সংযমী হও

সংযমী হও সংযমী হও
কথায় এবং কাজে
পুণ্য প্রসূন ফোটাও তুমি
অমল ঋতুরাজে

চালবাজি আর ধান্ধাবাজি
দিয়ে দিও বাদ
চাইলে পেতে পরকালে
জান্নাতেরই স্বাদ

মুনাফেকির জীবন বড়ো
অভিশাপের হয়
ক্ষমা তাদের করেন নাতো
আল্লাহ্ দয়াময়

সত্য যেটা সরাসরি
বলতে হবে সত্য
বিনাশ হবে থাকলে তুমি
মিথ্যে মদে মত্ত

আল্লাহকে খুশি করো
নিজকে খুশি নয়
তারই আদেশ করলে পালন
হবে তোমার জয়।
…………………………………………..

কবি ও একটি গোলাপ ফুল
(একটি গোলাপের আত্মকথা)

ফুল আমি এক ছোট্ট খুবই নইতো বড়ো অতি
হাসি খুশি থাকি কারো করি নাতো ক্ষতি
জান্নাতি সুখ সুবাস দিয়ে ভরি সবার মন
চাই না আমি হিরে মানিক চাই না রাজার ধন

তোমরা যখন ভালোবেসে তুলে নিয়ে যাও
প্রিয় কারো হাতে দিয়ে সুখটা খুবই পাও
আমি তখন নিজকে নিজে ধন্য মনে করি
পরের সুখে নিজকে বিলাই পরের সুখে মরি

কখনোবা ঝরি গোপন কেউ দেখে না কেউ
তাই বলে কি ভাবছো মনে দুঃখ ব্যথার ঢেউ?
মোটেও তা নয় আমার মুখের হাসি জেনো
ভুবন করে জয়

সেদিন কি না কোথা থেকে আকুল কবি এসে
তুলে নিলো আমায় সে যে মুগ্ধ ভালোবেসে

বললো কবি গোলাপ তুমি আমার প্রিয় ফুল
তোমার সুবাস নিতে আমি করি নাতো ভুল
নেই তো তোমার ছল চাতুরী ভালোবাসায় খাটি
তোমার মতো চাচ্ছি হতে শুদ্ধ পরিপাটি

আমায় নিয়ে লিখলো কবি পদ্য ছড়া বেশ
তখন ছিলো সকল দিকে নিটোল পরিবেশ
একটি পাখি বসা ছিল একটি গাছের ডালে
কুহু কুহু ডাকতেছিলো মুগ্ধ হাওয়ার তালে

এখন আমি কোথায় আছি জানি নাতো আর
কবির প্রতি সালাম তবু জানাই হাজার বার
যতোটা দিন ফুটবে ফুল আর থাকবে পাখি বনে
ততোটা দিন কাব্য কথা জাগবে কবির মনে

কবির কাব্যে উঠবে ফুটে মানবতার জয়
সত্য হবে উদ্ভাসিত মিথ্যে হবে লয়
…………………………………………..

জীবন মানে বৈশাখী ঝড়

ওদের ছিলো টিনের চালা
আর আমাদের কুঁড়ে ঘর
কাঁপতো যে ঘর কাঁপতো যে বুক
আসতো যখন বোশেখ ঝড়

ঝড়ে ওরা আম কুড়াতো
যেন ওটা বিশ্ব জয়
আমরা ছিলাম ঘরের কোণে
জড়োসড়ো নিয়ে ভয়

আজও ওরা ঝড়ের মাঝে
কুড়ায় পরের বিত্ত ধন
বজ্রপাতে দেখি ওদের
খুশি খুবই চিত্ত মন

পিতামাতা করতো নিষেধ
পরের গাছের ধরতে আম
পরের কিছু ধরলে তবে
যেতে হবে জাহান্নাম

আমরা আজও ভয়ে আছি
ভয়ে কাটাই দিবস রাত
জীবন মানে বৈশাখী ঝড়
কখন যে হয় বজ্রপাত।
…………………………………………..

হতে হবে কোহেতুর

মিথ্যে তারা বলবে জেনো
মিথ্যে বলা যাদের কাজ
বলবে ভিজে চাঁদের আলোয়
অমাবস্যা দেখছি আজ

মিষ্টি খেজুর মুখে দিয়ে
বলবে ওটা টক অতি
উপকৃত হয়ে বলবে
তাকে দিয়ে হয় ক্ষতি

মিথ্যে যাকে পেয়ে বসে
তাকে করে ফেলে দাস
দূর আকাশের তারা জানে
জানে মাটির দূর্বাঘাস

আল্লাহকে ভুলে গিয়ে
কেউ ধরে খুব জ্ঞানীর ভাব
চায় বোঝাতে এই সমাজে
নতুন তারার আবির্ভাব

আসলেতো ওরা মেকি
ইবলিসেরই অনুচর
তাদের মাঝে শাসক কিছু
ফেরাউনের অনুকর

মিথ্যে যারা বলছে তুমি
তাদের থেকে থাকো দূর
সত্য নূরে পুড়ে তোমার
হতে হবে কোহে তুর

দু হাত ধুয়ে সাফ করেছি
দু হাত বলে হায়
হৃদয় জুড়ে তোমার কেবল
ময়লা দেখা যায়

তোমার কলব জুড়ে দেখো
হাজার হাজার দাগ
অন্ধকারের প্রতি তোমার
আজও অনুরাগ

মনে তোমার লোভের বাসা
পাপের প্রতি ভালোবাসা
ভাবছো তোমার তরিকাটা হালাল
আসলেতো তুমি গোপন
অসভ্যতার দালাল

যারা মানুষ করছে খুন
তুমি তাদের গাচ্ছো গুণ
হাত দু খানা ধুইলেই কি
ময়লা সরে যায়
তুমি জেনো স্বচ্ছ হবে
চির দূষণ মুক্ত রবে
নিফাক ধূলো হৃদয় থেকে
যদি ঝরে যায়।
…………………………………………..

তাকোয়া মাসের ছড়া -১

থাকবো না আমি আর
তোমাদের দ্বন্দ্বে
আমি আছি ভালোবাসা
কবিতার ছন্দে

আমি আছি তাকোয়ার
গোলাপের গন্ধে
কুদরত প্রতিভাত
হয় প্রতি স্পন্দে

আমাকেতো ঘৃণা করে
সে কেবল অন্ধে
ভালো ছেড়ে যার মন
মজে আছে মন্দে
…………………………………………..

আজকে আমি বৃক্ষ হবো

আজকে আমি বৃক্ষ হবো
থাকবো না আর মানুষ
ভালোবাসার ফুল ফোটাবো
উড়াবো না ফানুস

আজকে আমি ধৈর্য ধরে
ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রবো
আজকে আমি পাতায় পাতায়
সুসজ্জিত হবো

আমার ডালে বসবে পাখি
গাবে আকুল গান
আজকে আমি ছড়াবো ভাই
সুখের অম্লজান

হিংসা থেকে থাকবো দূরে
দেবোনা তো গাল
করবোনা তো হানাহানি
নেক উঠিয়ে ছাল

আমার কাছে পাবে সবাই
মিষ্টি ফলের স্বাদ
অপবাদ ও গীবত করা
দিয়ে দেবো বাদ

একটি দিনও যদি আমি
মুক্ত থাকি পাপ
হয়তো তাতে দূরীভূত
হবে অভিশাপ
…………………………………………..

ঘাড় ত্যাড়ামী বাদ

পরের ছেলে করলে যে কাজ
বলি তাতে দোষ
নিজের ছেলে করলে সে কাজ
থাকি তাতে খোশ

এই মনোভাব সকলেই
করবে পরিহার
চাইলে সবাই সুস্থ সুখের
সমাজ পরিবার

দোষটা পরের চোখে পড়ে
নিজের দোষটা নয়
কেমন করে ভালোবাসার
রাজ্য কায়েম হয়?

নিজের দোষটা ধরে নিজে
সংশোধিত হবো
সবাই সবার জায়গা থেকে
ন্যায়ে অটুট রবো

তা না হলে নিছক হবে
মানবতার দাবি
অমানবিক অন্ধকারে
খেতে হবে খাবি

এই সমাজের জন্য যেটা
হয় উপকার অতি
মেনে নিতে হবে সেটা
হোক না নিজের ক্ষতি

নিজের মতের বাইরে গেলে
মানতে তবু হবে
দশের মতের প্রতি তুমি
শ্রদ্ধাভাজন রবে

পেতে হলে সুস্থ সুখের
ন্যায় ও নীতির স্বাদ
দিতে হবে তোমার আমার
ঘাড় ত্যাড়ামী বাদ

ঘরের মাঝে বন্দী এখন
কাজে যাওয়া বন্ধ
অবসরে পরস্পরে
তাই লেগো না দ্বন্দ্ব

মা ও বাবা ছেলে মেয়ে
স্বামী সহধর্মী
সবার প্রতি সবাই কিন্তু
থেকো সহমর্মি

বুকের মাঝে রেখো সবাই
ফোটা ফুলের গন্ধ
নামাজ কালাম পড়ো সাথে
কাব্য ছড়া ছন্দ

ভাগাভাগি করে খেয়ো
থাকলে খাবার অল্প
সাহস পেতে পাঠ করিও
সাহাবিদের গল্প

তাঁরা ছিলেন সত্যে অটল
আসুক যতো কষ্ট
বিপথগামী হন নি তারা
হননি তারা নষ্ট

মহব্বতে থেকো সবাই
হইওনা কেউ বৈরী
জীবনটাকে পরকালের
জন্য করো তৈরী
…………………………………………..

ভেঙ্গোনাতো মন

মহামারী রোগ ও শোকে
ভেঙোনাতো মন
এই জীবনে ঘটবে জেনো
অবাক উত্তরণ

ধৈর্য্য ধরো সহ্য করো
জীবন অনেক দামী
ধৈর্য্যহারা জীবন সেতো
হবে জাহান্নামি

সুখ আনন্দে থাকলে কেবল
বাড়তে থাকে পাপ
তাই জীবনে আসে জেনো
দুঃখ অনুতাপ

কষ্ট আঘাত জীবনটাকে
করে অনাবিল
পংকিলতা মুছে ফেলে
স্বচ্ছ করে দীল

শুদ্ধ জীবন চাইলে জেনো
যুদ্ধ করা লাগে
সত্য প্রকাশ ঘটাতে হয়
সত্য অনুরাগে

বাঁচা হবে অর্থবহ
মরন হবে দামী
সত্য পথে থেকে যদি
না হও বিপথগামী

বিপদ আপদ যা কিছু হোক
সহজ ভাবে নেবে
আল্লাহ জেনো সকল কিছু
সহজ করে দেবে।
…………………………………………..

হাশর মাঠের রূপ

সুস্থ এখন কেউ কি আছে
সবার গায়ে জ্বর
পাপের ভারে পৃথিবীটা
কাঁপছে থরোথর

হাত এবং পা ধুইলে কি আর
মুছে যাবে পাপ
তোদের উপর হাজার যুগের
আছে অভিশাপ

শক্তি ছিলো বলে কতো
করলি অত্যাচার
মানুষ এবং মানবতার
হলি হত্যাকার

অভিশাপে দেহ মনে
ধরছে এখন কাঁপন
কেউতো এখন হচ্ছে না আর
কারো কাছে আপন

একটু খানি ভাবিস এবার
বসে থেকে চুপ
ভয়াবহ হবে কেমন
হাশর মাঠের রূপ।
…………………………………………..

ফুল ফুটিয়ে যাবো

আমি অতি ছোট বৃক্ষ
নইতো অতো বড়ো
তাই বলে কি লজ্জা ভয়ে
থাকবো জড়োসড়ো?

আল্লাহ আমায় যা দিয়েছেন
তাতেই আমি খুশি
শুধু শুধু বসে বসে
ভাগ্যকে না দোষী

বড়ো অনেক বৃক্ষ আছে
থাকুক ওদের মতো
কাউকে নিয়ে মাথা ব্যাথা
নেইতো আমার অতো

আমার মতো আমি কেবল
ফুল ফুটিয়ে যাবো
হয়তো আমি কারো কাছে
স্বীকৃতি না পাবো

বড়ো নাকি ছোট আমি
দেখার বিষয় নয়
আমার কাজে আছি আমি
দেখুন মহাশয়।