কবি সিরাজুল ইসলাম। একজন গীতিকার ও সুরকার হিসেবে বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালু, নবী মোর পরশমণি নবী মোর সোনার খনি, মন ভোমরা মজলিনা তুই রসুল নামের রসে, এখনও সময় আছে আল্লাহ নবীর নাম লও, হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ পাখিটি ছাড়িল কে, বলে দাও মাটির পৃথিবী কোথা শান্তি আমার জীবনে, কোকিল ডাকিসনারে আর, এলো বসন্তের বাহার, কে যাও তুমি ভাটির দেশে ও বিদেশি নাইয়া, এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া প্রভৃতি জনপ্রিয় গানের তিনি ছিলেন গীতিকার।

শৈশব থেকে তিনি গানের প্রতি বিশেষ অনুরক্ত ছিলেন। সেই সূত্রে তিনি শুনে শুনে গান শিখেছেন। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি প্রথাগত সংগীতে তালিম নেওয়া শুরু করেন, তাঁর পরিচিত সঙ্গীত শিক্ষকের কাছে। এই সময় তিনি নিজে গান লিখে সুরারোপ করা শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যে তিনি গীতিকার ও সুরকার হিসেবে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন।

১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান রেডিওর ঢাকাতে গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপিত হলে তিনি সেখানেও গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এই সময় তিনি হিজ মাস্টার ভয়েজ রেকর্ড কোম্পানির তাঁর লেখা এবং সুরকরা গানের রেকর্ড প্রকাশ করে। তৎকালীন মাহেন ও মোহাম্মদী, দিলরুবা, পাকিস্তানি খবর, পাক জমহুরিয়াত, দৈনিক আজাদ, ইত্তেফাক, মিল্লাত, সংবাদ, সৈনিক, পূর্বদেশ, কৃষিকথা, বেতারবাংলা, শুকতারা, দিনকাল, যুগান্তরসহ বহু পত্রপত্রিকায় তার লেখা কবিতা ও গান প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর বেশ কিছু আধুনিক, দেশাত্মবোধক, মারফতি, মুর্শিদি, মরমী গানসহ কয়েকশ’ গান বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের ডিস্কে রেকর্ড করা রয়েছে। বাংলাদেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা গেয়েছেন উনার লেখা গান, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেনঃ আব্দুল আলীম, আব্দুল জব্বার, খুরশিদ আলম, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী এবং আরও অনেকে ।

বিখ্যাত এইসব গানের স্রষ্টা সিরাজুল ইসলাম ১৯৩০ খৃ: ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে অবস্থিত রসুলপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম নূর ইসলাম। মা বাবার বড় সন্তান কবি সিরাজুল ইসলাম, সরকারের ইনকাম ট্যাক্স বিভাগে চাকুরী করতেন। কবির দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে ।

খুবই স্বল্পভাষী ও চিন্তাবিদ লোক ছিলেন কবি সিরাজুল ইসলাম।প্রচার বিমুখ এই জনপ্রিয় কবির উনিশটি কবিতা ও গানের বই প্রকাশিত হয়েছে ।
১. রক্ত পলাশ প্রকাশ কাল ১৯৭২, ২. রক্তিম আলিম্পন প্রকাশ কাল ১৯৭২, ৩. যে গান অনির্বাণ প্রকাশ কাল ১৯৭৬, ৪. দুটি পাখি একটি নীড় প্রকাশ কাল ১৯৭৬, ৫. হলুদিয়া পাখি প্রকাশ কাল ১৯৭৬, ৬. সত্যের সৌরভ প্রকাশ কাল ১৯৮৬, ৭. আকাশ মাটি মানুষ মন প্রকাশ কাল ১৯৮৭, ৮. সময়ের নীল সাঁকো প্রকাশ কাল ১৯৮৭, ৯. হিরন্ময় জ্যোতিরমালা প্রকাশ কাল ১৯৯০, ১০. বন্ধু ওগো সুপ্রভাত প্রকাশ কাল ১৯৯০, ১১. আমি মুক্ত বলাকা প্রকাশ কাল ১৯৯০, ১২. কাব্যের নিরযাস প্রকাশ কাল ১৯৯১, ১৩. নকশা সপ্তক প্রকাশ কাল ১৯৯২, ১৪. সুজন নাইয়া প্রকাশ কাল ১৯৯২, ১৫. যাবো আমি যাবো প্রকাশ কাল ১৯৯২, ১৬. সংগীত গৌরব প্রকাশ কাল ১৯৯২, ১৭. শান্তির জন্য যুদ্ধ ঘোষণা প্রকাশ কাল ১৯৯২, ১৮. দুই থেকে তিন তিনের রঙিন গানের গোলাপ প্রকাশ কাল ১৯৯২।

কবি সিরাজুল ইসলাম ৯ জুন ২০০২ সালে ৭২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

কবির নামে কোন সংগঠনের নাম এখনো জানা যায়নি। যারা এ বিষয়ে কাজ করেন তারা এগিয়ে আসলে কবি আবারও সকলের সামনে সমহিমায় উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

কবি সিরাজুল ইসলাম (Kobi Sirajul Islam) এই নামে এফবি-তে একটি পেইজ রয়েছে। পেইজটির এডমিন হলেন, কবির দু’জন দৌহিত্র (নাতি) মিনহাজুল ইসলাম সুখন ও নাজিম উদ্দীন রাসেল।

আমি ১৯৮৮ সালে এই বিখ্যাত কবির একটি ইন্টাভিউ করে ছিলাম। যেটি আমার সম্পাদনায় সাইমুমের প্রথম সংকলনে প্রকাশিত হয়েছিল। কবির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তিনি আমাদের সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার গানে দেশ মাটি মানুষ মানবতাকে আর তার নিজের বিশ্বাসকে উচ্চকিত করেছেন। তারপ্রতি আমাদের শ্রদ্ধা। জাতীয়ভাবে কবির জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা সময়ের দাবী। তরুন প্রজন্ম তার গান শোনে কিন্তু কবিকে চিনেনা। এ কাজটি আমাদের করা উচিৎ। শুনেছি কবির নাতীরা একটি পেইজটি চালায়। তো তারা এটাকে পাবলিক গ্রুপ হিসেবে চালু করতে পারে। তাহলে সিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে তরুণ প্রজন্ম জানবে লিখবে। তরুনদের মধ্যে অনেকেই এই কবির ইসলামী গান গেয়েছে। আমিও তার বেশ কিছু গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি। এগুলো তার এই পেইজে/গ্রুপে প্রকাশ করা যেতে পারে। আর সিরাজুল ইসলামকে নিয়ে জুম লাইভ করা যেতে পারে। যেখানে তার সম্পর্কে কথা হবে, গান হবে, হবে স্মতিচারন। আমি এই আয়োজনের সাথে থাকতে চাই। কেউ উদ্যোগ নিতে খুশি হবো।

তথ্য সূত্র: ইন্টারনেট।