বনবী’ তাকে চির অমর করে রাখবে। প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে গোলাম মোস্তফার কৃতিত্ব অসাধারণ। প্রবন্ধ রচনার জন্য যে সূক্ষ্ম মনন, বিচার-বিশ্লেষণ করার মতো প্রখর বুদ্ধিদীপ্ততা, গভীর জ্ঞান, অধ্যবসায়, অভিজ্ঞতা ও পাণ্ডিত্য প্রয়োজন গোলাম মোস্তফার মধ্যে তার কোনটির অভাব ছিল না। প্রবন্ধ-সাহিত্যে তার গভীর সমাজ-সচেতনতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ইতিহাস-জ্ঞান, ভূগোল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অপরিসীম অধ্যবসায় সকলকে বিস্ময়-বিমুগ্ধ করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার কবিত্বময় স্বাচ্ছন্দ্য সাবলীল ভাষা। প্রাবন্ধিকের তত্ত্ব, তথ্য, যুক্তি ও বিশ্লেষণধর্মিতার সাথে কাব্যিক ছন্দময় ভাষা লেখকের বক্তব্যকে শুধু পাঠকের সচেতন বিচার-বুদ্ধির কাছে নয়; হৃদয়ের সূক্ষ্ম অনুভূতির গোপন তন্ত্রীতেও সাড়া জাগায়।
বিশ্বনবী (১৯৪২ সালে প্রকাশিত), ইসলাম, বিশ্বনবীর বৈশিষ্ট্য, ইসলাম ও কমিউনিজম, ইসলামে জেহাদ, মরু দুলাল (বিশ্বনবীর কিশোর সংস্করণ), হজরত আবু বকর ইত্যাদি ক্ষুদ্র-বৃহৎ আকারের কতিপয় গ্রন্থ ছাড়াও ১৯৬২ সালে তার জীবৎকালে ৩৭টি প্রবন্ধের সংকলন ‘আমার চিন্তাধারা’ ও তার ইন্তেকালের পর ১৯৬৮ সালের জুনে সৈয়দ আলী আহসানের ভূমিকাসংবলিত ও তার স্ত্রী মাহফুজা খাতুন সম্পাদিত ২৮টি প্রবন্ধের সংকলন ‘গোলাম মোস্তফা প্রবন্ধ সংকলন’ প্রকাশিত হয়।
গোলাম মোস্তফার শ্রেষ্ঠ কীর্তি তার রচিত ‘বিশ্বনবী’। জনপ্রিয়তার দিক থেকে মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ সিন্ধু’ এবং মোহাম্মদ নজিবর রহমানের ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের সাথে এর তুলনা চলে। ১৯৪২ সালের অক্টোবর-এ বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হবার পর ১৯৪৬ সালের দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯৬৩ সালে অষ্টম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। প্রত্যেক সংস্করণেই লেখক কিছু কিছু পরিমার্জনা ও সংযোজন করেছেন। ফলে প্রথম সংস্করণের প্রায় পাঁচশো পৃষ্ঠার এ বইটি অষ্টম সংস্করণে গিয়ে ৫৮৭ পৃষ্ঠায় দাঁড়িয়েছে। এটা কোন গতানুগতিক জীবনী গ্রন্থ নয়; লেখকের প্রগাঢ় নিষ্ঠা, গভীর ভক্তি-ভাব, জ্ঞান, পান্ডিত্য, ইতিহাস-চেতনা সর্বোপরি কবিত্বময় সাবলীল ভাষা গ্রন্থটিকে যেমন অনবদ্য করে তুলেছে তেমনি করেছে একে সর্বশ্রেণীর পাঠকের নিকট গ্রহণযোগ্য। ‘বিশ্বনবী’ সাধারণ পাঠকের জন্য নয়; এটা শিক্ষিত বিদগ্ধ পাঠকের উপযোগী। এটা সাধারণ কোনো জীবনীগ্রন্থও নয়। জ্ঞান, বিজ্ঞান, ইতিহাস, যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের জীবনী, রিসালত, কারামত, অন্য সকল মহাপুরুষের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব সপ্রমাণ করার জন্য তিনি এ অমর গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। ‘বিশ্বনবী’ রচনায় সহায়ক গ্রন্থসমূহের তালিকায় বিশ্ববিখ্যাত মোট ৬২টি গ্রন্থের নামোল্লেখ করা হয়েছে। এতে রয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, আল-হাদীস, আরবি-উর্দু-ইংরেজি-বাংলা ভাষায় রচিত বহু খ্যাতনামা সীরাত গ্রন্থ। এমনকি, বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিকদের রচিত গ্রন্থ থেকেও তিনি এতে অনেক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব-তথ্য ও যুক্তি-তর্কের অবতারণা করে ইসলামের সত্যতা ও মাহাত্ম্য তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন। ‘বিশ্বনবী’ এক অসাধারণ কালজয়ী মহৎ গ্রন্থ। এতে উচ্চাঙ্গের অলঙ্কারবহুল কাব্যময় ভাষা, অপূর্ব ভক্তি-ভাব, ইতিহাস-চেতনা, যুক্তি-তর্ক, মননশীলতা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের একত্র সুসমন্বয় ঘটেছে।